২৬শে মে, ২০১৭ ইং ২০২৩ সালে পায়রা বন্দর হবে দক্ষিন এশিয়ার বৃহৎ সমুদ্র বন্দর

২০২৩ সালে পায়রা বন্দর হবে দক্ষিন এশিয়ার বৃহৎ সমুদ্র বন্দর

0

Go to W3Schools!

নিউজবিডি৭১ডটকম                        
কলাপাড়া(পটুয়াখালী) করেসপন্ডেন্ট : চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে পারে না এমন বড় জাহাজ জোয়ার-ভাটার অপেক্ষায় না থেকে যাতে সারা বছরই বন্দরে ভিড়তে এমন পরিকল্পনায় দেশের সমুদ্র সীমানার মধ্যভাগ পটুয়াখালীর কলাপাড়ার রাবনাবাদ চ্যানেলের আন্ধারমানিক নদীর তীরে নির্মিত হয়েছে তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রা। নৌপথে পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে ২০১৬ সালের মাঝামাঝি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রা। সড়ক, নৌ ও রেলপথ পথ ব্যবহার করে দেশ-বিদেশের অর্ধেক আমদানী-রপ্তানীর মাধ্যমে ২০২৩ সালে এ বন্দরটি হবে দক্ষিন এশিায় বৃহৎ সমুদ্র বন্দর। নেপাল ও ভুটান খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারবে বন্দরটি। আর বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোর বিসিআইএমের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠবে পায়রা বন্দর। এমন মহাপরিকল্পনায় ১০বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে ২০১৯ সালে মধ্যম আর ২০২৩ সালে পূর্নাঙ্গ আয়ের লক্ষ্য নির্ধারন করে নির্মান কাজ চলছে পায়রা বন্দরের।

পায়রা বন্দরের উন্নয়ন কাজকে ১৯টি কম্পোনেন্টে ভাগ করা হয়েছে। এরমধ্যে এ তিনটি উন্নয়ন কম্পোনেন্টকে বন্দরের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কম্পোনেন্ট তিনটি জি-টু-জি এর আওতায় বাস্তবায়িত হবে। প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষে ১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা ব্যায়ে এখন চলছে দ্বিতীয় ধাপের কাজ। এলএনজি টার্মিনালসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মানের জন্য লালুয়ায় প্রায় ৭ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্নের পথে।

পায়রা সমুদ্র বন্দরের মূল অবকাঠামো, তীর রক্ষাবাঁধ, আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের স্থাপনা নির্মাণের জন্য চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোং লি. ও চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন লি. সাথে ৮ ডিসেম্বর ২০১৬ পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে স্বাক্ষরিত হয়েছে তিনটি সমঝোতা স্মারকপত্র। নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মাধব রায় উপস্থিতিতে এমওইউ গুলোতে স্বাক্ষর করেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) কমোডর সাইদুর রহমান এবং চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোং লি.’র পক্ষে যুগ্ম ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এল জেং নানহাই ও চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন লি. এর পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক লি শুজিয়াং।

সংযোগ ব্রিজ, রাস্তা, বন্দরের জন্য অত্যাবশ্যক অবকাঠামো, পয়ঃনিষ্কাশন, জলনিষ্কাশন, আন্তঃসড়ক সংযোগ ও রেল যোগাযোগসহ বন্দরের মূল অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ করবে সিএইচইসি। আর নদীতীর রক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে নদীতীর রক্ষাবাঁধ, বন্যা প্রতিরোধ, ভূমি ক্ষয়রোধ, আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের স্থাপনা নির্মাণ করবে সিএসসিইসি।

২৫৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যায়ে আধুনিক সুবিধা সংবলিত কংক্রিটের পাঁচ দশমিক ৬০ কিলোমিটার চার লেন রাস্তার নির্মান কাজ। নৌ-বাহিনীর তত্তাবধানে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সড়কটির নির্মাণ কাজ সম্পন্নের লক্ষ্য নির্ধারন করে এগিয়ে চলছে দ্রুত গতিতে। ইতোমধ্যে সড়ক নির্মানের জন্য ৫৮ একর জমি অধিগ্রহন করা হয়েছে। এরফলে পায়রা বন্দরের সঙ্গে সড়ক পথেও পণ্য খালাসের পথ সুগম হবে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে ঢাকা থেকে পায়রা সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত ১৪০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে চুক্তি স্বক্ষরিত হয়েছে ব্রিটেনের ডিপি রেল লিমিটেডর সাথে। আর ব্রিটেনের রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েটসের সঙ্গে যৌথভাবে রেলপথটির নির্মাণ-পরবর্তী পরিচালনার মেয়াদ ধরা হয়েছে ৯৯ বছর। ৪২ কোটি টাকা ব্যায়ে রেলপথটির সমীক্ষা প্রস্তাবনা তৈরি করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান সাংবাদিকদের জানান, সমঝোতা স্মারকপত্রগুলো স্বাক্ষরের মাধ্যমে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ আধুনিক বন্দর নির্মাণের ক্ষেত্রে আরো একধাপ এগিয়ে গেল। কম্পোনেন্ট তিনটি বাস্তবায়নের পর ২০১৯ সালকে টার্গেট ধরে পূর্ণাঙ্গ বন্দর উন্নয়নে অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে কন্টেইনার টার্মিনাল, বাল্ক টার্মিনাল, প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, টাগ বোট সংগ্রহ, বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপন, নৌ-সংরক্ষণ ইত্যাদি প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।

পায়রা সমুদ্র বন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ল্যাফটেন্যান্ট জাহাঙ্গীর আলম জানান, জাহাজের নাব্যতা অনুযায়ী পায়রা বন্দর থেকে ঢাকা পর্যন্ত আপাতত পাচঁটি পয়েন্টে ড্রেজিংয়ের কাজও এগিয়ে চলছে দ্রুত গতিতে।

পায়রা সমুদ্র বন্দর নির্মাণের ফলে প্রাকৃুতিক দুর্যোগে বিধ্বস্ত অজানা, অচেনা, অবহেলিত সাগর পাড়ের জনপদ এখন কর্মমুখর। হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন এবং বানিজ্যিক কর্মকান্ডে মানুষ থাকবে সারা বছর সম্পৃক্ত। এমন প্রত্যাশার চাদরে দক্ষিনের এ উপকূলের মানুষের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

নিউজবিডি৭১/এম/আরিফুল ইসলাম /০৯ জানুয়ারি, ২০১৭

image_print
Share.

Comments are closed.