শোকের মাতমে রাজধানীতে তাজিয়া মিছিল

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : প্রতিবছরের মত এবারো ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ ধ্বনি তুলে রাজধানীতে বের হলো তাজিয়া মিছিল। পুরান ঢাকার হোসাইনী দালান ইমাম বাড়া থেকে এই মিছিল বের হয়। শুক্রবার সকাল ১০টায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে ব্যাপক নিরাপত্তা ও সতর্কার মধ্য দিয়ে এই মিছিল বের হয়। পুলিশ ও র‍্যাবের টহলের মধ্য দিয়ে মিছিলটি পলাশি, নিউমার্কেটের রাস্তা হয়ে ধানমন্ডিতে অস্থায়ী কারবালায় গিয়ে শেষ হবে।

হোসাইনী দালান ইমামবাড়ার সুপারিনটেনডেন্ট এম এম ফিরোজ হোসাইন জানান, ‘বরাবরের মতোই এবার তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশাসনের কাছ থেকে নিরাপত্তার বিষয়ে ব্যাপক সহযোগিতা পেয়েছি। অবশ্য আমাদের নিজস্ব উদ্যোগে প্রায় ৩০০ জন ভলান্টিয়ার মিছিলের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য নিয়োজিত রয়েছে । আমাদের চাওয়া খুব সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে এই মিছিল সম্পন্ন করার

প্রত্যেক বছর যে পরিমাণ লোক তাজিয়া মিছিলে অংশ নেন, এবারও সেরকম, প্রায় হাজার খানেক লোক তাজিয়া মিছিলে অংশ নেন বলে তিনি জানান।

এদিকে পবিত্র আশুরার তাজিয়া মিছিলে প্রবেশের সময় দা, ছোরা, কাচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি ও টিফিনক্যারিয়ার ব্যাগ বহনের ওপর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, তা সবাইকে মানতে দেখা গেছে। মিছিলে আতশবাজি ও পট্কা ফোটানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া নির্দেশ অনুযায়ী মিছিলে ১২ ফুটের বেশি উচ্চতার নিশান ব্যবহার করা হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার (২১ সেপ্টেম্বর) সারাদেশে পবিত্র আশুরা উদযাপিত হচ্ছে। আশুরা মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের একটি দিন। হিজরির সাল অনুসারে ১০ মহররম কারবালায় হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের মৃত্যুর দিনটি সারাবিশ্বে মুসলমানরা পালন করেন।

বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয় আশুরা। দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। দেশে শিয়া সম্প্রদায় মুহররম মাসের প্রথম দশ দিন শোক স্মরণে নানা কর্মসূচি পালন করেন। আশুরার দিনে তাজিয়া বের করা হয় শোকের আবহে। মূলত ইমাম হোসেন (রা.) এর সমাধির প্রতিকৃতি নিয়ে এই মিছিলে হয়। আরবি ‘তাজিয়া’ শব্দটি শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করতে ব্যবহার করা হয়।

আশুরা উপলক্ষে বড় আয়োজন পুরান ঢাকায় হোসাইনী দালান থেকে তাজিয়া মিছিল হলেও মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বকশিবাজার, লালবাগ, পল্টন, মগবাজার থেকেও আশুরার মিছিল বের হবে।

নিউজবিডি৭১/এম কে/ ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮




আগামীকাল পবিত্র আশুরা

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শুক্রবার (২১ সেপ্টেম্বর) সারাদেশে পবিত্র আশুরা উদযাপিত হবে। আশুরা মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের একটি দিন। হিজরির সাল অনুসারে ১০ মহররম কারবালায় হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের মৃত্যুর দিনটি সারাবিশ্বে মুসলমানরা পালন করেন।

বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয় আশুরা। দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। দেশে শিয়া সম্প্রদায় মুহররম মাসের প্রথম দশ দিন শোক স্মরণে নানা কর্মসূচি পালন করে। আশুরার দিনে তাজিয়া বের করা হয় শোকের আবহে। মূলত ইমাম হোসেন (রা.) এর সমাধির প্রতিকৃতি নিয়ে এই মিছিলে হয়। আরবি ‘তাজিয়া’ শব্দটি শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করতে ব্যবহার করা হয়।

রাজধানীর হোসাইনী দালান ইমাম বাড়া থেকে তাজিয়া মিছিল বের হবে। রাজধানীতে আশুরা উপলক্ষে বড় আয়োজন পুরান ঢাকায় হোসাইনী দালান থেকে তাজিয়া মিছিল হলেও মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বকশিবাজার, লালবাগ, পল্টন, মগবাজার থেকেও আশুরার মিছিল বের হয়। হাজারও মানুষ এই শোক মিছিলে ‘হায় হোসেন-হায় হোসেন’ মাতম তুলে অংশ নেয়। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে সরকারি ছুটি পালিত হবে।

এদিকে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তাজিয়া মিছিলে প্রবেশের সময় দা, ছোরা, কাচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি ও টিফিনক্যারি ব্যাগ বহন নিষিদ্ধ করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। একইসঙ্গে মিছিলে আতশবাজি ও পট্কা ফোটানো নিষিদ্ধ করা হয়।

এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে কয়েক স্তরের সুদৃঢ় নিরাপত্তা ও প্রবেশের চার মুখে চেকপোস্টে সাদা পোশাকে নিরাপত্তা বাহিনী থাকবে। আশুরা উপলক্ষে এখনও কোনও জঙ্গি হামলার আশঙ্কা নেই।

উল্লেখ্য, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন ইবনে আলী (রা.) হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম কারবালার ফোরাত নদীর তীরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শাহাদাত বরণ করেন। এই শোক ও স্মৃতিকে স্মরণ করে সারাবিশ্বে মুসলিমরা আশুরাকে ত্যাগ ও শোকের দিন হিসেবে পালন করেন।

নিউজবিডি৭১/আ/সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৮




ইসলামে ওযুর গুরুত্ব ও উপকারিতা

নিউজবিডি৭১ডটকম
ডাঃ হাফেজ মাওলানা মোঃ সাইফুল্লাহ মানসুর
ইসলামি বিধান মতে অযু হল দেহের অঙ্গ-প্রতঙ্গ ধৌত করার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের একটি উত্তম পন্থা। যার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা যায় এবং এর মাধ্যমে ইসলামের গুরুত্বপূর্ন ইবাদাত গুলের মধ্যে বিশেষ করে নামাজ আদায় ও কুরআন তেলাওয়াত করা হয়। নাযাম ও কুরআন তেলাওয়াত করার জন্য অবশ্যই পবিত্রতা অর্জন করা প্রয়োজন । কারণ পবিত্রতা ছাড়া আল্লাহ তাআলার কাছে নামায গৃহীহ হবে না। এ সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেনঃ
ﻻَ ﻳَﻘْﺒَﻞُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺻَﻼَﺓَ ﺃَﺣَﺪِﻛُﻢْ ﺇِﺫَﺍ ﺃَﺣْﺪَﺙَ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺘَﻮَﺿَّﺄَ “আল্লাহ তাআলা তোমাদের কারও নামায গ্রহণ করবেন না, যখন সে অপবিত্র হয়ে যায়, যতক্ষন না সে অযু করে। (বুখারী ও মুসলিম)

অন্য এক হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী “নামাজকে বলা হয় জান্নাতের চাবি আর ওযুকে বলা হয় নামাজের চাবি” পবিত্র কোরানে আছে –“নিশ্চই আল্লাহ্ তওবাকারীকে ভালবাসেন এবং যাহারা পবিত্র থাকে তাদেরকেও ভালবাসেন।” অনুরূপভাবে কুরআনন শরীফ পড়তে ও স্পর্শ করতেও অযুর প্রয়োজন হয়। পবিত্র কোরানে আছে -“যাহারা পূত-পবিত্র তাহারা ব্যতীত অন্য কেহ তাহা স্পর্শ করো না।“[১] (সূরা ওয়াক্কিয়াহ্, আয়াত:৭৯)। দেহ ও পরিধেয় কাপড়ের পবিত্রতা আর্জনকে বলা হয় তাহারাত্। অযু বা গোসলের মাধ্যমে সেই তাহারাত্ আর্জন করা যায়। হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) বলেন – “পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ধর্মের অর্ধেক।“ (সহীহ মুসলিম)। অতএব প্রত্যেকটা মুমিনের উচিৎ ওযু বা তাহারাত সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারনা রাখা ও সব সময় ওযু অবস্থায় থাকা।

অযুর ফরজ ফরজসমূহ : যেমন
১.মুখমন্ডল পরিপূর্ণ ধৌত করা। ২. দুই হাত কনূই পর্যন্ত ধৌত করা। ৩. মাথার এক চতুর্থাংশ মাসেহ করা (ভেজা হাত মাথায় বুলানো) । ৪. দুই পায়েরর টাকনু পর্যন্ত উত্তম রুপে ধৌত করা।। (ক্ষেত্র বিশেষ চামড়ার মোজার উপর মসেহ্ করা যাবে যাকে খুফস বলা হয়)।

এ ফরজগুলি ছাড়াও আছে কিছু সুন্নাত ও মুস্তাহাব কাজ যার মাধ্যমে সুন্দরভাবে ওযু করা সম্ভব। তবে ফরজের কোন একটি কাজ বাদ পড়লে ওযু হবে না।

এ সম্পর্কে কোরআনে বর্নিত আছেঃ “হে মু’মিনগণ! যখন তোমরা সালাতের জন্য প্রস্তুত হবে তখন তোমরা তোমাদের মুখমন্ডল ও হাতের কনূই পর্যন্ত ধৌত কওে নিবে এবং তোমাদের মাথা মসেহ্ করবে এবং পা গ্রন্থি পর্যন্ত ধৌত করবে; যদি তোমরা আপবিত্র থাক, তবে বিশেষভাবে পবিত্র হয়ে নিবে।তবে তোমরা যদি অসুস্থ হও অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেহ শৌচস্থান হইতে আগমন করে, অথবা তোমরা স্ত্রীদের সহিত সংগম কর এবং পানি না পাও তবে পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করবে এবং তখন তোমাদের মুখমন্ডল ও হাত মসেহ্ করবে। আল্লাহ্ তোমাদিগকে কষ্ট দিতে চান না; বরং তিনি তোমাদিগকে পবিত্র করিতে চান ও তোমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করতে চান, যাহাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।(সূরা মায়িদা, আয়াত:৬)।

অযু ভঙ্গের কারণসমুহঃ
কোন ব্যক্তি অযু করার পর কিছু নির্দিষ্ট কাজ না করলে তার অযু বলবৎ থাকে। কিন্তু ঐ কাজগুলো যখনই করা হয় তখনই অযু অকার্যকর হয়ে যায় যা অযু ভেঙ্গে হওয়াও বলে।

উযু ভঙ্গের কারণ ৭টিঃ
১. পায়খানা-পেশাবের রাস্তা দিয়ে কোন কিছু বের হওয়া।
২. অযু অবস্থায় মুখ ভরে বমি হলে।
৩. শরীরের ক্ষতস্থান হতে রক্ত, পুঁজ বা পানি বের হয়ে গড়িয়ে পড়লে।
৪. থুথুর সঙ্গে রক্তের ভাগ সমান বা বেশি হলে।
৫. চিৎ, কাৎ বা হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে গেলে।
৬. পাগল, মাতাল বা অচেতন হলে ।
৭. নামাযে উচ্চ আওয়াজে করে হাসলে।
যে পানি দিয়ে অযু করা যাবেঃ যেমন-
১.বৃষ্টির পানি ২.কূয়ার পানি যা ডাকা থাকে ৩. ঝর্ণার, সাগর, নদীর পানি ৪. বরফ গলা পানি ৫. বড় পুকুর বা টেঙ্কের পানি
যে পানি দিয়ে অযু হবে নাঃ যেমন-
১.অপরিচ্ছন্ন বা অপবিত্র পানি ২. ফল বা গাছ নিসৃতঃ পানি ৩. কোন কিছু মিশানোর কারণে যে পানির বর্ণ, গন্ধ, স্বাদ এবং গারত্ব পরিবর্তিত হয়েছে। ৪. অল্প পরিমাণ পানি: যাতে অপবিত্র জিনিস মিশে গেছে (যেমনঃ মূত্র, রক্ত, মল বা মদ)। ৫. অযু বা গোসলের জন্য ব্যবহৃত পানি। ৬. অপবিত্র (হারাম) প্রাণী, যেমনঃ শূকর, কুকুর ও আন্যান্য হিংস্র প্রানীর পানকৃত পানির আবশিষ্ট।

