‘৩ জানুয়ারি খালেদার মামলায় এফবিআইয়ের প্রতিবেদনের শুনানি’

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে করা মামলায় কানাডীয় পুলিশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণের বিষয়ে শুনানির জন্য ৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।

এ বিষয়ে শুনানির জন্য আজ রোববার দিন ধার্য ছিল। দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল শুনানিতে আদালতকে বলেন, এ মামলাটির বিচার দেশে এবং বিদেশে হচ্ছে। বিদেশিরা যে তদন্ত করেছেন সে বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে।

অপরদিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী আব্দুর রেজ্জাক খান ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার এ বিষয়ে শুনানির জন্য তারিখ পেছানোর আবেদন করেন এবং এ বিষয়ে আপত্তি দেবেন বলে আদালতে মৌখিকভাবে জানান। তারা বলেন, এ মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ। তাই সব আসামির উপস্থিতিতে মামলাটি শুনানি করা হোক।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার ৯ নং বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমান আপত্তি দাখিল এবং এ বিষয়ে শুনানির জন্য ৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।

এর আগে ২২ নভেম্বর ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে এ মামলায় রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইয়ের একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। খালেদাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়াও মামলায় রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার সাক্ষ্য নিতেও আবেদন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। আদালত শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় নাইকো দুর্নীতি মামলাটি করেন।

মামলা করার পরের বছর ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া-বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুদকের দায়ের করা দুই মামলায় ১০ ও ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। আপিলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড বেড়ে ১০ বছর এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালতে ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা হয়। সেখান থেকেই গত ৬ অক্টোবর চিকিৎসকদের পরামর্শে খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নেয়া হয়। টানা এক মাস ২ দিন বিএসএমএমইউয়ে চিকিৎসা নেয়ার পর ৮ নভেম্বর তাকে কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

নিউজবিডি৭১/আ/ডিসেম্বর ৯ , ২০১৮




‘ধরা পড়েছে মঙ্গলে বাতাসের অস্তিত্ব’

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : মঙ্গলে বাতাসের অস্তিত্ব ধরা পড়েছে নাসার পাঠানো ইনসাইড ল্যান্ডারের সেন্সরে। এর মাধ্যমে মানুষ মঙ্গলে প্রথম বারের মতো বাতাসের শব্দ শুনতে পেলো। পাশাপাশি জীবনের আশাও জাগলো।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা (নাসা) শুক্রবার এ কথা জানিয়েছে। নাসা বলছে, মঙ্গলে দমকা বাতাসের শব্দ শোনা গেছে। এই বাতাস সেকেন্ডে পাঁচ থেকে সাত মিটার বয়ে চলছে। ইনসাইড ল্যান্ডারের সোলার প্যানেলের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বাতাসের এ শব্দ রেকর্ড করা হয়েছে।

দুইটি সেন্সর বাতাসের শব্দ তরঙ্গ সনাক্ত করে। ল্যান্ডারের ভিতরে বাতাসের চাপ পরিমাপের সেন্সর এবং ল্যান্ডের ডেকে স্থাপিত সিসমোমিটার বাতাসের এ শব্দ তরঙ্গ সনাক্ত করে।

শব্দ তরঙ্গের প্রথম ১৫ মিনিটের তথ্য সিসমোমিটার থেকে পাওয়া যায়। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের প্রধান পর্যালোচক থমাস পিক এক কনফারেন্সে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বাতাসে ছোট্ট একটি পতাকা ওড়লে যেরকম শব্দ হয় একই রকম শব্দ ল্যান্ডারের সেন্সরে ধরা পড়েছে।

উল্লেখ্য, মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার রোবট ‘ইনসাইড ল্যান্ডার দীর্ঘ প্রায় সাত মাসের মহাকাশ যাত্রা সম্পন্ন করে আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী ২৬ নভেম্বর সোমবার সন্ধ্যা সাতটা ৩৫ মিনিটে মঙ্গলের ভূ-পৃষ্ঠে অবতরণ করে। মঙ্গলের গভীরতম স্থান গবেষণার জন্যই মূলত এটিকে পাঠানো হয়েছে। সূত্র : ডেকানক্রনিকাল

