জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ শুরু আজ

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : পুষ্টি বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও পুষ্টি উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে অভীষ্ঠ অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে আজ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০১৮। জনগণের খাদ্যাভাস ও খাদ্য পরিকল্পনায় পুষ্টির বিষয়টিকে গূরুত্ব দেয়ার লক্ষ্যে এবছর পুষ্টি সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারন করা হয়েছে ‘খাদ্যের কথা ভাবলে পুষ্টির কথাও ভাবুন’। দীর্ঘ ১৯ বছর পর এবছর পালিত হচ্ছে পুষ্টি সপ্তাহ। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে ২৩ এপ্রিল থেক ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই সপ্তাহ।

প্রাক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের অপুষ্টির বিষয়টিও এই জাতীয় পুষ্টি কর্মপরিকল্পনায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। দেশের সবচেয়ে দুস্থ ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষ যাদের দারিদ্র্য ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে, যারা প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার এবং যারা অতি প্রান্তিক এলাকায় বসবাস করে তাদেরও পুষ্টি নিশ্চিত করা হবে। এছাড়াও যক্ষ্মা ও এইচআইভি ও এইডস রোগী এবং অপুষ্টিতে আক্রান্ত অন্যান্য জনগোষ্ঠীও অগ্রাধিকার পাবে।

২০২৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অপুষ্টি হ্রাস করতে ‘জাতীয় পুষ্টিনীতি ২০১৫’ ও অন্যান্য নীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুসরণ করে দ্বিতীয় জাতীয় পুষ্টি কর্মপরিকল্পনায় (২০১৬-২০২৫) কয়েকটি সূচক ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের ন্যাশনাল নিউট্রিশন সার্ভিসের (এনএনএস) ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ আমান উল্লাহ বলেন, এসব অভীষ্ঠ অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই এবার ১৯ বছর পর দ্বিতীয়বার ‘জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০১৮’ পালন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে ২৩ এপ্রিল থেক ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের প্রথম দিনে পাশাপাশি মেলা ও র‌্যালির আয়োজন করা হবে।

দ্বিতীয় দিনে গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, তৃতীয় দিনে ৫ বছরের নিচে সব শিশুর পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, চতুর্থ দিনে কিশোরী ও স্কুল পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, পঞ্চম দিনে বৃদ্ধদের পুষ্টি, ওয়াটার, স্যানিটেশন ও হাইজিন নিশ্চিতকরণ, ষষ্ঠদিনে বহুপাক্ষিক অবহিতকরণ ও সমন্বয় এবং সমাপনী দিনে পুষ্টি বিষয়ে রচনা, বিতর্ক প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণ করা হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয় সূত্রে জানা গেছে, পুষ্টি ক্ষেত্রে বিগত ২০০৭ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ১ শতাংশ হারে ৫ বছরের নিচের শিশুদের খর্বতা হ্রাস পেয়েছে। শিশুদের জন্য ভিটামিন এ-প্লাস ক্যাম্পেইনের সাফল্যের কারনে এখন আর রাতকানা রোগ দৃশ্যমান নয়।

মোহাম্মদ আমান উল্লাহ জানান, বর্তমান সরকারের আমলে বিভিন্ন হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিকে শূণ্য থেকে ৫ বছর বয়সি শিশুদের ওজন পরিবীবক্ষন ও কাউন্সেলিং-এর জন্য ‘গ্রোথ মনিটরিং এ্যান্ড প্রোমোশন কার্ড’ (জিএমপি) কার্ড সরবরাহ করা হয়েছে।

মারাত্মক অপুষ্ট শিশুদের জন্য ২০২টি জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘স্যাম’ কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি, শিশুদের পুষ্টি সেবার জন্য ৪২৪ টি জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘আইএমসিআই ও পুষ্টি কর্নার’ স্থাপন করা হয়েছে।

একই সময়ে মহিলাদের রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধের লক্ষ্যে ৪৮ কোটি আয়রন ট্যাবলেট বিতরন করা হয়েছে। পুষ্টি ও অন্যান্য অনুপুষ্টি বিষয়ে ৩৮ হাজার ৫৪১জন চিকিৎসক ও নার্সকে প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে। শাকসবজি, মাছ, মাংস, দুধ, ডিমতেলবীজের উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি খাদ্য বিতরনে অনুপুষ্টি সমৃদ্ধ চাল বরাদ্দ করা হচ্ছে।

নিউজবিডি৭১/আ/২৩ এপ্রিল, ২০১৮




ব্রেন স্ট্রোক আসলে কী? কাদের বেশি হয়?