ওযুর উপকারীতা
ওযুতে চারটি উপকারি রয়েছে-
দুটি উপকার ধর্মীয় যথা- ১.পবিত্রতা অর্জন যা মনে প্রশান্তি আনে ২. শয়তানের প্ররোচনা দূর হয় যা মন থেকে অশান্তি দুর করে প্রফুল্লতা ফিরে আনে।

অন্ন দুটি উপকার শারীরিক যথা-৩. অন্তকরন সুদৃঢ় করে ৪. পদসমূহ মজবুত করে।।
মস্তিষ্কের সাথে যেহেতু অন্তরের সুগভির সম্পর্ক রয়েছে তাই ওযুর মাদ্ধমে মস্তিষ্ককে শক্তিশালী করা হয় অর্থাৎ শরীর ও মন শক্তিশালী হয়। এর মাধ্যমে অন্তকরন মজবুত ও পদসমূহ সুদৃঢ় করা যায়। যেমন পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন-

হে নবী স্বরন কর সেই সময়ের কথা যখন আল্লাহ তোমাদেও উপর তন্দ্রা স্থাপন করেছিলেন স্বীয় সান্নিধান হতে তোমাদের উপর শান্তি স্থাপনের জন্ন । আর আসমান হতে তোমাদের উপর পানি বর্ষণ করেছিলেন যাতে সে পানি তোমাদেরকে পবিত্র করে। এবং তোমাদের থেকে শয়তানের প্ররোচনা দূর করেন এবং তোমাদের অন্তর সমূহ সুদৃঢ় করেন এবং তোমাদের পদসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। (সুরা আনফাল)

আর ক্রোধ দমনে রাসুল (সা) বলেছেন — ক্রোধ প্রকাশ করা শয়তানের কাজ এবং শয়তান আগুন হতে সৃষ্টি হয়েছে। আগুন পানি দারা নিভে যায়। অতএব তোমাদের মধ্যে কেউ রাগান্নিত হলে সে যেন ওযু করে নেয়
এ ছাড়াও কুরআন ও হাদীসের আলোকে ওযুর কিছু ফজিলত আলোকপাত করা হলো ঃ

১)ওযু কারিকে আল্লাহ তাআলার ভালবাসেন :
অযু /ওযু হল পবিত্রতা, আর পবিত্রতা অর্জনকারীকে আল্লাহ তাআলা ভালবাসেন। এরশাদ হচ্ছে:
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻳُﺤِﺐُّ ﺍﻟﺘَّﻮَّﺍﺑِﻴﻦَ ﻭَﻳُﺤِﺐُّ ﺍﻟْﻤُﺘَﻄَﻬِّﺮِﻳﻦَ
“নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তওবাকারীদের এবং পবিত্রা অর্জন কারীদেরকে ভালবাসেন।” (সূরা বাকারাঃ ২২২)

২) পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গঃ রাসুল (সঃ) বলেছেনঃ ﺍﻟﻄُّﻬُﻮﺭُ ﺷَﻄْﺮُ ﺍﻹِﻳﻤَﺎﻥِ “পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ।” (মুসলিম)

৩) ওযু কারীর জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হয়ঃ
যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি সুন্দর ভাবে অযু করবে অত:পর অযুর শেষে নিম্ন বর্ণিত দুআ পাঠ করবে তার জন্যে

জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেয়া হবে, সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে।” দু’আটির বাংলা উচ্চারণ-
ঃ “আশহাদুআল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া
রাসূলুহু। আল্লাহুম্মাজআলনী মিনাত্ তাওয়্যাবীনা ওয়াজআলনী মিনাল মুতাত্বহহিরীন।” (তিরমিযী)

৪) ওযু কারীর জন্য জান্নাতের সুসংবাদ :
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :
“যে কোন ব্যক্তি সুন্দর ভাবে অযু করে, একনিষ্ঠতার সাথে দুরাকাআত নামায আদায় করে তার জন্যে জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়।” (মুসলিম)

৫) অযু এক নামায হতে অন্য নামাযের মধ্যে সংঘঠিত গুনাহের কাফফারাহ স্বরূপঃ
রাসুল (সঃ) এরশাদ করেনঃ
ﻣَﻦْ ﺃَﺗَﻢَّ ﺍﻟْﻮُﺿُﻮﺀَ ﻛَﻤَﺎ ﺃَﻣَﺮَﻩُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻓَﺎﻟﺼَّﻠﻮَﺍﺕُ
ﺍﻟْﻤَﻜْﺘُﻮﺑَﺎﺕُ ﻛَﻔَّﺎﺭَﺍﺕٌ ﻟِﻤَﺎ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻦَّ
“যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী পরিপূর্ণ ভাবে অযু সম্পাদন করে, (তার জন্য) ফরয নামাযগুলোর মধ্যবর্তী সময়ে সংঘঠিত গুনাহের কাফ্ফারা হয়ে যায়।” (মুসলিম)

৬) ওযুর মাধ্যমে গুনাহ দূর হয় ঃ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল (সঃ) বলেছেন: “যখন একজন মুসলিম বা মু’মিন ব্যক্তি অযু করে, সে যখন তার চেহারা ধৌত করে পানির সাথে বা পানির শেষ বিন্দুর সাথে তার চেহারার গুনাহ সমূহ দূর হয়ে যায় যা তার দৃষ্টি দ্বারা হয়েছে। এমনিভাবে সে যখন তার দুহাত ধৌত করে তার হাতের গুনাহ সমূহ যা হাত দিয়ে ধরার মাধ্যমে করেছে তা পানির সাথে বা পানির শেষ বিন্দুর সাথে দূর হয়ে যায়। আবার যখন দু’পা ধৌত কওে পায়ের গুনাহ সমূহ যা পা দিয়ে চলার মাধ্যমে হয়েছে তা পানির সাথে বা পানির শেষ বিন্দুর সাথে দূর হয়ে যায়। শেষ পর্যন- সে গুনাহ হতে সম্পূর্ণ পবিত্র হয়ে যায়। (মুসলিম)

৭) অযুর অংগ প্রত্যংগ গুলো কিয়ামতের দিন আলোকিত হবেঃ
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত তিনি বলেন, সাহাবাগণ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার উম্মত যারা আপনার পরে আসবে তাদেরকে আপনি কিভাকে পরিচয় পাবেন? তিনি বললেন” “আমার উম্মতগণ কিয়ামতের দিন অযুর স্থানগুলো আলোকীত অবস্থায় উপস্তিত হবে।” (মুসলিম)

৮) ঘূমানোর পূর্বে অযু করা দুআ কবুল হওয়ার কারণঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোন মুসলিম ব্যক্তি যখন অযু করে নিদ্রায় যায়, রাত্রিতে জেগে দুনিয়া এবং আখেরাতের কোন কল্যাণের দুআ করলে দুআ কবুল করা হয়।” (নাসাঈ)

নিউজবিডি৭১/আ/সেপ্টেম্বর ০৬ ,২০১৮




আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা; রাত পোহালেই ঈদ

নিউজ ডেস্ক

নিউজবিডি৭১ডটকম 

ঢাকাআর মাত্র কয়েক ঘণ্টা; রাত পোহালেই (বুধবার, ২২ আগস্ট) দেশজুড়ে উদযাপিত হবে আত্মত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল পবিত্র ঈদুল আজহা। এটি আমাদের কাছে ‘কোরবানির ঈদ’ হিসেবেও পরিচিত। মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসবটি যুগ যুগ ধরে ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হয়ে আছে।

ঈদের নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন সামর্থ্যবান মুসলমানরা। ঈদুল আজহার সঙ্গে পবিত্র হজের সম্পর্ক রয়েছে। সোমবার (২০ আগস্ট) মক্কার অদূরে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হওয়ার মধ্য দিয়ে পবিত্র হজ পালন করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

হিজরি সনের গণনা অনুযায়ী মঙ্গলবার (২১ আগস্ট)  সৌদি আরবে ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। সকালে মুজদালিফা থেকে ফিরে হাজীরা মিনায় অবস্থান করে পশু কোরবানিসহ হজের অন্য কার্যাদি সম্পাদন করেছেন।

বাংলাদেশেও মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত অনুসারে ত্যাগের মহিমা ও উৎসর্গের আনন্দ নিয়ে বুধবার এই ধর্মীয় উৎসব উদযাপিত হবে।

‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ’ তাকবির ধ্বনি দিতে দিতে ঈদ জামাতে হাজির হবেন মুসল্লিরা।

ঈদগাহ, খোলা মাঠ বা মসজিদে ঈদের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় শেষে সামর্থ্যবান নর-নারী মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের জন্য যার যার সাধ্যমতো পশু কোরবানি করবেন।

রাজধানীতে এবারও নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঈদ জামাত উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশব্যাপী নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা।

ঈদ উপলক্ষে সারা দেশ মেতে উঠেছে উৎসবের আনন্দে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের উৎসবে শামিল হতে পথের ক্লান্তি ভুলে রাজধানীর মানুষ ছুটেছেন গ্রামের বাড়িতে।

কোরবানির পশুর হাটগুলোও ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে জমজমাট। ইতোমধ্যে ঈদ উদযাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

ঈদুল আজহা হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার পুত্র হজরত ইসমাইলের (আ.) সঙ্গে সম্পর্কিত। হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে মহান আল্লাহের আদেশে পুত্র ইসমাইলকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোরবানি করতে গিয়েছিলেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে এই আদেশ ছিলো হজরত ইব্রাহিমের জন্য পরীক্ষা।

তিনি পুত্রকে আল্লাহর নির্দেশে জবাই করার সব প্রস্তুতি নিয়ে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ইসলামে বর্ণিত আছে, নিজের চোখ বেঁধে পুত্র ইসমাইলকে ভেবে যখন জবেহ সম্পন্ন করেন তখন চোখ খুলে দেখেন ইসমাইলের পরিবর্তে পশু কোরবানি হয়েছে, যা এসেছিল আল্লাহর তরফ থেকে।

সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি ধারণ করেই হজরত ইব্রাহিমের (আ.) সুন্নত হিসেবে পশু জবাইয়ের মধ্য দিয়ে কোরবানির বিধান এসেছে ইসলামী শরিয়তে। সেই মোতাবেক প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য পশু কোরবানি করা ওয়াজিব।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর সুন্নত হিসেবে কোরবানির গোশতের তিন ভাগের এক ভাগ গরিবের হক ও এক ভাগ আত্মীয়ের হক হিসেবে বণ্টন করা হয়। বাকি এক ভাগ নিজেদের জন্য রাখা হয়।

জিলহজে ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যে কোনো দিন পশু কোরবানি করা যায়। তবে মহানবী (সা.) ১০ জিলহজ ঈদুল আজহার দিন কোরবানি করাকেই উত্তম ঘোষণা করেছেন।

রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত হবে সকাল ৮টায়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে হবে ঈদের পাঁচটি জামাত। এখানে প্রথম জামাত হবে সকাল ৭টায়। এবারও দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত হবে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহে।

রাজধানীসহ দেশের সব বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা শহর ও প্রতিটি গ্রাম ও মহল্লায় ঈদ জামাতের প্রস্তুতি চলছে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার তিন দিন সরকারি ও দুই দিন সাপ্তাহিক— এই পাঁচ দিনের ছুটি শুরু হয়েছে।

