২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঠেঙ্গারচরে আশ্রয় দেয়া হবে

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঠেঙ্গারচরে আশ্রয় দেয়া হবে

0

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সবাইকে একখানে করে সন্দ্বীপের কাছে ঠেঙ্গারচরে সাময়িকভাবে আশ্রয় দেয়া হবে। এ লক্ষ্যে সরকার থেকে ইতোমধ্যে সেখানে প্রায় ১০ হাজার একর জায়গা শনাক্ত করা হয়েছে। মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সরকার থেকে খাদ্য, চিকিৎসা ও থাকার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে সারা বিশ্ববাসীকে জাগ্রত করে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম।

সরকার দলীয় সংসদ কামাল আহমেদ মজুমদারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ ইস্যুতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা নিয়ে কেউ ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করবেন না। করে কোন লাভ হবে না। সবার উচিত এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া। সবাই প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করুন, এ সঙ্কটও আমরা মোকাবিলা করতে পারবো।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে মাত্র দু’দিন আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে গত ১৫-১৬ দিনে স্রোতের মতো রোহিঙ্গা শরনার্থীরা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে এসব শরণার্থীরা দেশটি থেকে এসেছে, তাদের করুণ অবস্থা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু যেমন জনগণের বন্ধু ছিলেন, তার কন্যা শেখ হাসিনাও জনগণের বন্ধু। এ কারণে মিয়ানমার থেকে যেভাবে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, আমরাও যদি একই রকম আচরণ করতাম তখন কী হতো?

মন্ত্রী বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন আমরা মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরনার্থীদের সাময়িক আশ্রয় দেব, খাওয়া ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো। মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের আপাতত কক্সবাজারের উখিয়ায় রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে দুই হাজার একর জায়গা বরাদ্দ করা হয়েছে। পরে সন্দ্বীপের ঠেঙ্গারচরে সব রোহিঙ্গাদের একখানে করে ১০ হাজার একর জায়গায় সাময়িকভাবে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে জোর কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে বাংলাদেশে আসা মিয়ানমারের নাগরিকদের সেদেশে ফেরত পাঠানো হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, দীর্ঘ ৪ মাস ধরে চলা ভয়াবহ বন্যা সরকার সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। বন্যাকবলিত একজন মানুষও না খেয়ে থাকেনি। আমরা বন্যাদুর্গত মানুষদের খাদ্যসহ পুনর্বাসনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ’র প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ঢাকা মহানগরীতে ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকা আবাসনসমূহের সুনির্দিষ্ট তালিকা রয়েছে। রাজউক ও ঢাকা সিটি করপোরেশন এই তালিকা প্রস্তুত করেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২১২টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১০৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে।

নিউজবিডি৭১/এম/১১ সেপ্টেম্বর , ২০১৭

image_print
Share.

Comments are closed.