২৭শে মে, ২০১৭ ইং হিজড়াদের বিড়ম্বনায় সাধারন মানুষ ও আমাদের করণীয়

হিজড়াদের বিড়ম্বনায় সাধারন মানুষ ও আমাদের করণীয়

0

Go to W3Schools!

ঢাকা : হিজড়াদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করেছে। বর্তমানে সমাজের সাধারন মানুষেরা খুব সহজেই হিজড়াদের আপন করে নিচ্ছে।

বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে তাদেরকে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। আজকাল হিজড়ারা বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ে অত্যন্ত সুনামের সাথে পড়াশুনা করছে। অনেকে পড়াশুনা শেষ করে কর্মক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতা প্রমান করেছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০০৪ সালে সর্বপ্রথম হিজড়াদের বিভিন্ন চাকুরিতে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়। যা এ সম্পাদায়ের জন্য বিরাট অর্জন। বেসরকারি হিসাবমতে দেশে প্রায় ১৫ হাজার হিজড়া রয়েছে।

বর্তমানে ঢাকাসহ সারাদেশে হিজড়াদের উৎপাত বেড়েছে। ঢাকা শহরে বিভিন্ন পয়েন্টে হিজড়ারা বাসে উঠে নানাভাবে যাত্রীদের হয়রানি করছে। সাধারন যাত্রীদের কাছে চাঁদা দাবী করে। আর যদি কেউ উক্ত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানায় তাহলে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। যাত্রীরা কিছু বলতে গেলে তারা কথার বেড়াজালে নাস্তানাবুদ করে ফেলে। নিরুপায় হয়ে তাদের দাবী মেনে নেয় সাধারন মানুষ ।

কামাল নামের গাবতলীর দোকানদার বলেন, প্রতিদিন হিজড়ারা দোকান প্রতি ১০ টাকা করে চাঁদা দাবী করে। আর যদি টাকা দেওয়া না হয় তাহলে সব হিজড়ারা একত্রে এসে আজেবাজে কথা বলে, এমনকি হুমকিও প্রদান করে।

রাজধানীর গাবতলী, টেকনিক্যাল, আসাদগেট, শাহাবাগ ও ফার্মগেট এলাকায় এদের দৌরাত্ব বেশি। অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা তাদের অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। হিজড়াদের হয়রানি থেকে সাধারন মানুষের মুক্ত করা কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কয়েক দিন আগে টেকনিক্যালে এক যাত্রীর সাথে কথা বলে জানা যায়, হিজড়াদের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হিজড়ারা তাকে মা-বাপ তুলে বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ করেছে। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক তরুন জানালেন, ভাই আমাকে জোর করে চুমা দিয়েছে। হিজড়াদের ভাষাগত সমস্যাটা আরো প্রকট কেননা হিজড়ারা সবাইকে তুই ভাষায় সম্বোধন করে কথা বলে।

হিজড়াদের উৎপাত থেকে স্কুল, কলেজ ও বিশ^বিদ্যায়ের শিক্ষার্থীদেরও রেহাই নেই। কয়েকদিন আগে রাজধানীর গাবতলীতে হিজড়াদের এক নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা দোকান থেকে চাঁদা আদায় করে নিজেদের ভরণ পোষণের ব্যবস্থা করে থাকে।
গাবতলীর বড়বাজার, কোর্টবাড়ী, বাগবাড়ী ও দারুসালাম এলাকা থেকে সপ্তাহে এক দিন করে চাঁদা উঠায়। তবে তারা সাধারণ মানুষের সাথে দূর্ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করে। তারা গাবতলী কোর্টবাড়ীতে একটি বাসা ভাড়া করে ১০-১২ জন একত্রে বসবাস করছে।

সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার কথা বললে তারা জানায়, সমাজের মানুষ তাদের ভালোভাবে গ্রহণ করে না। অনেকে আবার হিজড়াবেশ ধারন করে রীতিমতো নৈরাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। যা সমাজের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকার এই সকল হিজড়াদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করলেও তা ফলপ্রসূ হচ্ছে না। অনেক হিজড়ারা সরকারের এই সকল কর্মসূচি গ্রহণ করে নিজেদের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করেছে। কিন্তু বেশির ভাগ থেকে গেছে দৃষ্টিসীমার বাহিরে।

বর্তমানে হিজড়ারা বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করছে। তারা মাদকদ্রব্যের প্রতি দিনদিন আসক্ত হয়ে পড়ছে। যা বর্তমানে তরুন সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।

সরকারকে হিজড়াদের প্রতি আরো গভীর দৃষ্টি দিতে হবে। হিজড়াদেরকেও সমাজে গ্রহণ যোগ্যতা বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে। একমাত্র শিক্ষাই আনতে পারে এই আমূল পরিবর্তন।

হিজড়াদের কাজের সুযোগ করে দিতে হবে সমাজের সর্বক্ষেত্রে। কেননা হিজড়ারা আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ-সংস্কৃতির অংশ।

সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে পারলে হয়তো দেশ একটি অভিশাপ থেকে রক্ষা পাবে। তাদের মেধাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশ আরো এগিয়ে যাবে।

হিজড়াদেরকে মানব সম্পদে পরিণত করে সমাজে তাদের গ্রহণ যোগ্যতা বাড়াতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে সমাজের মূলধারায়। তার উপহার দিতে পারে একটি সুন্দর সমাজ।

সজীব সরকার, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

জে এইচ/ ১৭ মে ২০১৭

image_print
Share.

Comments are closed.