ইসলামের বিধান অনুযায়ী মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখলে জরুরীভাবে যা করা উচিৎ

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : ছাড়া কেউ বলতে পারে না। তবে অনেকেই ঘুমের মধ্যে মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্ন দেখেন। ধরে নেয়া হয় স্বপ্নের মাঝে মৃত ব্যক্তিকে যে অবস্থাতে দেখা যায়, ওটাই তার প্রকৃত অবস্থা।

অর্থ্যাৎ যদি কেউ মৃত ব্যক্তিকে ভাল পোশাক পরা অবস্থায় বা সুস্বাস্থের অধিকারী দেখে, তাহলে বুঝতে হবে সে ভাল অবস্থায় আছে। আর যদি জীর্ণ, শীর্ণ স্বাস্থ্য বা খারাপ পোশাকে দেখে তাহলে বুঝতে হবে, ভাল নেই। তার জন্য তখন বেশি করে মাগফিরাত কামনা ও দোআ-প্রার্থনা করতে হবে।ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, বিদ্রোহীরা যখন উসমান (রা)- এর বাসভবন ঘেরাও করেছিল, তখন উসমান (রা) বলেন, আমি গত রাতে স্বপ্ন দেখলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, উসমান আমাদের সাথে তুমি ইফতার করবে। আর ঐ দিনই উসমান (রা) শহীদ হলেন। (আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া : শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস সাদহান)

আনাস ইবনে মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, আবু মূসা আশ আশআরী (রা) বললেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমি একটি পাহাড়ের কাছে গেলাম। দেখলাম, পাহাড়ের উপরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রয়েছেন ও পাশে আবু বকর (রা)। আবু বকর (রা) তার হাত দিয়ে ওমর (রা) এর দিকে ইশারা করছেন। আমি আবু মূসা (রা) এ স্বপ্নের কথা শুনে বললাম, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন। আল্লাহর শপথ! ওমর (রা) তো মারা যাবেন! আচ্ছা আপনি কি বিষয়টি ওমর (রা) লিখে জানাবেন?আবু মূসা (রা) বললেন, আমি ওমর (রা) তার জীবদ্দশায তার নিজের মৃত্যু সংবাদ জানাব, এটা কি করে হয়?

এর কয়েকদিন পরই স্বপ্নটা সত্যে পরিণত হল। ওমর (রা) শহীদ হয়ে গেলেন। কারণ, মৃত্যু পরবর্তী সত্য জগত থেকে যা আসে, তা মিথ্যা হতে পারে না। সেখানে অন্য কোনো ব্যাখ্যা দেয়ার সুযোগ নেই। (আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া : শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস সাদহান)

তাই মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখলে সর্বাবস্থায় জরুরিভাবে তাদের জন্য দো‘আ ও ছাদাক্বা করা উচিত। মানুষের স্বপ্ন তিন ধরনের হয়ে থাকে (ক) ভাল স্বপ্ন- যা আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ বহন করে (খ) শয়তানের পক্ষ থেকে- যা মানুষকে দুশ্চিন্তায় ফেলে (গ) নিজের খেয়াল ও কল্পনা- যা স্বপ্নে দেখা যায় (মুসলিম হা/২২৬৩)।স্বপ্নে ভাল কিছু দেখলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে। চাইলে অন্যকেও সে বিষয়ে অবহিত করবে। আর খারাপ কিছু দেখলে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইবে, বাম দিকে তিনবার আঊযুবিল্লাহ বলে থুক মারবে এবং পার্শ্ব পরিবর্তন করবে। কাউকে সে বিষয়ে বলবে না (বুখারী হা/৭০৪৫)

নিউজবিডি৭১/আ/১২ জুন ,২০১৮




২০৭০ সালে শীর্ষ ধর্ম হবে ইসলাম

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : বিশ্ব জনসংখ্যার ৩৫% ভাগের বেশি মানুষ হবে মুসলিম। মার্কিন গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষণায় উঠে এসে এমন তথ্য। ইউরোপ জুড়ে বাড়ছে মুসলিম বিদ্বেষ। সম্প্রতি জঙ্গিগোষ্ঠি আইএস-এর দৌড়াত্ব ও আদিবাসী ঢলকে কেন্দ্র করে সারা বিশ্বের মুসলিমরা কোনঠাসা। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষণায় সাধারণ জরিপে উঠে এলো ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের প্রবণতা। সেই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৭০ সাল নাগাদ শীর্ষ ধর্মের স্থানে অবস্থান করবে ধর্মটি।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের দাবি ২০১০ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যার দিক থেকে শীর্ষ ছিলো ইন্দোনেশিয়া। কিন্তু ২০৫০ সালে সেই জায়াগা দখলে নেবে ভারত। সেই সময় দেশটির মুসলিম জনসংখ্যা দাঁড়াবে ৩১ কোটি ১০ লাখ। একই সময় ব্রিটেন এবং ফ্রান্সে কমবে ১৫০% খ্রিস্টান। ইউরোপের মোট জনসংখ্যার ১০% হবে মুসলিম। ইউরোপে ২০৫০ সালে প্রতি ৫ জনের এক জন হবে মুসলিম। আর সাব-সাহারা আফ্রিকায় প্রতি ১০ জনে ৪ হবে মুসলিম।

ব্রিটেনসহ পুরো ইউরোপেই ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে। নতুন মুসলিমদের বেশিরভাগই হচ্ছে তরুণ। এদের বয়স ২৫-৩০ এর মধ্যে। তাই ভবিষ্যতে মুসলিমদের সংখ্যা বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। যুক্তরাষ্ট্রের একজন ধর্মান্তরিত মুসলিম রবার্ট ম্যাকগাও বলেন, আমেরিকায় ধর্মীয় নীতি বাক্য প্রচারে রবিবারকে গুরুত্ব দেওয় হয়। কিন্তু মুসলিমদের কাছে প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজই গুরুত্বপূর্ণ। মসজিদের সবাই একই পরিবারের মত। আমাকে যে তথ্যটি মুসলিম হওয়ার ক্ষেত্রে বেশি উৎসাহিত করেছে সেটা হচ্ছে মুসলিমরা যিশুকেই সকল ক্ষমতার উৎসভাবে। কিন্তু ইসলাম ধর্মে তিনি স্রেফ একজন নবী।

গবেষণা বলছে ২০১০ সালে মুসলিম ও খ্রিস্টনাদের জনসংখ্যার যে অবস্থান সেটা ২০৫০ সালে চলে আসবে প্রায় সমপর্যায়ে। আর ২০৭০ সালে খ্রিস্টানদের টপকে যাবেন মুসলিমরা। পিউ রিচার্স সেন্টারের দাবি এই সময়ের মধ্যে চার কোটি মানুষ খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করবে ঠিকই কিন্তু খ্রিস্টান ধর্ম থেকে ধর্মান্তরিত হবে সাড়ে ১০ কোটি। যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশ্লেষক ডেডিড উড বলেন, পিউ রিচার্স সেন্টারের গবেষণায় বলা হয়েছে মুসলিমদের ধারাবাহিক বৃদ্ধি পুরোপুরি সংখ্যা তাত্ত্বিক। কারণ পারিবারিক বা ধর্মীয় ধারা মেনেই মুসলিমদের সংখ্যা বেশি হয়। আর একটি বিষয় হলো মুসলিমরা কখনোই ধর্ম ত্যাগ করেন না। গবেষণায় আরো বলা হয়েছে ২০৭০ সাল নাগাদ বিশ্বের জনসংখ্যাও বাড়বে প্রায় ৩৫%।

নিউজবিডি৭১/আর/ ১২ জুন , ২০১৮




দুই ধর্মের মানুষের বিয়ের পদ্ধতি !

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অটুট রেখে সংসার করছেন অনেক দম্পতি। বেড়ে উঠছে নতুন একটি প্রজন্ম, যাদের উত্তরাধিকার সূত্রে ধর্মীয় কোন পরিচয় নেই। এটাকে সমাজের অনেক বড় পরিবর্তন বলছেন সমাজ বিজ্ঞানীরা ধর্ম পরিবর্তন না করেই দু’টি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে বিয়ের ঘটনা বাড়ছে। একই ধর্মের দু’জন বিয়ে করে ঘর সংসার করতে হবে এমন ধারণা থেকে বের হয়ে আসছেন অনেকেই। দুই ধর্মের দু’জন তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ঠিক রেখে বিয়ে করছেন। আচার-আচরণ পালন করছেন যে যার বিশ্বাস মত। এভাবে দেশের আইন অনুযায়ী বিয়ে করে সংসার করছেন অসংখ্য দম্পতি।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের জুটি এখন অনেক। আর এই বিয়ের ফলে বেড়ে উঠছে নতুন একটি প্রজন্ম। যারা উত্তরাধিকার সূত্রে কোন ধর্মীয় পরিচয় বহন করছেন না। আধুনিক সমাজে সেটা প্রয়োজনও মনে করছেন না অনেকে। এই উত্তরাধিকারীদের মধ্যে আবার কেউ কেউ নিজেই একটি ধর্ম বেছে নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ধর্ম বিশ্বাস থেকে সরে আসছেন। তবে রাষ্ট্র আইন করে এমন বিয়ের ব্যবস্থা করলেও এইসব পরিবারের সম্পত্তি বন্টনের জন্য কোন আইন নেই। বাংলাদেশে ইসলাম, হিন্দু ও খৃষ্টান ধর্মীয় আইনে সম্পত্তি ভাগ হয়। কিন্তু এই পরিবারের সম্পত্তি যদি বাবা-মা ভাগ করে দিয়ে না যান বা উইল না করেন, তবে ভাগ করার কোন নিয়ম নেই।

