২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং বঙ্গবন্ধুর দুই খুনির রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করুন

বঙ্গবন্ধুর দুই খুনির রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করুন

0

মোঃ লিটন মিয়া : বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত ১২ খুনির মধ্যে ক্যাপ্টেন নূর চৌধুরী ও মেজর শরিফুল হক ডালিম অন্যতম। স্বাধীনতা যুদ্ধে এই দুই খুনির কি অবদান ছিল তা আজও আজানা। সাধারন মুক্তিযোদ্ধারা মনে করেন তারা দুজন পাকিস্তানের চর হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে নাম লিখিয়েছিলেন। কিন্তু তারা কোন যুদ্ধে অংশ নেননি। সমর যুদ্ধে তাদের দেখা যায়নি। পাকিস্তানের চর হিসেবে যুদ্ধের সময় কাজ করেছেন বলে মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ। কোন যুদ্ধে কি অবদানের কারণে কিভাবে কার সুপারিশে এই দুই খুনি রাষ্ট্রীয় খেতাব পেলেন প্রশ্ন সাধারন মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের। স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও এ প্রশ্নের সমাধান হয়নি। তবে স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মধ্যে তারা যে পাকিস্তানের চর ছিলেন তা প্রমান করেছেন।

কুলাঙ্গার দুই খুনি যুদ্ধকালীন সময়ে আরাম আয়েশে বউ-বাচ্চা নিয়ে বাসায় দিন কাটিয়েছেন। পাকিস্তানের বাহিনী দ্বারা তাদের পরিবারের কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি। অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে সে সময়ে অমানুষিক অত্যাচার করে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও দেশীয় দালাল-রাজাকাররা। কিন্তু এই দুই খুনির পরিবারে সামান্যতম আঁচড় লাগেনি। যুদ্ধের ময়দানে এ দুই খুনিকে পায়নি অধীনস্থ সাধারন মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযোদ্ধারা বঙ্গবন্ধুর আহবানে সাড়া দিয়ে দেশ মাতৃকার টানে বীরবিক্রমে যুদ্ধ করেছেন, দেশের জন্য রক্ত দিয়েছেন, আহত হয়েছেন, পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, প্রাণ দিয়েছেন। শত্রুকে পরাজিত করে ছিনিয়ে এনেছেন স্বাধীনতা, একটি মানচিত্র, একটি লাল সবুজ পতাকা। সাধারন মুক্তিযোদ্ধার বীরত্বকে নিজের অবদান হিসেবে দেখিয়ে ‘ম্যানেজ’ করে বাগিয়ে নিয়েছেন
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘বীর উত্তম’ও ‘বীর বিক্রম’।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, পলাতক ছয় খুনির অন্যতম ক্যাপ্টেন নূর চৌধুরীর নামের সঙ্গে ‘বীর বিক্রম’ ও মেজর শরিফুল হক ডালিমের নামের সঙ্গে ‘বীর উত্তম’ উপাধি রয়েছে। তালিকা দুটি সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছে ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট।

কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত এই দুই খুনির ফাঁসির আদেশ দিলেও রাষ্ট্র তাঁদের মর্যাদা বা খেতাব বাতিল করেনি। কুলাঙ্গার এই দুই খুনি এখনো বীরের মর্যাদা পাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে। কেন এতদিন তাদের খেতাব বাতিল করা হয়নি এ প্রশ্ন দেশবাসীর। তারা জাতির পিতাকে হত্যা করে বাঙালী জাতিকে কলঙ্কিত করেছে, এতিম করেছে। দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে হাজারো বছর। হাজারো বছরে আর পাওয়া যাবে না একজন বঙ্গবন্ধুকে। একটি দেশের জনক ও তার পরিবারকে হত্যার অভিযোগে মৃত্যু পরোয়ানা পাওয়া খুনির রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল না করা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার। মৃক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে শুধু নাম সরানো নয়, আমরা আজকের মধ্যেই তাদের খেতাব বাতিলের জন্য সরকারের নিকট সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি। আশা করি সরকার মহোদয় আজকেই এই দুই খুনির খেতাব বাতিল করে আমাদেরকে কলঙ্ক মুক্ত করবেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। শিগগিরই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই দুজনের নাম বাতিলের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সত্যিই তার নজরে আসেনি বিষয়টি আমরা বিশ্বাস করি, দেশবাসীও বিশ্বাস করে। তাই বলে কি এত বছরে মন্ত্রণালয়ের করতা ব্যক্তিরা কেউ জানল না! জাতি হিসেবে এটা আমাদের জন্য দুভাগ্যের। আমরা কেউ জানলাম না! এ ব্যথতা আমাদের সবার !

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহ্রিয়ার আলমও বলেছেন, খুনিদের ব্যাপারে সারা বিশ্ব ধিক্কার দিচ্ছে। তাঁদের নাম ওয়েবসাইটে থাকাটা গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত কমিটি করে এই দুই নাম বা খেতাব বাতিল করা উচিত।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি সারওয়ার আলী জানান, এখন পর্যন্ত কেন এই দুই খুনির খেতাব প্রত্যাহার করা হলো না, তা জানতে চাওয়া উচিত। খেতাব বাতিল না হলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁদের কবর দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, খুনি নূর চৌধুরী কানাডায় ও শরিফুল হক ডালিম স্পেনে অবস্থান করছেন বলে সরকার নিশ্চিত হয়েছে।

লেখকঃ আইনজীবি, ঢাকা বার, সাবেক সহ-সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী আইন ছাত্র পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি।

এস আই/ ২৩ আগস্ট , ২০১৭

image_print
Share.

Comments are closed.