এদিকে ঈদ উপলক্ষে পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।

ঈদের দিন কারাগার, হাসপাতাল, ভবঘুরে কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, শিশুসদনে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। ঈদ আনন্দের অংশ হিসেবে রেডিও-টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সপ্তাহব্যাপী বিশেষ ঈদ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।

নিউজবিডি৭১/এ এল/২১ আগস্ট, ২০১৮     




ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে সৌদি আরবে

নিউজ ডেস্ক

নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকা : সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার মুজদালিফায় ফজরের নামাজ আদায় করে মিনায় নিজ নিজ তাঁবুতে ফিরছেন হাজিরা।

মিনায় শয়তানকে পাথর মারার পর পশু কোরবানি শেষে  মাথার চুল ছেঁটে গোসল করে স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন। কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় ‘সাঈ’ শেষে আবার মিনায় যাবেন। সবশেষে মক্কায় বিদায়ী তাওয়াফ করে নিজ নিজ দেশে ফিরবেন।

এদিকে ফিলিস্তিন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ইরাক, মিসর ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে আজ।

গতকাল সোমবার লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি তাঁবুর নগরী মিনা থেকে ফজরের নামাজ আদায় করেই আরাফাতের উদ্দেশে রওনা দেন। মুসল্লিদের আগমনে কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে আরাফাত ময়দান ও এর আশপাশের এলাকা। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ তালবিয়ার ধ্বনিতে মুখর গোটা আরাফাতের ময়দান।

গতকাল হজের দিন নিয়ম অনুযায়ী সারাক্ষণ আরাফাতে অবস্থান করেন হাজিরা। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সমবেত ধর্মপ্রাণ মুসল্লি সেখানেই কোরআন পাঠ, নামাজ ও দোয়ায় মশগুল থাকেন।

আরাফাত ময়দানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মসজিদ, মসজিদে নামিরাহতে খুতবা দেন মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব বিচারপতি শেখ হুসেইন বিন আবদুল আজিজ।

আগামীকাল বুধবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। সূত্র-এনটিভি

নিউজবিডি৭১/এম কে/২১ আগস্ট, ২০১৮




কুরবানি সংক্রান্ত কিছু জরুরী মাসআলা

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : ঈদুল আযহা বা ঈদুল আজহা ইসলাম ধর্মাবলম্বিদের সবচেয়ে বড় দুটো ধর্মীয় উৎসবের একটি। বাংলাদেশে এই উৎসবটি কুরবানির ঈদ নামে পরিচিত। ঈদুল আযহা মূলত আরবী বাক্যাংশ। এর অর্থ হলো ত্যাগের উৎসব। আসলে এটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ত্যাগ করা। এ দিনটিতে মুসলমানেরা তাদের সাধ্যমত ধর্মীয় নিয়মানুযায়ী উট, গরু, দুম্বা কিংবা ছাগল কোরবানি বা জবাই দেয়। কুরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

হাদিস শরিফে এ ইবাদতের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত ফাতেমা (রা.) কে তার কুরবানির নিকট উপস্থিত থাকতে বলনে এবং ইরশাদ করেন, এই কুরবানির প্রথম রক্তবিন্দু প্রবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ তাআলা তোমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূল্লাহ- এটা কি শুধু আহলেবায়তের জন্য, নাকি সকল মুসলিমের জন্য? উত্তরে নবীজী বললেন, এই ফজিলত সকল মুসলিমের জন্য। (মুসনাদে বাযযার ২/১৫৪)

কার উপর কুরবানী ওয়াজিব

মাসআলা : ১. প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যে ১০ যিলহজ্ব ফজর থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, অলঙ্কার, বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজন আসে না এমন জমি, প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কুরবানীর নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।

আর নিসাব হল স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি, রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি, টাকা-পয়সা ও অন্যান্য বস্ত্তর ক্ষেত্রে নিসাব হল এর মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া। আর সোনা বা রূপা কিংবা টাকা-পয়সা এগুলোর কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্ত্ত মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায় তাহলেও তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।-আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫

নেসাবের মেয়াদ

মাসআলা ২. কুরবানীর নেসাব পুরো বছর থাকা জরুরি নয়; বরং কুরবানীর তিন দিনের মধ্যে যে কোনো দিন থাকলেই কুরবানী ওয়াজিব হবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩১২

কুরবানীর সময়

মাসআলা : ৩. মোট তিনদিন কুরবানী করা যায়। যিলহজ্বের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত। তবে সম্ভব হলে যিলহজ্বের ১০ তারিখেই কুরবানী করা উত্তম। -মুয়াত্তা মালেক ১৮৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৮, ২৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৫

নাবালেগের কুরবানী

মাসআলা : ৪. নাবালেগ শিশু-কিশোর তদ্রূপ যে সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন নয়, নেসাবের মালিক হলেও তাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। অবশ্য তার অভিভাবক নিজ সম্পদ দ্বারা তাদের পক্ষে কুরবানী করলে তা সহীহ হবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৬

মুসাফিরের জন্য কুরবানী

মাসআলা : ৫. যে ব্যক্তি কুরবানীর দিনগুলোতে মুসাফির থাকবে (অর্থাৎ ৪৮ মাইল বা প্রায় ৭৮ কিলোমিটার দূরে যাওয়ার নিয়তে নিজ এলাকা ত্যাগ করেছে) তার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। -ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৪, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৫, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৫

নাবালেগের পক্ষ থেকে কুরবানী

মাসআলা : ৬. নাবালেগের পক্ষ থেকে কুরবানী দেওয়া অভিভাবকের উপর ওয়াজিব নয়; বরং মুস্তাহাব।-রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৫; ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৫

দরিদ্র ব্যক্তির কুরবানীর হুকুম

মাসআলা : ৭. দরিদ্র ব্যক্তির উপর কুরবানী করা ওয়াজিব নয়; কিন্তু সে যদি কুরবানীর নিয়তে কোনো পশু কিনে তাহলে তা কুরবানী করা ওয়াজিব হয়ে যায়। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯২

কুরবানী করতে না পারলে

মাসআলা : ৮. কেউ যদি কুরবানীর দিনগুলোতে ওয়াজিব কুরবানী দিতে না পারে তাহলে কুরবানীর পশু ক্রয় না করে থাকলে তার উপর কুরবানীর উপযুক্ত একটি ছাগলের মূল্য সদকা করা ওয়াজিব। আর যদি পশু ক্রয় করে ছিল, কিন্তু কোনো কারণে কুরবানী দেওয়া হয়নি তাহলে ঐ পশু জীবিত সদকা করে দিবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৪, ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৫

প্রথম দিন কখন থেকে কুরবানী করা যাবে

মাসআলা : ৯. যেসব এলাকার লোকদের উপর জুমা ও ঈদের নামায ওয়াজিব তাদের জন্য ঈদের নামাযের আগে কুরবানী করা জায়েয নয়। অবশ্য বৃষ্টিবাদল বা অন্য কোনো ওজরে যদি প্রথম দিন ঈদের নামায না হয় তাহলে ঈদের নামাযের সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম দিনেও কুরবানী করা জায়েয।-সহীহ বুখারী ২/৮৩২, কাযীখান ৩/৩৪৪, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৮

রাতে কুরবানী করা

মাসআলা : ১০. ১০ ও ১১ তারিখ দিবাগত রাতেও কুরবানী করা জায়েয। তবে দিনে কুরবানী করাই ভালো। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ১৪৯২৭; মাজমাউয যাওয়াইদ ৪/২২, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০, কাযীখান ৩/৩৪৫, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩

কুরবানীর উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত পশু সময়ের পর যবাই করলে

মাসআলা : ১১. কুরবানীর দিনগুলোতে যদি জবাই করতে না পারে তাহলে খরিদকৃত পশুই সদকা করে দিতে হবে। তবে যদি (সময়ের পরে) জবাই করে ফেলে তাহলে পুরো গোশত সদকা করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে গোশতের মূল্য যদি জীবিত পশুর চেয়ে কমে যায় তাহলে যে পরিমাণ মূল্য হ্রাস পেল তা-ও সদকা করতে হবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০২, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০-৩২১

কোন কোন পশু দ্বারা কুরবানী করা যাবে

মাসআলা : ১২. উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দ্বারা কুরবানী করা জায়েয। এসব গৃহপালিত পশু ছাড়া অন্যান্য পশু যেমন হরিণ, বন্যগরু ইত্যাদি দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়। -কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫

নর ও মাদা পশুর কুরবানী

মাসআলা : ১৩. যেসব পশু কুরবানী করা জায়েয সেগুলোর নর-মাদা দুটোই কুরবানী করা যায়। -কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫

কুরবানীর পশুর বয়সসীমা

মাসআলা : ১৪. উট কমপক্ষে ৫ বছরের হতে হবে। গরু ও মহিষ কমপক্ষে ২ বছরের হতে হবে। আর ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে ১ বছরের হতে হবে। তবে ভেড়া ও দুম্বা যদি ১ বছরের কিছু কমও হয়, কিন্তু এমন হৃষ্টপুষ্ট হয় যে, দেখতে ১ বছরের মতো মনে হয় তাহলে তা দ্বারাও কুরবানী করা জায়েয। অবশ্য এক্ষেত্রে কমপক্ষে ৬ মাস বয়সের হতে হবে।

উল্লেখ্য, ছাগলের বয়স ১ বছরের কম হলে কোনো অবস্থাতেই তা দ্বারা কুরবানী জায়েয হবে না। -কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫-২০৬

এক পশুতে শরীকের সংখ্যা

মাসআলা : ১৫. একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দ্বারা শুধু একজনই কুরবানী দিতে পারবে। এমন একটি পশু কয়েকজন মিলে কুরবানী করলে কারোটাই সহীহ হবে না। আর উট, গরু, মহিষে সর্বোচ্চ সাত জন শরীক হতে পারবে। সাতের অধিক শরীক হলে কারো কুরবানী সহীহ হবে না। -সহীহ মুসলিম ১৩১৮, মুয়াত্তা মালেক ১/৩১৯, কাযীখান ৩/৩৪৯, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭-২০৮

সাত শরীকের কুরবানী

মাসআলা : ১৬. সাতজনে মিলে কুরবানী করলে সবার অংশ সমান হতে হবে। কারো অংশ এক সপ্তমাংশের কম হতে পারবে না। যেমন কারো আধা ভাগ, কারো দেড় ভাগ। এমন হলে কোনো শরীকের কুরবানীই সহীহ হবে না। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭

মাসআলা : ১৭. উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে এবং সাতের কমে যেকোনো সংখ্যা যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয় ভাগে কুরবানী করা জায়েয। -সহীহ মুসলিম ১৩১৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭

কোনো অংশীদারের গলদ নিয়ত হলে

মাসআলা : ১৮. যদি কেউ আল্লাহ তাআলার হুকুম পালনের উদ্দেশ্যে কুরবানী না করে শুধু গোশত খাওয়ার নিয়তে কুরবানী করে তাহলে তার কুরবানী সহীহ হবে না। তাকে অংশীদার বানালে শরীকদের কারো কুরবানী হবে না। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শরীক নির্বাচন করতে হবে। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৮, কাযীখান ৩/৩৪৯

কুরবানীর পশুতে আকীকার অংশ

মাসআলা : ১৯. কুরবানীর গরু, মহিষ ও উটে আকীকার নিয়তে শরীক হতে পারবে। এতে কুরবানী ও আকীকা দুটোই সহীহ হবে।-তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/১৬৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩৬২

মাসআলা : ২০. শরীকদের কারো পুরো বা অধিকাংশ উপার্জন যদি হারাম হয় তাহলে কারো কুরবানী সহীহ হবে না।