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : ব্রেন স্ট্রোক – সাধারণ পর্যায়ে অনেকে ব্রেন স্ট্রোক আর হার্ট অ্যাটাককে একই বিষয় মনে করে গুলিয়ে ফেলেন। বাস্তবে কিন্তু তা নয়। আসুন প্রথমে জেনে নিই ব্রেন স্ট্রোকের লক্ষণগুলো কি কি-

হাত-পায়ে অবশ ভাব

জুতোর ফিতে বাঁধতে সমস্যা

মুখের অসাড়তা, কথা জড়িয়ে যাওয়া

বেসামাল হাঁটা-চলা

ঘাড়ে-মাথায় যন্ত্রণা, বমি, সংজ্ঞা হারানো

স্ট্রোক বিষয়ে শারীরবিদদের ব্যাখ্যা : হৃদযন্ত্রের ধমনীতে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হলে হার্ট অ্যাটাক হয়। আর মস্তিষ্কে রক্তের জোগান কমলে হয় ব্রেন স্ট্রোক। কোনো ধমনী আচমকা ছিঁড়ে গেলে মস্তিষ্কে রক্তপাত হয়। এই ‘সেরিব্রাল হেমারেজ’ই ব্রেন স্ট্রোকের অন্যতম কারণ।

কখনো দেখা যায় কোনো কারণে ধমনী সরু হয়ে মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। এর ফলেও ব্রেন স্ট্রোক হতে পারে, ডাক্তারি পরিভাষায় এর নাম ‘সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস’।

সেরিব্রাল হেমারেজ বা থ্রম্বোসিস- কোনোটাই কিন্তু একেবারে জানান না-দিয়ে আচম্বিতে আসে না। বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, দুটি ক্ষেত্রেই বেশ ক’দিন আগে থেকে ধমনীতে রক্ত চলাচলে সমস্যা হয়। আর নিয়মিত রক্তচাপ মাপলেই ধরা পড়ে, শরীরের ভেতরে কোথাও না-কোথাও একটা সমস্যা হচ্ছে। তবে বিপদের সেই ‘ইঙ্গিত’কে গুরুত্ব না-দেওয়ার প্রবণতাটাই চিকিৎসকদের বেশি ভাবাচ্ছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে রোগী, রোগীদের পরিজন ও অচিকিৎসক কর্মীদের ওপরে একটি ‘স্ট্রোক সচেতনতা’ সমীক্ষা চালিয়েছিলেন স্নায়ুরোগের চিকিৎসকেরা। দেখা গিয়েছে, ৬০%-৬৮% মানুষের ধারণা, স্ট্রোক হয় শুধু বুকে (অর্থাৎ হৃদযন্ত্রে) হয়। বুক ব্যথা করে। ওঁরা জানেনই না যে, এর সঙ্গে মস্তিষ্কেরও যোগাযোগ থাকতে পারে।

এ ছাড়া নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোলজির নিউরোমেডিসিনের চিকিৎসকেরা পাঁচ বছর ধরে বারুইপুরের রামনগরে ২০ হাজার মানুষের ওপর সাধারণ স্নায়ুরোগ সম্পর্কে সমীক্ষা চালিয়েছিলেন। সমীক্ষকদের অন্যতম চিকিৎসক শঙ্করপ্রসাদ সাহার আক্ষেপ, ‘স্ট্রোক জিনিসটা কী, সেটা কোথায়, কেন হয়, সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল মাত্র ২০%! স্ট্রোকের হার কমানোর পথে এটাই তো সবচেয়ে বড় বাধা।’

অপরদিকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৯ হাজার স্ট্রোক-আক্রান্তকে নিয়ে সমীক্ষা চালিয়েছে ‘স্ট্রোক ফাউন্ডেশন অব বেঙ্গল’। তাদের রিপোর্ট ইন্দোরে ‘ইন্ডিয়ান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশন কংগ্রেস’-এর বার্ষিক অধিবেশনে পেশ হয়েছে। সমীক্ষকদের অন্যতম চিকিৎসক দীপেশ মণ্ডল জানান, পশ্চিমবঙ্গে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাঁদের ৫০% সে সম্পর্কে জ্ঞাত নন। যাঁরা জানেন, তাঁদের অর্ধেক আবার চিকিৎসাই করান না, কিংবা নিয়মিত ওষুধ খান না। ফলে স্ট্রোক নিঃশব্দে থাবা বসায়।

স্ট্রোক সম্পর্কে মানুষের এ হেন ‘অজ্ঞানতা’ই মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব বাড়াচ্ছে বলে মনে করেন চিকিৎসক নিখিল বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে আচমকা কারো ঘাড়ে-হাতে যন্ত্রণা শুরু হলে লোকে ভেবে ফেলবে, শোওয়ার দোষ! মাথা ব্যথা করলে মনে করবে এসিড। হাত-পা ঝিনঝিন করে অবশ হতে লাগলে ভাববে বাত। কিছুতেই ভাবতে পারবে না যে, এগুলো স্ট্রোকেরও লক্ষণ হতে পারে!’

