২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, ভেঙে যাচ্ছে সংসার! প্রতিকার আবশ্যক!

এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, ভেঙে যাচ্ছে সংসার! প্রতিকার আবশ্যক!

0

ড. মো. আখতারুজ্জামান : আশাবাদী মানুষ যখন ক্রমাগত নিরাশার দোলাচলে দোল খেতে থাকে অথবা পয়েন্ট অব নো রিটার্নে চলে যায়, সেটা কিন্তু সত্যিই একটা খারাপ খবর! ব্যক্তির এই ব্যক্তিগত বিপর্যয় যখন সমাজ থেকে সমাজে ছড়িয়ে পড়ে তখন সেটা একটা সামাজিক বিপর্যয়ের বার্তাবাহক হয়ে ওঠে। অাশাবাদী মানুষেরা শত প্রতিকূলতার মাঝে আশার আলোটুকু নিয়ে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকার দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়ী হওয়ার পরেও নিরন্তর চারপাশে ঘটে যাওয়া মানবিক বিপর্যয়, সামাজিক অবক্ষয়, প্রেম প্রীতি ভালবাসার শ্রীহীনতা, দাম্পত্যের মত মধুর সম্পর্কের ক্ষয়িষ্ণুতা ইত্যাকার বিষয়গুলো তাদেরকে ক্রমাগত আশাহত করে তুলছে।

দুর্দান্ত গতিতে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ইমার্জিং টাইগারের মত এগিয়ে চলেছে দেশ। তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ এখন শক্ত প্রলেপের তলার আবরণে ঢাকা পড়েছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে, বেড়েছে সক্ষমতা, জীবনযাত্রায় এসেছে সৌখিনতা। সবই দেশজ উন্নয়নের সূচক সন্দেহ নেই। সাথে সাথে অন্যায় অবিচার অত্যাচার অনাচার অনাসৃষ্টি অপকর্ম এবং বিবাহ বিচ্ছেদের উল্লম্ফন আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলছে। এসব নেতিবাচক সূচক আমাদের সামগ্রিক উন্নয়নের অন্তরায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সম্প্রতিক সময়ে প্রাপ্ত এক তথ্য বিবরণী থেকে জানা যায়
দেশে উদ্বেগজনক হারে মানুষের সাজানো গোছানো দাম্পত্য সংসার ভেঙে যাচ্ছে, বিবাহ বিচ্ছেদের হার সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। দাম্পত্য সম্পর্ক ছিন্ন করার ক্ষেত্রে এখন ছেলেদের থেকে অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। এক সময় ছেলেরাই বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতেন, কারণ তখনের কনসেপ্ট ছিল ছেলেরা বিয়ে করে আর মেয়েরা বিয়েতে বসে। দিন বদলের সাথে সাথে সে ধারণাও পাল্টে গেছে। এই দাম্পত্য ও সাংসারিক অশান্তির অশনি সংকেত অনেক শান্তিপ্রিয় মানুষের মনকে অশান্ত করে তুলেছে। যাদের বিবাহযোগ্য পুত্র কন্যা আছে, তাদের অনাগত দাম্পত্য জীবন কেমন হবে সেটা নিয়ে সেসব অভিভাবকেরা রীতিমত চিন্তিত বিচলিত ও শঙ্কিত! বিবাহ বিচ্ছেদের হার ব্যক্তি থেকে সমাজ জীবনকে অস্থির অশান্ত করে তুলছে।

সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের মধ্যে স্নেহ মমতা প্রেম প্রীতি আর ভালবাসা মানুষকে সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করার অনুপ্রেরণা যোগায়। নর-নারীর মধ্যকার দাম্পত্য প্রেম মানব মানবীর মধ্যে একত্রে বসবাসকে উৎসাহ দেয়, দেহ মনকে উদীপ্ত করে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সৃষ্টি করে বংশবদ রক্ষার উপজীব্য হিসেবে কাজ করে।