মাসআলা : ২১. যদি কেউ গরু, মহিষ বা উট একা কুরবানী দেওয়ার নিয়তে কিনে আর সে ধনী হয় তাহলে ইচ্ছা করলে অন্যকে শরীক করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে একা কুরবানী করাই শ্রেয়। শরীক করলে সে টাকা সদকা করে দেওয়া উত্তম। আর যদি ওই ব্যক্তি এমন গরীব হয়, যার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব নয়, তাহলে সে অন্যকে শরীক করতে পারবে না। এমন গরীব ব্যক্তি যদি কাউকে শরীক করতে চায় তাহলে পশু ক্রয়ের সময়ই নিয়ত করে নিবে।-কাযীখান ৩/৩৫০-৩৫১, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১০

কুরবানীর উত্তম পশু

মাসআলা : ২২. কুরবানীর পশু হৃষ্টপুষ্ট হওয়া উত্তম।-মুসনাদে আহমদ ৬/১৩৬, আলমগীরী ৫/৩০০, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩

খোড়া পশুর কুরবানী

মাসআলা : ২৩. যে পশু তিন পায়ে চলে, এক পা মাটিতে রাখতে পারে না বা ভর করতে পারে না এমন পশুর কুরবানী জায়েয নয়। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, সুনানে আবু দাউদ ৩৮৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৩, আলমগীরী ৫/২৯৭

রুগ্ন ও দুর্বল পশুর কুরবানী

মাসআলা : ২৪. এমন শুকনো দুর্বল পশু, যা জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না তা দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, আলমগীরী ৫/২৯৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪

দাঁত নেই এমন পশুর কুরবানী

মাসআলা : ২৫. যে পশুর একটি দাঁতও নেই বা এত বেশি দাঁত পড়ে গেছে যে, ঘাস বা খাদ্য চিবাতে পারে না এমন পশু দ্বারাও কুরবানী করা জায়েয নয়। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৫, আলমগীরী ৫/২৯৮

যে পশুর শিং ভেঙ্গে বা ফেটে গেছে

মাসআলা : ২৬. যে পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙ্গে গেছে, যে কারণে

মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়। পক্ষান্তরে যে পশুর অর্ধেক শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙ্গে গেছে বা শিং একেবারে উঠেইনি সে পশু কুরবানী করা জায়েয। -জামে তিরমিযী ১/২৭৬, সুনানে আবু দাউদ ৩৮৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৪, আলমগীরী ৫/২৯৭

কান বা লেজ কাটা পশুর কুরবানী

মাসআলা : ২৭. যে পশুর লেজ বা কোনো কান অর্ধেক বা তারও বেশি কাটা সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়। আর যদি অর্ধেকের বেশি থাকে তাহলে তার কুরবানী জায়েয। তবে জন্মগতভাবেই যদি কান ছোট হয় তাহলে অসুবিধা নেই। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, মুসনাদে আহমদ ১/৬১০, ইলাউস সুনান ১৭/২৩৮, কাযীখান ৩/৩৫২, আলমগীরী ৫/২৯৭-২৯৮

অন্ধ পশুর কুরবানী

মাসআলা : ২৮. যে পশুর দুটি চোখই অন্ধ বা এক চোখ পুরো নষ্ট সে পশু কুরবানী করা জায়েয নয়। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, কাযীখান ৩/৩৫২, আলমগীরী ২৯৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪

নতুন পশু ক্রয়ের পর হারানোটা পাওয়া গেলে

মাসআলা : ২৯. কুরবানীর পশু হারিয়ে যাওয়ার পরে যদি আরেকটি কেনা হয় এবং পরে হারানোটিও পাওয়া যায় তাহলে কুরবানীদাতা গরীব হলে (যার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়) দুটি পশুই কুরবানী করা ওয়াজিব। আর ধনী হলে কোনো একটি কুরবানী করলেই হবে। তবে দুটি কুরবানী করাই উত্তম। -সুনানে বায়হাকী ৫/২৪৪, ইলাউস সুনান ১৭/২৮০, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৯, কাযীখান ৩/৩৪৭

গর্ভবতী পশুর কুরবানী

মাসআলা : ৩০. গর্ভবতী পশু কুরবানী করা জায়েয। জবাইয়ের পর যদি বাচ্চা জীবিত পাওয়া যায় তাহলে সেটাও জবাই করতে হবে। তবে প্রসবের সময় আসন্ন হলে সে পশু কুরবানী করা মাকরূহ। -কাযীখান ৩/৩৫০

পশু কেনার পর দোষ দেখা দিলে

মাসআলা : ৩১. কুরবানীর নিয়তে ভালো পশু কেনার পর যদি তাতে এমন কোনো দোষ দেখা দেয় যে কারণে কুরবানী জায়েয হয় না তাহলে ওই পশুর কুরবানী সহীহ হবে না। এর স্থলে আরেকটি পশু কুরবানী করতে হবে। তবে ক্রেতা গরীব হলে ত্রুটিযুক্ত পশু দ্বারাই কুরবানী করতে পারবে। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৯, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, ফাতাওয়া নাওয়াযেল ২৩৯, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৫

পশুর বয়সের ব্যাপারে বিক্রেতার কথা

মাসআলা : ৩২. যদি বিক্রেতা কুরবানীর পশুর বয়স পূর্ণ হয়েছে বলে স্বীকার করে আর পশুর শরীরের অবস্থা দেখেও তাই মনে হয় তাহলে বিক্রেতার কথার উপর নির্ভর করে পশু কেনা এবং তা দ্বারা কুরবানী করা যাবে। -আহকামে ঈদুল আযহা, মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহ. ৫

বন্ধ্যা পশুর কুরবানী

মাসআলা : ৩৩. বন্ধ্যা পশুর কুরবানী জায়েয। -রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৫

নিজের কুরবানীর পশু নিজে জবাই করা

মাসআলা : ৩৪. কুরবানীর পশু নিজে জবাই করা উত্তম। নিজে না পারলে অন্যকে দিয়েও জবাই করাতে পারবে। এক্ষেত্রে কুরবানীদাতা পুরুষ হলে জবাইস্থলে তার উপস্থিত থাকা ভালো। -মুসনাদে আহমদ ২২৬৫৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২২-২২৩, আলমগীরী ৫/৩০০, ইলাউস সুনান ১৭/২৭১-২৭৪

জবাইয়ে একাধিক ব্যক্তি শরীক হলে

মাসআলা : ৩৫. অনেক সময় জবাইকারীর জবাই সম্পন্ন হয় না, তখন কসাই বা অন্য কেউ জবাই সম্পন্ন করে থাকে। এক্ষেত্রে অবশ্যই উভয়কেই নিজ নিজ যবাইয়ের আগে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ পড়তে হবে। যদি কোনো একজন না পড়ে তবে ওই কুরবানী সহীহ হবে না এবং জবাইকৃত পশুও হালাল হবে না। -রদ্দুল মুহতার ৬/৩৩৪

কুরবানীর পশু থেকে জবাইয়ের আগে উপকৃত হওয়া

মাসআলা : ৩৬. কুরবানীর পশু কেনার পর বা নির্দিষ্ট করার পর তা থেকে উপকৃত হওয়া জায়েয নয়। যেমন হালচাষ করা, আরোহণ করা, পশম কাটা ইত্যাদি।সুতরাং কুরবানীর পশু দ্বারা এসব করা যাবে না। যদি করে তবে পশমের মূল্য, হালচাষের মূল্য ইত্যাদি সদকা করে দিবে।-মুসনাদে আহমদ ২/১৪৬, নায়লুল আওতার ৩/১৭২, ইলাউস সুনান ১৭/২৭৭, কাযীখান ৩/৩৫৪, আলমগীরী ৫/৩০০

কুরবানীর পশুর দুধ পান করা

মাসআলা : ৩৭. কুরবানীর পশুর দুধ পান করা যাবে না। যদি জবাইয়ের সময় আসন্ন হয় আর দুধ দোহন না করলে পশুর

কষ্ট হবে না বলে মনে হয় তাহলে দোহন করবে না। প্রয়োজনে ওলানে ঠান্ডা পানি ছিটিয়ে দেবে। এতে দুধের চাপ কমে যাবে। যদি দুধ দোহন করে ফেলে তাহলে তা সদকা করে দিতে হবে। নিজে পান করে থাকলে মূল্য সদকা করে দিবে। -মুসনাদে আহমদ ২/১৪৬, ইলাউস সুনান ১৭/২৭৭,

রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৯, কাযীখান ৩/৩৫৪, আলমগীরী ৫/৩০১

কোনো শরীকের মৃত্যু ঘটলে

মাসআলা : ৩৮. কয়েকজন মিলে কুরবানী করার ক্ষেত্রে জবাইয়ের আগে কোনো শরীকের মৃত্যু হলে তার ওয়ারিসরা যদি মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী করার অনুমতি দেয় তবে তা জায়েয হবে। নতুবা ওই শরীকের টাকা ফেরত দিতে হবে। অবশ্য তার

স্থলে অন্যকে শরীক করা যাবে। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৯, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২৬, কাযীখান ৩/৩৫১

কুরবানীর পশুর বাচ্চা হলে

মাসআলা : ৩৯. কুরবানীর পশু বাচ্চা দিলে ওই বাচ্চা জবাই না করে জীবিত সদকা করে দেওয়া উত্তম। যদি সদকা না করে তবে কুরবানীর পশুর সাথে বাচ্চাকেও জবাই করবে এবং গোশত সদকা করে দিবে।-কাযীখান ৩/৩৪৯, আলমগীরী ৫/৩০১, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৩

মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী

মাসআলা : ৪০. মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী করা জায়েয। মৃত ব্যক্তি যদি ওসিয়ত না করে থাকে তবে সেটি নফল কুরবানী হিসেবে গণ্য হবে। কুরবানীর স্বাভাবিক গোশতের মতো তা নিজেরাও খেতে পারবে এবং আত্মীয়-স্বজনকেও দিতে পারবে। আর যদি মৃত ব্যক্তি কুরবানীর ওসিয়ত করে গিয়ে থাকে তবে এর গোশত নিজেরা খেতে পারবে না। গরীব-মিসকীনদের মাঝে সদকা করে দিতে হবে। -মুসনাদে আহমদ ১/১০৭, হাদীস ৮৪৫, ইলাউস সুনান ১৭/২৬৮, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬, কাযীখান ৩/৩৫২

কুরবানীর গোশত জমিয়ে রাখা

মাসআলা : ৪১. কুরবানীর গোশত তিনদিনেরও অধিক জমিয়ে রেখে খাওয়া জায়েয।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪, সহীহ মুসলিম ২/১৫৯, মুয়াত্তা মালেক ১/৩১৮, ইলাউস সুনান ১৭/২৭০

কুরবানীর গোশত বণ্টন

মাসআলা : ৪২. শরীকে কুরবানী করলে ওজন করে গোশত বণ্টন করতে হবে। অনুমান করে ভাগ করা জায়েয নয়।-আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৭, কাযীখান ৩/৩৫১

মাসআলা : ৪৩. কুরবানীর গোশতের এক তৃতীয়াংশ গরীব-মিসকীনকে এবং এক তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীকে দেওয়া উত্তম। অবশ্য পুরো গোশত যদি নিজে রেখে দেয় তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪, আলমগীরী ৫/৩০০

গোশত, চর্বি বিক্রি করা

মাসআলা : ৪৪. কুরবানীর গোশত, চর্বি ইত্যাদি বিক্রি করা জায়েয নয়। বিক্রি করলে পূর্ণ মূল্য সদকা করে দিতে হবে। -ইলাউস সুনান ১৭/২৫৯, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৫, কাযীখান ৩/৩৫৪, আলমগীরী ৫/৩০১

জবাইকারীকে চামড়া, গোশত দেওয়া

মাসআলা : ৪৫. জবাইকারী, কসাই বা কাজে সহযোগিতাকারীকে চামড়া, গোশত বা কুরবানীর পশুর কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া জায়েয হবে না। অবশ্য পূর্ণ পারিশ্রমিক দেওয়ার পর পূর্বচুক্তি ছাড়া হাদিয়া হিসাবে গোশত বা তরকারী দেওয়া যাবে।

জবাইয়ের অস্ত্র

মাসআলা : ৪৬. ধারালো অস্ত্র দ্বারা জবাই করা উত্তম।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩

পশু নিস্তেজ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা

মাসআলা : ৪৭. জবাইয়ের পর পশু

নিস্তেজ হওয়ার আগে চামড়া খসানো বা অন্য কোনো অঙ্গ কাটা মাকরূহ। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩

অন্য পশুর সামনে জবাই করা

মাসআলা : ৪৮. এক পশুকে অন্য পশুর সামনে জবাই করবে না। জবাইয়ের সময় প্রাণীকে অধিক কষ্ট না দেওয়া।

কুরবানীর গোশত বিধর্মীকে দেওয়া

মাসআলা : ৪৯. কুরবানীর গোশত হিন্দু ও অন্য ধর্মাবলম্বীকে দেওয়া জায়েয।-ইলাউস সুনান ৭/২৮৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০০

অন্য কারো ওয়াজিব কুরবানী আদায় করতে চাইলে

মাসআলা : ৫০. অন্যের ওয়াজিব কুরবানী দিতে চাইলে ওই ব্যক্তির অনুমতি নিতে হবে। নতুবা ওই ব্যক্তির কুরবানী আদায় হবে না। অবশ্য স্বামী বা পিতা যদি স্ত্রী বা সন্তানের বিনা অনুমতিতে তার পক্ষ থেকে কুরবানী করে তাহলে তাদের কুরবানী আদায় হয়ে যাবে। তবে অনুমতি নিয়ে আদায় করা ভালো।

কুরবানীর পশু চুরি হয়ে গেলে বা মরে গেলে

মাসআলা : ৫১. কুরবানীর পশু যদি চুরি হয়ে যায় বা মরে যায় আর কুরবানীদাতার উপর পূর্ব থেকে কুরবানী ওয়াজিব থাকে তাহলে আরেকটি পশু কুরবানী করতে হবে। গরীব হলে (যার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়) তার জন্য আরেকটি পশু কুরবানী করা ওয়াজিব নয়।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৯

পাগল পশুর কুরবানী

মাসআলা : ৫২. পাগল পশু কুরবানী করা জায়েয। তবে যদি এমন পাগল হয় যে, ঘাস পানি দিলে খায় না এবং মাঠেও চরে না তাহলে সেটার কুরবানী জায়েয হবে না। -আননিহায়া ফী গরীবিল হাদীস ১/২৩০, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, ইলাউস সুনান ১৭/২৫২

নিজের কুরবানীর গোশত খাওয়া

মাসআলা : ৫৩. কুরবানীদাতার জন্য নিজ কুরবানীর গোশত খাওয়া মুস্তাহাব। -সূরা হজ্ব ২৮, সহীহ মুসলিম ২২/১৫৯, মুসনাদে আহমদ, হাদীস ৯০৭৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪

ঋণ করে কুরবানী করা

মাসআলা : ৫৪. কুরবানী ওয়াজিব এমন ব্যক্তিও ঋণের টাকা দিয়ে কুরবানী করলে ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। তবে সুদের উপর ঋণ নিয়ে কুরবানী করা যাবে না।

হাজীদের উপর ঈদুল আযহার কুরবানী

মাসআলা : ৫৫. যেসকল হাজী কুরবানীর দিনগুলোতে মুসাফির থাকবে তাদের উপর ঈদুল আযহার কুরবানী ওয়াজিব নয়। কিন্তু যে হাজী কুরবানীর কোনো দিন মুকীম থাকবে সামর্থ্যবান হলে তার উপর ঈদুল আযহার কুরবানী করা জরুরি হবে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৩, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৫, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৫, ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/১৬৬

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কুরবানী করা

মাসআলা : ৫৬. সামর্থ্যবান ব্যক্তির রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কুরবানী করা উত্তম। এটি বড় সৌভাগ্যের বিষয়ও বটে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রা.কে তার পক্ষ থেকে কুরবানী করার ওসিয়্যত করেছিলেন। তাই তিনি প্রতি বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকেও কুরবানী দিতেন। -সুনানে আবু দাউদ ২/২৯, জামে তিরমিযী ১/২৭৫, ইলাউস সুনান ১৭/২৬৮, মিশকাত ৩/৩০৯

কোন দিন কুরবানী করা উত্তম

মাসআলা : ৫৭. ১০, ১১ ও ১২ এ তিন দিনের মধ্যে প্রথম দিন কুরবানী করা অধিক উত্তম। এরপর দ্বিতীয় দিন, এরপর তৃতীয় দিন। -রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৬

খাসীকৃত ছাগল দ্বারা কুরবানী

মাসআলা : ৫৮. খাসিকৃত ছাগল দ্বারা কুরবানী করা উত্তম। -ফাতহুল কাদীর ৮/৪৯৮, মাজমাউল আনহুর ৪/২২৪, ইলাউস সুনান ১৭/৪৫৩

জীবিত ব্যক্তির নামে কুরবানী

মাসআলা : ৫৯. যেমনিভাবে মৃতের পক্ষ থেকে ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে কুরবানী করা জায়েয তদ্রূপ জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে তার ইসালে সওয়াবের জন্য নফল কুরবানী করা জায়েয। এ কুরবানীর গোশত দাতা ও তার পরিবারও খেতে পারবে।

বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির কুরবানী অন্যত্রে করা

মাসআলা : ৬০. বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির জন্য নিজ দেশে বা অন্য কোথাও কুরবানী করা জায়েয।

কুরবানীদাতা ভিন্ন স্থানে থাকলে কখন জবাই করবে

মাসআলা : ৬১. কুরবানীদাতা এক স্থানে আর কুরবানীর পশু ভিন্ন স্থানে থাকলে কুরবানীদাতার ঈদের নামায পড়া বা না পড়া ধর্তব্য নয়; বরং পশু যে এলাকায় আছে ওই এলাকায় ঈদের জামাত হয়ে গেলে পশু জবাই করা যাবে। -আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৮

কুরবানীর চামড়া বিক্রির অর্থ সাদকা করা

মাসআলা : ৬২. কুরবানীর চামড়া কুরবানীদাতা নিজেও ব্যবহার করতে পারবে। তবে কেউ যদি নিজে ব্যবহার না করে বিক্রি করে তবে বিক্রিলব্ধ মূল্য পুরোটা সদকা করা জরুরি। -আদ্দুররুল মুখতার, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০১

কুরবানীর চামড়া বিক্রির নিয়ত

মাসআলা : ৬৩. কুরবানীর পশুর চামড়া বিক্রি করলে মূল্য সদকা করে দেওয়ার নিয়তে বিক্রি করবে। সদকার নিয়ত না করে নিজের খরচের নিয়ত করা নাজায়েয ও গুনাহ। নিয়ত যা-ই হোক বিক্রিলব্ধ অর্থ পুরোটাই সদকা করে দেওয়া জরুরি। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০১, কাযীখান ৩/৩৫৪

কুরবানীর শেষ সময়ে মুকীম হলে

মাসআলা : ৬৪. কুরবানীর সময়ের প্রথম দিকে মুসাফির থাকার পরে ৩য় দিন কুরবানীর সময় শেষ হওয়ার পূর্বে মুকীম হয়ে গেলে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে। পক্ষান্তরে প্রথম দিনে মুকীম ছিল অতপর তৃতীয় দিনে মুসাফির হয়ে গেছে তাহলেও তার উপর কুরবানী ওয়াজিব থাকবে না। অর্থাৎ সে কুরবানী না দিলে গুনাহগার হবে না। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৪৬, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৯

কুরবানীর পশুতে ভিন্ন ইবাদতের নিয়তে শরীক হওয়া

মাসআলা : ৬৫. এক কুরবানীর পশুতে আকীকা, হজ্বের কুরবানীর নিয়ত করা যাবে। এতে প্রত্যেকের নিয়তকৃত ইবাদত আদায় হয়ে যাবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৯, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬, আলমাবসূত সারাখছী ৪/১৪৪, আলইনায়া ৮/৪৩৫-৩৪৬, আলমুগনী ৫/৪৫৯

কুরবানীর গোশত দিয়ে খানা শুরু করা

মাসআলা : ৬৬. ঈদুল আযহার দিন সর্বপ্রথম নিজ কুরবানীর গোশত দিয়ে খানা শুরু করা সুন্নত। অর্থাৎ সকাল থেকে কিছু না খেয়ে প্রথমে কুরবানীর গোশত খাওয়া সুন্নত। এই সুন্নত শুধু ১০ যিলহজ্বের জন্য। ১১ বা ১২ তারিখের গোশত দিয়ে খানা শুরু করা সুন্নত নয়। -জামে তিরমিযী ১/১২০, শরহুল মুনয়া ৫৬৬, আদ্দুররুল মুখতার ২/১৭৬, আলবাহরুর রায়েক ২/১৬৩

কুরবানীর পশুর হাড় বিক্রি

মাসআলা : ৬৭. কুরবানীর মৌসুমে অনেক মহাজন কুরবানীর হাড় ক্রয় করে থাকে। টোকাইরা বাড়ি বাড়ি থেকে হাড় সংগ্রহ করে তাদের কাছে বিক্রি করে। এদের ক্রয়-বিক্রয় জায়েয। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু কোনো কুরবানীদাতার জন্য নিজ কুরবানীর কোনো কিছু এমনকি হাড়ও বিক্রি করা জায়েয হবে না। করলে মূল্য সদকা করে দিতে হবে। আর জেনে শুনে মহাজনদের জন্য এদের কাছ থেকে ক্রয় করাও বৈধ হবে না। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৫, কাযীখান ৩/৩৫৪, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০১

রাতে কুরবানী করা

মাসআলা : ৬৮. ১০ ও ১১ তারিখ দিবাগত রাতে কুরবানী করা জায়েয। তবে রাতে আলোস্বল্পতার দরুণ জবাইয়ে ত্রুটি হতে পারে বিধায় রাতে জবাই করা অনুত্তম। অবশ্য পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকলে রাতে জবাই করতে কোনো অসুবিধা নেই। -ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৪৫, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৬, আহসানুল ফাতাওয়া ৭/৫১০

কাজের লোককে কুরবানীর গোশত খাওয়ানো

মাসআলা : ৬৯. কুরবানীর পশুর কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসাবে দেওয়া জায়েয নয়। গোশতও পারিশ্রমিক হিসেবে কাজের লোককে দেওয়া যাবে না। অবশ্য এ সময় ঘরের অন্যান্য সদস্যদের মতো কাজের লোকদেরকেও গোশত খাওয়ানো যাবে।-আহকামুল কুরআন জাস্সাস ৩/২৩৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪, আলবাহরুর রায়েক ৮/৩২৬, ইমদাদুল মুফতীন

জবাইকারীকে পারিশ্রমিক দেওয়া

মাসআলা : ৭০. কুরবানী পশু জবাই করে পারিশ্রমিক দেওয়া-নেওয়া জায়েয। তবে কুরবানীর পশুর কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসাবে দেওয়া যাবে না। -কিফায়াতুল মুফতী ৮/২৬৫

মোরগ কুরবানী করা

মাসআলা : ৭১. কোনো কোনো এলাকায় দরিদ্রদের মাঝে মোরগ কুরবানী করার প্রচলন আছে। এটি না জায়েয। কুরবানীর দিনে মোরগ জবাই করা নিষেধ নয়, তবে কুরবানীর নিয়তে করা যাবে না। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৪, ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/২৯০, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২০০ ষ

ইসলামের বিভিন্ন বর্ননা অনুযায়ী, মহান আল্লাহ তাআলা ইসলামের নবী হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে স্বপ্নে তার সবচেয়ে প্রিয় বস্তুটি কুরবানি করার নির্দেশ দেন। এই আদেশ অনুযায়ী হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তার সবচেয়ে প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে কুরবানি করার জন্য প্রস্তুত হলে স্রষ্টা তাকে তা করতে বাধা দেন এবং পুত্রের পরিবর্তে পশু কুরবানীর নির্দেশ দেন।