স্নায়ুরোগ-চিকিৎসক পরিমল ত্রিপাঠীর বক্তব্য, ‘উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত হেল্থ চেক-আপ জরুরি। কিন্তু এখানকার অধিকাংশ মানুষ উদাসীন। মধ্যবিত্তদের কাছে হেল্থ চেক-আপ মানে বিলাসিতা। অথচ এটা করলে ফি বছর প্রায় ১০ লাখ লোক স্ট্রোক এড়াতে পারেন।’

বস্তুত হু-র রিপোর্ট অনুযায়ী ব্রেন স্ট্রোকের আক্রমণ-হার এখন ‘সিক্স-ইন-ওয়ান’। অর্থাৎ সারা বিশ্বে যেখানেই হোক, ছয়টি মানুষ যদি একত্রিত হন, দেখা যাবে, তাঁদের একজন না-একজন জীবনে কখনো না-কখনো এই রোগের কবলে পড়েছেন, বা পড়তে পারেন!

ধূমপান নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য

বিশেষজ্ঞদের মতে ধূমপান শুধু স্ট্রোকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ তাই নয়, ধূমপায়ীদের কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি ২০০০ ভাগ, ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি ১২০০০ ভাগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে ৮ ভাগ বেশি বলে তথ্য দিয়েছেন। তবে আশার কথা হচ্ছে যাদের নীরব স্ট্রোক হয়েছে তারা যদি ধূমপান ছেড়ে দেন তবে স্ট্রোকের তীব্রতা কমতে সহায়ক হতে পারে।

আসুন জেনে নেই স্ট্রোক আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কাদের কাদের বেশি

যাদের রক্তচাপ ১২০/৮০-এর চেয়ে বেশি

ধূমপায়ী

যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে এবং রাতে ঘুমের সমস্যা হয়। এ ছাড়া যাদের রক্তে হোমোসিসটিনের মাত্রা বেড়ে যায়।

যাদের হিপের পরিমাপ কোমরের পরিমাপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং রক্তে সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিনের মাত্রা বেশি।

যাদের দৈনিক ২০ মিনিট সাঁতার কাটা অথবা দৌঁড়ানোর অভ্যাস নেই।

যারা মদ্যপান করেন।

যাদের পিতা-মাতা বা ভাই-বোন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন।

এমন ব্যক্তি যিনি মাসে একবারও মাছ খান সবজিও শস্যকণা কম আহার করেন এবং যিনি খাবারে বাড়তি লবণ খান।

নিয়মিত দাঁতের যত্ন-পরিচর্যা করেন না।

যারা মুক্ত বাতাসে ভ্রমণ করেন না। যাদের আলসার আছে। যারা অবিবাহিত। যারা বেশি হতাশায় ভোগেন এবং যারা রাগ-ক্রোধ সংবরণ করতে পারেন না।

এ বিষয়গুলো জানার পর দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর হোন, যেসব প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা আপনার নিজের কাছেই আছে সেগুলো প্রয়োগ করুন আর প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এখানে কিছু টিপস দেওয়া হলো। স্ট্রোক প্রতিরোধে প্রয়োজনে অনুসরণ করুন।

নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা

চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দেশিত ওষুধ-পথ্য নিয়মিত গ্রহণ

নিয়ম করে হাঁটা

দৈনিক খাদ্যাভ্যাসে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন

ওজন নিয়ন্ত্রণ

নিউজবিডি৭১/আ/২২ এপ্রিল, ২০১৮




ব্যথা নিরাময়ে সাহায্য করবে যেসব তেল

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : অলিভ অয়েল ও নারিকেল তেলের উপকারিতার কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু আরো কিছু সহজলভ্য এসেনশিয়াল অয়েলের স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা কি জানেন? এসেনশিয়াল অয়েল আসলেই অনেক বেশি শক্তিশালী যা ব্যথা কমায় চমৎকার ভাবে। আপনার ঘরের মেডিসিনের কেবিনেটে এই তেলগুলো রাখার প্রয়োজনীয়তা কেন সে বিষয়ে জেনে নিই চলুন।

