২৭শে মে, ২০১৭ ইং কক্সবাজারেই হচ্ছে বিশ্বমানের সামুদ্রিক টার্মিনাল, ভিড়বে বিলাসবহুল ক্রুজশিপ!

কক্সবাজারেই হচ্ছে বিশ্বমানের সামুদ্রিক টার্মিনাল, ভিড়বে বিলাসবহুল ক্রুজশিপ!

0

Go to W3Schools!

নিউজবিডি৭১ডটকম
ফাতেমী আহমেদঃ দেশে প্রথমবারের মতো নির্মাণ করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক সমুদ্র যাত্রীবাহী টার্মিনাল। কক্সবাজারের রেজু খালের মোহনায় নির্মিত হবে এই টার্মিনাল। এর মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপিত হবে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন, থাইল্যান্ডের ফুকেট, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, কলম্বো ও চেন্নাই বন্দরের সঙ্গে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হবে এই টার্মিনাল। ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই ও জরীপের কাজ শুরু করেছে বন্দরের দুটি টিম। এ টার্মিনালের মাধ্যমে নাফ নদীর উজানে সাবরাং এলাকায় গড়ে উঠতে যাওয়া বিশেষ ট্যুরিজম স্পট, নাফ ট্যুারিজম পার্ক, সেন্টমার্টিন, সোনাদিয়া কিংবা মহেশখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করা যাবে।

আন্তর্জাতিক টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়ে চবক চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবাল নিউজবিডি৭১কে বলেন, কক্সবাজার ও টেকনাফের মধ্যবর্তী এলাকাকে ঘিরে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের পর্যটন শিল্প। বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি (বেজা) ইতিমধ্যে টেকনাফের সাবরাংসহ কয়েকটি এলাকায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে। সেই আলোকে আমরা রেজু খালের মোহনায় একটি টার্মিনাল করে দিতে পারলে মানুষ যেমন দেশের অভ্যন্তরীণ জলপথে যাতায়াত করতে পারবে, তেমনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাতায়াতও করতে পারবে।

কক্সবাজার থেকে সমুদ্রপথে অন্য দেশে যাতায়াত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর থেকে ক্রুজ জাহাজগুলো মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন হয়ে ভারতের চেন্নাই, বোম্বে ও শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে পৌঁছে। এখন আমরা যদি কক্সবাজারে এ ধরনের একটি টার্মিনাল করতে পারি, তাহলে এসব ক্রুজ জাহাজ আমাদের এখানেও ভিড়বে। তাহলে যাত্রীরা সমুদ্রপথে এক দেশ থেকে অন্য দেশে সহজে যাতায়াত করতে পারবে।

বিশ্বের সব বন্দরের দুটি অংশ থাকে। একটি হলো যাত্রী পরিবহন, অন্যটি হলো মালামাল পরিবহন। ১৯৮৬ সালের দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের এক নম্বর জেটি দিয়ে সৌদি আরবে হজ্ব যাত্রা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সমুদ্রপথে বিদেশে যাত্রী পরিবহনও বন্ধ হয়ে যায়।

দেশে কক্সবাজার হলো পর্যটনের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় শহর। এখানে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত। পর্যটন খাত থেকে আয় বাড়াতে ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বেজা চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী নিউজবিডি৭১কে বলেন, এই ধরনের একটি টার্মিনাল নির্মাণ করা হলে আমরা পুরো রেজু খালকে ঘিরে একটি পর্যটন জোন গড়ে তুলবো। এতে সাবরাং ও নাফ ট্যুরিজম পার্কসহ যেসব বিশেষ পর্যটন এলাকা গড়ে তোলা হচ্ছে, সেখানে সহজেই মানুষ কক্সবাজার থেকে জলপথে যাতায়াত করতে পারবে। ফলে সমগ্র এলাকাটি ট্যুরিস্ট জোন হিসেবে গড়ে উঠবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিশ্বের প্রায় সব দেশ সমুদ্র সৈকতকে টার্গেট করে পর্যটন খাত থেকে আয় বাড়িয়েছে কয়েকগুণ। এর মাধ্যমে তারা লাখ লাখ ডলার আয় করছে। বাংলাদেশ এখাতে অনেক পিছিয়ে আছে। তবে কক্সবাজারে বিশ্বমানের যাত্রীবাহী সামুদ্রিক টার্মিনাল নির্মাণ প্রসঙ্গে তারা বলেন, কক্সবাজারে যদি এ ধরনের একটি টার্মিনাল হয়, তাহলে অভাবনীয় সাফল্য আসবে। দেশের পর্যটন শিল্পের পাশাপাশি অর্থনীতিতেও গতি আসবে। দেশের আয়ও অনেক বাড়বে।

নিউজবিডি৭১/আর/জানুয়ারি ২২, ২০১৭

image_print
Share.

Comments are closed.