এই ঘটনাকে স্মরণ করে সারা বিশ্বের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য প্রতি বছর এই দিবসটি পালন করে। হিজরি বর্ষপঞ্জী হিসাবে জিলহজ্জ্ব মাসের ১০ তারিখ থেকে শুরু করে ১২ তারিখ পর্যন্ত ৩ দিন ধরে ঈদুল আজহা চলে। হিজরি চান্দ্র বছরের গণনা অনুযায়ী ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার মাঝে ২ মাস ১০ দিন ব্যবধান থাকে। দিনের হিসেবে যা সবোর্চ্চ ৭০ দিন হতে পারে। -তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট

নিউজবিডি৭১/এম কে/আগস্ট ১৯ , ২০১৮




‘আহলান সাহলান’বলে বিদেশীদের স্বাগত জানাচ্ছেন সৌদিরা

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান পবিত্র হজব্রত পালনের লক্ষ্যে সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে সমবেত হচ্ছেন। সৌদি আরবের স্থানীয় লোকেরা বিদেশী মেহমানদের ‘আহলান সাহলান’ বলে স্বাগত জানাচ্ছেন।

হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু না হলেও ইতিমধ্যে অনেকেই পবিত্র কাবা শরিফ তওয়াফ করছেন। কেউ কেউ পালন করছেন ওমরাহ। তওয়াফের জন্যে কাবা শরীফের চারদিকে সাতবার প্রদক্ষিণ করছেন। হাজরে আসওয়াদে চুমু খাচ্ছেন।

ভিড়ের কারণে যারা হাজরে আসওয়াদের কাছে যেতে পারছেন না তারা দূরে থেকে হাত উঁচু করে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দিয়ে হাতেই চুম্বন করছেন। জমজম কূপের পানি পান করছেন।

তারপর সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে প্রদক্ষিণ করছেন। মাথার চুল ছেটে মুণ্ডু করছেন। এভাবে ওমরাহ পালন করে দিনরাত দোয়ায় মশগুল অনেকে। হজ পালনের উদ্দেশ্যে আসা লাখ লাখ মুসলমানের পদচারণায় এখনই মুখরিত মক্কা নগরী।

হজ পালনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ এখনও আসছেন। তাদের বেশিরভাগই এহরাম বেঁধেই রওনা দিয়েছেন।

বিমান আকাশে এহরাম জোনে প্রবেশের ২০ মিনিট আগে ঘোষণা দিচ্ছে এহরাম যা দুই টুকরা সাদা কাপড়ে তৈরি পড়ার জন্যে। এহরাম জোনে প্রবেশের পর তালবিয়া তথা ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ পাঠ করার ঘোষণা দিচ্ছে। তখন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তালবিয়া পাঠ করছেন।

মুসলমানরা পবিত্র কাবা শরিফকে আল্লাহর ঘর হিসাবে মানেন। তার চারপাশে প্রদক্ষিণ করে বিভিন্ন ইচ্ছা পূরনের জন্যে দোয়া করছেন। মক্কা নগরী এখন দিনরাত সব সময়েই মানুষের পদভারে মুখরিত। জেদ্দায় বিমান অবতরণের পর সবাই মক্কার দিকে ছুটছেন।

প্রতি ওয়াক্ত নামাজ কাবা শরীফে আদায় করার জন্যে কাবা শরিফে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে কাবা শরিফ লোকে পরিপূর্ণ হয়ে গেলে নিরাপত্তারক্ষীরা কাউকে সেখানে ঢুকতে দিচ্ছেন না। অগত্য মুসলমানরা কাবা শরীফের বাইরের খালি জায়গায় নামাজের জন্যে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন।

মক্কা নগরীতে হোটেলগুলি ইতিমধ্যেই ভরে যাচ্ছে। যারা আগে থেকেই বুকিং দিয়ে রেখেছেন তারা সেখানে ঠাঁই পাচ্ছেন।

মোয়াল্লেমের মাধ্যমে দল বেঁধে হজ করতে আসা মুসলমানদের অনেকেই আবার আগে থেকেই বাড়ি ভাড়া করে সেখানে উঠছেন। তবে সবার চেষ্টা থাকে কাবা শরীফের আশেপাশের হোটেলে ঠাঁই পাওয়ার জন্যে যাতে সব সময় তারা কাবা শরীফে নামাজ আদায় ও ইবাদত করতে পারেন।

কাবা শরীফের আশেপাশে গড়ে ওঠা সেলুনগুলির এখন ব্যবসার মৌসুম। ওমরাহ পালন শেষে কেউ বের হলে সেলুনের লোকেরা মাথা মুণ্ডুপ করার জন্যে আমন্ত্রণ জানায়।

তওয়াফের মাঝেই কাবা শরিফে কর্মরত কর্মীরা কিছু অংশ ফিতা দিয়ে আটকে দিয়ে ধোয়ামোছার কাজও করছেন।

হজের সময় কিছুটা বাকি থাকায় অনেকে আবার এই সুযোগে মদীনা মনোয়ারায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) রওজা শরিফ জিয়ারত করছেন। আরাফাত ময়দানও তৈরি হচ্ছে। সেখানেই হবে মূল হজ। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরাফাত ময়দানেই বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন।

পৃথিবীতে প্রথম মানব হজরত আদম (আ.) ও বিবি হাওয়া আরাফাতেই প্রথম মিলিত হন।

ইসলাম ধর্মমতে, পৃথিবীতে মানবজাতির আগমন সেখান থেকেই। আরাফাত ময়দানে লাখো মুসলমান ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ অর্থাৎ ‘আমি হাজির আমি হাজির’ বলে ধ্বনি দেবেন। হজের সময়ে ওই সময়দানে মানুষের সমাগম ঘটবে।

হজকে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এবারের হজ কভার করার জন্যে অনেক বিদেশী সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানিয়েছে সৌদি তথ্য মন্ত্রণালয়। তাদের জন্যে জেদ্দা, মক্কা ও মদীনায় নির্ধারিত হোটেলের ব্যবস্থা রয়েছে। ওই সব হোটেলে মিডিয়া সেন্টার খোলা হয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে হজ পালনের জন্যেও বিদেশী সাংবাদিকদের জন্যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিদেশী সাংবাদিকদের জেদ্দায় স্বাগত জানানোর ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সব ধরনের সহযোগিতার লক্ষ্যে কাজ করছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

ইতিমধ্যেই হজ পালন ও হজ কভার করার জন্যে বাংলাদেশ, মরক্কো, মিসর, ব্রুনাই, জিবুতি, কমরোসসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সাংবাদিকরা সৌদি আরবে পৌঁছে গেছেন।

নিউজবিডি৭১/এম কে/আগস্ট ১২ , ২০১৮




হাজরে আসওয়াদে চুম্বনরতদের ভিড়

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : প্রতি বছরের ন্যায় এবারো সুরক্ষার জন্য কাবাগৃহ মোটা কালো কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। হাজরে আসওয়াদের সুরক্ষার বিষয়ে উদ্বিগ্ন সৌদি কর্তৃপক্ষ সেখানে সার্বক্ষণিকভাবে রক্ষী মোতায়েন করেছে।

প্রহরীরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখেন হাজরে আসওয়াদ ও এর আশপাশে সমবেত হওয়া অগণিত মুসলিমের দিকে। সেই সাথে হাজরে আসওয়াদে সঠিকভাবে চুমু খেতে হবে কিভাবে তাও দেখিয়ে দেন। যারা হাজরে আসওয়াদে চুমু খেতে চান তাদেরকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার দায়িত্বও তাদের।

হাজরে আসওয়াদে চুম্বনরতদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নিরাপত্তা রক্ষীরা। রক্ষী হজযাত্রীদের উদ্দেশ্যে বারবার বলছেন, আপনারা জটলা পাকিয়ে নিজেদের বিপদ ডেকে নিয়ে আসবেন না। সাবধানতা অবলম্বন করুন।

ধীরস্থীরভাবে হাজারে আসওয়াদে চুম্বন করে চলে যান। কাবাগৃহের দেয়ালে কাপড় বেঁধে সামনের দিকে খানিকটা ঝুঁকে হজযাত্রীদের সতর্ক করছেন এক ব্যক্তি। জানা গেছে, প্রতি ঘণ্টায় সেই দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে পরিবর্তন করা হচ্ছে। পালাক্রমে সেখানে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

কাবাঘরের পূর্ব কোণে লাগানো বেহেশতি পাথর হাজরে আসওয়াদে চুমু খাওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন হজযাত্রীরা। হজ পালনের সময় হাজরে আসওয়াদের (কালো পাথরে) দিকে বিশেষ আগ্রহ থাকে সবার।

হাজরে আসওয়াদ পবিত্র কাবা ঘরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে, মাটি থেকে ১.১০ মিটার উচ্চতায় স্থাপিত। হাজরে আসওয়াদ দৈর্ঘ্যে ২৫ সেন্টিমিটার ও প্রস্থে ১৭ সেন্টিমিটার। এর চারপাশে রুপার বেষ্টনী দেওয়া রয়েছে। সেই বেষ্টনীর ভেতরে মাথা ঢুকিয়ে এ পাথরে চুমো দিতে হয়।

কাবা পুনর্নির্মাণের পর হাজরে আসওয়াদকে আগের জায়গায় কে বসাবেন- এটা নিয়ে কুরাইশদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বেধেছিল। তখন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজের গায়ের চাদর খুলে তাতে হাজরে আসওয়াদ রেখে সব গোত্রপ্রধানকে চাদর ধরতে বলেন, গোত্র প্রধানরা চাদরটি ধরে কাবা চত্বর পর্যন্ত নিয়ে গেলে নবী করিম (সা.) নিজ হাতে তা কাবার দেয়ালে স্থাপন করেন এবং দ্বন্দ্বের পরিসমাপ্তি ঘটান।

তিরমিজি শরীফে আছে- হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে নেমে এসেছে। আর এর রঙ দুধের চেয়ে সাদা ছিলো। অন্য বর্ণনায়, বরফের চেয়েও সাদা ছিলো। পরে আদম সন্তানের পাপ তাকে কালো করে দেয়।’

আগে হাজরে আসওয়াদ একখণ্ড ছিলো। কারামাতা সম্প্রদায় ৩১৯ হিজরিতে পাথরটি উঠিয়ে নিজেদের অঞ্চলে নিয়ে যায়। ওই সময় পাথরটি ভেঙে ৮ টুকরো হয়ে যায়। এ টুকরোগুলোর সবচেয়ে বড়টি খেজুরের মতো। টুকরোগুলো বর্তমানে অন্য আরেকটি পাথরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

যার চারপাশে দেওয়া হয়েছে রুপার বেষ্টনী। তাই রুপার বর্ডারবিশিষ্ট পাথরটি চুম্বন নয় বরং তাতে স্থাপিত হাজরে আসওয়াদের টুকরোগুলো চুম্বন বা স্পর্শ করতে পারলেই শুধু হাজরে আসওয়াদ চুম্বন বা স্পর্শ করা হয়েছে বলে ধরা হয়।

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) হাজরে আসওয়াদ সম্পর্কে বলেন, ‘আল্লাহর কসম, হাজরে আসওয়াদকে আল্লাহ কেয়ামতের দিন পুনরুত্থান করবেন।

তার থাকবে দু’টি চোখ যা দিয়ে সে দেখবে, আর থাকবে একটি জিহ্বা, যা দিয়ে সে কথা বলবে। যে তাকে চুম্বন বা স্পর্শ করবে, তার পক্ষে সে কেয়ামতের দিন সাক্ষী দেবে।’

সাহাবায়ে কেরাম হাজরে আসওয়াদকে স্পর্শ ও চুম্বন করেছেন। উমর ফারুক (রা.) হাজরে আসওয়াদকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, ‘আমি জানি, তুমি একখানা পাথর, তোমার উপকার ও ক্ষতিসাধন করার কোনো ক্ষমতা নেই। যদি আমি রাসূলুল্লাহকে (সা.) তোমার গায়ে চুমু দিতে না দেখতাম, তাহলে আমি কখনো তোমাকে চুমু দিতাম না।’