নিউজবিডি৭১/আ/ডিসেম্বর ৮ , ২০১৮




আজ খালেদার আপিলের শুনানি: সিদ্ধান্ত বিকালে

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিলের শুনানি নিলেও সিদ্ধান্ত সঙ্গে সঙ্গে দেয়নি নির্বাচন কমিশন।

আজ শনিবার দুপুরে শুনানির পর ইসির আপিল কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিকালে এই বিষয় সিদ্ধান্ত জানাবেন তারা।

এই সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডের পর কারাবন্দি খালেদা জিয়া একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না।

কারাগারে থেকেই ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

কিন্তু দণ্ডিত হওয়ায় বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেই মনোনয়নপত্রগুলো বাতিল করায় ইসিতে আপিল করেন তিনি।

আজ শনিবার নির্বাচন ভবনে আপিলের তৃতীয় ও শেষ দিনের শুনানিতে সিইসি কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে তিন আসনের তিনটি আবেদন একসঙ্গে শুনানি নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন খালেদার আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী।

শুনানির সময় সিইসি নূরুল হুদা খালেদার আইনজীবীকে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য তুলে ধরতে বলেন। নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলামও বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় জানতে চান আইনজীবীর কাছে।

শুনানি শেষে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনে রায় পরে জানানো হবে।

“৩৮৫, ৪৭৮ ও ৪৪০ আপিল আবেদন পেন্ডিং রাখা হল। কমিশন পুনর্বিবেচনা করে শুনানি গ্রহণ করে বিকাল ৫টায় রায় দেবে।”

বিএনপির আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আশা করি, রিটার্নিং অফিসার যে অবৈধ সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, সে বেআইনি সিদ্ধান্তটা ইসি বাতিল করবেন। ৫টায় রায় দেবে বলেছে। আমরা আশা করছি, নিরপেক্ষভাবে রায় দেবে ইসি; খালেদা জিয়া ভোটে অংশ নিতে পারবেন।”

খালেদা জিয়ার মতোই মামলার কারণে বিএনপির চারজন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও যশোরের সাবিরা সুলতানার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। আপিল করেও প্রার্থিতা ফেরত পাননি তারা।

নিউজবিডি৭১/আ/ডিসেম্বর ৮ , ২০১৮




আজ দুপুরে খালেদার মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করবে বিএনপি। আজ বুধবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনে এ আপিল আবেদন করা হবে।

দলটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, খালেদা জিয়ার আমমোক্তারনামা কিংবা অ্যাটর্নি যারা পেয়েছেন, তারা এই আবেদন করবেন।

অ্যাটর্নিরা হচ্ছেন, ফেনী-১ ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বগুড়া-৬ ব্যারিস্টারে নওশাদ জমির ও বগুড়া-৭ অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

কারাবন্দি খালেদা জিয়া তিনটি আসনে নির্বাচন করতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে রোববার তিনটি আসনেই তা বাতিল করেন রিটার্নিং অফিসার।

ফেনী-১ আসন ও জিয়া পরিবারের আসন বলে পরিচিত বগুড়া-৬ (সদর) ও বগুড়া-৭ আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।

এর মধ্যে বগুড়া-৭ আসনে খালেদা জিয়ার বিকল্প প্রার্থী মোরশেদ মিল্টনেরও মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে বাকি দুই আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা খালেদা জিয়ার বিকল্প প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন।

এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিলের বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন তার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরোদ্দোজা বাদল।

রোববার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।

খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এ বিষয়ে তার আইনজীবী হিসেবে আপনারা কী পদক্ষেপ নেবেন- জানতে চাইলে ব্যারিস্টার বাদল বলেন, সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রীদের মামলা থাকা সত্ত্বেও তাদের পদ অবৈধ হয়নি।

‘আর বিএনপিসহ সরকার বিরোধীদের নির্বাচনের বাইরে রাখতে আদালতের মাধ্যমে এই কৌশল নিয়েছে সরকার। আমরা খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করবো, উচ্চ আদালতে যাব।’