১. মাথাব্যথা দূর করে পিপারমেন্ট অয়েল বা মেন্থল তেলঃ

মাথা ব্যথার সমস্যা দূর করার জন্য ২-৩ ফোঁটা মেন্থল তেল কপালে লাগিয়ে হালকাভাবে মালিশ করুন। ব্যথা ও টেনশন কমাতে সাহায্য করে মেন্থল তেল। সাইনাসের কারণে যে মাথাব্যথা হয় তাও নিরাময়ে সাহায্য মেন্থল তেল।

২. জয়েন্টের ব্যথা কমায় ক্যাস্টর অয়েলঃ

অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদানে সমৃদ্ধ হওয়ায় ক্যাস্টর অয়েল পেশীর ব্যথা ও উদ্দীপ্ত স্নায়ুর সমস্যা সমাধানের অত্যন্ত কার্যকরী ঘরোয়া প্রতিকার। যেহেতু এই তেল খুব দ্রুত ত্বক দ্বারা শোষিত হয় তাই জয়েন্টের ব্যথা কমতেও সাহায্য করে। দ্রুত ব্যথা কমাতে চাইলে দিনে দুইবার ক্যাস্টর অয়েল লাগান।

৩. দাঁত ব্যথা কমায় লবঙ্গের তেলঃ

লবঙ্গ তেলে ইউজেনল থাকে যা অ্যান্টিসেপ্টিক গুণ সম্পন্ন। এ কারণেই দাঁত ব্যথা কমাতে সাহায্য করে লবঙ্গের তেল। এছাড়াও এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ও আছে। যা মাড়ির ইনফেকশন প্রতিরোধে সাহায্য করে। একটি তুলার বলের মধ্যে লবঙ্গ তেল লাগিয়ে ব্যথাযুক্ত দাঁতে ও মাড়িতে লাগান।

৪. কান ব্যথা কমায় রসুনের তেলঃ

রসুনের তেল অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদানে পরিপূর্ণ থাকে। রসুনের তেল হালকা গরম করে কানে কয়েক ফোঁটা দিলে কান ব্যথা কমে। ঠান্ডা ও কাশির কারণে কানে ব্যথা হলে রসুনের তেল ব্যবহারে চমৎকার ফল লাভ করা যায়। এই তেল ব্যথাকে সহজ করার পাশাপাশি আবদ্ধ তরলকে বের হয়ে যেতেও সাহায্য করে।

৫. পিঠের ব্যথা কমতে সাহায্য করে ল্যাভেন্ডার অয়েলঃ

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে পিঠে ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। পিঠের ব্যথা দূর করার জন্য পিঠে ল্যাভেন্ডার অয়েল ম্যাসাজ করুন। ল্যাভেন্ডার অয়েলে ব্যথা কমানোর উপাদান আছে। এ কারণেই স্পাতে আকুপ্রেশার করার সময় ল্যাভেন্ডার অয়েল ব্যবহার করা হয়।

৬. পেশীর ব্যথা কমতে সাহায্য করে ক্যামোমিল অয়েলঃ

ক্যামোমিল অয়েলে অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান থাকে যা পেশীর ব্যথা বা খিঁচুনি কমতে সাহায্য করে। ক্যামোমিল অয়েল পিঠের নীচের অংশের ব্যথা, মাথাব্যথা এবং PMS এর ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে।

নিউজবিডি৭১/আ/২২ এপ্রিল, ২০১৮




মুহাম্মদ (সাঃ) এর ১৪০০ বছর আগে বাণী আজ বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, “পুরুষের প্যান্ট বা কাপড় পায়ের টাখনুর উপর পড়তে হবে। অন্যথায় তারা জাহান্নামে যাবে।”

– (সহীহ বুখারী ৫৩৭১)

বিজ্ঞান বলে, পুরুষের টাখনুর ভিতর প্রচুর পরিমানে হরমোন থাকে এবং তার আলো বাতাসের প্রয়োজন হয়। তাই কেউ যদি তা খোলা না রেখে ঢেকে রাখে, তাহলে তার যৌনশক্তি কমে যাবে এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবে।

মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, “ভ্রু প্লাগকারীর উপর আল্লাহর লানত”

– (সহীহ বুখারী ৫৫১৫)

বিজ্ঞান বলে, ভ্রু হলো চোখের সুরক্ষার জন্য। ভ্রুতে এমন কিছু লোম থাকে যদি তা কাটা পড়ে যায় তাহলে ভ্রুপ্লাগকারী পাগল হতে পারে, অথবা মৃত্যুবরণও করতে পারে।

রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “নেশা জাতীয় দ্রব্য খাওয়া হারাম”

– (সহীহ বুখারী ৬১২৪)