বাংলাদেশের বিশেষ বিবাহ আইন ১৮৭২ (সংশোধিত ২০০৭) অনুযায়ী এই বিয়ে হচ্ছে। এই আইন অনুযায়ী, একজন মুসলমান, হিন্দু, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ, শিখ, ইহুদি বা অন্য যে কোন ধর্মের যে কেউ যে কারো সাথে বিয়ে করতে পারবে। ধর্মের পরিবর্তন করা প্রয়োজন হবে না। অথবা দু’জনই ধর্মীয় বিশ্বাস বাদ দিয়ে বিয়ে করতে পারবে। অথবা একজন অন্যজনের ধর্ম মেনে নিতে পারবে। তবে নাবালকের সাথে কেউ বিয়ে করতে পারবে না। আইন অনুযায়ী এই বিয়ে রেজিষ্ট্রি করার জন্য সরকার একজনকে নিয়োগ দিয়েছে। বাংলাদেশে একজনই এই বিয়ে পড়িয়ে থাকেন।

প্রায় প্রতিমাসেই এই বিয়ে হচ্ছে। গত কয়েক বছরে এই বিয়ের হার বেড়েছে। ১৯৮৩ সাল থেকে এপর্যন্ত এক হিসেবে দেখা গেছে, প্রায় ৫০০ দম্পত্তি কোন ধর্ম পরিবর্তন না করেই এমন বিয়ে করেছেন। এদের মধ্যে ছেলে হিন্দু, মেয়ে মুসলমান। কিম্বা ছেলে মুসলমান, মেয়ে হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী। অনেকে আছেন আবেগে বিয়ে করছেন। অনেকে জেনে বুঝে গন্ডি ভাঙ্গার তাগিদে। অনেক পরিবার আছে এই বিয়ে মেনে নিচ্ছেন, আবার অনেক পরিবার আছে যারা মানছেন না।

প্রসঙ্গত, সরকারিভাবে এমন বিয়ে পড়ানোর একমাত্র স্থান পুরানো ঢাকার পাটুয়াটুলি। প্রাণেশ সমাদ্দার এই বিয়ের রেজিস্ট্রার। একই সাথে তিনি রাজধানীর পাটুয়াটুলির শরত্চন্দ্র ব্রাহ্ম প্রচারক নিবাসের আচার্য ও ট্রাস্টি। সেখানেই থাকেন তিনি। শুধু ঢাকা নয় দেশের অন্যান্য জেলা থেকেও ছেলে মেয়েরা আসে বিয়ে করতে। বিশেষ করে যারা দেশের বাইরে যেতে চায় তাদের আসতেই হয়। কারণ কোর্টে বিয়ে করলে বিয়ে রেজিস্ট্রির কোন প্রমাণপত্র পাওয়া যায় না। অবশ্য কোর্টে দুই ধর্মের দু’জন বিয়ে করতে পারে না। অনেক সময় যারা জানে না তারা প্রথমে কোর্টে যায়। আর তখন আইনজীবীরা এখানে নিয়ে আসে। এখানে বিয়ে হলেও ডিভোর্স করানো যায় না। ওটা করতে হয় কোর্টে।

আইন মতে, বিয়ের ১৪ দিন আগে রেজিস্ট্রারের কাছে নোটিস দিতে হয়। এরমধ্যে কারো কোন আপত্তি থাকলে সে তা জানাবে। তারপর তিনজন সাক্ষী আর পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে হাজির হতে হবে। নির্দিষ্ট ছকে ছেলে-মেয়ে দু’জন স্বাক্ষর করবে আর স্বাক্ষর করবে তিনজন সাক্ষী। এতেই হয়ে যাবে দু’জনের বিয়ে। সামাজিক আর কোন আনুষ্ঠানিকতা এখানে নেই। তবে বিয়ের পরে কেউ কেউ মিস্টি নিয়ে আসেন। উপস্থিত সবাই মিষ্টি খেয়ে নব দম্পতির মঙ্গল কামনা করেন।

আরও উল্লেখ্য, লেখক কিন্তু এই রকম বিয়ের একদম পক্ষপাতী নন। শুধু আইন টা তুলে ধরতে এই প্রয়াস।

নিউজবিডি৭১/আর/ ১২ জুন , ২০১৮




মার্কিন ডাক্তার মুসলিম রোগী দেখে ইসলাম গ্রহণ করলেন!

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : সম্প্রতি মার্কিন শিশু ও নারী বিশেষজ্ঞ ডা. ইউ এস অরিভিয়া ইসলাম গ্রহণ করেন। নিজের ইসলাম গ্রহণ প্রসঙ্গে ডা. অরিভিয়া বলেন, আমি আমেরিকার একটি হাসপাতালে নারী ও শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করি। একদিন হাসপাতালে এক আরব মুসলিম নারী এলেন বাচ্চা প্রসবের জন্য।

সম্প্রতি মার্কিন শিশু ও নারী বিশেষজ্ঞ ডা. ইউ এস অরিভিয়া ইসলাম গ্রহণ করেন। নিজের ইসলাম গ্রহণ প্রসঙ্গে ডা. অরিভিয়া বলেন, আমি আমেরিকার একটি হাসপাতালে নারী ও শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করি। একদিন হাসপাতালে এক আরব মুসলিম নারী এলেন বাচ্চা প্রসবের জন্য। প্রসবের পূর্ব মুহূর্তে তিনি ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন।

প্রসব মুহূর্ত ঘনিয়ে তাকে জানালাম, আমি বাসায় যাচ্ছি, আর আপনার বাচ্চা প্রসবের দায়িত্ব অর্পণ করে যাচ্ছি অন্য এক ডাক্তারের হাতে। মহিলা হঠাৎ কাঁদতে লাগলেন, দ্বিধা ও শঙ্কায় চিৎকার জুড়ে দিলেন, ‘না না, আমি কোনো পুরুষ ডাক্তারের সাহায্য চাই না।

আমি তার কথা শুনে অবাক হয়ে গেলাম। এমতাবস্থায় তার স্বামী আমাকে জানালেন, সে চাইছে তার কাছে যেন কোনো পুরুষের আগমন না ঘটে। কারণ সে সাবালক হওয়া থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত আপন বাপ, ভাই ও মামা প্রভৃতি মাহরাম পুরুষ ছাড়া অন্য কেউ তার চেহারা দেখে নি।

ডাক্তার অরিভিয়া বলেন বিনয়ের সঙ্গে তার স্বামী আমাকে জানালেন, সে চাচ্ছে তার কাছে যেন কোনো পর-পুরুষ না আসে। কারণ, প্রাপ্ত বয়সের পর থেকে আজ পর্যন্ত বাপ, ভাই ও মামা প্রমুখ আপনজন ছাড়া কোনো পর-পুরুষ তাকে দেখেনি।

অরিভিয়া বলেন আমি অবাক হয়ে হেসে উঠলাম! চরম বিস্মিয়ের সঙ্গে বললাম, আমি এমন একজন নারী, আমেরিকান কতো পুরুষ আমার চেহারা দেখেছে। গুণে শেষ করতে পারবো না। আরব্য নারীর আবেদনের ব্যাকুলতায় আমি সাড়া দিলাম। বাসায় না গিয়ে তার বাচ্চা প্রসবের অপেক্ষায় থাকলাম। তার কোল আলোকিত হলো। মায়ের কোলে হাসলো শিশু।

পরদিন তার সন্তান জন্মের আনন্দে অংশ নেই। চিকিৎসা বিজ্ঞান মতে উপদেশ দিই, প্রসবের পর চল্লিশদিন দাম্পত্যমিলন থেকে বিরত থাকবেন। আমেরিকান অনেক নারী প্রসবের পরও দাম্পত্যমিলন অব্যহত রাখার কারণে অভ্যান্তরীণ সংক্রমণ এবং সন্তান প্রসবঘটিত জ্বরে ভোগেন। সুতরাং চল্লিশ দিনের আগে এসব কিছু নয়। এ ৪০ দিন পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করবেন।

ভারী কাজ থেকে দূরে থাকাবেন। আমার দীর্ঘদিনের গবেষণা মাটি করে দিয়ে আরব্য নারী বললেন, আমাদের ইসলাম ধর্মমতেও প্রসব উত্তর চল্লিশ দিন দাম্পত্যমিলন নিষিদ্ধ করেছে। পবিত্র হওয়া পর্যন্ত নারীদের নামাজ রোজা ও কোরআন পাঠেও বিধান নেই। মার্কিন এই ডাক্তার বলেন,

প্রসূতির কথা শুনে আমি থমকে গেলাম! বিস্ময় বিমূঢ় হলাম! আমাদের এত্তো গবেষণা আর এত্তো পরিশ্রমের পর তো কেবল আমরা ইসলামের শিক্ষা পর্যন্তই পৌঁছলাম! আরেকদিন এক শিশু বিশেষজ্ঞ এলেন নবজাতককে দেখতে।

তিনি শিশুর মাকে বললেন, বাচ্চাকে ডান কাতে শোয়াবেন! ডান কাত শিশুর সাস্থ্যের জন্য উপকারী! শিশুর হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক থাকে! আরেকদিন এক শিশু বিশেষজ্ঞ এলেন নবজাতককে দেখতে। তিনি শিশুর মায়ের উদ্দেশে বললেন, বাচ্চাকে যদি ডান কাতে শোয়ান তবে তা শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এতে করে তার হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক থাকে।

শিশুর বাবা তখন বলে উঠলেন, আমরা সবাই সবসময় এ নিয়ম মেনে চলি। আমরা সর্বদা ডান পাশ হয়ে ঘুমাই। এটা আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত। এ কথা শুনে আমি বিস্ময়ে থ হয়ে গেলাম!!