নিউজবিডি৭১/আ/ডিসেম্বর ৫ , ২০১৮




জামায়াত নেতার রংপুর-৫ আসনে মনোনয়ন গ্রহণের নির্দেশ

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : রংপুর-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জামায়াতের রংপুর জেলার নেতা গোলাম রব্বানীর মনোনয়নপত্র জমা নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

আজ বুধবার এ আদেশ দেন আপিল বিভাগ।

এর আগে সোমবার গোলাম রব্বানীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দিয়েছিলেন।

এর আগে ৩ ডিসেম্বর গোলাম রব্বানী বলেন, গত ২৮ নভেম্বর দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে আইনজীবী বায়জিদ ওসমানি প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রসহ আমার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্ধারিত কার্যালয়ে যান। দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকার পরও তাকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কক্ষে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

এমনকি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাকে হয়রানি করা হয়। শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র গ্রহণে অপারগতা জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে শনিবার নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেও কোনো ফল না পাওয়ায় এ রিট আবেদন করেছিলেন রব্বানী।

নিউজবিডি৭১/আ/ডিসেম্বর ৫ , ২০১৮




‘আপিলের শুনানি শুরু আগামীকাল’

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ে রেকর্ডসংখ্যক মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় আপিলের হিড়িক পড়েছে নির্বাচন কমিশনে। তাই প্রার্থিতা ফিরে পেতে মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে গত দুই দিনে আপিল করেছেন ৩১৮ জন সংক্ষুব্ধ প্রার্থী।

নির্বাচনে অংশ নিতে মোট ৩ হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। গত ২ ডিসেম্বর বাছাইয়ের পর নানা কারণে ৭৮৬টি বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে অনেকেই প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন করেছেন।

আজ বুধবার এই আপিল গ্রহণের শেষ দিন।

আগামী বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে আপিলের শুনানি শুরু হবে। শুনানিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) অন্যান্য কমিশনার, ইসির সচিব ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা উপস্থিত থাকবেন। ইতোমধ্যে নির্বাচন ভবনের ১১ তলায় শুনানির জন্য ট্রায়াল রুম তৈরি করেছে ইসি।

মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) দ্বিতীয় দিনের মতো মনোনয়ন ফিরে পেতে আপিল করে ২৩৪ জন। প্রথম দিন সোমবার ৮২ জন আপিল করেছিলেন। সব মিলিয়ে দুদিনে আপিলকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১৬।

মঙ্গলবার আপিলকারী ২৩৪ জনের মধ্যে রংপুর বিভাগের ২৭, রাজশাহীর ২২, ঢাকার ৬৮, বরিশালের ১২, সিলেট ১৫, ময়মনসিংহের ১৬, খুলনার ১৮ ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৫৬টি আপিল দাখিল করেছে।

এ ছাড়াও বগুড়া ৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী হাফিজুর রহমান দলটির আরেক প্রার্থী আক্তারুজ্জামানের মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।

আপিলকারীদের মধ্যে অন্যতমরা হলেন, বিএনপি প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সোহেল রানা, মেজর (অব.) মনজুর কাদের, ইমরান এইচ সরকার প্রমুখ।

এক শতাংশ ভোটার না থাকা, ত্রুটিপূর্ণ মনোনয়ন, লাভজনক পদে থাকা, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা, আয়কর রিটার্ন দাখিল না করা, ঋণ খেলাপি, দণ্ডপ্রাপ্ত এবং অন্যান্য কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল।

সোমবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময়সীমা থাকলেও সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আপিল গ্রহণ করা হয়। বুধবার (৫ ডিসেম্বর) আপিল গ্রহণের শেষ দিন। ৬ ডিসেম্বব থেকে আপিল গ্রহণের ওপর শুনানি চলবে। ৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। ভোট গ্রহণ ৩০ ডিসেম্বর।

নিউজবিডি৭১/আ/ডিসেম্বর ৫ , ২০১৮




আত্মহত্যার প্ররোচনা: মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ায় দুই জনের কারাদন্ড

