২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং খালেদা জিয়া স্থায়ী জামিন পাননি খালেদা , ১৬ নভেম্বর

খালেদা জিয়া স্থায়ী জামিন পাননি খালেদা , ১৬ নভেম্বর

0

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার করা স্থায়ী জামিনের আবেদন খারিজ করে আগামী ১৬ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় খালেদা জিয়া আবারও স্থায়ী জামিনের জন্য আবেদন করলে তা খারিজ করে দেন আদালত। পরে বিচারক ১৬ নভেম্বর এ মামলার পরবর্তী সময়ে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

এর আগে গত ২ নভেম্বর খালেদা জিয়া দুই মামলায় স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা নাকচ করে দিয়ে মামলার শুনানির দিন আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন।

মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করতে আজ বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে খালেদা জিয়া আদালতে পৌঁছান। এরপরই খালেদা জিয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ স্থায়ী জামিনের আবেদন পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।

এ সময় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আদালতকে বলেন, ‘আমি এই পেশায় ৫০ বছর ধরে আছি। কোনোদিন শুনিনি কাউকে সপ্তাহে সপ্তাহে জামিন নিতে হয়। প্রতি সপ্তাহে এসে আদালতে হাজিরা দিতে হয়। এক সপ্তাহের জন্য তিনি জামিন পেয়েছেন।’

‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে ছিলেন। সে সময় তিনি জামিনের অপব্যবহার করেননি। তিনি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই আমি মনে করি, তিনি স্থায়ী জামিন পেতে পারেন, তাঁকে স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করা হোক’, যোগ করেন মওদুদ আহমদ।

আদালত স্থায়ী জামিনের ব্যাপারে পরে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন। এর পরই আত্মপক্ষ সমর্থন করে তৃতীয় দিনের মতো নিজের বক্তব্য শুরু করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তিনি প্রায় দেড় ঘণ্টা বক্তব্য দেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক হারুন-অর-রশিদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন—খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

এ ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুদক।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

নিউজবিডি৭১/এম/৯ নভেম্বর ২০১৭

image_print
Share.

Comments are closed.