এই জ্ঞান লাভ করতে আমাদের জীবনটাই পার করলাম আর সে কিনা তার ধর্ম থেকেই এ শিক্ষা পেয়ে এসেছে! ফলে আমি এ ধর্ম সম্পর্কে জানার সিদ্ধান্ত নিলাম। ইসলাম সম্পর্কে পড়াশুনার জন্য আমি এক মাসের ছুটি নিলাম এবং আমেরিকার অন্য শহরে চলে গেলাম,

যেখানে একটি ইসলামিক সেন্টার রয়েছে। সেখানে আমি অধিকাংশ সময় নানা জিজ্ঞাসা আর প্রশ্নোত্তরের মধ্যে কাটালাম। অনেক আরব ও আমেরিকান মুসলমানের সঙ্গে উঠাবসা করলাম। আলহামদুলিল্লাহ এর কয়েক মাসের মাথায় আমি ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিলাম।

প্রসবের পূর্ব মুহূর্তে তিনি ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন। প্রসব মুহূর্ত ঘনিয়ে তাকে জানালাম, আমি বাসায় যাচ্ছি, আর আপনার বাচ্চা প্রসবের দায়িত্ব অর্পণ করে যাচ্ছি অন্য এক ডাক্তারের হাতে। মহিলা হঠাৎ কাঁদতে লাগলেন, দ্বিধা ও শঙ্কায় চিৎকার জুড়ে দিলেন, ‘না না, আমি কোনো পুরুষ ডাক্তারের সাহায্য চাই না।

আমি তার কথা শুনে অবাক হয়ে গেলাম। এমতাবস্থায় তার স্বামী আমাকে জানালেন, সে চাইছে তার কাছে যেন কোনো পুরুষের আগমন না ঘটে। কারণ সে সাবালক হওয়া থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত আপন বাপ, ভাই ও মামা প্রভৃতি মাহরাম পুরুষ ছাড়া অন্য কেউ তার চেহারা দেখে নি।

সম্প্রতি মার্কিন শিশু ও নারী বিশেষজ্ঞ ডা. ইউ এস অরিভিয়া ইসলাম গ্রহণ করেন। নিজের ইসলাম গ্রহণ প্রসঙ্গে ডা. অরিভিয়া বলেন, আমি আমেরিকার একটি হাসপাতালে নারী ও শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করি। একদিন হাসপাতালে এক আরব মুসলিম নারী এলেন বাচ্চা প্রসবের জন্য। প্রসবের পূর্ব মুহূর্তে তিনি ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন।

প্রসব মুহূর্ত ঘনিয়ে তাকে জানালাম, আমি বাসায় যাচ্ছি, আর আপনার বাচ্চা প্রসবের দায়িত্ব অর্পণ করে যাচ্ছি অন্য এক ডাক্তারের হাতে। মহিলা হঠাৎ কাঁদতে লাগলেন, দ্বিধা ও শঙ্কায় চিৎকার জুড়ে দিলেন, ‘না না, আমি কোনো পুরুষ ডাক্তারের সাহায্য চাই না।

আমি তার কথা শুনে অবাক হয়ে গেলাম। এমতাবস্থায় তার স্বামী আমাকে জানালেন, সে চাইছে তার কাছে যেন কোনো পুরুষের আগমন না ঘটে। কারণ সে সাবালক হওয়া থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত আপন বাপ, ভাই ও মামা প্রভৃতি মাহরাম পুরুষ ছাড়া অন্য কেউ তার চেহারা দেখে নি। ডাক্তার অরিভিয়া বলেন বিনয়ের সঙ্গে তার স্বামী আমাকে জানালেন, সে চাচ্ছে তার কাছে যেন কোনো পর-পুরুষ না আসে।

কারণ, প্রাপ্ত বয়সের পর থেকে আজ পর্যন্ত বাপ, ভাই ও মামা প্রমুখ আপনজন ছাড়া কোনো পর-পুরুষ তাকে দেখেনি। অরিভিয়া বলেন আমি অবাক হয়ে হেসে উঠলাম! চরম বিস্মিয়ের সঙ্গে বললাম, আমি এমন একজন নারী, আমেরিকান কতো পুরুষ আমার চেহারা দেখেছে। গুণে শেষ করতে পারবো না। আরব্য নারীর আবেদনের ব্যাকুলতায় আমি সাড়া দিলাম।

বাসায় না গিয়ে তার বাচ্চা প্রসবের অপেক্ষায় থাকলাম। তার কোল আলোকিত হলো। মায়ের কোলে হাসলো শিশু। পরদিন তার সন্তান জন্মের আনন্দে অংশ নেই। চিকিৎসা বিজ্ঞান মতে উপদেশ দিই, প্রসবের পর চল্লিশদিন দাম্পত্যমিলন থেকে বিরত থাকবেন। আমেরিকান অনেক নারী প্রসবের পরও দাম্পত্যমিলন অব্যহত রাখার কারণে অভ্যান্তরীণ সংক্রমণ এবং সন্তান প্রসবঘটিত জ্বরে ভোগেন।

সুতরাং চল্লিশ দিনের আগে এসব কিছু নয়। এ ৪০ দিন পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করবেন। ভারী কাজ থেকে দূরে থাকাবেন। আমার দীর্ঘদিনের গবেষণা মাটি করে দিয়ে আরব্য নারী বললেন, আমাদের ইসলাম ধর্মমতেও প্রসব উত্তর চল্লিশ দিন দাম্পত্যমিলন নিষিদ্ধ করেছে।

পবিত্র হওয়া পর্যন্ত নারীদের নামাজ রোজা ও কোরআন পাঠেও বিধান নেই। মার্কিন এই ডাক্তার বলেন, প্রসূতির কথা শুনে আমি থমকে গেলাম! বিস্ময় বিমূঢ় হলাম! আমাদের এত্তো গবেষণা আর এত্তো পরিশ্রমের পর তো কেবল আমরা ইসলামের শিক্ষা পর্যন্তই পৌঁছলাম!

আরেকদিন এক শিশু বিশেষজ্ঞ এলেন নবজাতককে দেখতে। তিনি শিশুর মাকে বললেন, বাচ্চাকে ডান কাতে শোয়াবেন! ডান কাত শিশুর সাস্থ্যের জন্য উপকারী! শিশুর হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক থাকে! আরেকদিন এক শিশু বিশেষজ্ঞ এলেন নবজাতককে দেখতে। তিনি শিশুর মায়ের উদ্দেশে বললেন, বাচ্চাকে যদি ডান কাতে শোয়ান তবে তা শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

এতে করে তার হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক থাকে। শিশুর বাবা তখন বলে উঠলেন, আমরা সবাই সবসময় এ নিয়ম মেনে চলি। আমরা সর্বদা ডান পাশ হয়ে ঘুমাই। এটা আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত। এ কথা শুনে আমি বিস্ময়ে থ হয়ে গেলাম!! এই জ্ঞান লাভ করতে আমাদের জীবনটাই পার করলাম আর সে কিনা তার ধর্ম থেকেই এ শিক্ষা পেয়ে এসেছে!

ফলে আমি এ ধর্ম সম্পর্কে জানার সিদ্ধান্ত নিলাম। ইসলাম সম্পর্কে পড়াশুনার জন্য আমি এক মাসের ছুটি নিলাম এবং আমেরিকার অন্য শহরে চলে গেলাম, যেখানে একটি ইসলামিক সেন্টার রয়েছে।

সেখানে আমি অধিকাংশ সময় নানা জিজ্ঞাসা আর প্রশ্নোত্তরের মধ্যে কাটালাম। অনেক আরব ও আমেরিকান মুসলমানের সঙ্গে উঠাবসা করলাম। আলহামদুলিল্লাহ এর কয়েক মাসের মাথায় আমি ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিলাম।

ডাক্তার অরিভিয়া বলেন বিনয়ের সঙ্গে তার স্বামী আমাকে জানালেন, সে চাচ্ছে তার কাছে যেন কোনো পর-পুরুষ না আসে। কারণ, প্রাপ্ত বয়সের পর থেকে আজ পর্যন্ত বাপ, ভাই ও মামা প্রমুখ আপনজন ছাড়া কোনো পর-পুরুষ তাকে দেখেনি। অরিভিয়া বলেন আমি অবাক হয়ে হেসে উঠলাম!