বিজ্ঞান বলে, ধুমপানের কারনে ফুস্ফুসের ক্যান্সার, ব্রংকাইটিস ও হৃদরোগ হয়ে মানুষ মারা যায়। ধুম্পান করলে ঠোট, দাতের মাড়ি, আঙ্গুল কালো হয়ে যায়। যৌনশক্তি ও ক্ষুধা কমে যায় এমনকি স্মৃতিশক্তি ও কমে যায়।

রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার হারাম।”

– (মুসলিম ১৬৫৫)

বিজ্ঞান বলে, স্বর্ণ এমন একটি পদার্থ যা স্কিনের সাথে মিশে ব্লাডের মাধ্যমে ব্রেনে চলে যায়। আর তার পরিমান যদি ২.৩ হয় তাহলে মানুষ তার আগের স্মৃতি সব হারিয়ে ফেলবে।

রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ঘুমানোর সময় আলো নিভিয়ে এবং ডান কাত হয়ে ঘুমাতে।

– (সহীহ বুখারী ৩২৮০)

বিজ্ঞান বলে, ডান কাত হয়ে ঘুমালে হার্ট ভালো করে পাম্প করে। আর লাইট না নিভিয়ে ঘুমালে ব্রেনের এনাটমি রস শরীরে প্রবেশ করতে পারে না, যার ফলে ক্যান্সার হওয়ার খুব সম্ভবনা থাকে।

রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা গোফ ছেটে ফেল এবং দাড়ি রাখ।”

– (সহীহ মুসলিম ৪৯৩ ও ৪৯৪)

বিজ্ঞান বলে, দাড়ি না রাখলে স্ক্রিন ক্যান্সার, ফুস্ফুসের ইনফেকশন এবং ৪০ এর আগে যৌবন হারানোর সম্ভবনা থাকে।

আল্লাহ সুবনাহু তায়ালা বলেন,“আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়োনা। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং ধ্বংসের পথ।”

– (বনি ইসরাঈল ৩২) নেশাগ্রস্থ শয়তানের কাজ (মাইদাহ ৯০)
বিজ্ঞান বলে, পর্নোগ্রাফি ও অশ্লীল সম্পর্ক সহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য নেশায় যদি কেউ জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তার ব্রেনের ফরেন্টাল এরিয়া পরিচালনা করার ইনটেলেকচুয়াল সেলগুলো থরথর করে কাপতে থাকে এবং অস্থির হয়ে যায়। যার ফলে সে নেশাগ্রস্থ হয়ে মাতাল ও অসুস্থের মত জীবন পরিচালনা করে। এবং তা তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।

আল্লাহ বলেন, “আর যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তাতে কান লাগিয়ে রাখ এবং নিশ্চুপ থাক যাতে তোমাদের উপর রহমত হয়।”
– (আরাফ ২০৪)

বিজ্ঞান বলে, কুরআনের সাউন্ড ওয়েব শরীরের সেলগুলোকে সক্রিয় করে, অসুস্থতা আরোগ্য করে বিশেষ করে হার্ট এবং ক্যান্সার রোগীদের। আর ব্রেনকে এমনভাবে চার্জ করে, ঠিক যেমন ভাবে ফিউজ হওয়া ব্যাটারীকে সচল করা হয়।

নিউজবিডি৭১/আ/২২ এপ্রিল, ২০১৮




মিথ্যা বললেই ধরে ফেলবে মোবাইলে ফোন!

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : এবার স্মার্টফোনে আসছে লাই ডিটেক্টর। মানে মিথ্যা বললেই ধরে ফেলবে ফোন। এই কাজটা করা হবে একটা অ্যাপের মাধ্যমে। অ্যাপ নির্মাতারা বলেছেন, স্মার্টফোনে চ্যাট করার সময় এবার সবাই সাবধান হোন।

কারো কাছে মিথ্যা বলে নিজেকে জাহির করতে গেলেই ধরা খাবেন! চ্যাটের সময় কে সত্য বলছে আর কে মিথ্যা বলছে তা এই অ্যাপে শনাক্ত করা যাবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিষয়টি এখনো গবেষণার স্তরে থাকলেও শিগগিরই তা বাস্তবে কার্যকরী হবে।

কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক দল এই অ্যাপ নিয়ে কাজ করছেন। এটি স্মার্টফোনে ডাউনলোড করে নিলে তা লাই ডিটেক্টর হিসেবে কাজ করবে।

গবেষকরা বলেছে, অ্যাপটি পর্দায় ফোন ব্যবহারকারীর হাতের টাচ, ট্যাপিং, সোয়াইপ ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে মুহূর্তেই ধরে ফেলবে যা লিখেছে তা সত্য কি না। ফোন যে কথাটি সত্যি বলে মেনে নেবে, তার পাশে সবুজ টিক চিহ্ন দেখা দেবে।

আর যে কথাটি তার কাছে মিথ্যা বলে মনে হবে, তার পাশে লাল ক্রস চিহ্ন উঠবে। এছাড়া আরো কিছু চিহ্ন উঠবে যেমন—সন্দেহজনক, নিশ্চিত নয় ইত্যাদি। শুধু অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের জন্যই অ্যাপটি আনা হচ্ছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। -নিউইয়র্ক টাইমস

নিউজবিডি৭১/আ/২২ এপ্রিল, ২০১৮




স্বচালিত গাড়ি আলিবাবা বানাচ্ছে!

