২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং বিলীনপ্রায় দেশীয় সাদা বক পাখি

বিলীনপ্রায় দেশীয় সাদা বক পাখি

0

নিউজবিডি৭১ডটকম
বিক্রমজিত বর্ধন, মৌলভীবাজার করেসপন্ডেন্টঃ সাদা সাদা মেঘে ঢাকা উজ্বল আকাশ, এর ভিতর থেকেই উড়ে এসে দৃষ্টিসীমা ঘিরে ফেলে একঝাঁক সাদা ‘বক’। সাদা মেঘ আর সাদা ‘বক’ মিলেমিশে এক আশ্চর্য শুভ্রতা যেন ছড়িয়ে দেয় চারপাশে। শুভ্রতার প্রতীক ‘বক’পাখি আজ বিলীনপ্রায় । গ্রামেগঞ্জে ও শহরে শীতের মৌসুমে দেশীয় পাখিও মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। প্রায়ই দেখা যায়, বিক্রি হচ্ছে বক।

আমাদের অতিথি পাখির নিরাপত্তায় আইনের যথেষ্ট প্রয়োগ থাকলেও দেশীয় প্রজাতির পাখির নিরাপত্তায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয় না কেউ। এমনি অবহেলায় বিলুপ্ত হচ্ছে বক পাখি। বকের বৈজ্ঞানিক নাম (Nycticorax ûcticorax) (ইংরেজি : Black-crowned Night Heron) বক মূলত ওয়াক, রাতচরা, বাজকা বা চক্রবাক আরডেইডি (Ardeidae) গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত মাঝারি আকৃতির অত্যন্ত সুলভ এক প্রজাতির পাখি। সারা পৃথিবীতে এক বিশাল এলাকা জুড়ে এদের আবাস প্রায় ৫ কোটি ২৪ লাখ বর্গকিলোমিটার। বিগত কয়েক দশক ধরে এদের সংখ্যা কমে গিয়েছে। সমগ্র বিশ্বে ৫ লাখ ১০ হাজার থেকে ৩৬ লাখ পূর্ণবয়স্ক বক রয়েছে।

আধা জলচর বা জলাভূমির এই পাখিটি তেমন সাঁতারু নয়। পৃথিবীজুড়ে ৬৫ প্রজাতির বক রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে রয়েছে প্রায় ১৮ প্রজাতির বক। তার মধ্যে বক ৯টি, বগা ৫টি এবং বগলা ৪টি। এদের মধ্যে নামে থাকলেও পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বক দৈত্য বক আজ আর দেখাই যায় না। ধুপনি বক আগের তুলনায় অনেক কম এবং লালচে বকও কমে গেছে। খাল, বিল, হাওর-বাঁওড় ও সমুদ্রোপকূলে এদের বসবাস। বক ও বগা পানির ধারঘেঁষে বিশ্রাম নেয়। এরা ৭ থেকে ১২ মিটার উঁচু গাছে দলে দলে কলোনি করে বাসা বাঁধে। অন্যদিকে বাসা বাঁধার জন্য বগলাদের প্রয়োজন নলখাগড়ার বন ও জলাধারঘেঁষা ঝোপঝাড়। বৈশাখ থেকে কার্তিক মাস ‘বকে’র প্রজনন মৌসুম। এ সময় হাওর এলাকার বাঁশঝাড় বা অন্যান্য গাছগাছালিতে এরা বাসা তৈরি করে। এরা অধিকাংশই ২-৫টি ডিম পাড়ে। প্রথমে পুরুষ পাখি বাসা বাঁধা শুরু করলেও পরে স্ত্রী-পুরুষ উভয়েই বাসা বাঁধে এবং ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা লালন-পালন করে। এছাড়াও জমিতে প্রচুর সার ও কীটনাশক প্রয়োগের ফলে হারিয়ে যাচ্ছে বকের মতো অনেক প্রজাতির পাখি ।

কালো মেঘের তলা দিয়ে সাদা বকের বিশাল ঝাঁক যখন ‘ভি’অক্ষর সৃষ্টি করে উড়ে যায়, তখন নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা হয়। ওরা প্রকৃতির বন্ধু, মানুষের বন্ধু। ওদেরকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। আমাদের বক পাখি যেন দিলকুশাস্থ বিমান অফিসের সামনের স্ট্যাচুর মতো হয়ে না যায়। সে খেয়াল রাখা আজ খুবই জরুরি।

নিউজবিডি৭১/এস আই/ ২১ আগস্ট , ২০১৭

image_print
Share.

Comments are closed.