চরম বিস্মিয়ের সঙ্গে বললাম, আমি এমন একজন নারী, আমেরিকান কতো পুরুষ আমার চেহারা দেখেছে। গুণে শেষ করতে পারবো না। আরব্য নারীর আবেদনের ব্যাকুলতায় আমি সাড়া দিলাম। বাসায় না গিয়ে তার বাচ্চা প্রসবের অপেক্ষায় থাকলাম।

আলহামদুলিল্লাহ এর কয়েক মাসের মাথায় আমি ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিলাম।এই জ্ঞান লাভ করতে আমাদের জীবনটাই পার করলাম আর সে কিনা তার ধর্ম থেকেই এ শিক্ষা পেয়ে এসেছে! ফলে আমি এ ধর্ম সম্পর্কে জানার সিদ্ধান্ত নিলাম।

ইসলাম সম্পর্কে পড়াশুনার জন্য আমি এক মাসের ছুটি নিলাম এবং আমেরিকার অন্য শহরে চলে গেলাম, যেখানে একটি ইসলামিক সেন্টার রয়েছে। সেখানে আমি অধিকাংশ সময় নানা জিজ্ঞাসা আর প্রশ্নোত্তরের মধ্যে কাটালাম। অনেক আরব ও আমেরিকান মুসলমানের সঙ্গে উঠাবসা করলাম। আলহামদুলিল্লাহ এর কয়েক মাসের মাথায় আমি ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিলাম।

নিউজবিডি৭১/এম কে/ ১১ জুন , ২০১৮




রমজানের প্রতি রাতে যে দোয়া পড়লে ৪০ বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যায়!

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : প্রতি রাতে যে দোয়া পড়লে- পবিত্র রমজান মাসে হলো ত্যাগের মাস। অর্থ্যাৎ এ মাসে সকল খারাপ কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখা যায়। এই মাসটি ক্ষমা পাওয়ার মাস, এই মাসটি অশেষ সওয়াব হাসিলের মাস। এই মাসেই পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। এই মাসেই এমন রাত আছে যে রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। ফলে মুসলিম উম্মাহর জন্য এই মাসের গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না।

যে ব্যক্তি রমযানের প্রতিটি রাতে নিম্নোক্ত দোয়া পড়বে তার চল্লিশ বছরের গুনাহ মাফ করা হবে :

اَللَّهُمَّ رَبَّ شَهْرِ رَمَضَانَ الَّذِيْ أَنْزَلْتَ فِيْهِ الْقُرْآنَ و اقْتَرَضْتَ عَلَى عِبَادِكَ فِيْهِ الصِّيَامَ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ وَ ارْزُقْنِيْ حَجَّ بَيْتِكَ الْحَرَامِ فِيْ عَامِيْ هَذَا وَ فِيْ كُلِّ عَامٍ وَ اغْفِرْلِيْ تِلْكَ الذُّنُوْبَ الْعِظَامَ فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُهَا غَيْرُكَ يَا رَحْمَانُ يَا عَلَّامُ

অর্থ: হে আল্লাহ্‌! হে রমযান মাসের প্রভু! যে মাসে তুমি পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ করেছ এবং এ মাসে তুমি তোমার বান্দাদের ওপর রোজা ফরজ করেছ। হে আল্লাহ্‌! হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর বংশধরদের ওপর সালাম ও দরূদ প্রেরণ কর। এ বছর এবং প্রতি বছর তোমার পবিত্র ঘর কাবায় হজ্ব করার তৌফিক দান করো। আমার সকল বড় পাপ ক্ষমা করে দাও। কেননা, তুমি ছাড়া আর কেউই পাপ ক্ষমা করতে পারে না। হে দয়ালু ও সর্বজ্ঞানী!

এছাড়া রমজানের ২৬ তারিখের সূর্যাস্তের সময় ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার’ ৪০ বার পাঠ করলে ৪০ বছরের সগীরা গুনাহ মাফ ও শবেকদরের নিয়্যাতে সন্ধ্যায় গোসল করলে সমস্ত গোনাহ মাফ হয়।

নিউজবিডি৭১/আর/ ৮ জুন , ২০১৮




যে সব আমলে মহান আল্লাহ মানুষের রুজি-রোজগার বাড়িয়ে দেন!

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : এ পৃথিবীতে মানুষের সবচেয়ে বেশি পেরেশানি হলো খাবার নিয়ে। এছাড়া মানুষ সমাজে নিজে সব চেয়ে বড় করে তুলে ধরে সম্মানের পাত্র হতে চায়। অথচ এ দুটি জিনিসেরিই মালিক মহান আল্লাহ। পবিত্র কোরআনের সূরা সাবার ৩৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে ‘বল, আমার প্রতিপালক তো তাঁহার বান্দাদের মধ্যে যাহার প্রতি ইচ্ছা রিজিক বর্ধিত করেন এবং যাহার প্রতি ইচ্ছা সীমিত করেন। তোমরা যাহা কিছু ব্যয় করিবে তিনি তার প্রতিদান দিবেন। তিনিই শ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা।’আল্লাহ জীবিকা বা রিজিকের মালিক। তিনিই মানুষকে রিজিক দেন।

উপরোক্ত আয়াতে যে বিষয়টির ওপর আলোকপাত করা হয়েছে সেটি হলো আল্লাহ ইচ্ছা করলেই যে কোনো ব্যক্তির রিজিক বাড়িয়ে দিতে পারেন, তেমনি তিনি তা কমিয়ে দিতেও পারেন। আল্লাহ যেহেতু মানুষকে সম্পদ দেন, সেহেতু মানুষ যদি আল্লাহর নির্দেশিত পথে সে সম্পদ ব্যয় করে তবে তিনি বান্দাকে তার বিনিময় দান করার ব্যাপারেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আল্লাহ ইচ্ছা করলেই যে কাউকে পর্যাপ্ত রিজিক দিতে পারেন। সব মানুষের জন্য পর্যাপ্ত রিজিকের ব্যবস্থা করতে পারেন। কিন্তু সে ক্ষেত্রে এক মানুষের সঙ্গে অন্য মানুষের নির্ভরতার সম্পর্ক নষ্ট হতো। মানুষের মধ্যে একে অপরকে তোয়াক্কা না করার মনোভাব দেখা দিত।

তিনি তাহার ইচ্ছামতো পরিমাণেই নাজিল করিয়া থাকেন। তিনি তাহার বান্দাদিগকে সম্যক জানেন ও দেখেন।’ পবিত্র কোরআনের উপরোক্ত আয়াতের ভিত্তিতে বলা যায়, পৃথিবীর সব মানুষকে পর্যাপ্ত রিজিক ও নেয়ামত দেওয়া হলে ধন-সম্পদ প্রাচুর্যের কারণে কেউ কারও মুখাপেক্ষী থাকত না। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, মানুষের ধন যত বাড়ে লোভ-লালসা তত বাড়ে। ফলে সবাই পর্যাপ্ত ধন-সম্পদের মালিক হলে পারস্পরিক রেষারেষি ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মনোভাব বেড়ে যেত। আল্লাহর প্রদত্ত ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থার কারণে ধনীরা যাদের সম্পদ নেই তাদের কাছেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুখাপেক্ষী থাকে। আবার যাদের সম্পদ নেই ধনীদের সঙ্গে তাদেরও মুখাপেক্ষিতা গড়ে উঠেছে।

আল্লাহ রিজিকের মালিক বিধায় পাথরখণ্ডের মধ্যে বসবাসকারী ক্ষুদ্র পতঙ্গের ক্ষুধাও তিনি নিবারণ করেন। ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থার মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে তিনি যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেছেন তা কেবল অলৌকিক সত্তার পক্ষেই সম্ভব। তাই জীবিকার জন্য অযথা অস্থিরতা কাম্য নয়। সবাই তার বরাদ্দকৃত সময় ও জীবিকা শেষ করেই দুনিয়া থেকে বিদায় হবে। ইবনে আদম দুনিয়ায় আসার আগেই আল্লাহ তায়ালা তার জীবিকা লিখে রেখেছেন। ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকে তার মায়ের পেটে ৪০ দিন শুক্র হিসেবে থাকে। অতঃপর রক্তপিন্ড হয়ে থাকে। অতঃপর মাংসপি রূপান্তরিত হয়। এরপর তার কাছে ফেরেশতা পাঠানো হয়, সে তার মাঝে রুহ প্রবেশ করে আর তাকে চারটি বিষয় লিখে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়- জীবিকা, তার সময় বা বয়স এবং সে কি সৌভাগ্যবান না দুর্ভাগ্যবান।’ (বোখারি মুসলিম)।

কিছু আমল রয়েছে, যা রিজিক বাড়ায়। জীবিকার ক্ষেত্রে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা এর শিক্ষা দিয়েছেন। শরিয়ত এসব আমলের ব্যাপারে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেছে। এসব আমলের মাঝে সর্বপ্রথম হচ্ছে তাকওয়া অর্জন করা। অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করা। যে আল্লাহকে ভয় করবে, তাকওয়া অর্জন করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে এমনভাবে রিজিক দান করবেন যে, সে তা ভাবতেও পারবে না। আর আল্লাহ তায়ালার অঙ্গীকার সত্য। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য নিষ্কৃতির পথ করে দেন এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিজিক দেবেন।’ (সূরা তালাক : ২-৩)। এমনভাবে তাকে জীবিকা দান করবেন যে, সে ধারণাও করতে পারবে না। যে জায়গার ব্যাপারে তার আশা-প্রত্যাশাও ছিল না। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘আর যদি সে জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং পরহেজগারি অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের প্রতি আসমানি ও পার্থিব নেয়ামতগুলো উন্মুক্ত করে দিতাম।’ (সূরা আরাফ : ৯৬)।

বান্দা তার পালনকর্তাকে ভয় করবে গোপনে এবং প্রকাশ্যে। ভয় করবে তার নিজের ক্ষেত্রে, তার পরিবার-পরিজন, অর্থ-সম্পদ, কাজকর্ম ও তার সব কাজের ক্ষেত্রে। রিজিক বাড়ে এমন আমলের মধ্যে আরেকটি হচ্ছে, অধিক পরিমাণে এস্তেগফার পড়া এবং তা নিয়মিত করা। আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবী নুহ (আ.) এর কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘অতঃপর বলেছি, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা করো। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্য উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্য নদীনালা প্রবাহিত করবেন।’ (সূরা নুহ : ১০-১২)।

