২৫শে জুন, ২০১৮ ইং শেষ সম্বলটুকু জেলা প্রশাসক বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়ায় সমালোচনার ঝড়
Mountain View

শেষ সম্বলটুকু জেলা প্রশাসক বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়ায় সমালোচনার ঝড়

0
image_pdfimage_print

নিউজবিডি৭১ডটকম
বগুড়া : রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলা শহরে যানজট কমানোর জন্যে রিকশা, অটো রিকশা, ইজিবাইক ও অবৈধ সিএনজি চলাচল বন্ধে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন।

গত বুধবার (৪অক্টোবর) বগুড়া শহরের সাতমাথায় অভিযান চালিয়ে অসংখ্য রিকশা, ভ্যান, অটো রিকশা বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন।

জেলা আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির (আরটিসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার শহরের সাতমাথায় ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ১৭টি অটোরিকশা আটকের পর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পৌর মেয়র মাহবুবর রহমানের উপস্থিতিতে ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা হাকিম (এডিএম) মোহাম্মদ হালিমুন রাজীব।

এ অভিযানের সময় ক্ষতিগ্রস্ত চালকেরা প্রশ্ন তোলেন, শহরের বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রিকশা কেনাবেচা হলেও সেখানে অভিযান না দিয়ে শুধু চালকদের কাছ থেকে রিকশা জব্দ করে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে গরীব রিকশাচালকদের কান্নাজড়িত আকুতি। তাদের কারো কারো নিজের শেষ সম্বল এটি। কারো বা ভাড়ায় আনা রিকশা বা অটো রিকশা এগুলো। এমনিতেই দেশে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের শেষ সম্বলটুকু গুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে করে তারা পড়েছেন মহা বিপাকে।

জসিম নামের এক অটোচালক পুলিশকে অনুরোধ করে জানান, তিনি কিস্তির টাকা ঋণ করে অটো রিকশা কিনেছেন। তার অটোটি যেন গুড়িয়ে না দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশাসন তার কথা রাখেনি। তারা বুলডোজার চালিয়ে জসিমের স্বপ্নকে গুড়িয়ে দিয়েছে।

প্রশাসনের এমন খামখেয়ালি কার্যক্রম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠছে।

সিনিয়র সাংবাদিক অঞ্জন রায় লেখেন, এই রিকশা শ্রমিকের চোখের পানি স্মরণ যারা নজরে নিচ্ছেন না- আরামে আয়েশে আছেন। তারা মনে রাখবেন- কোন অমানবিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। এদেশেই মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকাংশেরই ছিলেন এই রিকশা শ্রমিকের মতেনই প্রান্তিক মানুষ।

বগুড়ার প্রতিটি রিকশা শ্রমিকের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছি- শ্রমিকের রিকশা গুঁড়িয়ে দেয়ার বুলডোজার কেনার জন্য আমি আমার রাত জেগে রোজগারের টাকা থেকে ট্যাক্স দেই না। ধিক্কার জানাই এই অমানবিকতার সাথে যারা ছিলেন- তাদের প্রতি। মনে রাখবেন- এই লুঙ্গী পরেথাকা রবিউল ইসলামরা মুক্তিযুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলো বলেই দেশে আপনারা ক্ষমতাবান- ইচ্ছে মতোন বুলডোজার চালাতে পারেন।

এটিএন নিউজ এর হেড অব নিউজ প্রভাষ আমিন লেখেন, পুরো দেশে অবৈধ কোনো কিছু নেই, কোনো দুর্নীতি নেই; অবৈধ ছিল কেবল বগুড়ার কয়েকটি অটোরিকশা আর ইজিবাইক। ‘ছিল’ লিখছি, কারণ এখন আর নেই। সব গুড়িয়ে দিয়েছি বুলডোজারের চাকায়। অবৈধ প্রশ্নে এমন আপোষহীন, কঠিন রাষ্ট্রযন্ত্রই তো চাই আমরা। বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বনকে গুড়িয়ে যেতে দেখে কোথাকার কোন রবিউল কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে তা দেখে মন খারাপ করে ঘুম নষ্ট করার টাইম কোথায়? ধুর, ঘুমাই গিয়া। সকালে উঠে দেখবো, আমাদের দেশটা স্বপ্নপুরী। কোথাও অবৈধ কিছু নেই। দেশের সর্বশেষ অবৈধগুলো বগুড়ায় গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। চলুন স্বপ্ন দেখি।

কৌশিক আহমেদ লেকেন. আইন অন্ধ এ কথাটা বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজ্য নয়। আইন হল মাকড়সার জাল বড়রা পরলে বাহির হয়ে যায় আর ছোটরা পরলে আটকায়ে যায়।

