২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে চলছে সেবার নামে বাণিজ্য (প্রথম পর্ব)

বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার

নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে চলছে সেবার নামে বাণিজ্য (প্রথম পর্ব) 0

নিউজবিডি৭১ডটকম
অজিত সরকারঃ রাজধানীর যত্রতত্র এখন ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়াগনষ্টিক সেন্টার। যেসবের অধিকাংশই মেনে চলছে না কোনও নিয়ম-কানুন, দিচ্ছে না পর্যাপ্ত সেবা। এমনকি অনেকের লাইসেন্স পর্যন্ত নেই। এমনই একটি এলাকা রাজধানীর মোহাম্মদপুর। যা আদতে আবাসিক এলাকা হলেও, এখন পুরদস্তুর বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত হয়েছে।

এলিট ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক কমপ্লেক্স। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ১৬/১৪, ব্লক-বি বাবর রোডে অবস্থিত। নামে এলিট হলেও অনিয়ম আর অভিযোগে ভরপুর এ ডায়াগনষ্টিক সেন্টারটি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলিট ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারটিতে রোগীরা এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে আছে অথচ ডাক্তারের কোন খবর নেই। সর্বত্র রোগী আর তাদের আত্মীয় স্বজনদের চিৎকার-চেঁচামেঁচি। তাদের বক্তব্য, অনেক টাকা ব্যয়ে তারা জরুরী ভিত্তিতে রোগীকে এখানে ভর্তি করিয়েছেন কিন্তু ডাক্তার কিংবা চিকিৎসা কোনটিরই হদিস নেই।

রোগী ও তাদের আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে স্থানীয় লোকজনও এলিট ডায়াগনষ্টিক সেন্টারটির অনিয়মের কথা জানান।

ডায়াগনষ্টিক সেন্টারটির সাইনবোর্ডে ডাঃ পি.এস দেবনাথ, ডাঃ মোঃ আসাদুল্লাহ (রিপন), ডাঃ মোঃ নাসির নাসির উদ্দিন, ডাঃ আবু হাসান মুহম্মদ বাশার, ডাঃ এস.এম ইদ্রিস আলী, ডাঃ এ.বি.এম রুহুল আমিন, ডাঃ জি.এম জাহাঙ্গীর হোসেন, ডাঃ মোঃ রুস্তম আলী, ডাঃ কিশোর কুমার দাশসহ রয়েছে অসংখ্য নামিদামী ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নাম।

সাইনবোর্ডে অনেক ডাক্তারের নাম লেখা থাকলেও বাস্তবে তাদেরকে পাওয়া খুবই দুষ্কর। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ও দিনের পর দিন ডাক্তারদের আসার অপেক্ষা করতে হয়।

ডায়াগনষ্টিক সেন্টারটিতে অর্থোপেডিক সার্জারী, নিউরো সার্জারী, ভাস্কুলার সার্জারী, কসমেটিক সার্জারী, জেনারেল সার্জারী, ফিজিওথেরাপী, ডিজিটাল ল্যাব ইত্যাদি সেবাসমূহের কথা উল্লেখ থাকলেও অধিকাংশই সচল নেই। অনেক সময় রোগীরা সাইনবোর্ড দেখে প্রতিষ্ঠানটিতে রোগী নিয়ে এসে নানা বিড়ম্বনায় পড়েন।

রাজধানীর বাড্ডা থেকে আজিজ মাতব্বর নামের সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত এক রোগীকে নিয়ে আসেন তারই আত্নীয় রিনা আক্তার। নিউজবিডি৭১কে তিনি জানান, গত অক্টোবর মাসের ৫ তারিখ রাস্তা পারাপারের সময় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হন আজিজ। এরপর স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে এলিট ক্লিনিকে আসেন। এখানকার ডাক্তার বিভিন্ন ঔষধপত্রসহ পায়ের ব্যান্ডেজ করে দেন। এখন পায়ের ব্যান্ডেজ খুলতে এলে এখান থেকে রোগীকে ভর্তি করার কথা বলা হয়।

‘ভর্তি হতে আমাদের কাছে সাড়ে ৮ হাজার টাকা, অনেক বলার পর পাঁচ হাজার টাকায় রাজি হয়েছে তারা।’ এরপর প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ তাদেরকে দুপুরের পর থেকে বসিয়ে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একমাস পেড়িয়ে গেলেও রোগীর পায়ের কোনও উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন রোগীর আত্নীয়রা। এ কারণে তারা বাধ্য হয়ে ফের এলিট ক্লিনিকে আসার কথা ভাবছেন বলেও জানা যায়।

একই ক্লিনিকের আরেকজন রোগীর আত্নীয় কাওসার হোসেন জানান, ‘আমরা রোগী নিয়ে এসেছি কয়েক ঘণ্টা হয়েছে কিন্তু এখনো কোন ডাক্তারের দেখা পাইনি। কখন ডাক্তার আসবে তাও হাসপাতালের লোকজন ঠিকভাবে বলতে পারছেনা।’

দালালের দৌরাত্ন সম্পর্কে জানতে চাইলে এলিট ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাবু নিউজবিডি৭১কে বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানে কোন দালাল নেই। ডাক্তারদের সাথে যোগাযোগ করেই রোগীরা এলিটে আসেন। এখানে বড় বড় ডাক্তাররা রোগী দেখেন। এখানে কোন অনিয়ম অভিযোগ নেই।`

এছাড়া ভ্রাম্যমান আদালত কী কারনে জরিমানা করেছে আর কত টাকা জরিমানা করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কিছুই জানেন না বলে এড়িয়ে যান।

বাবর রোডের কয়েকজন বাসিন্দাদের সাথেও কথা বলেন নিউজবিডি৭১ডটকমের এই প্রতিবেদক। তারা জানান, মোহাম্মদপুর এলাকার প্রতিটি অলিতে গলিতে একের পর এক  হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠছে। আর এসব প্রতিষ্ঠানে সাইনবোর্ডে বড় বড় ডাক্তারের নাম লেখা থাকলেও অধিকাংশ ভুয়া চিকিৎসকরাই সেবার নামে প্রতারণা করছে।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. একেএম সাইদুর রহমান নিউজবিডি৭১কে বলেন, ‘ঢাকার এসব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর দৌরাত্ন বন্ধে বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের যৌথ অভিযানে ১৭টি ক্লিনিককে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৬৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে ২৯টি ক্লিনিককে সিলগালা করে দেয়া হয়। ভবিষ্যতেও এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

নিউজবিডি৭১/আর/০৩ নভেম্বর, ২০১৬

image_print
Share.

Comments are closed.