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : চীনা ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা এবার বানাচ্ছে স্বচালিত গাড়ি। বুধবার চীনা পত্রিকা দ্য ডেইলি রিপোর্টের বরাতে আলিবাবা গ্রুপ নিশ্চিত করে বলেছে, ইতোমধ্যে তারা স্বচালিত গাড়ি নিয়ে কাজ শুরু করেছে।

আলিবাবার প্রধান বিজ্ঞানী এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ল্যাবের প্রধান ওয়াং গ্যাং এ গবেষণা দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সিনহুয়া নিউজের মতে, কোম্পানিটির গবেষণার মূূল লক্ষ্য লেবেল ৪-এ পৌঁছানো। অর্থাৎ এতে বোঝা যায় যে, স্বচালিত গাড়ি পুরোটাই হবে মনুষ্যবিহীন এবং এটি অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষের সহায়তা ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

১২ এপ্রিল চীনা কর্তৃপক্ষ একটি রেগুলেশন করে স্থানীয় রাস্তায় এটি পরীক্ষা চালানোর অনুমতি দেয়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের স্বচালিত গাড়ি তৈরিতে অবদান রাখা যাবে বলেও বলা হচ্ছে। আলিবাবা তাদের স্বচালিত গাড়ি পরীক্ষার জন্য অন্তত এ বিষয়ে দক্ষ ৫০ জন কর্মী নেবে বলে জানিয়েছে ডেইলি রিপোর্ট।

নিউজবিডি৭১/আ/২২ এপ্রিল, ২০১৮




মাঝ আকাশে খুলে গেলো বিমানের জানলা (ভিডিও)

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : আকাশে প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে একটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানের জানলা ভেঙে তিনজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে অমৃতসরগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে এ ঘটনা ঘটেছে। খবর খালিজ টাইমসের।

এয়ার ইন্ডিয়ার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, ওটা বেশ প্রচণ্ড ঝাঁকুনি ছিল। এয়ার ইন্ডিয়া ও বেসামরিক বিমান অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে।

এয়ার ইন্ডিয়া বিমানের ফ্লাইটটি প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট আকাশপথে ঝাঁকুনি খায়। এসময় সিট বেল্ট না পড়ায় এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ওই যাত্রী সিট বেল্ট না বাঁধায় তিনি মাথার ওপর থাকা কেবিনে বাড়ি খেয়ে আহত হন।

প্রচণ্ড ঝাঁকুনির সময় মাথার ওপর থাকা অক্সিজেন মাস্কগুলোও পড়ে যায়। খবরে জানা গেছে, এসময় একটি সিটের ওভারহেড প্যানেল কভারে ফাটল দেখা দেয়।

সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এয়ার ইন্ডিয়ার ৪৬২ ফ্লাইটে এতটাই কাঁপতে শুরু করে একজন যাত্রী কেবিনের ওপরের অংশে ধাক্কা লেগে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। এসময় তিনি সিট বেল্ট পরিহিত ছিলেন না। এ ঘটনায় আরও দুইজন যাত্রী সামান্য আহত হয়েছেন।

বিমানটির জানলার প্যানেলের (১৮-এ) একটি অংশ ভেতরে খুলে পড়ে। তবে জানলার বাইরের অংশ ভেঙে না পড়ায় স্বস্তি দেখা দিলেও অনেক যাত্রী স্বাভাবিকভাবেই ভীত হয়ে পড়েন।

নিউজবিডি৭১/আ/২২ এপ্রিল, ২০১৮




মাইগ্রেন চিকিৎসায় আসছে নতুন ঔষধ

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : মাইগ্রেন চিকিৎসায় নতুন এক ঔষধ আবিষ্কার করে সেটিকে ভিন্ন মাত্রা হিসেবে বর্ণনা করছেন গবেষকরা।কয়েক দশকে এই প্রথম কার্যকরী ঔষধ আসছে বলে বলা হচ্ছে।

গবেষকরা বলছেন, মাইগ্রেন বা দীর্ঘ সময়ের মাথা ব্যথা সারাতে অন্য সব ঔষধ বা চিকিৎসা যখন ব্যর্থ হবে, তখন এই নতুন ঔষধ কাজ করবে।

