২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং দেশের ঈর্ষণীয় উন্নয়নকে সামগ্রিক উন্নয়নে রূপান্তরের রূপরেখা!

দেশের ঈর্ষণীয় উন্নয়নকে সামগ্রিক উন্নয়নে রূপান্তরের রূপরেখা!

0

ড. আখতারুজ্জামান : সরকার আসে, সরকার যায়। কোন সরকারের শাসনামলে দেশের প্রভূত উন্নতি হয় আবার কোন সরকারের শাসনকালে সেটা সেভাবে হয়না। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের শাসনামলে বহুধা অঁচলে দেশের ঈর্ষণীয় উন্নতি হয়েছে। উন্নতি হয়েছে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে, উন্নতি হয়েছে ব্যক্তি পর্যায়ে, আর্থিক সক্ষমতা বেড়েছে, তার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা।এতদ্সত্বেও সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমাদেরকে এখনো অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে; নইলে উন্নয়নের পূর্ণ সফলতা আমরা পাবো না ।

দেশজ আর্থিক উন্নয়নের সাথে পাল্লা দিয়ে মানুষের মানবিক উন্নয়ন কিন্তু সেভাবে হয়নি। কখনো উন্নয়নের সূচক হয়েছে প্রশ্নবিদ্ধ!
উন্নয়নের অনেক সহজ প্যারামিটারকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না বা কাজে লাগানে যাচ্ছে না। এমনি আরো অনেক কিছু!
অথচ উন্নয়নের সঠিক ক্ষেত্রগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে যথাযথ ভাবে কাজে লাগানো গেলে আমাদের সার্বিক উন্নয়ন দ্রুত স্থান করে
নিতে পারে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

দিনবদলের অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় আসীন বর্তমান সদাশয় সরকার তাদের ২য় মেয়াদ পূর্ণ করতে চলেছে। এ সময়ের মধ্যে সরকার
দেশের আপামর জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়নে বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান, আইসিটিসহ
প্রতিটি খাতে যথাযথ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নকে গতিশীল করে যাচ্ছে।

আসুন মোটাদাগে বর্তমান সরকারের বিশেষ বিশেষ উন্নয়ন সম্পর্কে কিছু মোদ্দাকথা জেনে নিই।

★কৃষিতে বিপ্লব: স্বাধীনতা অর্জনের সাড়ে চার দশক পরে দেশ আজ বহু ক্ষেত্রে বহুদুর এগিয়েছে। অনেক সেক্টরের মত ঈর্ষণীয়
উন্নতি হয়েছে কৃষিতে। কৃষির এ উন্নতি অভাবনীয়!!!
ফলে খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ম্ভরের দেশে পরিণত হয়েছে।
দেশ স্বাধীনের অব্যবহিত পরে এ দেশে আবাদযোগ্য জমি ছিল ১ কোটি ৮৫ লক্ষ হেক্টর এবং মোট খাদ্য উৎপাদন ছিল ৯৫ লক্ষ
মেট্রিক টন। বর্তমানে সেই আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৮৫ লক্ষ হেক্টর অথচ দেশে এখন খাদ্যশস্য উৎপাদন হচ্ছে ৩
গুণেরও বেশি; ভুট্টাসহ এর পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি মেট্রিক টন। ১৯৭১ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ কোটি আর বর্তমানে সেই
সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ১৬ কোটিতে। আবার প্রতি বছর দেশে সংযোগ হচ্ছে ২৪ লক্ষ নতুন মুখ। তা সত্বেও আমাদের
কৃষি কিন্তু মুখ থুবড়ে পড়েনি; মাথা উচুঁ করে সগৌরবে চলমান রয়েছে।
এখনো জিডিপির এক পঞ্চমাংশ আসে কৃষি থেকে। যেকোন সময়ের চেয়ে বর্তমান সরকারের শাসনামলে কৃষিতে সবচে বেশি উন্নতি
হয়েছে।

★ বিদ্যুৎ খাতের সফলতা: বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৩,১৭৯ মেগাওয়াট (মার্চ ২০১৭); গ্রাহক সংখ্যা: ২ কোটি ৪৯ লক্ষ (জুন
২০১৭)। বিদ্যুৎ সুবিধা প্রাপ্ত জনগোষ্ঠী: ৮০%। অথচ ২০০৯ সালে বিদ্যুৎ প্ল্যান্টগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৪৯৩১ মেগাওয়াট।

★ শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়ন: বর্তমান সরকার তার ৮ বছরের শাসনকালে দেশের প্রায় ৯৬ শতাংশ শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষিত
করার সাফল্য দেখিয়েছে। নিরক্ষরতা দূরীকরণেও অর্জিত হয়েছে তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য। ৮ বছর আগে যেখানে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থী
ভর্তির হার ছিল ৬১ শতাংশ, বর্তমানে সেখানে প্রাথমিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় শতভাগ।

★যোগাযোগ খাতে সফলতা: বর্তমান সরকার দেশের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তিস্তা সেতু, বরিশালে
আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু, শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার উড়াল সেতু, শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর সুলতানা কামাল সেতু, শাহ আমানত
শাহ সেতু, শহীদ বুদ্ধিজীবী সেতু, বান্দরবানে রুমা ও থানচি সেতু, রংপুরে যমুনেশ্বরী সেতু নির্মাণ, রাজধানী ঢাকাতে অসংখ্য ফ্লাইওভার
নির্মাণ এই সরকারের বড় সফলতা। এছাড়াও দেশের সর্বত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ চলছে। সংযুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ
এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে। সর্বোপরি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু তৈরির উদ্যোগ। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের
আশা আকাঙ্খার মূর্ত প্রতীকের স্বপ্ন পদ্মা সেতু।

★স্বাস্থ্য খাতে সফলতা:
স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর মান উন্নয়নেও জোর দিয়েছে সরকার। সংবিধানের মাধ্যমে এ দেশের মানুষের স্বাস্থ্য অধিকার
নিশ্চিত করা হয়েছে। ১২৭৭৯ কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। হাসপাতালের সংখ্যা ১৬৮৩টি থেকে বেড়ে হয়েছে ২৫০১টি।
১৫টি শিশু বিকাশ কেন্দ্র স্থাাপন করা হয়েছে। শিশু মৃত্যু উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করার কারণে এমডিজি পুরস্কার লাভ করে
বাংলাদেশ।

★ সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি: স্মরণকালের মধ্যে সবচে ভাল বেতন স্কেল প্রদান করা হয়েছে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত
কর্মচারীদের। ২০১৫ সালে বাস্তবায়িত ৮ম জাতীয় বেতন স্কেলে গ্রেড ভিত্তিতে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারির ৯১-১০১ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি
করা হয়েছে।

★ সমুদ্র সীমা জয়লাভ: আন্তর্জাতিক সমুদ্র আদালতে আবেদনের মাধ্যমে ভারত ও মায়ানমারের কাছ থেকে প্রাপ্য বিরাট জলরাশির
ওপর কর্তৃত্ব স্থাপিত হয়েছে।

★ছিটমহল সমস্যার সমাধান: ভারতের সঙ্গে ছিটমহল সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে নতুন ৪৭ বর্গ কি.মি. এলাকা মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত
হয়েছে।

★তথ্য প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন: আইসিটি সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬.৩০ কোটি
ছাড়িয়েছে। আইসিটি খাত থেকে ডলার আয়ের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জাতীয় তথ্য বাতায়ন প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

★কর্মসংস্হান: এই সরকারের আমলে প্রায় ৭৫ লাখের অধিক বেকার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।

★ ব্যংক রিজার্ভ বৃদ্ধি: বাংলাদেশের ব্যাংক রিজার্ভ ২৯ কোটি বিলিয়ন ছাড়িয়েছে। যা রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।

★জঙ্গি দমনে সফলতা: জঙ্গি দমনে বিশেষ সফলতা লাভ করেছে।

★ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন: বহুবছর পরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।

★ এমডিজি অর্জনে সফলতা: বাংলাদেশ জাতিসংঘের ভাষাতেই এমডিজির লক্ষ্য অর্জনে অনুসরণীয় সাফল্য দেখিয়েছে৷ এজন্যে
বাংলাদেশকে জাতিসংঘ এমডিজির ‘রোল মডেল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) বা
সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সময় শেষ হয়েছে গত ২০১৫ সালে।
এসব উন্নয়নের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ ‘সাউথ-সাউথ এওয়ার্ড’ ইত্যাদি পুরস্কার লাভ করেছেন আমাদের
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।

২০১৬ সালে থেকে শুরু হয়েছে ১৫ বছর মেয়াদি (২০৩০ সাল পর্যন্ত) টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল বা
এসডিজি। এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশ যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে সরকার তথ্য প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে, সময়
খরচ ও ভ্রমণ সাশ্রয় করে কীভাবে সাধারণ মানুষের ওয়ান স্টপ(One Stop) বা নন স্টপ(Non Stop) সেবা
প্রদান করা যায় সে লক্ষ্যে চালু করেছে, “সরকারি কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি(Government Performance
Management System)”।যার অন্যতম লক্ষ্য হলো তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে উদ্ভাবনী পদ্ধতি প্রনয়নের মাধ্যমে
সরকারি সেবা জনবান্ধব ও সহজলভ্য করা। সরকারের প্রশাসন যন্ত্র সহ সমগ্র ন্যাশন বিলডিং বিভাগকে এই কাজে সম্পৃক্ত হয়ে স্ব স্ব
অবস্থান থেকে কাজ করে যাচ্ছে।

এ সবই দেশ জাতি ও সাধারণ মানুষের জন্য ভাল খবর!