অন্যদিকে হুদ (আ.) এর কথা বলতে গিয়ে এরশাদ করেন, ‘আর হে আমার কওম! তোমাদের পালনকর্তার কাছে তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর তারই প্রতি মনোনিবেশ করো; তিনি আসমান থেকে তোমাদের ওপর বৃষ্টিধারা প্রেরণ করবেন এবং তোমাদের শক্তির ওপর শক্তি বৃদ্ধি করবেন, তোমরা কিন্তু অপরাধীদের মতো বিমুখ হইও না।’ (সূরা হুদ : ৫২)। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি অধিক পরিমাণে এস্তেগফার পড়বে আল্লাহ তায়ালা তাকে সব দুশ্চিন্তা ও সঙ্কটাপন্ন অবস্থা থেকে মুক্ত করে দেবেন এবং ধারণাতীতভাবে তাকে জীবিকা দান করবেন।’ (আবু দাউদ)। কুরতুবি (রহ.) বলেন, ‘এতে বোঝা যায়, এস্তেগফারে রিজিক বাড়ে এবং বৃষ্টি বর্ষিত হয়।’ জীবিকার প্রধান একটি বিষয় হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার ওপর যথাযথ ভরসা করা। হৃদয় মাওলার সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

সব ক্ষেত্রে তাঁর কাছেই সমর্পণ করবে। যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা করবে, সে তার সব প্রয়োজনের জন্য যথেষ্ট এবং তার সব অকল্যাণ ও ক্ষতিকর বিষয় তিনি প্রতিহত করবেন এবং ধারণাতীতভাবে তাকে জীবিকা দান করবেন। হাদিসে এসেছে, ‘যদি তোমরা আল্লাহ তায়ালার ওপর সঠিক ও যথাযথভাবে ভরসা করো, তাহলে তিনি তোমাদের পাখির মতো জীবিকা দান করবেন, ক্ষুধার্ত অবস্থায় সবাই বের হয় আর পেটপূর্তি করে বিকালে বাসায় ফিরে।’ (আহমাদ, তিরমিজি)। ইবনে রজব (রহ.) বলেন, ‘তাওয়াক্কুল ও ভরসার ক্ষেত্রে হাদিসটি মূলনীতি হিসেবে গৃহীত। আর তাওয়াক্কুল ও ভরসা জীবিকার বিভিন্ন আমল ও মাধ্যমের অন্যতম।’ পূর্বসূরিদের অনেকে বলতেন, ‘আল্লাহর ওপর ভরসা করো তাহলে কোনো কষ্ট-ক্লেশ ছাড়াই তোমার রিজিকের ব্যবস্থা হবে।’

এক্ষেত্রে একটি বিষয় ভালো করে জানা প্রয়োজন যে, মাধ্যম গ্রহণ করা বা কোনো কিছু পাওয়ার জন্য চেষ্টা করা তাওয়াক্কুল বা ভরসার পরিপন্থী নয়, বরং জ্ঞানী আলেম-ওলামারা বলেন, প্রচেষ্টা করা এবং মাধ্যম গ্রহণ করাই হচ্ছে আল্লাহর আনুগত্য। আর হৃদয় দিয়ে ভরসা করা তার প্রতি ঈমানের নামান্তর। আর মাধ্যম গ্রহণ করার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘তিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে সুগম করেছেন, অতএব তোমরা তার কাঁধে বিচরণ করো এবং তার দেয়া রিজিক আহার করো।’ (সূরা মুলক : ১৫)।

‘কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে দেশে-বিদেশে যাবে।’ (সূরা মুজ্জাম্মিল : ২০)। ওমর (রা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যেন জীবিকার সন্ধান না করে বসে বসে এ কথা না বলে, হে আল্লাহ আমাকে রিজিক দাও, কারণ তোমরা জান আকাশ কখনও স্বর্ণ-রুপা বর্ষণ করে না।’ বরকতময় জীবিকা পাওয়ার আরেকটি অন্যতম সূত্র হচ্ছে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা।

হাদিসে এসেছে, ‘যার জীবিকার প্রসারতা ও জীবনের ব্যাপ্তি তাকে আনন্দিত করে, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (বোখারি)। আল্লাহ তায়ালার হেকমত ও অনুগ্রহের মধ্যে এটি একটি যে, তিনি দান-সদকা ও আল্লাহর পথে খরচ করার মধ্যেও অফুরন্ত জীবিকার ব্যবস্থা রেখেছেন। তাই যে আল্লাহর রাস্তায় খরচ করবে তিনি তার বিপরীতে তাকে দান করেন এবং তার কাছে যা আছে তাতে বরকত দান করেন।

আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, তিনি তার বিনিময় দেন। তিনি উত্তম রিজিকদাতা।’ (সূরা সাবা : ৩৯)। দুনিয়াতে আল্লাহ তায়ালা এর পরিবর্তে কিছু দিয়ে এবং তাতে বরকত দিয়ে এর বিনিময় দান করেন। আর আখেরাতে উত্তম প্রতিদান ও বিশাল সওয়াবের মাধ্যমে বিনিময় দান করেন।

কোরআনে এসেছে, ‘শয়তান তোমাদের অভাব-অনটনের ভীতি প্রদর্শন করে এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ তোমাদের নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও বেশি অনুগ্রহের ওয়াদা করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সুবিজ্ঞ।’ (সূরা বাকারা : ২৬৮)।

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘দুইটি বিষয় আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর দুইটি বিষয় শয়তানের পক্ষ থেকে। শয়তান অভাব-অনটনের ভয় দেখায়, আর বলে দান করো না, নিজের কাছে রেখে দাও। ভবিষ্যতে তোমার প্রয়োজন হবে। আর অশ্লীলতার আদেশ দেয়। অন্যদিকে আল্লাহ তায়ালা গোনাহ ও পাপের জন্য ক্ষমার ওয়াদা করেন এবং রিজিকে অনুগ্রহের অঙ্গীকার করেন।’ তাই বেশি করে দান করা চাই। এতে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশাল ও ব্যাপক বিনিময়ের সুসংবাদ রয়েছে।

নিউজবিডি৭১/এম কে/ ৭ জুন , ২০১৮




এক বার যে দোয়া পড়লে ১ হাজার দিন পর্যন্ত নেকী লেখা হয়

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : মহান আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে অনেক যত্ন করে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তাআলার মত করে আমাদেরকে আর কেউ ভালোবাসেন না। আর ভালোবাসতে পারেনও না। আর আল্লাহ তাআলা তার প্রদর্শিত পথের পথিকদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন জান্নাত।

যার তলদেশ দিয়ে সুমিষ্ট নহর প্রবাহিত করে দিয়েছেন। আর আল্লাহ তাআলার পরেই আমাদেরকে অত্যধিক ভালোবাসেন আমাদের প্রাণপ্রিয় রাসূল (সাঃ)।

রাসূল (সাঃ)সব সময় চিন্তা করতেন কিভাবে আমরা নাযাত পেতে পারি, কিভাবে আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি পেতে পারি। তিনি আজীবন আমাদেরকে শিখিয়ে গেছেন কিভাবে আমরা অল্প পরিশ্রমে অধিক লাভবান হতে পারি।

এরই ধারাবাহিকতায় তিনি আমাদেরকে শিখিয়ে গিয়েছেন ছোট্ট একটি আমল । যে আমলটি করার ফজিলত অপরিসীম। আসুন আজ থেকে আমরা চেষ্টা করি ছোট্ট এই আমলটি সব সময় করার। আর অর্জন করি দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা।

ছোট্ট একটি দোয়াঃ- “জাযাআল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মা-হুয়া আহলুও।”

নবী কারীম (সাঃ) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ১ বার এই দোয়া পাঠ করবে, ৭০ জন ফেরেশতা এক হাজার দিন পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে উহার সাওয়াব লিখতে থাকবে।

হযরত ইবরাহীম আঃ কে যখন আগুনে পুড়িয়ে মারার জন্য নমরুদ ৮ মাইলপরিমান জায়গা আগুন জ্বালালো , তখন একটা নতুন সমস্যা দেখা দিল।
আগুনের উত্তাপ এতই বেশি ছিল যে তার কাছে পৌছানো যাচ্ছিল না। তাই একটা চরক বানানো হল যার মাধ্যমে ইবরাহীম (আঃ) কে ছুড়ে আগুনে নিক্ষেপ করা যায়।

কিন্তু রহমতের ফেরেশতা রা চরকের একপাশে ভর করে থাকায় চরক ঘুরানো যাচ্ছিল না।

তখন শয়তান নমরুদকে কুবুদ্ধি দিল কিছু নগ্ন মেয়ে(পতিতা) এনে চরকের সামনে বসিয়ে দিতে, কারন এ অবস্থায় ফেরেশতারা থাকতে পারবে না। তাই করা হল এবং ফেরেশতারা চলে গেল, ইবরাহীম (আঃ) কে আগুনে নিক্ষেপ করতে তারা সক্ষম হলেন।

পরবর্তিতে ঐ মেয়েগুলোকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দান করা

হল এবং তাদের মাথায় তীলক পরানো হল। যেটা এখন আমাদের কাছে টিপ নামে পরিচিত।

অতএব যারা বলে— মহিলাদের সৌন্দর্য সব জায়গায় এবং এই দোহাই দিয়ে টিপ কে নিজেদের জন্য বৈধ মনে করেন, তারা যুগযুগ ধরে নিজেদের কোন পরিচয় বহন করছেন তা একবার ভেবে দেখবেন ?

