প্রশ্নফাঁস রোধে সাত কলেজের পরীক্ষা একইসঙ্গে হবে: ঢাবি উপাচার্য

নিউজবিডি৭১ডটকম
ফাতেমী আহমেদ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের সব ধরনের পরীক্ষা কলেজ কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি দলের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে বলে নিউজবিডি৭১ডটকমকে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

মঙ্গলবার নিউজবিডি৭১ এর সাথে এক চা-আলাপে উপাচার্য জানান, কলেজ প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে। সাতটি কলেজের কর্তৃপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিবে। এর আগে উপাচার্য জানিয়েছিলেন, নিজ নিজ কলেজ তাদের পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেবে। এক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জারিকৃত রুটিন অনুসরণ করা হবে না।

অভিন্ন প্রশ্নপত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলো যৌথভাবে প্রণয়ন করলে এবং কলেজগুলো আলাদাভাবে তাদের পরীক্ষার রুটিন দিলে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ বিষয়ে উপাচার্য বলেন, কলেজগুলো সিদ্ধান্ত নিবে, তার মানে এটা নয় যে, তারা আলাদা আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নিবে। কলেজগুলোর সাথে আলোচনা করে নির্দিষ্ট তারিখে একযোগে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে কলেজগুলো যতদ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে নিতে পারবে ততদ্রুতই পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স শেষ পর্ব (শুধুমাত্র নিয়মিত ও প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের) পরীক্ষা আগামী ৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার বিজ্ঞপ্তী দিয়ে পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করেছিলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ হয়ে গেলেও কোন ধরনের নির্দেশনা না পাওয়ায় বেশ অসন্তোষ জন্মেছিল সদ্য অধিভুক্ত হওয়া সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। পরে অবশ্য দুর্নীতির দায়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক গ্রেফতার হলে  অনিবার্য কারণ দেখিয়ে স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের সকল পরীক্ষা স্থগিত করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থগিত হলেও অধিভুক্ত শিক্ষার্থীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের পরীক্ষা দাবী করে আসছেন।

যারা এতদিন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস পড়ে আসছে তাদের সিলেবাস পরিবর্তন হবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যে সিলেবাস পড়ে আসছে তার উপরেই প্রশ্নপত্র হবে এবং সিলেবাস পরিবর্তন হবে কিনা এটা পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নতুন সিলেবাস চালু হলে নতুন  শিক্ষাবর্ষ থেকেই তা কার্যকর হবে।

সামনে এইচএসসি পরীক্ষা, এরপরই শুরু হয়ে যাবে অনার্স ভর্তি কার্যক্রম। অধিভুক্ত কলেজগুলোতে সামনে থেকে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে নাকি আগের মত জিপিএ-এর ভিত্তিতে আবেদন করে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারবে? এ বিষয়ে পূর্বপশ্চিমকে তিনি বলেন, ভর্তির সময় যখন আসবে তখন আমরা মিটিং ডেকে সিদ্ধান্ত নেব। এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা পরে নেয়া হবে। অধিভুক্ত শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাকার্য কার্যক্রম সম্পর্কে উদ্বিগ্ন। তারা সব তথ্য বিস্তারিত জানতে পারবে এমন কোন ওয়েব সাইট চালু করা হবে কিনা? জানতে চাইলে বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইট থেকে তাদের তথ্য জানতে পারবে। তাছাড়া তাদের কার্যক্রম কিভাবে পরিচালিত হবে এ বিষয়ে তারা ঢাবির অন্যান্য অধিভুক্ত কলেজগুলো কিভাবে পরিচালিত হচ্ছে তা জেনে নিতে পারবে। সব অধিভুক্ত কলেজ একই নীতিমালায় পরিচালিত হবে।

ঢাবি শিক্ষার্থীরা গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজসহ সদ্য অধিভুক্ত কলেজগুলোর অধিভুক্ততা বাতিলের দাবী তুলেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের মনোভাব জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের মধ্যে অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান থাকতে পারবে। এতে কোনো সমস্যা নেই। পূর্বেও অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান ছিল। এখনো আছে। আগামীতে থাকলেও কোন সমস্যা হবে না।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা সরকারি কলেজগুলোকে অঞ্চলভেদে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সাথে বৈঠক করে এবং প্রাথমিকভাবে রাজধানীর সাত কলেজকে ঢাবির অধিভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সাত কলেজকে ঢাবির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অধিভুক্ত কলেজগুলো হলো- ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, মিরপুর বাঙলা কলেজ, বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজ।

নিউজবিডি৭১/আর/মার্চ ২১, ২০১৭