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগের একটি মামলায় মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ায় দুই সাক্ষীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সাক্ষীদের প্রভাবিত করায় মামলার একমাত্র আসামির জামিন বাতিল করে তাকেও কারাগারে পাঠিয়েছেন।

কারাগারে যাওয়া দুই আসামি হলেন- ঢাকার কদমতলীর মৃত বজলুর রহমানের ছেলে আবদুস সত্তার ও লক্ষ্মীপুর সদর থানাধীন দত্তপাড়ার খোকন মিয়ার স্ত্রী লাকি বেগম।

মঙ্গলবার ঢাকার নিু আদালতে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটে। মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার অভিযোগে ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান ওই দু’জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করারও আদেশ দিয়েছেন। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে নিয়মিত মামলা করার আদেশ দেয়া হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, আবদুস সত্তার ও লাকি বেগম কদমতলী থানার ৩০(১০)০৮ নম্বর মামলার চার্জশিটভুক্ত সাক্ষী। মঙ্গলবার তারা আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসেন।একমাত্র আসামি মনিরুজ্জামান পলাশও হাজির হন।

সাক্ষীরা পুলিশের কাছেও মামলার ঘটনার বিষয়ে জবানবন্দি প্রদান করেন। কিন্তু মঙ্গলবার তারা আদালতে হাজির হয়ে মামলার ঘটনা সংক্রান্তে কোন সাক্ষী প্রদান না করে বরং পুলিশের কাছে তারা কোন সাক্ষ্য দেননি বলে জানান। পরে আদালতের জিজ্ঞাসাবাদে তারা কোনো সমন না পেয়ে আসামির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সাক্ষ্য দিতে এসেছেন বলে স্বীকার করেন।

এরপর আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে সাক্ষীদের প্রভাবিত করায় আসামিরও জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

২০০৪ সালের ৫ অক্টোবর ঢাকার নবাবগঞ্জ থানাধীন জাহানাবাদের কায়সার আহমদের মেয়ে সৈয়দা অনামিকা ওরফে সোমার (২৬) কদমতলীর মনিরুজ্জামান পলাশের সঙ্গে বিয়ে হয়।

পরে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য সোমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে তার স্বামী। নির্যাতন সইতে না পেরে ২০০৮ সালের ৩ অক্টোবর ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সোমা শ্বশুরবাড়ির ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

এ ঘটনায় ওই বছরের ১৬ অক্টোবর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন নিহতের বাবা। তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২১ আগস্ট এ মামলায় চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।

নিউজবিডি৭১/আ/ডিসেম্বর ৫ , ২০১৮




আত্মহত্যার ঘটনাকে হৃদয় বিদারক বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : শিক্ষকের কাছে বাবার অপমান সইতে না পেরে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলের প্রধান শাখার শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারীর (১৫) আত্মহত্যার ঘটনাকে হৃদয় বিদারক বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। মেয়ের সামনে বাবা-মাকে অপমান করা বাজে ঘটনার দৃষ্টান্ত বলেও অভিহিত করেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত অরিত্রির আত্মহত্যা সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনা হয়। এরপর বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

শুনানিকালে তিনি আদালতকে বলেন, আমরা এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা প্রার্থনা করছি। এরপর আদালত বলেন, অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনা খুবই হৃদয় বিদারক। শিক্ষার্থীর সামনে বাবা-মাকে অপমানের ঘটনাকে বাজে রকমের দৃষ্টান্ত।

পরে আদালত ওই আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, আপনি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে রিট দায়ের করেন। আমরা বিষয়টি দেখবো।

নিউজবিডি৭১/আ/ডিসেম্বর ৪ , ২০১৮




কারগারে বিএনপি নেতা খায়রুল কবির!