পতিতার পরিচয় বোঝানোর জন্য যে টিপ ব্যবহার করা হত, তা আজ আমাদের উপমহাদেশে ফ্যাশন! ওহে! মুসলিম নারীরা,এই সত্য কথাটা জানার পর ও কি আপনি/আপনারা কপালে টিপ পড়বেন??

সূত্রঃ

* তাফসীরে মা-রেফুল কুরআন, হযরত ইবরাহিম (আঃ) মূলগ্রন্থ।

* তাবারী, তারীখ, ১খ, ১২৩-১২৪; ছালাবী

* আদি গ্রন্থ, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃষ্ঠাঃ ৮১, আদি ইসলামী ইতিহাস

নিউজবিডি৭১/এম কে/ ৭ জুন , ২০১৮




ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাকাত প্রদানের সহজ উপায় আবিষ্কার করলেন পার্থ

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাকাত প্রদানের সহজ উপায় আবিষ্কার করলেন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা জাতীয় পার্টির(বিজিপি)’র চেয়্যারম্যান ব্যরিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এই নিয়ে বিস্তারিত জানালেন পার্থ নিজেই।

তিনি তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে এ প্রসঙ্গে জানান, ব্যাপারটা প্রথম আমার মাথায় আসে ২০১৫ সালে। কেন যাকাত কার্ডের মাধ্যমে দেয়া যাবে না ? যদিও ডেবিট আর ক্রেডিট কার্ড দিয়ে যাকাত দেয়া যায় কিন্তু ডেবিট কার্ড দিয়ে এলকোহল ও কেনা যায় আর ক্রেডিট কার্ড এর মধ্যে সুদ (রিবা) এর ব্যাপারটা থেকেই যায়। আমার প্রথম থেকেই ইচ্ছা ছিলো শুধু মাত্র যাকাত এর জন্য আলাদা কার্ড এবং payment method বানানোর যার নাম হবে ‘Zakat Card’. The idea was to bring Zakat within the line of modern technology.’

‘আমি কখনই ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র ছিলাম না আর তাই এই পন্থা বানানো অনেকটা মহাসমুদ্রে সাঁতরানোর মতো ছিল আমার জন্য। গত দুই বছরে এমন কোনো ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড আর এটিএম কার্ড এর Patent মনে হয় বাকি নেই যা পড়া বাকি আছে। তারপরও ঢাকাতে দুইটা ছোট ভাই যারা কিনা ইঞ্জিনিয়ার তাদের সাথে পরামর্শ করে এটা শেষ করেছি। ইতিমধ্যেই আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক আগ্রহ প্রকাশ করেছে “Zakat Card” নিয়ে কাজ করার।’

‘এই যাকাত কার্ড এর অনেক ধরনের ব্যাবহার আছে। বাংলাদেশে যত মানুষ যাকাত প্রাপ্য তাদের database থাকবে যাতে বিদেশ থেকে যেকোনো প্রবাসী কিংবা দেশে বসেই যে কেউ ঐ website এ যেয়ে তাদের পছন্দ মতো কাউকে বা প্রতিষ্ঠানকে যাকাত প্রদান করতে পারবে। এ ছাড়াও ব্যাংকে যেমন ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড দেয়া হয় তেমন যাকাত কার্ডও থাকবে যার মাধ্যমে সারাবছর যাকাত দিতে পারবে এবং সঠিক হিসাব রাখা সম্ভব হবে। এছাড়াও আরও অনেক বহুমুখী ব্যাবহার আছে আর আমার বিশ্বাস এই পন্থার ওপর ভিত্তি করে আরও মেধাবী ছেলেমেয়েরা ভবিষ্যতে অনেক কিছু আবিস্কার করবে।’

‘এমন একটা সময় আসবে যখন পৃথিবীতে নগদহীন অর্থনীতি ( cashless economy) হবে আর তখনি এর ব্যবহার অনেক বেড়ে যাবে। প্রথম ছবিটা PATENT CERTIFICATE আর দ্বিতীয়টা আবিষ্কারের কিংবা INVENTION এর প্রকাশিত বাংলাদেশ সরকারের গেজেট।’

‘ইসলামের জন্য আমার ছোট্ট একটু কাজ আল্লাহ কবুল করুক। আমি আল্লাহ্’র কাছে অনেক কৃতজ্ঞ যে আল্লাহ্ আমাকে এই কাজ করার সুযোগ দিয়েছে।’

নিউজবিডি৭১/এম কে/ ৭ জুন , ২০১৮




৩০ রোজার মধ্যে স্বামী স্ত্রীর সহবাস করার নিয়ম কি?

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : রোজার মধ্যে স্বামী স্ত্রীর – রমজান হলো সংযমের মাস। রমজান মাসে স্ত্রী সহবাস নিয়ে ইসলামী বিধান। রোজায় যে জিনিসগুলো থেকে বিরত থাকতে হয় তার মধ্যে একটি হচ্ছে যৌন সম্পর্ক বা সহবাস। কেউ যদি রোজা থাকা অবস্থায় এই কাজটি করে বসে তবে তার রোজা হবে না।

এর প্রমাণ হচ্ছে সূরা বাকারাতে আল্লাহ্‌র বক্তব্যঃ “রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে”। [আল-বাকারাঃ ১৮৭] এই আয়াত থেকে প্রমাণিত হয় যে রোজার দিনে সহবাস হালাল করা হয়নি।

কোনো স্বামী যদি জোর করে স্ত্রীর সাথে যৌনসম্পর্ক করেন সেক্ষেত্রে স্বামীর রোজা ভেঙ্গে গেলেও স্ত্রীর রোজা ভাঙবে না। এর কারণ আমরা আগে উল্লেখ করেছি।

আল্লাহর রাসূল (সা.) ইবন ‘আব্বাস বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করেছেনঃ “নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ আমার উম্মতের ওপর থেকে ত্রুটিবিচ্যুতি, ভুলে যাওয়া ও জোর করিয়ে করানো কাজকে মার্জনা করেছেন”। [প্রসঙ্গত আজকাল যেহেতু খবর পাওয়া যাচ্ছে নারীরা জোর করে পুরুষদের বিয়ে করছেন, ভবিষ্যতে পুরুষদের জন্য অনুরূপ ফিকহি আলোচনা করতে হতে পারে।

যৌন সম্পর্ক বলতে শরিআর ভাষায় বোঝানো হচ্ছে পুরুষাঙ্গের (penis) সাথে স্ত্রী-অঙ্গের (vagina) মিলন। এক্ষেত্রে বীর্যপাত শর্ত নয়। অর্থাৎ এই দুই অঙ্গ সংস্পর্শে আসলেই রোজা ভেঙ্গে যাবে, বীর্যপাতের ঘটনা না ঘটলেও।

শায়খ সালেহ ইবন আল-‘উসায়মীন এই মতটিই ব্যক্ত করেছেন। যৌন মিলনের দ্বারা কেউ রোজা ভাঙলে সেই রোজা পরবর্তীতে কাযা করতে হবে এবং “ভারী কাফ্ফারা” দিতে হবে। সেই প্রসঙ্গ পরে আসছে।

শারীরিক স্পর্শ বা চুম্বন স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কামনাবসত শারীরিক স্পর্শ যেমন fondling বা foreplay অথবা স্রেফ চুমুর কারণে রোজা ভাঙবে না। তবে এর ফলে যদি বীর্যপাত ঘটে সেক্ষেত্রে রোজা ভেঙ্গে যাবে। তাই রোজার সময় এগুলো পরিহার করাই উত্তম। চুম্বন যদি কামনাবশত না হয় সেক্ষেত্রে ক্ষতি নেই।

স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বীর্যপাত ঘটানো যদি কেউ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নিজের বীর্যপাত (ejaculation) ঘটান সেক্ষেত্রে তার রোজা ভেঙ্গে যাবে। যেমন নিজে হস্তমৈথুনের (masturbation) মাধ্যমে অথবা স্ত্রী কর্তৃক হস্তমৈথুনের মাধ্যমে যদি বীর্যপাত ঘটে তাহলে রোজা ভাঙবে।

কোনো ব্যক্তি যদি যৌনউত্তেজক কোনো কিছু দেখে, শোনে বা পড়ে – এক্ষেত্রে বীর্যপাত ঘটলে তার রোজা ভাঙবে। এক্ষেত্রে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে করা কোনো কাজের ফলে বীর্যপাত ঘটলে রোজা ভাঙবে।

এভাবে রোজা ভেঙ্গে গেলে কাযা করাই যথেষ্ট, যৌনমিলনের ক্ষেত্রে যে ভারী কাফ্‌ফারা দিতে হয় সেটি দিতে হবে না। স্বতঃপ্রণোদিতভাবে ঘটানো বীর্যপাতের ফলে যে রোজা ভাঙবে তার প্রমাণ হচ্ছে হাদীস কুদসীতে আল্লাহ বলছেনঃ “সে (বান্দা) আমার জন্যই খাদ্য, পানীয় ও কামনা-বাসনা পরিত্যাগ করে”।

[বুখারী] যুক্তিসংগত কারণেই যে ব্যক্তি নিজে উদ্যোগ নিয়ে বীর্যপাত ঘটায় সে কামনা-বাসনা বা “শাহওয়াহ” পরিত্যাগ করল না। তবে বীর্যপাত যদি স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে না হয় সেক্ষেত্রে রোজা ভাঙবে না।