নতুন এই ঔষধটি হচ্ছে ইনজেকশন। মাসে একবার এই ইনজেকশন নেয়া যাবে। এর নাম দেয়া হয়েছে এরেনুম্যাব।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস অল্প সময়ের মধ্যে মাইগ্রেন রোগীদের কাছে এই ঔষধ নিয়ে যাবে। যদি এর দাম সামর্থের মধ্যে বা একটা যৌক্তিক পর্যায়ে থাকে।

নতুন এই ঔষধের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে এক চিকিৎসা বিষয়ক সম্মেলনে।

গবেষকরা বলেছেন, এই ঔষধ গুরুতর মাইগ্রেন আক্রান্ত এক তৃতীয়াংশ মানুষকে সাহায্য করবে।

এতদিন চার ধরনের যে চিকিৎসা রয়েছে, তাতে অস্বস্তিকর মাথা ব্যথার নিরসন হচ্ছে।

সেখানে নতুন এই ঔষধ কাজ করবে বলে গবেষকরা ধারণা করছেন।

নতুন এই ঔষধ কিভাবে কাজ করবে?

একজন মাইগ্রেন রোগী মাসে যতবার এই রোগে আক্রান্ত হন, নতুন ঔষধ ব্যবহারে আক্রান্তের সেই হার অর্ধেকে নেমে আসবে।

এরেনুম্যাব নামের এই ইনজেকশন মাইগ্র্রেনের অন্যান্য ঔষধ থেকে ভিন্নভাবে কাজ করবে।

এটি উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রেও মাইগ্রেনের জন্য ব্যবহার করা যাবে।

এটি মাইগ্রেন প্রতিরোধক হিসেবেও কাজ করবে।

মাইগ্রেন সমস্যা মানুষকে কিভাবে ভোগায়?

মাইগ্রেন বা দীর্ঘ সময় ধরে অস্বস্তিকর মাথা ব্যাথ্যা ভুগছেন, এমন মানুষ আমাদের চারপাশেই রয়েছে।

ব্রিটেনে সাতজনে একজন ভুগছেন এই মাইগ্রেন সমস্যায়।

প্রচন্ড মাথা ব্যাথা যখন ঘণ্টার ঘণ্টা বা দিন পেরিয়ে শেষ হয়না, তখন তার জন্য কাজ করা,বিশ্রাম নেয়া বা ঘুমানো, কোনটাই সম্ভব হয়না।

ওয়েস্ট মিডল্যান্ডের ৩৭ বছরের র‍্যাচেল ওয়ালস ১৭ বছর বয়সে মাইগ্রেনে আক্রান্ত হন।

দুই দশকে তিনি অনেক ঔষধ খেয়েছেন এবং বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসা নিয়েছেন।

কিন্তু কোন ফল পাননি।

তিনি বলছিলেন, “ব্যাথা যখন ওঠে, তখন একেবারে সহ্য করা যায় না। অনেক ঔষধ খেয়েছি। পেইন কিলার আমার আরও ক্ষতি করছে। আমার চোখও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

গবেষকরা বলছেন, এখন নতুন ঔষধ একটা বড় পরিবর্তন আনবে। মানুষকে স্বস্তি দেবে। সূত্র: বিবিসি

