২৮শে জুন, ২০১৭ ইং সমাজে চিকিৎসকের ভূমিকা এবং আমাদের কর্তব্য

সমাজে চিকিৎসকের ভূমিকা এবং আমাদের কর্তব্য

0

Go to W3Schools!

অসুস্থ হলে চিকিৎসকের চেয়ে আপন আর কাউকে মনে হয় না। চিকিৎসকরা যেমন একজন মানুষের নতুন জীবন দান করেন, আবার অনেক সময় তাদের দায়িত্বহীনতায় প্রিয়জনকে হারাতে হয়। প্রথমে তাদের দায়িত্বহীনতার একটি উদাহরণ না দিয়ে পারছি না।

গত বছর মায়ের গলা ব্যাথা নিয়ে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হই। সামান্য গলা ব্যাথা ভেবে স্থানীয় এক এম.বি.বি.এস চিকিৎসকের কাছে যাই। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ১৪ দিন বিভিন্ন ধরণের ঔষধ আর এন্টিবায়োটিকে মায়ের

অবস্থা আরও কাহিল। কিন্তু গলার ব্যাথা কমলো না। এরপর ছুটলাম চট্টগ্রামের বিখ্যাত এক নাক,কান,গলা বিশেষঙ্গের কাছে। নতুন চিকিৎসক প্রায় ১০হাজার টাকার পরীক্ষা-নীরিক্ষা করালেন। রিপোর্টে কিছুই পাওয়া গেল না।

চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশান অনুযায়ী প্রায় ৩ মাস দিনে ৭ টি করে এন্টিবায়োটিক খাওয়ানো হলো। তবুও গলার ব্যাথা কমলো না। রোগ ভাল হওয়া দূরে থাক দিন দিন তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়লেন। এ রকম পরিস্থিতিতে তার এক সহকরমীর পরামর্শে হোমিও চিকিৎসকের কাছে নেয়া হয়। ফিস ও ঔষধ মিলে ৫০০ টাকা। এই চিকিৎসকের পরামর্শ ছিল পরিমাণে কম এবং তেল ছাড়া

খাবার খেতে হবে। প্রায় ২ মাস তার কথা অনুযায়ী খাওয়ানো হলো ওষুধ। এবার মায়ের ১০ কেজি ওজন কমে গেল। তবুও রোগ আর ভাল হয় না। ততদিনে তিনি জ্বর, শ্বাসকষ্ট আর ব্লাড প্রেশার ইত্যাদি রোগে আকান্ত হলেন।

নির্ঘুম রাত কাটতো তার। উপায় না দেখে অবশেষে একজন নিউরো সার্জন এর কাছে নিয়ে যাই। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেন। আসল সমস্যা ধরা পড়লো ফুসফুসে।গলাব্যাথা হয়েছিল এ্যালর্জির কারণে। প্রায় ২ মাস চিকিৎসা করার পর মা একটু উঠে বসতে পারলেন।যদিও মানসিক আঘাতে তিনি এতটাই বিপযস্ত হয়ে পড়লেন যে এ থেকে তাকে আর বের করে আনা গেল না।

চিকিৎসকের দায়িত্বহীনতা নিয়ে কথা বলার কারন হলো একজন রোগীকে কিভাবে তাদের ভূলের কারণে মৃত্যু পথযাত্রী হতে হয়েছে। অথচ তারাও তো মানুষ। কেনইবা প্রিয়জন হারাতে হবে তাদের ভূলে কারণে। ভূল সবারই হতে পারে। কিন্তু দায়িত্বজ্ঞানহীন চিকিৎসকদের কারণে রোগীর ক্ষতি কোন ভাবেই ক্ষমা করা যায় না।

আবার আমরা অন্য চিত্রও দেখতে পাই। একজন দায়িত্বশীল চিকিৎসক কিভাবে মানুষের আপনজন হয়ে ওঠেন। রাত-দিন পরিশ্রম করেন। জীবনের শেষ দিন পযন্ত শুধু মানুষের সেবাই করে যান। যেন্ তাদের জম্নই অসহায় মানুষের সেবা করা জন্য। এ ধরণের চিকিৎসকের সংখ্যা

একবারেই কম নয়। তারা ভালবাসা দিয়ে সাধারন মানুষের মন জয় করে নেন। জগত বিখ্যাত হয়ে ওঠেন দেশ-বিদেশে। তাদেরকে জানাই আমাদের অন্তরের অন্ত:স্থল হতে অভিবাদন ও সশ্রদ্ধ সালাম।

কোন রোগীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কোন চিকিৎসকের নেই।

দায়িত্বজ্ঞানহীন চিকিৎসকের কারণে অনেক সময় মহৎ এ পেশা কালিমা লিপ্ত হয়। ক্ষতবিক্ষত হয় চিকিৎসা নামের মহৎ পেশা। দুঃখে মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে যখন সাধারন গরীব অসহায় মানষের কষ্ট করা আয় হতে ৮০০-১০০০ টাকা ফিস দেয়ার পরও চিকিৎসকরা মাত্র ৫ মিনিটও ভালভাবে রোগী দেখেন না। অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে বড় ধরণের কমিশন নেন। অথচ অনৈতিক পথে তারা এ কাজটি না করলে চিকিৎসা খরচ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসত। একজন চিকিৎসকের কত টাকা

প্রয়োজন? তাই বলে অসৎ উপায়ে এই টাকা আয় করতে হবে?

দেশের সাধারন মানুষের চিকিৎসা খরচ যোগাড় করতে বেশিরভাগ রোগীর জন্য কষ্টকর। এখন অধিকাংশ চিকিৎসকই কেবল ব্যবসা করার জন্য প্রাইভেট প্র্যাকটিস করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরীক্ষা-নীরিক্ষা করানোর জন্য তারা রোগীকে নির্দিষ্ট কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে বাধ্য করেন। এ সকল ডায়াগনস্টিক সেন্টার হতে তারা ৩০-৫০শতাংশ কমিশন খান। এত অভিযোগ

থাকার পরেও অকপটে স্বীকার করতে হয় চিকিৎসকদের জন্যই আমরা ও আমাদের প্রিয়জন কে বাঁচাতে পারছি। তাদের আন্তরিক চেষ্টা ও সেবার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠছে সাধারন মানুষ। খুব কম মানুষই আছে যে চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়না। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তাদের মহত্ত্ব আমাদের বিবেক কে নাড়া দেয। এই চিকিৎসকদের যখন লাঞ্চিত করা হয়, অপমানিত করা হয় তখন আমরা কি ভূলে যাই এদের কারণে আমরা আমাদের প্রিয়জনকে বাঁচাতে পেরেছি? ভূল হতেই পারে। তাই বলে আমরা তাদেরকে লাঞ্চিত করতে পারি না। একবার কি ভেবে দেখেছি আমরা সবাই কি আমাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করি? তারা ভুল করে থাকলে বিচারের দায়িত্ব আইনের হাতে তুলে দেয়া উচিৎ। আইনই তাদের বিচার করবে। হাসপাতাল ভাংচুর করে, চিকিৎসকদের লাঞ্চিত করে প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়া যাবে না। তাদেরকে যথাযোগ্য সম্মান দিতে হবে। সম্মানের সাথেই তাদের মহৎ পেশাকে নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

২৩ মে , ২০১৭

image_print
Share.

Comments are closed.