এখন দেখি কোন্ কোন্ উন্নয়ন অনুসঙ্গের ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি।

★ মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অবক্ষয়:
দেশের সার্বিক উন্নয়নের সাথে সাথে মানবিক মূল্যবোধ কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তির আর্থিক উন্নতি হলেও সেইসাথে
সমন্বিতভাবে তাঁর কর্ম কথা আচরণ বিচরণ নীতি নৈতিকতা ও আদর্শ যেন উল্টোদিকে ধাবিত হচ্ছে সেজন্য আমাদের সমাজ আজ
আদর্শ সমাজ থেকে দুরে চলে যাচ্ছে। তাই অন্যায় অবিচার অত্যাচার অনাচার অনাসৃষ্টি অপকর্মেররম রাহুগ্রাস থেকে সেভাবে পরিত্রাণ
পাচ্ছি না।

★শিক্ষার গুণগত মান প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে: শিক্ষিতের হার বেড়েছে, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ; বিদ্যালয়মুখীতা বেড়েছে তা
সত্বেও কিন্তু উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার গুণগত মান প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

★ যোগ্য ব্যক্তির অবমূল্যায়ন:
সঠিক মূল্যায়নের অভাবে সরকারের প্রশাসন যন্ত্র ও ন্যাশন বিল্ডিং বিভাগে যোগ্য কর্মকর্তার যথাযথ প্রতিস্থাপন কখনো কখনো বিঘ্নিত
হতে দেখা যায়, যা উন্নয়নের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।

★ সরকারি চাকুরিগত বৈষম্য:
সরকারি চাকুরিতে সুযোগ সুবিধা ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে এক সেক্টর থেকে অন্য সেক্টরের মধ্যে বৈষম্য লক্ষণীয়! ইউনিফাইড সিভিল
সার্ভিসের সুফল সব ক্যাডার ভোগ করকে পারছে না।

★পরমতসহিষ্ণুতার অভাব:
সমাজের সকল স্তরে পরমতসহিষ্ণুতা, উদারতা কর্পুরের মত উবে যাচ্ছে ফলে কেউ কারুর প্রশংসা করতে বড্ড কষ্ট পায়;
আত্মসমালোচনা নয় পরসমালোচনায় বিভোর থাকি আমরা। যেটা জাতি হিসেবে আমাদের জন্যে সুখকর কোন খবর নয়!

★ অর্থ ও ক্ষমতার দাম্ভিকতা:
ক্ষমতা ও অর্থের দাম্ভিকতায় এক শ্রেণির মানুষ অশান্ত ও বেপরোয়া হয়ে উঠছে; যেটিও সামগ্রিক উন্নয়নের প্যারামিটারকে বাঁধাগ্রস্থ
করে যাচ্ছে!

★ সুবিধাভোগী চাকুরিজীবীদের বুদ্ধিবৃত্তিক শঠতা:
সরকারি চাকুরিজীবীদের মধ্যকার একটা স্বার্থান্বেষী মহল সরকারের ভাল কর্মকে কখনো ম্লান করার জন্য অথবা সরকারকে চাপে রেখে
স্বীয় স্বার্থ সিদ্ধির জন্যে কূটকৌশলে শঠতার আশ্রয় নিয়ে থাকে। যা সরকারের উন্নয়নের জন্যে অন্তরায়!!

আমরা উন্নয়ন চাই; চাই টেকসই ও লাগসই উন্নয়ন; চাই সামগ্রিক উন্নয়ন; মানবিকতা, উৎকর্ষতা ও উদারতার উন্নয়ন চাই।
শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন সার্বিক উন্নয়নের মাপকাঠি হতে পারে না। উন্নয়ন কে আমরা তখনই পরিপূর্ণ উন্নয়ন বলতে পারি যখন
উন্নয়নের সকল অনুসঙ্গ গুলো সমন্বিতভাবে এগিয়ে যায়।
একটা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্যে সরকারের সদ্বিচ্ছা জরুরী কিন্তু সেটার সাথে সাথে সরকারের সকল সহযোগি
কম্পোনেন্ট যদি ঠিকমত কাজ না করে তাহলে টেকসই উন্নয়ন কখনো সম্ভব নয়। আবার ব্যক্তির মানবিক উন্নয়ন আর নৈতিকতার
উৎকর্ষ সাধনও সামগ্রিক উন্নয়নের পরিপূরক!

