২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং “বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মূল কারন”

“বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মূল কারন”

0

খ.ই.ফাহাদ : যেকোন হত্যার পেছনে উদ্দেশ্য খুব সহজ সমীকরণ।আর সে হত্যা যদি কোন একটি স্বার্থের জন্য করা হয় তাহলে সেটি ব্যাক্তিগত উদ্দেশ্য বলে বিবেচিত হয়।যেমন এক ব্যাক্তির হাতে আরেক ব্যাক্তি হত্যা।প্রতিটি হত্যাই অনাকাঙ্ক্ষিত।ব্যাক্তি স্বার্থের বাইরে কিছু হত্যা খুব ভয়াবহ,যেখানে ব্যাক্তিগত ধন সম্পদ আর একক উদ্দেশ্য থাকেনা।তাই ব্যাক্তিকে স্তব্ধ করে হত্যার উদ্দেশ্য এক রকম।পরিবার কে হত্যার উদ্দেশ্য আরেক রকম।সমাজকে স্তব্ধ করার উদ্দেশ্য এক রকম।জাতিকে স্তব্ধ করার উদ্দেশ্য আরেক রকম।ব্যাক্তি হত্যার একক উদ্দেশ্য রাস্তায় পেয়ে কোপানো বা গুলি করা।সমাজ কে স্তব্ধ করার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড কিংবা বোমা হামলা।

প্রসঙ্গ জাতিকে স্তব্ধ করার কি উদ্দেশ্য?কারনটাই বা কি?
পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্যতম হত্যাকান্ড ছিল এদেশের স্বপ্ন পুরুষ ও তার পরিবারকে নির্মূল করার নীল নকশায়।বহু লেখক,সাংবাদিক,কলামিস্ট,সামরিক,বেসামরিক,বিদেশি কূটনৈতিক এই হত্যাকান্ডের মূল কারন ও উদ্দেশ্য খুঁজে পেয়েছেন সাদাপাতা ও কালো কালির নিজস্ব যুক্তি আর চিন্তায়।সবশেষ লেখা পড়েছি শ্রদ্ধেয় আনিসুল হকের প্রথম আলো’র সম্পাদকীয়তে।তার লেখায় ব্যাক্তিগত সারমর্ম ছিল এমন যে,এই হত্যা কান্ডের কারন ছিল বঙ্গবন্ধু এদেশের মানুষকে খুব বেশি বিশ্বাস করতেন।কেননা ভারত এমন কি আমেরিকানরাও যখন বঙ্গবন্ধুকে সাবধান করেছিল তখন তিনি বলেছিলেন আপনার মানুষ কোনদিনও আপনার ক্ষতি করবেনা।লেখক তার অরন্যের রোদনে লিখেছিলেন,”পাকিস্তানি জেনারেলরা সাহস পায়নি আপনার গায়ে হাত তোলার,বাঙালিরা কোত্থেকে পাবে?”আনিসুল হক শুধু সাহিত্যিক কিংবা সাংবাদিক নয় উনি নতুন প্রজন্মের জন্য এদেশের জ্ঞানপ্রদীপ।উনার দৃষ্টিতে মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুর অতিরিক্ত বিশ্বাসই ছিল এই হত্যাকান্ডের অন্যতম কারন।তার বিশ্লেষন নিঃসন্দেহে যৌক্তিক।

এভাবে বহুজন বহু ভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পেছনে কারন পেয়েছেন,পেয়েছেন নানা উদ্দেশ্য।তবে দেড়িতে হলেও ক্ষুদ্র তদন্তে পেয়ে গেছি দেশপিতাকে হত্যার মূল কারন।ওরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল কারন তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্টা করেছিলেন।জাতির জনক ছাত্রলীগকে সাথে নিয়েই বিপ্লবের ইতিহাসকে বিজয়ের ইতিহাসে রুপান্তরিত করেছিলেন।ছাত্রলীগই ভাষা আন্দোলনে এদেশে মা ডাক ফিরিয়ে দিয়েছিল।ছাত্রলীগই জাতির কর্ণধারের স্বাধীনতার মূল মর্মবানী ছড়িয়ে দিয়েছিল।বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে ছাত্রলীগই এদেশের লাল সবুজের একটুকরো রক্তমাখা কাপড় উপহার দিয়েছিল তার ১৭ হাজার নেতাকর্মীর নিষ্পাপ হৃদপিন্ডের বিনিময়ে।

ওরা ভেবেছিল এই ছাত্রলীগকে এতিম করতে পারলে এদেশের মানচিত্র পরিবর্তন সহজ হবে।ছাত্রলীগকে স্তব্ধ করতে পারলেই এদেশের পতাকা খামছে ধরা যাবে।বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমরা দেখেছি ছাত্রসমাজকে কিভাবে সেনাশাসকরা কন্ঠরোধ করেছিল।সেই ধারাবাহিকতায় তাদের উত্তরসূরীরা অস্র তুলে দিয়েছিল ছাত্রসমাজে।শিক্ষা শান্তি প্রগতির স্লোগান কে চুরি করে তারা নতুন নামে ছাত্র সংগঠন করে তার স্লোগান দিয়েছে শিক্ষা ঐক্য প্রগতি।সেই ঐক্য ছিল পাকিস্তানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।আজকে সেই ছাত্রলীগকে আবারো তার পিতার স্নেহ দিয়ে এই বাংলাদেশ কে মেধাবীদের প্রহরায় সাজিয়েছেন জাতির পিতার তনয়া বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।অস্ত্র নয় কলম তুলে দিয়েছেন এ জাতির নতুন প্রজন্মকে।কুসংস্কার নয় প্রযুক্তির ব্যাবহার শিখিয়ে যাচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মকে তাই আজকে তাকেও হত্যার ষড়যন্ত চলছে।

প্রশ্ন উঠে ছাত্রলীগকেই কেন তারা স্তব্ধ করতে চায়?উত্তর খুব জটিল নয়।এই ছাত্রলীগই বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরান্বিত করতে রাজপথে নব্য রাজাকারদের প্রতিহত করছে।ছাত্রলীগই দিশেহারা ছাত্রসমাজকে আবার তার পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে এনেছে।ছাত্রলীগ যে কোন সময় সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করে এদেশে বহিঃশত্রুর সকল ষড়যন্তকে রুখে দিতে সক্ষম।তাই ষড়যন্তকারীদের চোখে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করে বঙ্গবন্ধু অন্যায় করেছিল।শুধু আজকে নয় অতীতেও তাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে প্রতিনিয়তই বাধা দিয়েছিল পিতা মুজিবের নিজ হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।আজ স্পষ্টই পরিলক্ষিত হচ্ছে যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রধান কারন ছিল,তিনি ছাত্রলীগের মত একটি মহান প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন।

এদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য আর অর্জনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পিতার সাথে স্বর্গীয় এক বন্ধনে আবদ্ধ যা বুলেট আর চাপাতি দিয়ে আলাদা করার চিন্তা সেতো বোকামি!১৫ই আগস্ট,আমাদের এই শোকাবহ দিনে বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তার পরিবারের সকল শহীদদের প্রতি চিন্তা ও মননে শ্রদ্ধাচিত্তে বিনম্র শ্রদ্ধা।

লেখক:উপ গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক,
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ,জেলা ইউনিট কিশোরগঞ্জ।

এস আই/ ১৫ আগস্ট , ২০১৭

image_print
Share.

Comments are closed.