যেমন স্বপ্নদোষের (wet dream) ফলে রোজা ভাঙবে না। কোনো ব্যক্তির চিন্তায় যদি আচমকা কোনো যৌন ভাবনা এসে উদয় হয় বা কোনো যৌন উত্তেজক চিন্তা চলে আসে যা সে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মাথায় আনেনি এবং এর ফলে যদি বীর্যপাত ঘটে সেক্ষেত্রে রোজা ভাঙবে না।

মাযী ও মানীর মাঝে পৃথকীকরণ বীর্যপাত প্রসঙ্গে আমাদের দুটি তরলকে আলাদা করতে হবে। এদের একটি হচ্ছে মাযী (المذي)। মাযী হচ্ছে যেটিকে ইংরেজিতে বলা হয় pre-seminal fluid। এটি একটি স্বচ্ছ পিচ্ছিল পদার্থ যা চূড়ান্ত বীর্যপাতের আগে নিঃসরিত হয় ফোঁটায় ফোঁটায়।

মাযী নিঃসরণের ফলে রোজা ভাঙে না (যদি না সেটা যৌনমিলনের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, যেক্ষেত্রে পুরুষাঙ্গের সাথে যোনির মিলনই যথেষ্ট রোজা ভাঙার জন্য)। শুধু মাযী নিঃসরণের ফলে যেহেতু রোজা ভাঙে না, কাযারও প্রশ্ন আসছে না। যদিও ইমাম মালেকের একটি বর্ণনা অনুযায়ী তিনি মাযী নিঃসরণকে রোজা ভাঙার কারণ হিসেবে দেখেছেন, কিন্তু অধিকাংশ ‘উলামা একে রোজা ভাঙার কারণ হিসেবে দেখেন না।

মানী হচ্ছে যাকে ইংরেজিতে বলা হয় semen বা বাংলায় বীর্য। মানী বের হয়ে আসে চূড়ান্ত বীর্যপাতের সময় দফায় দফায়। এটির সাদা থিকথিকে একটি পদার্থ। মানী বের হলেই কেবল রোজা ভাঙবে উপরেল্লিখিত কারণগুলোতে। এ ব্যাপারে কোনো ইখতিলাফ নেই।

নিউজবিডি৭১/এম কে/ ৭ জুন , ২০১৮




হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) থেকে আদম (আঃ) পর্যন্ত পূর্ব পুরুষগণের তালিকা !!

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) থেকে একেবারে হযরত আদম (আঃ) পর্যন্ত পূর্বপুরুষগণের তালিকা
এক নজরে দেখে নিন:-
⇣⇣⇣⇣⇣⇣⇣⇣⇣⇣⇣⇣⇣⇣⇣⇣⇣⇣⇣⇣⇣⇣⇣⇣⇣⇣⇣⇣⇣
হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ)
তাঁহার পিতা আব্দুল্লাহ,
তাঁহার পিতা আব্দুল মোত্তালিব,
তাঁহার পিতা হাসিম,
তাঁহার পিতা আব্দ মানাফ,
তাঁহার পিতা কুছাই,
তাঁহার পিতা কিলাব,
তাঁহার পিতা মুরাহ,
তাঁহার পিতা কা’ব
তাঁহার পিতা লুই,
তাঁহার পিতা গালিব,
তাঁহার পিতা ফাহর,
তাঁহার পিতা মালিক,
তাঁহার পিতা আননাদর,
তাঁহার পিতা কিনান,
তাঁহার পিতা খুজাইমা,
তাঁহার পিতা মুদরাইকা,
তাঁহার পিতা ইলাস,
তাঁহার পিতা মুদার,
তাঁহার পিতা নিজার,
তাঁহার পিতা মা’দ,
তাঁহার পিতা আদনান,
তাঁহার পিতা আওয়াদ,
তাঁহার পিতা হুমাইসা,
তাঁহার পিতা সালামান,
তাঁহার পিতা আওয,
তাঁহার পিতা বুয,
তাঁহার পিতা কামওয়াল,
তাঁহার পিতা ওবাই,
তাঁহার পিতা আওয়ান,
তাঁহার পিতা নাসিদ,
তাঁহার পিতা হিযা,
তাঁহার পিতা বালদাস,
তাঁহার পিতা ইয়াদলাফ,
তাঁহার পিতা তাবিখ,
তাঁহার পিতা জাহিম,
তাঁহার পিতা নাহিস,
তাঁহার পিতা মাখি,
তাঁহার পিতা আ”য়েফ
তাঁহার পিতা আবকার,
তাঁহার পিতা উবাইদ,
তাঁহার পিতা আদ দাহা,
তাঁহার পিতা হামদান,
তাঁহার পিতা সানবার,
তাঁহার পিতা ইয়াসরিবি,
তাঁহার পিতা ইয়াহজিন,
তাঁহার পিতা ইয়ালহান,
তাঁহার পিতা ইরাওয়া,
তাঁহার পিতা আইযি,
তাঁহার পিতা যিশান,
তাঁহার পিতা আইছার,
তাঁহার পিতা আফনাদ,
তাঁহার পিতা আইহাম,
তাঁহার পিতা মুকাসির,
তাঁহার পিতা নাহিস,
তাঁহার পিতা যারিহ,
তাঁহার পিতা সামি,
তাঁহার পিতা মায্যি,
তাঁহার পিতা ইওয়াদ,
তাঁহার পিতা ইরাম,
তাঁহার পিতা হিদার,
তাঁহার পিতা হযরত ইসমাইল (আঃ),
তাঁহার পিতা হযরত ইবরাহিম (আঃ),
তাঁহার পিতা তারক
তাঁহার পিতা নাহুর,
তাঁহার পিতা সারুয,
তাঁহার পিতা রা’উ,
তাঁহার পিতা ফাহিয,
তাঁহার পিতা আবীর,
তাঁহার পিতা আফরাহশাদ,
তাঁহার পিতা সা’ম,
তাঁহার পিতা হযরত নূহ (আঃ),
তাঁহার পিতা লামিক,
তাঁহার পিতা মাতু সালিখ,
তাঁহার পিতা হযরত ঈদ্রীস (আঃ),
তাঁহার পিতা ইয়ারিদ,
তাঁহার পিতা মালহালিল,
তাঁহার পিতা কিনান,
তাঁহার পিতা আনস,
তাঁহার পিতা হযরত শীস (আঃ),
তাঁহার পিতা হযরত আদম (আঃ)

নিউজবিডি৭১/আর/ ৬ জুন , ২০১৮




প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ রেশম দিয়ে পবিত্র কোরআন শরিফ তৈরি !!

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : বিশ্বের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ রেশম দিয়ে পবিত্র কোরআন শরিফ তৈরি করা হয়েছে আফগানিস্তানে। আফগানিস্তানে ৩৮ জন খোশনবিশ মিলে দুই বছর ধরে এ কোরআন শরিফ তৈরি করেছেন।

রেশমে অলঙ্করণকৃত এ কোরআন শরিফটি মোট ৬১০টি পৃষ্ঠা রয়েছে। যার ওজন প্রায় ৬ কেজি। আফগানিস্তানে অবস্থিত ব্রিটিশ ফাউন্ডেশনের সহায়তায় প্রশিক্ষণ নিয়ে এ কোরআন শরিফ তৈরি করেছেন কোশনবিশরা।

ওই দলের নেতা ৬৬ বছর বয়সী খাজা কামারুদ্দিন চিশতি বলেন, আফগানিস্তানে লিপিবিদ্যার দিন শেষ হয়ে যায়নি। সেটা প্রমাণ করা এবং পবিত্র গ্রন্থের সম্মানে এটি করা হয়েছে। অলঙ্করণ আফগানিস্তানের সংস্কৃতিরই অংশ সেটাও প্রমাণ করা হলো।

নিউজবিডি৭১/আর/ ৬ জুন , ২০১৮




হযরত খিযির ও মূসা (আঃ)-এর অসাধারন এক কাহিনী

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : হযরত খিযির ও মূসা (আঃ)- হযরত ইবনু আব্বাস (রা:) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, হযরত উবাই ইবনু কা‘ব (রা:) রাসূলুল্লাহ (সা:) হ’তে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, হযরত মূসা (আঃ) একদা বনী ইসরাঈলের এক সমাবেশে ভাষণ দিতে দাঁড়ালে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হ’ল, কোন ব্যক্তি সর্বাধিক জ্ঞানী? তিনি বললেন, আমিই সর্বাধিক জ্ঞানী। জ্ঞানকে আল্লাহর দিকে সোপর্দ না করার কারণে আল্লাহ্‌ তাকে তিরস্কার করে বললেন, বরং দু’সাগরের সঙ্গমস্থলে আমার এক বান্দা আছে, যিনি তোমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী।

হযরত মূসা (আঃ) বললেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! তার নিকট পৌছাতে কে আমাকে সাহায্য্ করবে? কখনো সুফইয়ান এভাবে বর্ণনা করেছেন, আমি কিভাবে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারি? তখন বলা হ’ল, তুমি একটি থলিতে করে একটি মাছ নাও। যেখানে তুমি মাছটি হারাবে, সেখানেই আমার সে বান্দা আছে। অতঃপর হযরত মূসা (আঃ) একটি মাছ ধরলেন এবং থলিতে রাখলেন।