বস্তুতঃ বিবাহ বন্ধনের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন দুটি পৃথক সত্বার বিপরিত লিঙ্গের দুজন মানুষের একত্র বসবাস দিয়ে শুরু হয় দাম্পত্য জীবন। নিজেদের পছন্দে, কখনো অভিভাবক বা আত্মীয় স্বজনদের পছন্দে আড়ম্বর অথবা অনাড়ম্বর বিবাহ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হয় বিবাহোত্তর সংসার জীবন। বিবাহের শুরুতে আবেগ অনুভূতি এবং উচ্ছ্বাসের তীব্রতার কারণে স্বামী স্ত্রীর স্ব স্ব দোষত্রুটি একে অন্যের কাছে তেমন একটা ধরে পড়ে না। সময়ের সাথে সাথে দাম্পত্য জুটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে না হতেই এবং মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রেমজ আবেগ ধীরে ধীরে তিরোহিত হতে থাকে, পরস্পরের দোষত্রুটি একে অন্যের সামনে ওঠে আসে, লেগে যায় অশান্তি, ভেঙে যায় সংসার।

প্রেমের বিয়ের ক্ষেত্রে সমস্যা দ্রুত হয় বলে বিশেষজ্ঞ অভিমতে জানা যায়। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, প্রেমিক যুগল যখন প্রেমের রঙিন চশমা চোখে দিয়ে প্রেমসাগরে হাবুডুবু খেতে থাকে তখন কারুর কোন দোষ কেউ চোখে দেখে না, শুধু একজন আরেকজনের গুণপনায় ব্যস্ত। বিয়ে করার পর ধীরে ধীরে রঙিন চশমার রং ফিকে হওয়ার সাথে সাথে এবারে বাস্তবের পৃথিবীকে নতুন করে দেখা শুরু করে, তৈরি হয় মনোজগতে মনোরহস্যের জটিল রাসায়নিক বিক্রিয়া। তবে এটা যে সর্বৈব সত্য সেটা কিন্তু বিশেষজ্ঞরা হলফ করে বলছেন না।

আগের দিনের মত এখন আর গৃহবধুরা আটপৌরে শাড়ি পরে ঘরের কোণে আবদ্ধ থাকে না। ছেলেদের মতই তারা কর্মক্ষেত্রে নানান দক্ষতায় বা কখনো ছেলেদের থেকে কোন কোন ক্ষেত্রে অসীম দক্ষতা ও সাহসিকতায় বিভিন্ন কর্মে নিয়োজিত রয়েছেন। মেয়েদের পরীক্ষার রেজাল্ট ছেলেদের চেয়ে ভাল। সব কর্মক্ষেত্রে কমবেশি মেয়েদের দীপ্ত পদচারণা লক্ষণীয়। স্থানীয় এবং জাতীয় রাজনীতিতে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ছে। পর্বত জয়, খেলাধুলায়, সেনাবাহিনীর ক্ষিপ্রতা সহ মেয়েদের সার্বিক সাফল্যে মন ভরে যায় আনন্দ-উল্লাসে।

এ সবই ভাল সিগন্যাল দেশের জন্য। এখন সঙ্গত কারণে প্রশ্ন আসছে কেন এই মাত্রাতিরিক্ত বিবাহ বিচ্ছেদ?

