২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং সহসাই খুলছেনা তিস্তা জট

সহসাই খুলছেনা তিস্তা জট

0

নিউজবিডি৭১ডটকম
অরণ্য আনোয়ার: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে আগামীকাল ভারতের গোয়ায় যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে তিস্তা জট খুলবে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। তবে, আপাতত খুলছেনা তিস্তা জট। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তিস্তা চুক্তি নিয়ে একটা সুখবর দেয়ার সম্ভাবনা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় রাজী না থাকায় কোন সুখবর আসছেনা বলে ভারতের একটি গণমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে।

মমতার অভিযোগ, তিস্তা চুক্তি রুপায়নের আগে তিস্তার পানি নিয়ে অভ্যন্তরীন নানা সমস্যা সমাধানে পশ্চিমবঙ্গের জন্য কিছুই করেননি দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকার।

কুটনৈতিক সূত্রগুলি বলছে, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বর্তমানে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ চাইছে পানি নিয়ে দীর্ঘদিনের এ সমস্যার দ্রুত সমাধান।

সম্প্রতি কাশ্মীরে জঙ্গী হামলা ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি অবস্থানে। প্রতিবেশির এই বিপদের সময়ে ভারতের পাশে থাকার কথা জানিয়ে দিতে ভুল করেনি বাংলাদেশ।

তিস্তা চুক্তি নিয়ে মমতার মন বুঝতে মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং তার সঙ্গে কথা বলেছেন। মমতা তাদের জানান, তিনি কখনো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নন। ছিটমহল বিনিময়েও তিনি সম্মতি দিয়েছিলেন। মোদির ঢাকা সফরের সময়ে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বাংলাদেশেও গিয়েছিলেন। সে সময় তিস্তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নানা সমস্যার কথা উঠেছিল। তারপর এক বছর পার হয়ে গেছে।

কিন্তু মোদি সরকার তিস্তা চুক্তি রুপায়নের আগে পশ্চিমবঙ্গের জন্য কোন ব্যবস্থাই নেননি। তার সঙ্গে এ নিয়ে কথাই বলা হযনি। সেকারণে তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের কথা ভেবে এখনই তিস্তা চুক্তির বিষয়ে আগ্রহী নন। মমতা তিস্তা চুক্তি নিয়ে তার আপত্তির বিষয়টি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে জানিয়ে দিয়েছেন।

কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার এসব সমস্যা সমাধানে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তাই তিনি রাজ্যের স্বার্থের কথা ভেবে এখনই তিস্তা চুক্তিতে সম্মতি দেবেন না। তার আপত্তির মধ্যে রয়েছে, সিকিমে তিস্তা নদীতে অসংখ্য জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরী করা হয়েছে। ১০ মেগাওয়াট থেকে শুরু করে এমনকি ৪ মেগাওয়াট পর্যন্তও বিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে। এ ধরণের শতাধিক প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে তিস্তায়। এছাড়া নদীর উপর এলোপাতাড়িভাবে আটটি বাঁধ দেয়া হয়েছে। এভাবে সিকিমরাজ্য সরকার নদীতে বাঁধ দেয়ায় শুস্ক মৌসুমে উত্তরবঙ্গ পানির সংকটে পড়ে।

এদিকে, বর্ষা মৌসুমে সিকিমবাঁধ বাঁচাতে পানি ছেড়ে দেয়ায় উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যায় ভেসে যায়। ক্ষতিগ্রস্থ হয় লাখ লাখ মানুষ ও সম্পদ। সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন মমতা। কিন্তু কোন ফল পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জানানো হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে।

কিন্তু ঢাকা সফরের এক বছর পার হলেও এ দুই মুখ্যমন্ত্রীকে একসঙ্গে নিয়ে কথা বলেনি নরেন্দ্র মোদি এমনকি কেন্দ্রের তরফ থেকে সিকিম সরকারকেও সতর্ক করা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের জন্য তিস্তার পানি সমস্যা দূর করতে মমতা পানি বিশেষজ্ঞ কল্যাণরুদ্রকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেছিলেন। শুষ্ক মৌসুমে উত্তরবঙ্গের পানির সমস্যা যাতে না হয় এজন্য ছোট ছোট জলাধার তৈরীর প্রস্তাব দেয় কমিটি।

কিন্তু কমিটির প্রস্তাব নিয়ে উদ্যোগী হয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। উত্তরবঙ্গের বিকল্প জল প্রকল্পের জন্য দেয়া হয়নি বিশেষ কোন আর্থিক বরাদ্দও। মমতার আরো অভিযোগ, ফারাক্কায় বাঁধের ফলে ভাগিরথী নদীর পানির একটি বড় অংশ বাংলাদেশে চলে যাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গ বঞ্চিত হচ্ছে। সিকিমের কারণে তিস্তার পানি নিয়েও অভ্যন্তরীন নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে উত্তরবঙ্গ পানির সমস্যায় পড়ছে।

অন্যদিকে, বর্ষা মৌসুমে বিশাল এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিস্তা নিয়ে মমতার বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকার তিস্তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলি আগে সমাধান করুক। তখন বাংলাদেশের সাথে তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভাবা যাবে। ইতোমধ্যে মমতার নির্দেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবকে পরিস্থিতি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য সচিব।

মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সম্মতি না থাকায়  মোদী চাইলেও প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের সময়ে তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরের কোন সম্ভাবনা নেই। তিস্তা জট খোলার পরিস্থিতি এখনও সৃষ্টি হয়নি। ইতিপূর্বে মনমোহোন সরকার ও তার আমলারা মমতাকে রাজী করাতে ব্যর্থ হয়েছে।

তবে, হাসিনা-নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের মধ্য দিয়ে মমতার সাথে কথা বলে দ্রুত সমস্যা সমাধানের একটা আশ্বাস দিতে পারেন নরেন্দ্র মোদি। এজন্য আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে।

নিউজবিডি৭১/এ এস/১৫ অক্টোবর ২০১৬

image_print
Share.

Comments are closed.