রাষ্ট্র কোন নাগরিকের জীবিকার্জনের পথ নিশ্চিত করতে না পারলেও তাদের নিজের উদ্যোগে গড়ে তোলা একমাত্র উপার্জনের উপায়কে নির্মমভাবে গুড়িয়ে দিচ্ছে।

আমাদের রাষ্ট্র এত অমানবিক কেন? এমন রাষ্ট্র কি আমরা চেয়েছি? এসব দৃশ্য কোন ভাল লক্ষণ নয়।

আরিফুল ইসলাম নামের একজন লেখেন, আজীব একটা দেশে বাস করি, এই গরীব রিকশাচালক হাত জোর করে অনুরোধ করেছে ভাই আমার রিকশাটা ভেঙ্গে দিও না তারপরও তার রিকশাসহ আরো ১২ টি গরীব রিকশাওয়ালার রিকশা বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে।

আমি অনেক জেলাশহরে দেখেছি এই ব্যাটারি চালিত রিকশা চালাতে, উপজেলা শহর গুলোতে তো এখুন এগুলো কমন রিকশা ব্যাটারি চালিত রিকশা। আচ্ছা মানলাম বগুড়া শহরে এই রিকশা চালানো নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ, অন্য জেলা উপজেলাতে এই রিকশা নিষিদ্ধ নয়। একটা রিকশার দাম ৫০ হাজার টাকা, রিকশা ভাঙ্গে কোন যুক্তিতে বুঝে আসে না। গরীব রিকশা চালকদের কিছু সময় দিলে এমন কি ক্ষতি হত?
আল্লাহর কাছে দোয়া করি, হে আল্লাহ এই বগুড়া জেলার জালেম প্রশাসন ও জরিত পুলিশদের জীবনও টুকরোটুকরো করে দাও, তাদেরকে রিকশা চালকের চেয়ে গরীব অভাবী বানিয়ে দাও। আমীন।

আশিক ইকবাল লায়ন তার ফেসবুক পেজে লেখেন, ছি, জাতিকে নির্বাক করা কর্মকাণ্ড প্রশাসনের…
আরো কত কিছুই করতে পারে…তাই বলে গরিবের পেটে লাথি মেরে সেই চেষ্টা?
জায়গাটা যেন কোথায়…? ওহ বগুড়ায়!

আপনাদের একটা নয় পরিবারের চারটা সদস্যদের জন্য চারটা গাড়ি কিনবেন। উল্টো পথে গাড়ি চালিয়ে দেশের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাবেন। অবৈধ গাড়ির পারমিশন দিয়ে অবৈধ টাকা পকেটে ঢুকাবেন। আর গরীব রিক্সা চালকের রিক্সাসাটি বুলডুজার দিয়ে গুড়িয়ে দিবেন!!! এই সিদ্ধান্ত আপনার মত জেলা প্রশাসনকে শেখ হাসিনা বা সড়ক ও সেতু মন্ত্রী দেয়নি। বগুড়া জেলা প্রশাসক ও এসপির পদত্যাগ চাই।

রুবেল আহমেদ লেকেন, নিজের স্বাধীনতা তো কবেই যবাই হয়েছে, এখন মনে হয় এক দল কুকুরের হাতে জিম্মি হয়ে আছি।

রিন্টু হোসাইন লেখেন, অটো রিকশা নামানোর আগেই সরকারের চিন্তা করার উচিত ছিল।

সাকিবুজ্জামান সাদ্দাম লেখেন, ধিক তোমারে শত ধিক।

আরেক অটোচালক রবিউলের অটো গুড়িয়ে দিলে তিনিও কান্নায় ভেঙে পড়েন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, এখানে আওয়ামী লীগ নেতা মমতাজ অবৈধভাবে রাজত্ব করে চলেছেন। তা ছাড়াও পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে অন্যরা সাধারণ রিকশাচালকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদাবাজি করতেন।

তিনি বলেন, মোহন, মতিন, এরাও চাঁদাবাজি ও মাদকব্যবসা করে। যদিও মতিন এখন জেলে। আর বগুড়া শহরের কই পড়ার করিমের দাপটে ওখানে স্বাভাবিকভাবে বাঁচা মুশকিল। তাকে চাঁদা না দিয়ে কোন ভবন নির্মাণ করা যায় না। তার নির্ধারণ করে দেওয়া দোকান থেকে চড়া দামে রড, সিমেন্ট কিনতে হয় তার পরিচিত লোকজনের কাছ থেকে।

নিউজবিডি৭১/এম/৬ অক্টোবর , ২০১৭

Share.

Comments are closed.