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-১ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খায়রুল কবির খোকনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নরসিংদী জজ কোর্টের জেলা ও দায়রা জজ মো. আতাবুল্লাহ তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

খায়রুল কবির খোকন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলার সভাপতি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি বিষ্ফোরক আইন ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে নরসিংদী সদর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। ওই মামলায় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের ২৭ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। সেখানে বিএনপি নেতা খায়রুল কবির খোকনের নাম ছিল না। ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ২৫ নভেম্বর ২৭৩ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সেখানে খোকনকেও অভিযুক্ত করা হয়।

বিষয়টি জানতে পেরে দুপুরে নরসিংদী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন খোকন। আদালতের বিচারক মো. আতাবুল্লাহ জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগের দিন বুধবার সকালে তিনি আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নরসিংদী-১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

নরসিংদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও খায়রুল কবিরের ব্যক্তিগত আইনজীবী আবদুল বাছেত ভূঁঞা বলেন, ‘এটি আসলে একটি গায়েবি মামলা। গত ৮ তারিখে নরসিংদীতে এমন কোনো কিছু হয়নি। তারপরও পুলিশ বিশেষ ক্ষমতা আইনে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের ২৭ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। সেখানে খায়রুল কবির খোকন এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন না। কিন্তু তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হওয়ায় উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে গত ২৫ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খায়রুল কবির খোকনসহ ২৭৩ জনের নাম উল্লেখ করে চার্জশিট দেন।’

আবদুল বাছেত ভূঁঞা আরো বলেন, ‘এ ঘটনায় আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন খোকন। কিন্তু আদালত তাঁকে কারগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। যেহেতু সামনের নির্বাচনে তিনি একজন প্রার্থী সেহেতু আমরা প্রয়োজনে উচ্চ আদালতের সহযোগিতা চাইব।’

নিউজবিডি৭১/আ/নভেম্বর ২৯, ২০১৮




৩০ জানুয়ারি খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা নাশকতা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে ৩০ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৬ এর বিচারক এস মোহাম্মদ আলী এ আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য ছিল বৃহস্পতিবার। কিন্তু মামলাটি উচ্চ আদালতে স্থগিত থাকায় অভিযোগ গঠন শুনানির পেছানোর আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

নথি থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের একটি বাসে পেট্রলবোমা ছোড়া হয়। এতে বাসের ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় নূর আলম (৬০) নামে এক যাত্রী মারা যান। পরে ২৪ জানুয়ারি এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) কে এম নুরুজ্জামান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

২০১৫ সালের ৬ মে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) বশির উদ্দিন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বিশেষ ক্ষমতা আইনে বিএনপি চেয়ারপারসনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন, শওকত মাহমুদ প্রমুখ।

নিউজবিডি৭১/আ/নভেম্বর ২৯, ২০১৮




‘দুর্নীতির মামলায় দণ্ড স্থগিত হলে ওই ব্যক্তি নির্বাচন করতে পারবেন’

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তির সাজা ও দণ্ড স্থগিত হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. রইস উদ্দিনের একক বেঞ্চ যশোর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও প্রাক্তন উপজেলা চেয়ারম্যান সাবিরা সুলতানার ছয় বছরের সাজা ও দণ্ড স্থগিত করে এ আদেশ দেন।

এ আদেশের ফলে সাবিরা সুলতানার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে কোনো আইনগত বাধা থাকলো না বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম আমিনুল ইসলাম।

তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

গত ১২ জুলাই সম্পদের তথ্য গোপন মামলায় সাবিরা সুলতানাকে ৬ বছরের দণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে তা শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাইকোর্ট।

আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়ে বলেছেন, কোনো ব্যক্তির দণ্ড আপিল বিভাগে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার সাজা বা দণ্ড চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে না। তবে আপিল চলাকালে তার সাজা বা দণ্ড স্থগিত হলে তিনি নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হবেন না। বিচারিক আদালতে দণ্ডিত ব্যক্তির সাজা কিংবা দণ্ড স্থগিত করার ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগের রয়েছে বলেও পর্যবেক্ষণে বলা হয়।

এসময় অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, এ আদেশের পর থেকে যারা নির্বাচনে অংশ নিতে চান তারা হাইকোর্টে সাজা বা দণ্ড স্থগিত চেয়ে আবেদন করে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