নিউজবিডি৭১/এম কে/আগস্ট ১১ , ২০১৮




হজে যে ভুলগুলো হয়ে থাকে

নিউজবিডি৭১ডটকম

ঢাকাঃ হজই একমাত্র ইবাদত, যার নিয়ত করার সময়ই আল্লাহ তাআলার কাছে কবুলের দোয়া করা হয়। অন্যান্য ইবাদত থেকে হজের আমলটি যে কঠিন তা এ থেকেই স্পষ্ট। হজের সঠিক মাসআলার জ্ঞান যেমন জরুরি, তেমনি তা আদায়ের কৌশল এবং পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে করণীয় বিষয়গুলোর প্রতি পূর্ণ খেয়াল রাখাও জরুরি। হজে যে সকল ভুল হতে দেখা যায় তা সাধারণত উদাসীনতার কারণেই হয়ে থাকে। তাই সাধারণত ঘটে থাকে এমন কিছু ভুল উল্লেখ করা হচ্ছে।

১. ইহরামের দুই রাকাত নামাজের জন্য ইহরাম বিলম্বিত করা

ইহরাম বাঁধার আগে দুই রাকাত নামাজা আদায় করার নিয়ম আছে। তাই অনেককে দেখা যায়, এই দুই রাকাত নামাজের সুযোগ না পাওয়ার কারণে ইহরাম বিলম্বিত করতে থাকে। এমনকি এ নামাজ পড়তে না পারার কারণে কেউ কেউ ইহরাম ছাড়াই মিকাতের ভেতর পর্যন্ত চলে যায় অথচ ইহরাম ছাড়া মিকাত অতিক্রম করা জায়েজ নয়। তারা যেহেতু ইহরামের আগে দুই রাকাত নামাজ আদায়কে জরুরি মনে করে তাই এমনটি করে থাকে। অথচ ইহরামের আগে নামাজ পড়া সকল মাজহাবেই মুস্তাহাব, জরুরি কিছু নয়। পক্ষান্তরে ইহরাম ছাড়া মিকাত অতিক্রম করা নাজায়েজ। সুতরাং ইহরামের আগে নামাজের সুযোগ পেলে তো তা আদায় করা চাই, কিন্তু সুযোগ না পেলে সে কারণে ইহরাম বাঁধাকে বিলম্ব করবে না।(মুসলিম শরীফ,১/৩৭৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা,হাদিস:১২৯০০)

২. ইহরাম বাঁধার নিয়ম নিয়ে ভুলগুলো

অনেকে মনে করে থাকেন যে, ইহরামের কাপড় পরে নামাজ পড়ার পর নিয়ত করলেই ইহরাম সম্পন্ন হয়ে যায়। এ ধারণা ভুল। এগুলো দ্বারা  ইহরাম সম্পন্ন হয় না। নিয়ত আরবিতে করা হোক বা বাংলায়, স্বশব্দে করা হোক বা মনে মনে করা হোক এর দ্বারা ইহরাম সম্পন্ন হয় না, বরং নিয়তের পর তালবিয়া পড়লে ইহরাম পূর্ণ হয়। অতএব বোঝা গেল, ইহরাম সম্পন্ন হয় দুই বস্তুর সমন্বয়ে, এক. হজ বা উমরার নিয়ত করা। দুই. তালবিয়া পড়া।(তিরমিজি শরীফ ১/১০২)

৩. মক্কাগামীদের জন্য জেদ্দায় ইহরাম বাঁধা

কেউ কেউ আগে থেকেই ইহরাম বাঁধা ঝামেলা মনে করে এবং ভাবে যে, ইহরাম বেঁধে নিলেই তো ইহরামের নিষেধজ্ঞা আরোপিত হয়ে যাবে। বিমান যেহেতু জেদ্দায় অবতরণ করবে তাই জেদ্দায় ইহরাম বাঁধার ইচ্ছায় ইহরামকে বিলম্বিত করে। অথচ মিকাতের বাইরের হাজিদের জন্য ইহরাম ব্যতীত মিকাত অতিক্রম করা জায়েজ নেই।

৪. উপমহাদেশ থেকে গমনকারী হাজিদের জন্য মিকাত হল কারনুল-মানাযিল ও যাতু ইরাক। যা অতিক্রম করেই জেদ্দায় যেতে হয়। যদি কেউ বিনা ইহরামে মিকাত অতিক্রম করে তবে তার জন্য পুনরায় মিকাতে ফিরে এসে ইহরাম বেঁধে যাওয়া জরুরি। যদি তা না করে তবে দম ওয়াজিব হবে। যেহেতু বিমানে থাকা অবস্থায় মিকাতের জায়গা নির্ধারণ করা কঠিন বা ঐ সময় ঘুমিয়ে পড়া, অন্যমনষ্ক থাকা ইত্যাদি হতে পারে। তাই বিমানে চড়ার আগে কিংবা বিমানে উঠেই ইহরাম বেঁধে নেওয়ার কথা বলা হয়। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা,হাদিস:১৫৭০২; ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ১/২২১)

নিউজবিডি৭১/এ এল/আগস্ট ১০ ,২০১৮




কোরবানী পশু কেনার আগে আমাদের কোরবানী সম্পর্কে খুব ভালো ভাবে জানা উচিৎ

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : কোরবানী পশু কেনার আগে- আর কিছু দিন পরেই ঈদ-উল-আযহা। সবাই ঈদের কেনাকাটা করতে অনেক ব্যস্ত। তাও আবার ঈদ-উল-আযহা, আর ঈদ-উল-আযহা মানেই তো কোরবানী। কোরবানী জন্যই তো এই ঈদটা এতোটা আনন্দের একটা দিন। এই দিনটা শুধু আমাদের কাছেই সেরা দিন না মহান আল্লাহ্‌র কাছেও। আব্দুল্লাহ ইবনে কুত (রা.) থেকে বর্ণিত যে, প্রিয় নবী (সাঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ্‌র নিকট দিবস সমূহের মাঝে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দিন হল কোরবানীর দিন, তারপর পরবর্তী তিনদিন।

তাই কেনাকাটার সকল ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের কোরবানী পশু কিনতে হবে। কোরবানী পশু কেনার আগে এবং কোরবানী দেবার আগে আমাদের কোরবানী সম্পর্কে খুব ভালো ভাবে জানা উচিৎ। তাই কোরবানী সম্পর্কে আপনাদের সামান্য ধারনা দেবার জন্য আজকের এই আয়োজন। আশা করি এই লেখাটি সামান্য হলেও আপনাদের কোরবানী সম্পর্কে ধারনা দেবে ।

কখনই আল্লাহর নিকট পৌঁছায় না এগুলোর গোশত ও রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া। এভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহ্‌র শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো এজন্য যে, তিনি তোমাদের পথ-প্রদর্শন করেছে; সুতরাং আপনি সুসংবাদ দিন সৎকর্মপরায়ণদেরকে।

অতএব তোমরা রবের উদ্দেশ্যেই সালাত পড় এবং নহর কর। (কাউসার : ২)

আর কোরবানীর উটকে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন বানিয়েছি। (হজ : ৩৬)

প্রিয় নবী (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও কোরবানী করল না সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে।

কোরবানীর পরিচয় :

কোরবানী আরবী শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে অতিশয় নিকটবর্তী হওয়া। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় কোরবানী বলা হয় ঐ নির্দিষ্ট জন্তুকে যা একমাত্র আল্লাহপাকের নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে নির্দিষ্ট সময়ে একমাত্র আল্লাহর নামে জবেহ করা হয়।

ঐতিহাসিক পটভূমি :

আল্লাহতায়ালা মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে অনেকবার পরীক্ষা করেছেন। সকল পরীক্ষায় তিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন। একরাতে তিনি স্বপ্নে দেখলেন, আল্লাহপাক তাকে ইঙ্গিত করেছেন প্রাণধিক পুত্র হযরত ইসমাঈল (আঃ) কে কোরবানী করতে। বৃদ্ধ বয়সের একমাত্র সন্তান হযরত ইসমাঈল (আঃ)-এর অপেক্ষা অধিকতর প্রিয় আর কি হতে পারে।

তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সিদ্ধান্তে পৌঁছলেন যে, হযরত ইসমাঈল (আঃ) কে কোরবানী করবেন। তখন তিনি হযরত ইসমাঈল (আঃ) বললেন, যা পবিত্র কোরআনে এভাবে বর্ণিত হয়েছেঃ “হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, তোমাকে আমি জবাই করছি। এখন তোমার অভিমত কি?” সে (হযরত ইসমাঈল (আঃ)) বলল, “হে পিতা! আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তাই করুন। আল্লাহ চাইলেতো আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।” (সূরা সফফাত আয়াত-১০২)।

ছেলের সাহসিকতাপূর্ণ জবাব পেয়ে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) অত্যন্ত খুশি হলেন। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ছেলের গলায় ছুরি চালান। তখন হযরত জিব্রাইল (আঃ) আল্লাহর নির্দেশে বেহেশত হতে একটা দুম্বা নিয়ে রওয়ানা হলেন। তার মনে সংশয় ছিল পৃথিবীতে পদার্পণের পূর্বেই হযরত ইব্রাহীম (আঃ) যবেহ কাজ সম্পূর্ণ করে ফেলবেন।

তাই জিবরাইল (আঃ) আকাশ হতে উচ্চৈস্বরে ধ্বনি দিতে থাকেন “আল্লাহু আকবার”। আওয়াজ শুনে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলে উঠলেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার”। পিতার মুখে তাওহীদের বাণী শুনতে পেয়ে হযরত ইসমাঈল (আঃ) বলে উঠলেন আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিলহামদ”।

আল্লাহর প্রিয় দুই নবী এবং হযরত জিবরাইল (আঃ)-এর কালামগুলো আল্লাহর দরবারে এতই পছন্দনীয় হলো যে, কিয়ামত পর্যন্ত এই কথাগুলো ৯ই জিলহজ্ব ফজর থেকে আসর পর্যন্ত বিশেষ করে ঈদুল আযহার দিনে বিশ্ব মুসলিমের কণ্ঠে উচ্চারিত হতে থাকবে।

আল্লাহপাকের অসীম কুদরতে হযরত ইসমাঈল (আঃ)-এর পরিবর্তে কোরবানী হয়ে গেল একটি বেহেস্তী দুম্বা। কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন হযরত ইব্রাহীম (আঃ)। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কালামে ঘোষণা করেনঃ “তখন আমি তাকে ডেকে বললাম, হে ইব্রাহীম! তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি।

নিশ্চয় এটা একটা সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তার (ইসমাঈল (আঃ)-এর পরিবর্তে দিলাম জবেহ করার জন্য এক মহান জন্তু।” (সূরা সাফফাত আয়াত-১০৪-১০৭)। বর্ণিত আছে যে, হযরত ইব্রাহীম (আঃ) উপরোক্ত গায়েবী আওয়াজ শুনে হযরত জিবরাইল (আঃ)কে একটি বেহেস্তী দুম্বাসহ দেখতে পান।

এ জান্নাতী দুম্বা হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে দেয়া হলে তিনি আল্লাহর নির্দেশে পুত্রের পরিবর্তে সেটি কোরবানী করলেন। আর তখন থেকেই শুরু হলো কোরবানীর মহান বিস্ময়কর ইতিহাস। যা অন্ততকাল ধরে সুন্নতে ইব্রাহীম হিসেবে বিশ্বের সকল মুসলমানের কাছে আজও স্মরণীয় হয়ে আছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে।

কোরবানীর তাৎপর্য ও ফজিলত :

কোরবানীর তাৎপর্য ও ফজিলত সম্পর্কে বহু হাদীস পাওয়া যায়। হযরত যায়েদ ইবনে আরকাম (রাঃ) বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা কতিপয় সাহাবী প্রিয় নবী (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল!, কোরবানী কি? প্রিয় নবী (সাঃ) বললেন, তোমাদের (জাতির) পিতা হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর সুন্নত।

