১১ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং খাদ্যাভাবে রাখাইন রোহিঙ্গারা ছাড়ছেন

খাদ্যাভাবে রাখাইন রোহিঙ্গারা ছাড়ছেন

0

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : দুই মাস অতিবাহিত হয়েছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার। প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে রোহিঙ্গাদের ওপর আক্রমণ ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়ার মতো ঘটনা। এরপরও বাংলাদেশে পালিয়ে আসা বন্ধ হচ্ছে না রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের। সহিংস আক্রমণের পথ পরিহার করে খাদ্য অবরোধে এবার রাখাইন ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে রোহিঙ্গাদের। গত এক সপ্তাহে নতুন করে প্রায় ১৫ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন।

সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পয়েন্টে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের কড়াকড়ির কারণে রোহিঙ্গারা নৌকাযোগে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারলেও উখিয়ার আন্জুমান পাড়া সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করছেন। কিছু রোহিঙ্গা সাঁতরে নাফ নদী পার হয়েও বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ১৯ জনসহ এ পর্যন্ত ৩৯ জন রোহিঙ্গা জারিকেনের সহায়তায় সাঁতরে নাফনদী পার হয়ে শাহপরীর দ্বীপে পৌঁছেছেন।

রোহিঙ্গাদের মতে, গোলাগুলি ও জ্বালাও পোড়াও বন্ধ করলেও রাখাইন অঞ্চল থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ পালিয়ে আসতে বাধ্য করতে নানা কৌশল নিচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এর মাঝে খাদ্য সংকট সৃষ্টি অন্যতম বলে উল্লেখ করছেন পালংখালীর আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত দিয়ে আসা নতুন রোহিঙ্গারা।

তারা বলেন, যারা এখনো প্রাণে বেঁচে আছেন তাদের এক প্রকার ‘অবরুদ্ধ’ করে রেখেছে মিয়ানমার সেনারা। তারা বাজারে কোনো দোকানপাট খুলে বসা কিংবা অন্য কোথাও থেকে খাবার যোগাড় করতে দিচ্ছে না। ফলে শারীরিক নির্যাতন সহ্য করেও ক্ষুধার তাড়নায় বাপ-দাদার ভিটেমাটিকে আর আঁকড়ে ধরা সম্ভব হচ্ছে না ওপারে অবস্থানরতদের। এখন বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে হাঁটা শুরু করেছেন মিয়ানমারের বুচিদং ও রাচিদং এলাকার নির্যাতন থেকে রক্ষা পাওয়া এলাকার বাসিন্দারা।

রাচিদং উপজেলার কেপ্রুদং এলাকা থেকে পালিয়ে আসা আবদুস শুকুরের স্ত্রী রাবেয়া বসরী (৩০) জানান, এখন শারীরিক নির্যাতন অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে তারা (সেনাবহিনী। তবে অবরুদ্ধ করে রেখে খাবার ও অন্যান্য অসুবিধার সৃষ্টি করছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি না পেয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছেন সেখানে অবস্থানকারীরা। দিনের পর দিন ক্ষুধার যন্ত্রণা সইতে না পেরে অবশেষে তারা এপারে চলে আসতে বাধ্য হচ্ছেন।

নতুন করে গত এক সপ্তাহে কী পরিমাণ রোহিঙ্গা এসেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সঠিক পরিসংখ্যান বলা যাবে না। তবে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দিনে প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গা উখিয়ার সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। তাদের উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের বিভিন্ন ব্লকে স্থান দেয়া হয়েছে।

নিউজবিডি৭১/এম/ ৬ নভেম্বর ২০১৭

image_print
Share.

Comments are closed.