১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং আগৈলঝাড়ায় সেচ সংকটে ১শ’বোরো চাষ
Mountain View

আগৈলঝাড়ায় সেচ সংকটে ১শ’বোরো চাষ

0
image_pdfimage_print

নিউজবিডি৭১ডটকম
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) করেসপন্ডেন্ট : বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ খালগুলো পুন:খনন না করায় সেচ সংকটের কারণে চলতি বছর প্রায় ১শ’হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করতে পারছে কৃষকেরা। দুই যুগেও পানি সেচের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে দাখিল করা ২৭টি প্রকল্পের আওতায় ৮৬ কি.মি. খাল পুন:খনন প্রকল্প আজও আলোর মুখ দেখেনি। ফলে প্রতিবছর আবাদ ক্রমান্বয়ে কমে যাওয়ায় উপজেলায় উল্লেখযোগ্য খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়ে আসছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন জানান, চলতি বছর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ১০ হাজার ৫শ’ ৪২ হেক্টর জমি ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে হাইব্রিড ৬ হাজার ৭শ’ ৪২ হেক্টর জমি। প্রতি হেক্টরে হাইব্রিড উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪.৭৫ মে.টন চাল হিসেবে ৩২ হাজার ২৪ দশমিক ৫ মে.টন চাল। ৩হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল বা উফশী চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করে হেক্টর প্রতি ৩.৮৬ মে.টন চাল হিসেবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে ১৪ হাজার ৬শ’ ৬৮ মে.টন চাল। উপজেলায় এবছর ১০ হাজার ৫শ’ ৪২ হেক্টর জমি চাষে মোট উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬ হাজার ৬শ’ ৯২ দশমিক ৫ মে.টন চাল।

চাষীরা জানান, সেচের অভাবে এবছর অন্তত: ১শ’ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করতে পারছেন না তারা। তবে কৃষি অফিস বলছে, সেচের অভাবে চাষ না হওয়া জমির পরিমাণ ১শ’ হেক্টর নয়, ৫০ হেক্টরের বেশী। এদিকে পানির সংকটের জন্য ছোট বাশাইল, ভালুকশী, পশ্চিম গোয়াইল, রাংতা, কুমারভাঙ্গা এলাকায় রোপিত বোরো ধানক্ষেতে পানি সেচ দিতে না পারায় জমিতে রোপিত বোরো চারা লালচে হয়ে মরে যাচ্ছে। সেচে সবচেয়ে বেশী ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে গৈলা ইউনিয়নের চাষীরা।

কৃষি অফিসসূত্রে জানা গেছে, একমাত্র একফসলী কৃষি নির্ভর এই উপজেলায় গত দুই যুগেও অভ্যন্তরীণ মরা খালগুলো পুন:খননের কোন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। তাই কৃষকরা বছরের পর বছর পানি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। উপজেলার অভ্যন্তরীণ ৮৬ কি.মি. খালের বিপরীতে ২৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কৃষকদের পানি সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে জানা গেছে। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য অনেক আগেই কৃষি অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) অফিসে খাল পুন:খননের প্রকল্প দাখিল করা হলেও কোন প্রকল্প অদ্যাবধি আলোর মুখ দেখেনি। গত ৯ ফেব্রুয়ারি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. গাউস আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রশাসনের সাথে মত বিনিময়কালে এলাকার খালগুলো পুন:খননের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচনায় উঠে আসে। এসময় তিনি বিষয়টি আন্তরিকভাবে দেখার আশ্বাস প্রদান করেন।

দাখিলকৃত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজিহার ইউনিয়নে ২২ কি.মি, বাকাল ইউনিয়নে ১৭ কি.মি, গৈলা ইউনিয়নে ২২ কি.মি. ও রতনপুর ইউনিয়নে ২৫ কি.মি. খালসহ ৬৬ কি.মি. ও ২০ কি.মি. গ্রামীণ শাখা খালগুলো পুন:খননের জন্য ২৭টি প্রকল্পের আওতায় সর্বমোট ৮৬ কি.মি. খাল পুন:খনন করা জরুরী। এলাকার গ্রামীণ শাখা খালগুলো ভরাট হয়ে শুকিয়ে যাওয়ায় চলতি বছরে বোরো চাষ করতে পারছেন না কৃষকেরা। তারপরেও আবাদকৃত বোরো ক্ষেতে পানি সেচ সংকট দিনে দিনে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে সেচ সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে খাল পুন:খননের জোর দাবি জানিয়েছেন কৃষকসহ সচেতন নাগরিকরা।

নিউজবিডি৭১/এম/অপূর্ব লাল /১৮, ফেব্রুয়ারি ২০১৭

Comments are closed.