২১শে আগস্ট, ২০১৭ ইং উন্নয়নের রোল মডেল জাহাঙ্গীর আলম

উন্নয়নের রোল মডেল জাহাঙ্গীর আলম

0

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : জাহাঙ্গীর আলম। পেশায় একজন আইনজীবী। কিন্তু রাজনীতিতে মনোনিবেশ বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে। ছিলেন চৌকস ছাত্রও বটে। পথ চলতে শুরু করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আদর্শে।যোগ দেন ছাত্রলীগে। সততা ও নিষ্টার কারনে বেগও পেতে রাজনীতির শুরুতে। মেধা আর পরিশ্রমের ফল পান স্বল্প দিনে। ধীরে ধীরে ছাত্র নেতা হয়ে যান। ছাত্রলীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়ে ছাত্রলীগের সুনাম রাখে অক্ষুন্ন। ফলে খুবই কম বয়সে হয়ে উঠে জনগনের বন্ধু। ভালবাসা দিয়ে কাছে টেনে নেয় গাজীপুরবাসী। বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে গাজীপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের আসনও পান। স্বল্প বয়সে হয়ে যান গাজীপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক। তরুন এ জনপ্রতিনিধি হয়ে উঠেছেন রাজনীতিতে আসা নবাগতদের রোল মডেল। নবাগতদের দিকনির্দেশনা ও তার রাজনীতি জীবন নিয়ে কথা হয় নিউজিবিডি একাত্তরের সাথে। পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো সেসকল কথোপকথন।

নিউজবিডি ৭১: কেমন আছেন?

জাহাঙ্গীর আলম: আলহামদুলিল্লাহ্‌, আপনাদের দোয়ায় আল্লাহ্‌ অনেক ভালো রেখেছেন।

নিউজবিডি৭১: সবচেয়ে কমবয়সে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন, অনুভূতি কি?

জাহাঙ্গীর আলম: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৬৮ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা গাজীপুর মহানগরের মতো জায়গায় আমাকে এত বড় দ্বায়িত্ব দিয়েছেন এতে আমি উনার কাছে কৃতজ্ঞ। আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব যেন নিষ্ঠা ও সততার সাথে পালন করতে পারি আল্লাহর কাছে এ প্রার্থনা করি। জনগন আমাকে ভালবেসে কাছে টেনে নিয়েছেন এটাই আমার বড় প্রাপ্তি। জনপ্রতিনিধি হয়ে গাজীপুরবাসীর সুখ-দু:খের সঙ্গী হতে পেরে আমি আনন্দিত ও গর্বিত।

নিউজবিডি৭১: ভবিষ্য’তে আপনাকে যদি গাজীপুরের নগর পিতা মনোনিত করা হয় তাহলে আপনি নগরবাসীর জন্য কি পরিকল্পনা রয়েছে?

জাহাঙ্গীর আলম: নগর পিতা কিংবা মেয়র যাই বলেন না কেন, দলীয় মনোনয়ন ছাড়া আমি কোনভাবেই হতে পারবো না। গাজীপুরবাসীর ভালবাসায় যদি আমি এ শহরের মেয়র হয় তাহলে আমার সমস্ত সাধ্য দিয়ে তাদের সেবা করে যাবো। এ শহরের জনগণ যেন ভোগান্তিবিহীনভাবে এবং সুশৃঙ্খলভাবে জীবনযাপন করতে পারে সেই ব্যবস্থা’ই করবো। এছাড়া বিশ্বের অনেক দেশে কিছু ভৌগলিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে যা জনগণের জন্য
উপকারী। আমি সেসব পরিকল্পনা গাজীপুরে প্রতিষ্ঠা করবো।

নিউজবিডি৭১: কিছু সমস্যা (যানজট, ড্রেনেজ, পানি) গাজীপুরের জনগণকে চরম ভোগান্তিতে ফেলছে এ ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনকে কি’রুপ পরিকল্পনা নেয়া উচিত?

জাহাঙ্গীর আলম: যেসব সমস্যার কথা বলছেন এ সমস্যাগুলো শুধু গাজীপুর নয় পুরো দেশেই রয়েছে। আওয়ামীলীগ ক্ষমতাই আসার পর তার বেশ পরিবর্তন হয়েছে। দেশে আজ বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত হয়েছে। মানুষ তিন বেলা খেতে পারছে। দেশে ডিজাটালের ছোঁয়া লেগেছে।তবে এসকল সমস্যা সিটি কর্পোরেশনের পরিকল্পনায় সমাধান করা সম্ভব। তবে গাজীপুর জেলায় অনেক বড় এবং ভয়াবহ সমস্যা হচ্ছে মাদক। মাদক নিয়ন্ত্রণটাই এখন এ শহরের জন্য মুখ্য হয়ে উঠেছে। আমরা মাদক নিয়ন্ত্রনে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি। যার ফল ভবিষ্যৎ এ নগরবাসী পাবে।

নিউজবিডি৭১: ছাত্রনেতা হিসেবে বর্তমান ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যের আপনার কি দিকনির্দেশনা রয়েছে?