★ আর্থ-সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক-রাজনৈতিক কারণে প্রতিবছর বিভিন্ন স্তরে বা শ্রেণীতে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে।
★ আবহমান কাল থেকে শুরু করে নারীরা স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ, দেবর-ভাশুর ও সতীনের অসহনীয় জ্বালা সয়ে অনেকটা বাধ্য হয়ে সংসারের মাটি কামড়ে পড়ে থাকতো স্বামীর সংসারে কারণ স্বামী পরিত্যক্তা নারী জানে সমাজে তার অবস্থান অনেক নড়বড়ে; সর্বত্রই সে অনাকাঙ্ক্ষিত, অবাঞ্ছিত, আলোচিত, সমালোচিত, কুলটা এবং অলক্ষী হিসেবে বিবেচিত। তাই কখনো আত্মদহন সইতে না পরে আত্মহননকেও তারা বেছে নেয়। দ্বিমত করার অবকাশ নেই যে, পুরুষশাসিত এই সমাজে এক সময় নারীরা পুরুষ কর্তৃক নানাভাবে শাসিত ও শোষিত হয়েছে। হালে সংখ্যায় কম হলে পুরুষও নির্যাতিত হচ্ছে নারীদের দ্বারা। কিন্তু সময়ের পথ পরিক্রমায় স্বাধীনচেতা নারী বদ্ধ ঘরে বসে না থেকে জগতটা দেখার বাসনা থেকেই বিবাহ বিচ্ছেদের পথে পা বাড়িয়ে চলেছে।
★ যৌতুক দাবি, শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার, মাদকাসক্তি, বিবাহবহির্ভূত পরকীয়া সম্পর্ক, পারস্পারিক জীবনযাপন আচার আচরণে গরমিল , সন্দেহ প্রবণতা, প্রত্যাশার সাথে প্রাপ্তির সমন্বয়হীনতা, সাংসারিক অস্বচছলতা, বাহ্যিক সৌন্দর্য, চাকুরিগত স্ট্যাটাস, শারীরিক অসুস্থতা, ব্যক্তিত্ববোধ, অবৈধ রোমান্স প্রীতি, মানসিক দ্বন্দ্ব নানাবিধ কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ থাকে ঘটে। উচ্চবৃত্ত, মধ্যবৃত্ত ও নিম্নবৃত্ত পরিবারের মধ্য বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে কিছুটা তারতম্য দেখা যায়।
★ ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াসহ বিভিন্ন প্রভাব ছেলেমেয়েদের বিবাহবিচ্ছেদে উদ্বুদ্ধ করছে। পাশাপাশি নারী সচেতনতাও মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সম্পর্কের বহুমুখী ধারা তৈরি করেছে৷ মুঠোফোনের সহজলভ্যতায় বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্ক ত্বরান্বিত হয়ে বিবাহ বিচ্ছেদের হারকে উদ্বেগজনক হারে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
★ সমাজবিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ, বাংলাদেশে ‘পরনারী’ বা ‘পরপুরুষে’ আসক্তির অন্যতম কারণ হলো প্রতিবেশি দেশের হিন্দি এবং বাংলা টেলিভিশন সিরিয়াল কারণ এইসব সিরিয়ালের প্রধান উপজীব্যই হল ‘পরকীয়া প্রেম’। তাছাড়া ঐসব সিরিয়ালে একজন ডিভোর্সী নারীকে ২য় বিয়ের মার্কেটে বিশেষ দামী পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় যা আমাদের সমাজ ব্যবস্থার সাথে একেবারেই বৈপরিত্য!

বিবাহ বিচ্ছেদের পরিণাম:
আমরা ভুলে যায় যে, একটা সংসার ভেঙে যাবার পরে ২য় সংসারে শান্তি পাবার সম্ভাবনা সুদুর পরাহত! পুরুষ বা নারী উভয়ের জন্যে সন্তান সহ ২য় বিয়ে তো আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। অামাদের দেশে সব সবচে বেশী ক্ষতিগ্রস্হ হয় ডিভোর্সী নারীরা এবং তাদের সন্তানেরা; এরা হয়ে যায় কতকটা না ঘরকা, না ঘাটকার মত। ডিভোর্সী নারী ও তার সন্তানেরা নানান ধরনের মানসিক সমস্যায় নিপতিত হয়।
মনোবিজ্ঞানীদের ভাষায়, সন্তানেরা যদি বাবা-মায়ের স্বাভাবিক সঙ্গ এবং ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে তাদের জীবন হয়ে ওঠে অস্বাভাবিক৷ তখন তারা সমাজকে, পরিবারকে নেতিবাচক হিসেবেই দেখে৷ তাদের মধ্যে তৈরি হয় একরাশ হতাশা ও জীবনবিমুখতা ৷
আমাদের সমাজে এখনো বিবাহ বিচ্ছেদের বেলায় নারীকেই প্রধানত ‘দোষী’ বলে গণ্য করা হয়৷ অনেক নারীই এই চাপ সহ্য করতে না পেরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন৷

বিবাহ বিচ্ছেদের শিকার সন্তানেরা বেড়ে ওঠে ‘ব্রোকেন ফ্যামিলির’ সন্তান হিসেবে; যা তাদের স্বাভাবিক মানসিক বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে৷ তারা এক ধরনের ‘আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে’ ভুগতে থাকে।