গেল ২৮ নভেম্বর বিচারিক আদালতে কোনো ব্যক্তি ২ বছরের অধিক সাজাপ্রাপ্ত হলে তিনি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন না বলে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে বিচারিক আদালতের সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে দণ্ড স্থগিত করা হলে কিংবা আপিল চলাকালে কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে দণ্ড স্থগিত কিংবা বাতিল হলে ওই ব্যক্তির নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা থাকবে না।

নিউজবিডি৭১/আ/নভেম্বর ২৯, ২০১৮




২১ আগষ্ট মামলার রায়ের কপি হাইকোর্টে

নিউজবিডি৭১ডটকম

নিউজ ডেস্ক:  বহুল আলোচিত একুশে আগষ্ট নৃশংস গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারিক আদালতের রায়সহ অন্যান্য নথিপত্র হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুই মামলার রায়সহ এসব নথিপত্র ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার আদালত থেকে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

হাইকোর্টে পাঠানো নথির মধ্যে রয়েছে- এ ঘটনার হত্যা মামলার ৩৬৯ পাতার মূল রায়ের কপি, বিস্ফোরক আইনের মামলার ৩৫৬ পাতার মূল রায়ের কপি, রাষ্ট্রপক্ষ, আসামিপক্ষের সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা, তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া সাক্ষীদের জবানবন্দি, যুক্তিতর্ক, আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য, আদালতে দেওয়া আসামিদের স্বীকারোক্তি, আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের হাজিরা ও দরখাস্তের সার্টিফাইড কপিসহ মোট ৩৭ হাজার ৩৮৫ পৃষ্টার নথি।

এর আগে গত ১০ অক্টোবর ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে বিএনপি নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এ মামলার ১১ আসামিকে।

পুরানো ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন ভবনে স্থাপিত বিশেষ এজলাসে ১৪ বছর আগের হামলার ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলায় বিচার শেষে রায় দেন।

রায় ঘোষণার ৪৮ দিন পর নথি মঙ্গলবার দুপুরে পৃথক লাল কাপড়ে মুড়িয়ে কড়া পুলিশ প্রহরায় হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ৩৬৯ ও ৩৫৬ পৃষ্ঠার পৃথক দুটি রায় লিখেছেন বিচারক শাহেদ নুরুদ্দিন। পুরো রায়টিই ইংরেজিতে লেখা হয়েছে, যদিও নিম্ন আদালতের রায় বাংলায় লেখার বিধান রয়েছে।

এদিকে, আদালত সংশ্নিষ্ঠরা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুসারে মৃতূ্যদণ্ডাদেশপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিশ্চিতকরণ) অনুমোদনের জন্য নথি হাইকোর্টে সংশ্নিষ্ঠ শাখায় পাঠানো হবে। সেখানে যাচাই-বাছাই, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পেপারবুক তৈরির জন্য সংশ্নিষ্ঠ শাখায় যাবে। পেপারবুক প্রস্তুত হলেই রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এ মামলা দ্রুত শুনানির জন্য আবেদন করা হবে।

অন্যদিকে, রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডপ্রাপ্তরা আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ডেথ রেফারেন্সসহ আসামিদের আপিল শুনানি এক সঙ্গে শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।

২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন; আহত হন কয়েকশ নেতাকর্মী। সেদিন অল্পের জন্য প্রানে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে শ্রবণশক্তি হারান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আদালতের দেওয়া রায়ে দণ্ডিতদের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া এ মামলায় পলাতক ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয।

রায়ে বলা হয়, পরিকল্পনা ও অপরাধমুলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০২/১২০খ/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া যেসব আসামি পালিয়ে আছেন, তারা যেদিন আত্মসমর্পণ করবেন বা যেদিন তাদের গ্রেফতার করা হবে, সেদিন থেকেই তাদের দণ্ডাদেশ কার্যকর হবে। পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন আদালত। অনাদায়ে আসামিদের আরও এক বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

নিউজবিডি৭১/বিসিপি/ ২৭ নভেম্বর, ২০১৮