২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং নরসিংদীতে পরিত্যাক্ত সরকারী কলোনীকে কেন্দ্র করে দালালরা হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা

নরসিংদীতে পরিত্যাক্ত সরকারী কলোনীকে কেন্দ্র করে দালালরা হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা

0

নিউজবিডি৭১ডটকম
সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী করেসপন্ডেন্ট : নরসিংদী সদর উপজেলার ইউ.এম.সি জুট মিল মেঘনা নদী সংলগ্ন কলোনীটি সরকারীভাবে ২০১৩ সালে সম্পূর্ন বন্ধ করে দেয়া হয়। সরকারি কর্মচারীদের জন্য এ সরকারি কলোনিটি বরাদ্দ ছিল। ১৯৫০-এর দশকে নির্মিত কলোনির রুটিন মেরামত ও সংস্কার না করায় বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে কলোনিটির অবস্থা খুবই খারাপ। বড় খেলার মাঠ, খোলামেলা পরিবেশ নরসিংদীর ইউ.এম.সি জুট মিল মেঘনা নদীর সংলগ্ন অবস্থিতির কারণে এ কলোনিটি এক সময় নরসিংদীর অন্যতম সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব আবাসিক এলাকা ছিল। তখন নরসিংদীর এ কলোনিতে একটা ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়া সরকারি কর্মচারীদের কাছে সৌভাগ্য বলে বিবেচিত হতো। পাকিস্তান আমলে এসব কলোনির রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে করা হতো। স্বাধীনতার পরও কিছুকাল মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না দেয়ায় কলোনির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হয় না বললেই চলে। সংস্কারের অভাবে কলোটি এখন বসবাসের অযোগ্যই হয়নি, পরিত্যক্ত ও ঘোষণা করা হয়েছে।

আগে জানালার কাচ ভেঙে গেলে বা বাথরুম-ইলেকট্রিক ফিটিংস ইত্যাদি নষ্ট হলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষদের অভিযোগ করলে অবিলম্বে পুনঃস্থাপন করা হতো। কিন্তু এখন অভিযোগ করলে কোনো কাজ হয় না। নিজেদের গরজেই পয়সা খরচ করে তা মেরামত করতে হয়। আগে প্রতি বছর বিল্ডিংয়ের ভেতর ও বাইরে চুনকাম করা হতো। কিন্তু এখন শেষ চুনকাম কবে করা হয়েছে, তা কারও মনে নেই! কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারি না থাকায় ইউ.এম.সি জুট মিল সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীর সংলগ্ন কলোনিটি বেদখল হয়ে গেছে। পরিত্যক্ত ঘোষনা করার পরেও এ কলোনীতে ইউ.এম.সির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শ্রমিক নেতাসহ এক শ্রেনীর দালালরা অবৈধভাবে ভাড়া দিচ্ছেন। কলোনীর বিভিন্ন কক্ষে সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজনদের ভাড়া দিয়ে একটি বিশেষ মহল মোটা অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। কোথাও যুবকদের ক্লাব ঘর তৈরি করা হয়েছে। অনেকেই ফ্ল্যাটের সামনে ও পেছনে অবৈধ ঘর তুলে ভাড়া দিয়ে টুপাইস কামাচ্ছেন। অনেকে সাবলেট দিয়ে কলোনির জনসংখ্যা বৃদ্ধি করেছেন।

যেখানে-সেখানে অপরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ ও বাগানের নামে জঙ্গল তৈরি করে শিশুদের খেলাধুলার পথ বন্ধ করা হয়েছে। সরকারি কলোনির এই বেহাল দশা দেশের ব্যাপক উন্নয়ন দাবির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাই অবিলম্বে সরকারি কলোনিগুলো সংস্কার করা দরকার। এলাকার জনসাধারনের দাবি অবিলম্বে কলোনির আমূল সংস্কার কাজ শুরু করতে হবে। কলোনির ভেতরে নকশাবহির্ভূত সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে কর্তৃপক্ষের সচেতন দৃষ্টি দরকার। কলোনী সংলগ্ন খেলার মাঠ সংরক্ষণ করাসহ শিশুদের জন্য তৈরি করা পার্কের যথাযথ দৃষ্টি নেওয়াও দরকার। ইউ.এম.সি জুট মিল এলাকার এক দোকানদার বলেন, কলোনিতে অবৈধভাবে ভাড়া দেওয়ার যে অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে, তা বন্ধ হওয়া দরকার। যারা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন, এসব অনিয়ম-দুর্নীতিতে তাদের প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার বিষয়টি ন্যাক্কারজনক, এটি সরকার ও একটি দেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন করে।

নিউজবিডি৭১/এম/১৩ সেপ্টেম্বর , ২০১৭

image_print
Share.

Comments are closed.