মাহফুজুর রহমানের গান নিয়ে অভিনেত্রী শানুর গুরুতর অভিযোগ

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : এক বেসরকারি টেলিভিশনে ঈদের অনুষ্ঠানে প্রচার হয় চ্যানেলের চেয়ারম্যানের একক সংগীতানুষ্ঠান৷ সব সমালোচনা ছাড়িয়ে উঠে এসেছে এক অভিনেত্রীর অভিযোগ৷ টেলিফিল্মের ছবি কেটে গানের ভিডিওতে বসিয়ে দেয়ায় তাঁকে পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়৷

৪ সেপ্টেম্বর রাতে প্রচার হয় এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমানের একক এই গানের অনুষ্ঠানটি৷ প্রচারের আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এই অনুষ্ঠান৷ ট্রল, ব্যঙ্গ এবং আরো নানা উপায়ে বিষয়টি মোটামুটি ভাইরাল হয়ে পড়ে৷

‘‘শুধুমাত্র নিজের মালিকানায় টিভি চ্যানেল থাকাতেই এটা সম্ভব”, বলছেন কেউ কেউ, কেউ আবার বলছেন, ‘‘দর্শকরাই বরং আলোচনার জন্ম দিয়ে তাঁকে আরো জনপ্রিয় করে তুলছে৷”

কিন্তু রাত না পোহাতেই সম্পূর্ণ নতুন এক ধরনের অভিযোগ নিয়ে হাজির হলেন অভিনেত্রী ও মডেল শানারেই দেবী শানু৷ শানু দুই বছর আগে অভিনয় করেছিলেন এটিএন বাংলাতেই প্রচারিত একটি টেলিফিল্মে৷ কিন্তু হঠাৎ করেই জানতে পারলেন, তিনি হয়ে গেছেন মাহফুজুর রহমানের গানের মডেল৷

মঙ্গলবার সকালেই এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে শানারেই বলেন, ‘‘…এটুকু বলতে চাই এটা দেবাশীষ বড়ুয়া দীপ-এর একটা টেলিফিল্মের গানের অংশ, অথচ কিভাবে গানের মিউজিক ভিডিও হয়ে গেল, বুঝলাম না৷ আমাকে জানানো হয়নি….এখন বুঝতে পারছি না কী বলা উচিত!”

এর পরপরই ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা হয় তাঁর৷ শানারেই অভিযোগ করেন, গানের বিষয়টি নিয়ে তাঁর আপত্তির কিছু নেই৷ কিন্তু এই অনুষ্ঠানে তাঁর ছবি প্রচারের কারণে ‘‘অর্থের লোভে মডেলরা যে কোনো কিছু করতে পারেন”, এমন অভিযোগ অনেকের কাছ থেকে শুনতে হচ্ছে বলে জানালেন শানারেই৷এ ধরনের কাজকে ‘ক্রাইম’ বলেও উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী৷

শানারেইর এই মন্তব্য সামনে নিয়ে এসেছে মিডিয়ায় অনেক দিন ধরে অনালোচিত এক ইস্যুকে৷ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ব্যারিস্টার তানজিব-উল আলম বলছেন, ‘‘এক্ষেত্রে কপিরাইটের ভায়োলেশন না হলেও, মরাল ভায়োলেশন হয়েছে৷”

ব্যারিস্টার তানজিব বলছেন, ‘‘একজন অভিনেতা যখন কোনো একটা নাটকে অভিনয় করেন, তখন এটার একটা পারস্পেকটিভ থাকে৷ এখন ঐটাকে যদি আউট অফ কনটেক্সট তুলে অন্য একটা জায়াগায় স্থাপন করা হয়, যেখানে ব্যবহার করার ফলে তাঁর (অভিনেতার) অবস্থানে ক্ষতি হয়েছে, তাহলে অবশ্যই সেটা নিন্দনীয় একটা কাজ হয়েছে৷”

তবে কাজের স্বীকৃতির দাবি করতে পারলেও কপিরাইট আইনে কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ বা ক্রিমিনাল মামলার সুযোগ দেখছেন না তানজিব-উল আলম৷

এদিকে, এমন যথেচ্ছা ব্যবহারের বিরুদ্ধে একা সোচ্চার না হয়ে পুরো শিল্পীসমাজকে একসাথে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন শানারেই দেবী শানু৷ ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারের পরপরই ফেসবুকে লাইভে আসেন তিনি৷ পরিবারের সাথে ছুটি কাটাতে দেশের বাইরে থাকলেও হাজির হন ভক্তদের সামনে৷ খোলাসা করেন, কী প্রেক্ষিতে, কীভাবে ড. মাহফুজুর রহমানের গানের মিউজিক ভিডিওতে দেখা গেল শানারেইকে৷ -ডয়েচে ভেলে

নিউজবিডি৭১/এম/৭ সেপ্টেম্বর , ২০১৭