জাহাঙ্গীর আলম: ছাত্রলীগ দেশের অন্যান্য ছাত্রসংগঠন থেকে সুসংগঠিত ও অাদর্শ নির্ভর সংগঠন। ছাত্ররা দেশের ভবিষ্যৎ এ কথা মাথায় রেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে। যাতে করে ভবিষ্যৎ এ মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশের হাল ধরতে পারে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন আজ পূরন হয়েছে। দেশের উন্নায়ণে ছাত্রলীগ নেতারা আজ দেশের হাল ধরেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান ছাত্রলীগকে আরো সুসজ্জিত করে তুলেছেন। ফলে ছাত্রলীগের সাথে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগে নিজ ইচ্ছায় যোগ দিচ্ছে। রাজনীতি শুধুমাত্র বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাই বইয়ের বাইরে সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, মানবিক এবং ধর্মীয় যেসব দিক রয়েছে সে দিকে নবাগত ছাত্র নেতাদের মনোনিবেশ করা উচিত।

নিউজবিডি৭১: আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন, হঠাৎ রাজনীতিতে কিভাবে জড়ালেন?

জাহাঙ্গীর আলম: আইন সম্পর্কে জানা সব মানুষেরই রাষ্ট্রীয় অধিকার সেকারণে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছি। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির প্রতি ভালবাসা। আইন জানা থাকায় দেশের উন্নায়নে কাজ করতে আমার আরো সহজ হয়েছে।

নিউজবিডি৭১: রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে পরিবারের প্রভাব কতটা?

জাহাঙ্গীর আলম: রাজনীতির মানেই মানব কল্যাণে নিজের স্বার্থকে বিলীন করে দেয়া।পরিবার আর রাজনীতি একই সাথে তাল দেয়া খুবই কষ্টসাধ্য। এ কারণে আমার পরিবারের সদস্যরা মাঝে মাঝেই কষ্ট পায়। তবে সেক্রিফাইস বা ছাড় দেয়ার বিষয়টা আমাদের মাঝে বিদ্যমান। এভাবেই কভার হয়ে যায়।

নিউজবিডি৭১: আজকে নিউজবিডি৭১-এর প্রায় ২৬ লাখ দর্শকের সাথে সাথে গোটা গাজীপুরবাসী ফেসবুকে সরাসরি আপনাকে দেখছে, তাদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলার থাকে।

জাহাঙ্গীর আলম: নিউজবিডি৭১ কে ধন্যবাদ আজকে ২৬ লাখ মানুষের সাথে আমাকে সরাসরি যুক্ত করে দেয়ার জন্য। একটা সময় ছিলো যখন স্টিল ক্যামেরায় তোলা ছবি হাতে পেতে এক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় লাগতো। আজকে তথ্য-প্রযুক্তির কল্যাণে সঠিক সময়ের সমস্ত কার্যক্রম সারা বিশ্ব সরাসরি দেখছে। আজকে ২৬ লাখ দর্শক আমাকে দেখছে। আমি চাইবো অদূর ভবিষ্যতে দেশের ১৬ কোটি মানুষ তাদের একজন জনপ্রতিনিধির কাছে সরাসরি তাদের মতামত-অভিযোগ-প্রশ্ন তুলে ধরতে পারে।

নিউজবিডি৭১: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভীশন ২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়নে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের কি কি ভূমিকা থাকবে?

জাহাঙ্গীর আলম: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা যখন জাতির উন্নয়নের লক্ষ্যে কোনো পরিকল্পনা বা রূপরেখা বাস্তবায়নে একবছর সময়ের কথা উল্লেখ করেন। আমি তখন তার সেই পরিকল্পনা দুইমাস বা তার চেয়েও কম সময়ে বাস্তবায়ন করা যায়, সে অনুযায়ী প্ল্যান করি। সেক্ষেত্রে অন্যান্য শহরের তুলনায় গাজীপুর নতুন শহর হিসাবে বেশ সাজানো।

নিউজবিডি৭১: একজন অভিভাবক হিসেবে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগকে কি উপহার দিতে চান?

জাহাঙ্গীর আলম: গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমাকে তাদের একজন অভিভাবক হিসেবে মনে করে। তাই, তাদের দেয়া সেই সম্মানের জায়গা থেকে আমি চাইবো তাদের জন্য ভবিষ্যতে একটা সম্মানজনক নেতৃত্ব রেখে যেতে। যে নেতৃত্ব শুধু কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী হবে।

নিউজবিডি৭১: গাজীপুরবাসীর কাছে আপনি `প্রিন্স অফ গাজীপুর` হিসেবে জনপ্রিয়, আপনার অনুভূতি কি?

জাহাঙ্গীর আলম: গাজীপুরবাসী আমাকে `প্রিন্স অফ গাজীপুর` হিসেবে যে সম্মানের আসনে বসিয়েছে। সেজন্য আমি তাদের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ। আমি মূলত অর্থনীতি এবং শিক্ষার দিকটিকে গুরপ্ত দিয়েছি। এ দুটো দিক যদি প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যে থাকে তাহলে গাজীপুরের প্রত্যেকটি মানুষ একেকজন `প্রিন্স` হয়ে উঠবে।

নিউজবিডি৭১: মূল্যবান সময় এবং বিষদ তথ্য দেয়ার জন্য অসংখ্য নিউজবিডি৭১ পরিবার থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।

জাহাঙ্গীর আলম: নিউজবিডি৭১-কেও আমাকে আমার গাজীপুরবাসী তথা গোটা দেশবাসীর সাথে সরাসরি যোগাযোগ করিয়ে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

নিউজবিডি৭১/আর/এম/২৭ জানুয়ারি ২০১৭

image_print
Share.

Comments are closed.