তাই বন্ধুরা আসুন আমরা যে যার অবস্থান থেকে সরকারকে সঠিক ও কার্যকরি পরামর্শ দেই, আমাদের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে সামগ্রিক
উন্নয়নের পথে নিয়ে যাই। তৎসহ আমরা আমাদের মানসিক ও আত্মিক উন্নয়নের জন্যে নিজেরা তৎপর হই।

পরিশেষে সরকার প্রধান সহ সরকারের নীতি নির্ধারকদের কাছে এই অধমের কতিপয় বিনম্র নিবেদন:

(★) টেকসই, লাগসই এবং সামগ্রিক দেশজ উন্নয়নের জন্যে মন্ত্রণালয় ভিত্তিক একটা উন্নয়ন উপদেষ্টা ফোরাম গঠন করা, যা
প্রকৃত মেধা ও কারিগরী জ্ঞান সম্পন্ন সজ্জ্বন ও বিজ্ঞজনের সমন্বয়ে গঠিত হবে, রাজনৈতিক বা কোন বিশেষ গোষ্ঠীর প্রাধান্যের
বিবেচনায় নয়।
ইতিহাসের ঠিকুজী আমাদের জানান দেয় ১৪ বছর বয়স থেকে একটানা অর্ধ শতাব্দী পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সাথে মুগল
সাম্রাজ্য শাসন করে পৃথিবীখ্যাত হয়েছিলেন নিরক্ষর সম্রাট আকবর শুধুমাত্র তাঁর বিশেষজ্ঞ প্যানেল নবরত্নের সঠিক দিক নির্দেশনার
জোরে! তাহলে আমরা কেন পারবো না!!

(★) জাতীয় সমস্যা ও চাকুরিজীবীদের যেসব সমস্যা সমাধানের সাথে তেমন কোন আর্থিক সংশ্লেষ নেই, সেসব সমস্যা ত্বরিত
সমাধানের ব্যবস্থাকরণ;

(★) মন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের সকল স্তরে সৎ যোগ্য ও দক্ষ মানুষের পদায়ন নিশ্চিতকরন;

(★) কৃষি জমি রক্ষার কর্মকৌশল প্রনয়ন; সহ কৃষিপণ্যের ন্যয্য মূল্য নিশ্চিতের ব্যবস্থাকরণ;

(★) জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিতকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ;

উপসংহারে, সোভিয়েত সায়েন্স ফিকশন লেখক আলেক্সান্দর বেলিয়ায়েভ রচিত হৈটি টৈটি গল্পের মূলসুরের আলোকপাত করে
লেখাটি শেষ করবো। গল্পের লেখক ল্যাবে গবেষণা করে ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রূপী এক যন্ত্রমানব তৈরি করলেন। যে যন্ত্রমানব পড়ালেখা
করে বিশাল জ্ঞানার্জন করলো। শেষে এতটাই জ্ঞানী হলো যে, সবশেষে এসে চিন্তা করলো তার এখন বাদবাকি জ্ঞান অন্বেষণ করতে
হলে তার মনিবের মস্তিষ্কের নিউরন ব্যবহার করতে হবে, তাই যন্ত্রমানব এবার মনিবকে খুন করতে উদ্যোত হলো। শেষতক হাতের
চেলাকাঠ দিয়ে লেখক মনিব, যন্ত্রমানবের কৃত্রিম মাথা বিচ্ছিন্ন করে কোনমত শেষ রক্ষা পায়। এখানে মনিব লেখক, যন্ত্রমানবকে সব
জ্ঞানের সাথে মানবিক জ্ঞান দিতে ভুলে গিয়েছিলেন। মানবিক জ্ঞান থাকলে যন্ত্রমানব মনিবের উপরে এমন চড়াও হতে পারতো না।
আমরাও দেশ ও ব্যক্তির উন্নয়ন চাই, তা যেন মানবিকতা বিচ্ছিন্ন হৈটি টৈটি গল্পের মত না হয়।
আমরা সেই সুদিনের অপেক্ষায়।

লেখক: ড. আখতারুজ্জামান
(বিসিএস,৮ম ব্যাচ),
জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার, মেহেরপুর।
মোবাইল:০১৭১১৮৮৪১৯১
ইমেইল: akhtar62bd@gmail.com

এস আই/ ২১ আগস্ট , ২০১৭

image_print
Share.

Comments are closed.