২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ব্যর্থ রাষ্ট্রের ক্ষমতাহীন প্রধানমন্ত্রীর অপসারন রায়

ব্যর্থ রাষ্ট্রের ক্ষমতাহীন প্রধানমন্ত্রীর অপসারন রায়

0

সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা এবং ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত দেশ পাকিস্তান। দেশটির ৭০ বছরের ইতিহাসে কোন সরকার প্রধান পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। যা একটি দেশের কলঙ্কিত ইতিহাস। ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়া দেশটি আজও সামরিক বাহিনীর কবল হতে বের হয়ে আসতে পারেনি। জজ থেকে দেশটির গণতন্ত্র কফিনে তালাবদ্ধ। সেই ব্যর্থ রাষ্ট্রের আদালতের রায়ে দূর্ণীতিপরায়ন প্রধানমন্ত্রীর অপসারন নিয়ে কত উচ্ছসিত, প্রশংসায় পঞ্চমুখ আমরা!

মাঝে মধ্যে সে দেশের সুপ্রীম কোর্টের দু’একটি রায় নিয়ে আমাদের দেশের অনেকে হইচই- শোরগোল ফেলার চেষ্টা করে। উৎফুল্ল হয়ে ওঠে, পাকিস্তানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তাদের স্মরণ রাখা উচিত সে দেশে সামরিক বাহিনীর ইশারায় সরকার পরিচালিত হয়।

সেখানে বেসামরিক সরকারের কতটুকু ক্ষমতা তা বুঝা যায় যখন সরকার প্রধানের গাড়ির বহর থামিয়ে দিয়ে সেনা প্রধানের গাড়ির বহরকে যেতে দেয়া হয়। পাকিস্তানের সব সরকারই ছিল সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত। স্বাধীনভাবে কোন সরকারই দেশ পরিচালনা করতে পারেনি। এমন দেশ নিয়ে আমাদের দেশের অনেক কুলাঙ্গারের বুক গর্বে ভরে যায়।

সেই ব্যর্থ রাষ্ট্রের সুপ্রীম কোর্টের রায়ে আমাদের এত উৎফুল্ল হওয়ার কি আছে ? সে দেশের সুপ্রীম কোর্ট কি সেনাবাহিনীর ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে? বেসামরিক সরকারের উপর সেনা হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে পেরেছে? সন্ত্রাসবাদের মদদদাতাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পেরেছে? বর্বর জাতিকে সুপথে আনতে পেরেছে? সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখল বন্ধ করতে পেরেছে? গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে? বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে পেরেছে? আওয়ামীলীগ ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র থামাতে পেরেছে? গত সাত দশকে তারা কিছুই করতে পারেনি। শত প্রশ্নের উত্তর খুঁজলেও কিছুই পাওয়া যাবে না। আমরা অনেক কিছুই পেরেছি, বাংলাদেশ পেরেছে। সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে রোল মডেল।

পাকিস্তানে কখন কোথা থেকে কি নির্দেশ আসে কখন কি ঘটে কেউ বলতে পারে না। গণতন্ত্রের কফিন আজও বাক্্র বন্দি। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত দূর্ণীতির বিরুদ্ধে যে রায় দিয়েছে তা তাদের দায়িত্বেরই অংশ। সে যিনিই হোক না কেনো। যারা পাকিস্তানের প্রশংসায় মুখে ফেনা তুলেন তারা কি ভূলে গেছেন বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা? বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে। বাংলাদেশের আদালতের স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। অতি সম্প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ
আদালত সুপ্রীম কোর্ট বিচারক অপসারনে সংসদের ক্ষমতা বাতিল করেছে। অবৈধভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। এ ধরণের অনেক নজির রয়েছে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায়। কিন্তু এক শ্রেণির মানুষ এটা দেখতে পায় না, তারা অন্ধ। পদ্মা সেতু নিয়ে সরকার যখন বললেন এখানে দূর্ণীতি হয়নি তারা বিশ্বাস করলেন না। তারা কানাডার আদালতের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। কানাডার আদালত পদ্মা সেতুতে কোন দূণীতির গন্ধ পায়নি বলে জানিয়ে দিলেন। যদি এই রায় বাংলাদেশের আদালত বলতো তাহলে তারা বিশ্বাস করতেন না। এরাই পাকিস্তান প্রেমিক ।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় গণহত্যার জন্য পাকিস্তান সুপ্রীম কোর্ট সে দেশের সরকারকে যদি ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিত তাহলে আমরা তাদের বিচার ব্যবস্থাকে বিশ্বের সর্বোত্তম বিচার ব্যবস্থা বলতে পারতাম। কিন্তু পাক সুপ্রীম কোর্ট আজও তা করেনি। তাদের চোখ অন্ধ। তারা বিবেকহীন? এটাই তাদের বিচার ব্যবস্থা? যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাধাদানকারী পাকিস্তান সরকারের বিচার করতে পারেনি, নিবৃত্ত করতে পারেনি সে দেশের সুপ্রীম কোর্ট। এটাই তাদের ন্যায় বিচার!

পাক সুপ্রীমকোর্ট ক্ষমতার শীর্ষে অধিষ্ঠিত দূর্ণীতিপরায়ন একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। কিন্তু সারা বিশ্ব জানে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের অতি দূর্বল ক্ষমতাধর শীর্ষ ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ রায় দেয়া হয়েছে। যিনি ক্ষমতার সর্বোচ্চ সিংহাসনে কিন্তু ক্ষমতাহীন। পাকিস্তান সুপ্রীম কোর্ট সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সম্পর্কে জেনে বুঝেই এ রায় দিয়েছেন।

লিটন মিয়া, আইনজীবী, ঢাকা জজ কোর্ট।

২৯ জুলাই , ২০১৭

image_print
Share.

Comments are closed.