অতঃপর মাছ নিয়ে তাঁর সঙ্গী ইউশা বিন নূনকে সাথে নিয়ে চললেন। শেষ পর্যন্ত তারা একটি পাথরের কাছে পৌছলেন এবং তার উপর মাথা রেখে বিশ্রাম নিলেন।মূসা (আঃ) ঘুমিয়ে পড়লেন। এ সময় মাছটি থলি থেকে বের হয়ে লাফিয়ে সমুদ্রে চলে গেল। অতঃপর সে সমুদ্রে সুড়ঙ্গের মত পথ করে নিল।আর আল্লাহ্‌ মাছটির চলার পথে পানির প্রবাহ থামিয়ে দিলেন। ফলে তার গমনপথটি সুড়ঙ্গের মত হয়ে গেল। অতঃপর তারা উভয়ে অবশিষ্ট রাত এবং পুরো দিন পথ চললেন।

পরদিন সকালে হযরত মূসা (আঃ) তার সাথীকে বললেন, আমরা তো সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, আমাদের খাবার নিয়ে এস।হযরত মূসা (আঃ)-কে আল্লাহ্‌ যে স্থানে যাবার কথা বলেছিলেন, সেই স্থান অতিক্রম করার পূর্ব পর্যন্ত তিনি কোনরূপ ক্লান্তিবোধ করেননি।

সাথী ইউশা বিন নুন তখন বলল, আপনি কি ভেবে দেখেছেন, যে পাথরটির নিকট আমরা বিশ্রাম নিয়েছিলাম সেখানেই মাছটি অদ্ভুতভাবে সমুদ্রের মধ্যে চলে গেছে।কিন্তু আমি মাছটির কথা আপনাকে বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। মূলত: শয়তানই আমাকে এ কথা ভুলিয়ে দিয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, পথটি মাছের জন্য ছিল একটি সুড়ঙ্গের মত আর তাঁদের জন্য ছিল আশ্চর্যজনক ব্যাপার।
হযরত মূসা (আঃ) বললেন, আমরা তো সেই স্থানটিরই অনুসন্ধান করছি।

অতঃপর তারা তাদের পদচিহ্ন ধরে ফিরে চললেন এবং ঐ পাথরের নিকটে পৌঁছে দেখলেন, এক ব্যক্তি কাপড় মুড়ি দিয়ে বসে আছেন। মূসা (আঃ) তাঁকে সালাম দিলেন। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, এখানে সালাম কি করে এলো? তিনি বললেন, আমি মূসা। খিযির জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি বনী ইসরাঈল বংশীয় মূসা? মূসা (আঃ) বললেন, হ্যাঁ। আমি এসেছি এজন্য যে, সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে, তা হ’তে আপনি আমাকে শিক্ষা দিবেন। খিযির বললেন, হে মূসা! আমার আল্লাহ্‌ প্রদত্ত কিছু জ্ঞান আছে, যা আপনি জানেন না।

আর আপনিও আল্লাহ্‌ প্রদত্ত এমন কিছু জ্ঞানের অধিকারী, যা আমি জানি না। মূসা (আঃ) বললেন, আমি কি আপনার সাথী হ’তে পারি? খিযির বললেন, ‘আপনি কিছুতেই আমার সাথে ধৈর্যধারণ করতে পারবেন না। যে বিষয় আপনার জ্ঞানের আওতাধীন নয় সে বিষয়ে আপনি ধৈর্যধারণ করবেন কেমন করে?’ মূসা (আঃ) বললেন, ‘ইনশাআল্লাহ্‌ আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং আপনার কোন আদেশ আমি অমান্য করব না’ (কাহফ ৬৭-৬৯) ।
অতঃপর তাঁরা দু’জনে সাগরের কিনারা ধরে হেঁটে চললেন। তখন একটি নৌকা তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তারা তাদেরকে নৌকায় তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন।

তারা খিযির-কে চিনতে পেরে বিনা ভাড়ায় তাঁদেরকে নৌকায় তুলে নিলো। যখন তাঁরা দু’জনে নৌকায় চড়লেন, তখন একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকাটির কিনারায় বসল এবং সমুদ্র থেকে এক ফোঁটা বা দুই ফোঁটা পানি পান করল। খিযির বললেন, ‘হে মুসা! আমার ও আপনার জ্ঞানের দ্বারা আল্লাহ্‌ জ্ঞান হ’তে ততটুকুও কমেনি যত টুকু এ পাখিটি তাঁর ঠোটের দ্বারা সাগরের পানি হ্রাস করেছে’।

তখন খিযির একটি কুড়াল নিয়ে নৌকাটির একটা তক্তা খুলে ফেললেন। মূসা (আঃ) অকস্মাৎ দৃষ্টি দিতেই দেখতে পেলেন যে, তিনি কুড়াল দিয়ে একটি তক্তা খুলে ফেলেছেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন, আপনি একি করলেন? এ লোকেরা বিনা ভাড়ায় আমাদেরকে নৌকায় তুলে নিলো, আর আপনি তাদেরকে ডুবিয়ে দেয়ার জন্য নৌকা ছিদ্র করে দিলেন? আপনি তো একটি গুরুতর কাজ করলেন।

খিযির বললেন, আমি কি বলিনি যে, আপনি আমার সাথে ধৈর্যধারণ করতে পারবেন না। মূসা (আঃ) বললেন, আমার ভুলের জন্য আমাকে অপরাধী করবেন না এবং আমার এ ব্যবহারে আমার প্রতি কঠোর হবেন না।মূসা (আঃ)-এর পক্ষ থেকে প্রথম এ কথাটি ছিল ভুলক্রমে।

অতঃপর তাঁরা যখন উভয়ে সমুদ্র পার হলেন, তখন তারা একটি বালকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, যে অন্যান্য বালকদের সাথে খেলা করছিল। খিযির ছেলেটির মাথা দেহ হ’তে ছিন্ন করে ফেললেন। হযরত মুসা (আঃ) বললেন, আপনি একটি নিষ্পাপ শিশুকে বিনা অপরাধে হত্যা করলেন? আপনি খুবই খারাপ একটা কাজ করলেন। খিযির বললেন, আমি কি বলিনি যে, আপনি আমার সাথে ধৈর্যধারণ করতে পারবেন না। মূসা (আঃ) বললেন, এরপর যদি আমি আপনাকে আর কোন প্রশ্ন করি, তাহ’লে আমাকে আর সঙ্গে রাখবেন না।

অতঃপর উভয়ে চলতে লাগলেন। চলতে চলতে তাঁরা একটি জনপদের অধিবাসীদের নিকট পৌঁছে তাদের নিকট কিছু খাবার চাইলেন। কিন্তু জনপদ বাসী তাদের দু’জনের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল। সেখানে তারা একটি প্রাচীর দেখতে পেলেন, যা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছিল।হযরত খিযির প্রাচীরটি মেরামত করে সুদৃঢ় করে দিলেন। হযরত মুসা (আঃ) বললেন, এই বসতির লোকদের নিকট এসে আমরা খাবার চাইলাম।

তারা মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল। অথচ আপনি এদের দেয়াল সোজা করে দিলেন। আপনি তো ইচ্ছা করলে এর জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারতেন। হযরত খিযির বললেন, এবার আমার এবং আপনার মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে গেল।এক্ষণে যে বিষয়ে আপনি ধৈর্যধারণ করতে পারেননি, আমি এর তাৎপর্য বলে দিচ্ছি।

নৌকাটির ব্যাপার ছিল এই যে, সেটি ছিল কয়েকজন দরিদ্র ব্যক্তির।তারা সমুদ্রে জীবিকা অন্বেষণ করত। আমি নৌকাটিকে ত্রুটিযুক্ত করে দিতে চাইলাম। কারণ, তাদের সামনে ছিল এক রাজা, যে ভাল নৌকা পেলেই জোরপূর্বক কেড়ে নিত। তারপর যখন এটাকে দখল করতে লোক আসল, তখন ছিদ্রযুক্ত দেখে ছেড়ে দিল। অতঃপর নৌকাওয়ালারা একটা কাঠ দ্বারা নৌকাটি মেরামত করে নিলো।

আর বালকটি সূচনা লগ্নেই ছিল কাফের। আর সে ছিল তার ঈমানদার বাবা- মার বড়ই আদরের সন্তান । আমি আশঙ্কা করলাম যে, সে বড় হয়ে অবাধ্যতা ও কুফরি দ্বারা তাদেরকে কষ্ট দিবে। অতঃপর আমি ইচ্ছা করলাম যে, তাদের পালনকর্তা তাদেরকে তার চেয়ে পবিত্রতায় ও ভালবাসায় ঘনিষ্ঠতর একটি শ্রেষ্ঠ সন্তান দান করুন। আর প্রাচীরের ব্যাপার এই যে, সেটি ছিল নগরের দু’জন ইয়াতীম বালকের।

এর নীচে ছিল তাদের গুপ্তধন। তাদের পিতা ছিলেন সৎকর্ম পরায়ণ। সুতরাং আপনার পালনকর্তা দয়াপরবেশ হয়ে ইচ্ছা পোষণ করলেন যে, তারা যৌবনে পদার্পণ করে নিজেদের গুপ্তধন উদ্ধার করুক। আমি নিজ ইচ্ছায় এসব করিনি। আপনি যে বিষয়গুলোতে ধৈর্যধারণ করতে পারেননি, এই হ’ল তার ব্যাখ্যা ।
(কাহফ ৭৯-৮২; ছহীহ বুখারী হা/৩৪০১)

নিউজবিডি৭১/এম কে/ ৪ জুন , ২০১৮