প্রতিকার:
★বিবাহ বিচ্ছেদ অনিবার্য হয়ে ওঠার আগেই এটার পরিণাম নিয়ে ভাবতে হবে। তাই নিজেদের মধ্যে শুরু থেকেই বিশ্বাসের ভিত গড়ে তুলতে হবে৷ দাম্পত্য জীবনে থাকতে হবে স্বচ্ছতা, সহনশীলতা এবং সমঝোতার মানসিকতা৷ সিদ্ধান্ত নিতে হবে সুস্থির হয়ে, অস্থির হয়ে নয়৷

★দাম্পত্য সম্পর্কের মনোজাগতিক ব্যাখ্যা বড্ড জটিল ও কঠিন! পারস্পারিক শ্রদ্ধা ভক্তি ভালবাসা পরমতসহিষ্ণুতা আর বিশ্বাসের যথাযথ প্রয়োগ ব্যতিত দাম্পত্য সংসারকে সঠিক ভাগে পরিচালন সম্ভব নয়।
★দাম্পত্য সংসারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বারংবার কম্প্রোমাইজ করেই সংসারের শান্তি অানয়ন করতে হয়, যাকে বলে “সিরিজ অব কম্প্রোমাইজ”!
জায়া ও পতি দুজনেরই মনে রাখা দরকার শতভাগ পছন্দের মত করে কেউ কখনো দাম্পত্য জুঁটি বাঁধতে পারে না, তাই এখানে কম্প্রোমাইজ করতে না পারলে সে সংসারে শান্তি আনয়ন সম্ভব নয়।
★সংসারে অশান্তির জন্যে ঢালাওভাবে নারী বা পুরুষকে দায়ী করা ঠিক হবেনা। দুজনেই এরজন্যে কমবেশি দায়ী। সমস্যা আসতেই পারে, কিন্তু সমস্যা সমাধানের পথ নিজেদেরকেই খুঁজে বের করতে হবে। দেন দরবার আর সালিস মধ্যস্থতা করে কখনো দাম্পত্য সংসারে শান্তি ফেরানো যায় না, শান্তি নিজেদেরকেই অানয়ন করতে হবে।
★বিবাহ বিচ্ছেদ কোন চূড়ান্ত সমাধান নয়, রোগ নিরাময়ের সাময়িক ধন্নন্বরী বটিকা মাত্র। সেজন্য শেষ পর্যন্ত মানিয়ে নেয়ার জন্য ইসলাম ধর্মে তাগাদা দেয়া হয়েছে। তাই ইসলাম ধর্মে তালাককে নিকৃষ্টতম জায়েজ কাজ বলা হয়।
★ বিয়ের আগে ও পরে বিবাহ ইচ্ছুক নর নারী অনাগত সংসারের সুখ দুঃখ আনন্দ বেদনা হাসি কান্না প্রত্যাশা প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি সম্পর্কে একটা স্বচ্ছ ধারণা নিতে হবে এবং সেটার উপরে ভিত্তি করে দাম্পত্য সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান বের করতে হবে।
★ অবাধ তথ্য প্রবাহের এই সময়ে বিবাহ ইচ্ছুক নর নারীর মধ্যে অনাগত দাম্পত্য জীবন নিয়ে একটা বাস্তবভিত্তিক আলোচনা হওয়া উচিৎ কোন আবেগ তাড়িত প্রেমজ আলোচনা নয়।
★ দাম্পত্য সংসারের মধুময়তা কে পুঁজি করেই সংসার শুরু করতে হবে। যারা বিবাহোত্তর দাম্পত্য জীবনকে টর্চার সেল বা ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণের অনুসঙ্গ মনে করেন , তাদের জন্যে সংসার নয়!

তাই বন্ধুনা আসুন, আমরা যারা সং
সার জীবনে ভাল আছি,তারা যে যার অবস্থা থেকে দাম্পত্য জুঁটির সাংসারিক সুখ বলবৎ করা সহ বিবাহ বিচ্ছেদ রোধে সংশ্লিষ্ট জায়া ও পতিকে বুদ্ধিবৃত্তিক পরামর্শ আর কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই।

লেখক: ড. মো. আখতারুজ্জামান (বিসিএস কৃষি,৮ম ব্যাচ)
জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার, মেহেরপুর।
মোবাইল: ০১৭১১৮৮৪১৯১
ইমেইল: akhtar62bd@gmail.com

এস আই/ ২৩ আগস্ট , ২০১৭

image_print
Share.

Comments are closed.