২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং শাহজালালে সজাগ প্রতারক চক্র, দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে প্রতারণা-চুরি-চাঁদাবাজি

শাহজালালে সজাগ প্রতারক চক্র, দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে প্রতারণা-চুরি-চাঁদাবাজি

0

নিউজবিডি৭১ডটকম
ফাতেমী আহমেদ: রাজধানীর হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে-বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে বেশ কিছু প্রতারক ও চোরচক্র। যাত্রীদের অনভিজ্ঞতা ও সরলতার সুযোগে এই অসাধুচক্র তাদের মালামাল ও অর্থকড়ি লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া এই বিমানবন্দরে অভিনব পদ্ধতিতে যাত্রীদের মূল্যবান সামগ্রী এবং রপ্তানির উদ্দেশ্যে পাঠানো পণ্য গায়েব করার ঘটনা দিনদিন বেড়েই চলছে।

বিমানবন্দরে দায়িত্বরত একাধিক সংস্থা সূত্রে জানা যায়, প্রতারণা ও চুরির ঘটনায় বিমানবন্দরের ভিতরের পরিচ্ছন্নতা কর্মী, বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের নিরাপত্তাকর্মী এবং ট্রাফিক সহকারীসহ কিছু পেশাদার প্রতারক ও চোর জড়িত। সাধারণত যারা গ্রাম থেকে প্রথমবারের মতো বিদেশে যান এবং বিমানবন্দর এলাকার নিয়ম-কানুন সম্পর্কে যারা ওয়াকিবহাল নন, তারাই বেশি প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

সরকারি লোক পরিচয়েয় বিদেশগামীদের কাছ থেকে ‘পদ্মা সেতু টোলের’ নামে চাঁদাবাজি। বিদেশফেরত যাত্রীদের লাগেজ বা ব্যাগ বেল্ট থেকে ছাড়াতে হেলপারদের মোটা টাকা ঘুষ প্রদান। বাড়তি ওজনের জন্য অতিরিক্ত ফি`র নামে চাঁদাবাজি। যাত্রীর মোবাইল-সিম চুরি করে তার নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে মোটা টাকা আদায়।

এভাবেই দিনের পর দিন বিমানবন্দরে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন আরও অনেক প্রবাসী ও বিদেশগামী যাত্রী এবং তাদের স্বজনরা। এমনকি এসব ঘটনা বেড়েই চলেছে দিনের পর দিন। ঘটনাগুলোর কিছু কিছু সামনে আসলেও অজানা থেকে যাচ্ছে অনেক ঘটনাই।

এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) জানায়, বিমানবন্দরে প্রায়ই যাত্রীদের এই ধরনের প্রতারণা শিকার হতে হয়। অনেক সময় ভুক্তভোগী সচেতন না হওয়ায় এমন প্রতারণার শিকার হন। প্রতারকদের সঙ্গে বিমানবন্দরে সক্রিয় আছে চোরচক্রও। এদের বেশিরিভাগই বিভিন্ন ডমেস্টিক ও ফরেইন এয়ারলাইন্সে কর্মরত কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী। এরা দীর্ঘদিন ধরেই বিমানে হোল্ড এরিয়াতে যাত্রীদের মালামাল-ব্যাগ সাজিয়ে রাখার বাহানায় তাদের মূল্যবান সামগ্রী চুরি করছে।

কিছুদিন আগেই প্ররকাশ্যে আসে এমন একটি ঘটনা- ভয়েজার এয়ারলাইন্সে চাকরি করতেন সেলিম সরকার। সাধারণত এই স্থানে অন্য কারও থাকা বা নজরদারি করা সম্ভব নয়। কিন্তু সেলিম সেখানে নিশ্চিন্তে ঢুকে ব্যাগ খুলে বের করে নিতেন যাত্রীদের বৈদেশিক মুদ্রা। তবে এই মুদ্রা বা টাকা তিনি পকেটে না রেখে কৌশলে মাথার টুপিতে রাখতেন।

অবশেষে আর্মড পুলিশের হাতে ধরা খান সেলিম। বিমানবন্দরের এক্সপোর্ট কার্গোর সামনের ম্যানহোল থেকেও সম্প্রতি রপ্তানির উদ্দেশ্যে রাখা ১৭০ পিস জিন্সের প্যান্ট উদ্ধার করা হয়। কার্গোর ভিতর থেকে চুরি করে ম্যানহোলের ভিতরে এই মালামাল লুকিয়ে রাখা হয়।

এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, বিমানের পরিচ্ছন্নতাকর্মী, বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির এয়ারলাইন্সের কর্মচারী, বিমানবন্দর এলাকায় ভাড়া গাড়ির ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা এই অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। প্রতারণার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আমরা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের কাছে হস্তান্তর করি। আমরা এয়ারপোর্টের ক্যানোপি এলাকা ও ডিপার্টচার এলাকায় যাত্রী ছাড়া অন্য কাউকে আসতে দেই না। কারণ এসব এলাকায় ভিড় বেশি হলে প্রতারক ও চোরচক্র ভিড়ের মধ্যে মিশে সহজেই অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটান।

বেসামরিক বিমান পরিবহণ কর্তৃপক্ষের গণসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, বিমানবন্দরে দিনের পর দিন বেড়ে চলা এসব প্রতারণা ও চুরির ঘটনার সঙ্গে বিভিন্ন সংস্থা ও এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরাসরি জড়িত থাকায় বেশিরভাগ ঘটনাই চোখের আড়ালে থেকে যাচ্ছে। তবে, যেসব ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে তা সাথে সাথেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া ভবিষ্যতে এসব ঘটনা যেন কম ঘটে সেদিকেও কঠোরভাবে নজরদারি করা হচ্ছে।

নিউজবিডি৭১/আর/মার্চ ০৬, ২০১৭

image_print
Share.

Comments are closed.