পুনরায় প্রশ্ন করা হলো, এতে আমাদের জন্য কি আছে? রাসূলে পাক (সাঃ) বললেন, কোরবানী গরু ও বকরীর প্রতিটি পশমে নেকী রয়েছে। তখন সাহাবায়ে কেরাম আবার জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে ভেড়া ও দুম্বার ব্যাপারে আপনার অভিমত কি? তিনি উত্তরে বললেন, ভেড়া ও দুম্বার পশমেও ছওয়াব আছে। (আহমাদ, ইবনে মাযাহ, মিশকাত-১২৯)।

অন্য এক হাদীসে বর্ণিত আছে যে, কোরবানীর পশু পুলসীরাতের উপর তোমাদের বাহন হবে। তাই তোমরা মোটা তাজা পশু কোরবানী কর।

তারগীব নামক গ্রন্থে উল্লেখ আছে একবার হযরত নবী করিম (সাঃ) স্বীয় কন্যা ফাতেমাকে (রাঃ) ডেকে বললেন “হে ফাতেমা! তুমি তোমার কোরবানীর জন্তুর নিকট যাও কেন না কোরবানীর জন্তু জবেহ করার পর রক্তের ফোঁটা মাটিতে পড়ার সাথে সাথে তোমার যাবতীয় গোনাহ মাফ হয়ে যাবে।” হযরত ফাতেমা (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! এটা কি শুধু আমার জন্য? প্রিয় নবী (সাঃ) জবাব দিলেন “এটা সকল মুসলমানের জন্য”।

হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রিয় নবী (সাঃ) এরশাদ করেছেন, আদম সন্তান কোরবানীর দিন যেসব নেকীর কাজ করে থাকে তন্মধ্যে আল্লাহতায়ালার নিকট সবচেয়ে পছন্দীয় আমল হলো কোরবানী করা। কেয়ামতের দিন কোরবানীর পশু তার শিং, পশম ও খুরসহ উপস্থিত হবে এবং কোরবানীর রক্ত জমিনে পড়ার পূর্বেই তা আল্লাহর নিকট কবুল হয়ে যায়। অতএব, তোমরা এ পুরস্কারে আন্তরিকভাবে খুশী হও। (তিরমিযী, ইবনে মাযাহ্‌, মিশকাত-পৃ-১২৮)।

কোরবানীর পশু :

উঠ, গরু, বকরী, মহিষ, ছাগল, ভেরা, দুম্বা ছাড়া কুরবানী শুদ্ধ নয়। এগুলোকে কোরআনের ভাষায় বলা হয় “বাহীমাতুল আনআম”।

শরিয়তের দৃস্টিতে কোরবানীর পশুর বয়সের দিকটা খেয়াল রাখা জরুরী । উট পাঁচ বছরের, গরু বা মহিষ দু বছরের এবং , ছাগল, ভেড়া, দুম্বা এক বছর বা এর বেশি।

আনাস রাদিআল্লাহু আনহুর হাদীসে রয়েছে, যা বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। তারা বলেন :

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তরতাজা ও শিং ওয়ালা দুটি মেষ নিজ হাতে যবেহ করেছেন এবং তিনি তাতে বিসমিল্লাহ ও তাকবীর বলেছেন।

হযরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, প্রিয় নবী (সাঃ) আমাদেরকে নির্দেশ করেছেন যে, আমরা কোরবানীর পশুর চোখ ও কান ভালভাবে পরীক্ষা করে নেই এবং এমন পশু কোরবানী না করি যার কানে ছিদ্র আছে (তিরমিযী শরীফ)।

কোরবানী শুদ্ধ হওয়ার জন্য ত্রুটি মুক্ত পশু হওয়া জরুরী :

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোরবানীর পশুতে চারটি দোষ সহনীয় নয় : স্পষ্ট কানা, স্পষ্ট অসুস্থ্য, হাড্ডিসার ও ল্যাংড়া পশু। (তিরমিযী : কিতাবুল হজ : ৩৪)

যবেহ করার সময় :ঈদের সালাতের পর কোরবানীর সময় শুরু হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

যে সালাতের পূর্বে যবেহ করল, সে নিজের জন্য যবেহ করল। আর যে খুতবা ও ঈদের সালাতের পর কোরবানী করল, সে তার কোরবানী ও সুন্নত পূর্ণ করল। (বুখারী ও মুসলিম)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

যে ব্যক্তি ঈদের আগে যবেহ করল, তার উচিত তার জায়গায় আরেকটি কোরবানী করা। আর যে এখনো কোরবানী করেনি, তার উচিত এখন কোরবানী করা। (বুখারী ও মুসলিম)

যে সুন্দর করে যবেহ করার ক্ষমতা রাখে তার উচিত নিজ হাতে কোরবানী করা। কোরবানীর সময় বলবে :

কোরবানীকারী নিজের নাম বলবে অথবা যার পক্ষ থেকে কোরবানী করা হচ্ছে তার নাম বলবে । যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার; হে আল্লাহ, এটা আমার পক্ষ থেকে এবং আমার উম্মতের মধ্যে যারা কোরবানী করেনি, তাদের পক্ষ থেকে। (আবূদাউদ ও তিরমিযী)

কোরবানীর গোস্ত বণ্টন করা :

কোরবানী পেশকারী ব্যক্তির জন্য সুন্নত হচ্ছে কোরবানীর গোস্ত নিজে খাওয়া, আত্মীয় ও প্র্রতিবেশীদের হাদিয়া দেয়া এবং গরীবদের সদকা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন :

অতঃপর তোমরা তা থেকে খাও এবং দুস্থ-দরিদ্রকে দাও। (হজ : ২৮)

তিনি আরো বলেন : তখন তা থেকে খাও। যে অভাবী, মানুষের কাছে হাত পাতে না এবং যে অভাবী চেয়ে বেড়ায়-তাদেরকে খেতে দাও। (হজ : ৩৬)

উলামায়ে কেরাম বলেছেন, কোরবানীর গোস্ত তিনভাগে ভাগ করে এক তৃতীয়াংশ নিজের জন্য রাখা। এক তৃতীয়াংশ দরিদ্রদের দান করা। এক তৃতীয়াংশ উপহার হিসেবে বন্ধু-বান্ধব,আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের দান করা মোস্তাহাব।

পারিশ্রমিক হিসেবে এখান থেকে কসাই বা মজদুরদের কোন অংশ প্রদান করা যাবে না।

কোরবানীর গোস্ত ভক্ষণ করা :

ঈদুল আজহার দিন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খানা খেতেন না, যতক্ষণ না তিনি ঈদগাহ থেকে ফিরে আসতেন, অতঃপর তিনি কোরবানী গোস্ত থেকে ভক্ষণ করতেন।

কোরবানীর গোশত যতদিন ইচ্ছে ততদিন সংরক্ষণ করে খাওয়া যাবে। কোরবানীর গোশত তিন দিনের বেশি সংরক্ষণ করা যাবে না; বলে যে হাদিস রয়েছে তাঁর হুকুম রহিত হয়ে গেছে। তাই যতদিন ইচ্ছা ততদিন সংরক্ষণ করে রাখা যায় ।

কুরবানী পেশকারী যা থেকে বিরত থাকবে :

যখন কেউ কোরবানী পেশ করার ইচ্ছা করে আর জিলহজ মাস প্রবেশ করে, তার জন্য চুল, নখ অথবা চামড়ার কোন অংশ কাটা হারাম, যতক্ষণ না কুরবানী করে। উম্মে সালমার হাদীসে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

যখন জিলহজ মাসের দশ দিন প্রবেশ করে এবং তোমাদের কেউ কোরবানী করার ইচ্ছা করে, সে তখন থেকে চুল ও নখ কর্তন থেকে বিরত থাকবে। ইতিপূর্বে যা কর্তন করেছে, সে জন্য তার কোন গুনা হবে না।

কোরবানী দাতার পরিবারের লোক জনের নখ, চুল ইত্যাদি কাঁটাতে কোন সমস্যা নেই।

কোন কোরবানী দাতা যদি তার চুল, নখ অথবা চামড়ার কোন অংশ কেঁটে ফেলে, তার জন্য উচিত তাওবা করা, পুনরাবৃত্তি না করা, তবে এ জন্য কোন কাফ্ফারা নেই এবং এ জন্য কোরবানীতে কোন সমস্যা হবে না। আর যদি ভুলে, অথবা না জানার কারণে অথবা অনিচ্ছাসত্বে কোন চুল পড়ে যায়, তার কোন গুনা হবে না।

আর যদি সে কোন কারণে তা করতে বাধ্য হয়, তাও তার জন্য জায়েয, এ জন্য তার কোন কিছু প্রদান করতে হবে না। যেমন নখ ভেঙ্গে গেল, ভাঙ্গা নখ তাকে কষ্ট দিচ্ছে, সে তা কর্তন করতে পারবে, তদ্রূপ কারো চুল বেশী লম্বা হয়ে চোখের উপর চলে আসছে, সেও চুল কাঁটতে পারবে অথবা কোন চিকিৎসার জন্যও চুল ফেলতে পারবে।

আল্লাহ্‌ তুমি আমাদের সকলের কোরবানী কবুল করো (আমীন)।

নিউজবিডি৭১/এম কে/আগস্ট ৬ , ২০১৮




বদলি হজ কি ও কেন?

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : হজ ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের একটি। এটি মুসলিম উম্মাহর অন্যতম ইবাদতও বটে। তবে এ ইবাদতের জন্য রয়েছে বিশেষ দু’টি শর্ত। একটি হলো সম্পদশালী হওয়া আর অন্যটি হলো শারীরিকভাবে সক্ষম হওয়া। কিন্তু বদলি হজের কারণ কি? এ হজ আদায় করবে করা? এ সব প্রশ্নের রয়েছে সুস্পষ্ট সমাধান-

বদলি হজ

কোনো ব্যক্তির হজ ফরজ হওয়ার পর তা আদায় করার আগেই মারা যায় কিংবা স্বাস্থ্যগত কারণে হজ সম্পাদনে অক্ষম হন তবে উভয় অবস্থায় অন্যের দ্বারা হজ করানো যায়। আর অন্যের দ্বারা হজ করানোকেই বদলি হজ বলে।

হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত জুহায়না গোত্রের এক নারী প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, আমার মা হজের মানত করেছিলেন, কিন্তু তা আদায় করার আগেই তিনি মারা গেছেন। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ করবো?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘হ্যাঁ’, তার পক্ষ থেকে তুমি হজ করবে। যদি তার কোনো ঋণ থাকে তবে কি তুমি তার ঋণ পরিশোধ করতে না? সুতরাং আল্লাহর ঋণ পরিশোধ কর। কেননা আল্লাহ তাআলাই পাওনা পাওয়ার সর্বাধিক হকদার।’ (বুখারি)

প্রিয়নবি যেখানে মান্নতের হজ আদায়ের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন সেখানে ফরজ হজের ব্যাপারটিতো আরো গুরুত্বপূর্ণ।

নিউজবিডি৭১/আ/আগস্ট ২ ,২০১৮




কাবা শরীফের গিলাফ ৩ মিটার উঁচু করে দেয়া হলো (ভিডিও)

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : কাবা শরীফের গিলাফ নিচের দিক থেকে ৩মিটার পর্যন্ত উঁচু করে দেয়া হয়েছে । এই পদ্ধতিতে প্রতিবছর পবিত্র হজ মৌসুমে কাবার গিলাফ তুলে দেয়া হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হজপালন করতে আসা মুসুল্লিদের যাতে কোনপ্রকার সমস্যা না হয়- এ জন্য কাবা শরিফের গিলাফ তুলে দেয়া হয়। তাছাড়া অতিআবেগে কেউ যেন কাবার গিলাফের অংশ কেটে নেয়ার চেষ্টা না করে সেজন্য এই ব্যবস্থা নেয় সৌদি হজ কর্তৃপক্ষ।

নিউজবিডি৭১/এম কে/আগস্ট ১ , ২০১৮