নিউজবিডি৭১/আ/২২ এপ্রিল, ২০১৮




বিশ্ব ধরিত্রী দিবস: প্রেক্ষিত ইসলাম

ডাঃ হাফেজ মাওলানা মোঃ সাইফুল্লাহ মানসুর : ধনধান্য পুষ্পভরা অপূর্ব সুন্দর এ ধরিত্রী! এখানে রয়েছে মানুষসহ জানা অজানা কোটি কোটি প্রজাতির আবাস। এর বুকেই চলে আমাদের সব কর্মকাণ্ড। অথচ আমাদের সাময়িক হীন স্বার্থ প্রয়োজনের জন্য প্রতিনিয়ত তাকে বিষক্ত থাবায় ক্ষত-বিক্ষত করে চলেছি। আমাদের বাসভূমিকে এ আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতে প্রতিবছর পালিত হয় বিশ্ব ধরিত্রী দিবস। যদিও এ দিবসটির সঙ্গে গেলর্ড নেলসন জড়িয়ে রয়েছেন। তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট সদস্য। তারই হাত ধরে ১৯৭০ সালে পরিবেশ আন্দোলনের সূচনা হয় । তথাপিও এ ধরিত্রী রক্ষায় ১৪০০ বছর আগে ইসলাম যে অবদান রেখে গেছে বা যে বাণী দিয়েছে তা বিশ্ব ধরিত্রী রক্ষায় অনস্বিকারর্যত। বর্মানে এ আন্দোলনের ঢেউ লাগেছে বিশ্বনেতাদের গায়ে। তাদের প্রস্তাবনায় জাতিসংঘ ১৯৯২ সালে স্টকহোমে এক সম্মেলনের আয়োজন করে। এর ফল হিসেবে ১৯৯০ সালে আমরা পাই বিশ্ব ধরিত্রী দিবস। যা বিশ্বের ১৯৩টি দেশে দিবসটি একযোগে পালন করা হয় ২২ এপ্রিলে। বিশ্বের প্রকৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টে এ ধরিত্রীকে রক্ষা করাই এ দিবসটির উদ্দেশ্য। বিশ্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগও এ দিবস। এ দিবস উপলক্ষে প্রত্যেক দেশের সরকার স্ব স্ব দেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটির প্রকৃতি, প্রাকৃতিক পরিবেশ, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, ভৌগোলিক পরিবেশ ইত্যাদি বিবেচনায় এনে পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন ও বৃক্ষ রোপণ অভিযান পরিচালনা করে। এই পৃথিবীতে মানুষ টিকে থাকতে হলে, সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশের গ্যারাটি নিজেদেরকেই দিতে হবে। এ ব্যাপারে বিশ্ব সংস্থাগুলো স্ব স্ব দেশের পরিবেশ সংস্থাগুলো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। এক্ষেত্রে কালজয়ী মতাদর্শ ইসলামে কী নির্দেশনা আছে তা আমরা আলোচনা করার চেষ্টা করব। পরিবেশ সংরক্ষণে ইসলামের অনন্য নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পেয়ে একটি সুস্থ পরিবেশ বিশ্বব্যাপী গড়ে উঠবে। আমাদেরক বনাঞ্চল উজাড়, বৃক্ষ নিধন না করে প্রচুর পরিমাণে বৃক্ষরোপণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাহাড় না কাটা, বন্যপ্রাণী নির্বিচারে শিকার বন্ধ, যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়া, মারণাস্ত্রের প্রতিযোগিতা বন্ধ করা ইত্যাদির ব্যাপারে দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়া।

বিশ্বপ্রসঙ্গ
বিশ্বব্যাপী পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে সচেতনতা সৃষ্টির আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন একদল পরিবেশবাদী। আন্তর্জাতিকভাবে ‘আর্থ ডে নেটওয়ার্ক’ নামের পরিবেশবাদী সংগঠন অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে। দেশে দেশে পরিবেশের উপর গবেষণা, সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য কিভাবে রক্ষা হবে? এক রিপার্টে জানা গেছে, ‘সভ্যতার বিবর্তনের সাথে সাথে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এর জন্য তৃতীয় বিশ্ব নয়, বরং উন্নত বিশ্বই দায়ী।’ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশ সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য শুধু সচেতনতা বাড়ালেই চলবে না। যথাযথ আইন-প্রণয়ন ও প্রয়োগের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। বিসেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এই বলে যে, “আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের জনসংখ্যা যখন আরো ৩০০ কোটির মতো বেড়ে যাবে তখন পানি সঙ্কট ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।’ জীবন ধারণের জন্য পানির কি প্রয়োজনীয়তা রয়েছে সকলেই অবগত। পানি সঙ্কট মানেই পরিবেশের ওপর মারাত্মক হুমকি। এক সেমিনারে গ্রিন হাউজ ইফেক্টের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্টিফেন হকিং। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব যে ক্রমশ উষ্ণ হয়ে পড়ছে, এ ব্যাপারে আমাদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। আমার আশঙ্কা হচ্ছে, গ্রিন হাউজ ইফেক্ট হয়তো রোধ করা যাবে না, সেক্ষেত্রে মানবজাতির অস্তিত্ব এক হাজার বছরের মধ্যেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। পৃথিবীর আবহাওয়া হয়ে যাবে শুক্র গ্রহের মতো। শুক্র গ্রহে সালফিউরিক এসিড বৃষ্টি ঝরে।’ গ্রিন হাউজ ইফেক্টের বিরুদ্ধ শক্তিশালী জনমত তৈরির আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, এটা করা না গেলে বিশ্ব ধরিত্রীকে আমরা আর এক হাজার বছরও টিকিয়ে রাখতে পারবো না।’

বাংলাদেশ প্রসঙ্গ
বিশ্বের প্রভাবশালী ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর জোহান হ্যারি। তার প্রকাশিত (২০.৬.২০০৮) এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, বঙ্গোপসাগরের পানির স্তর বৃদ্ধি এবং হিমালয় পর্বতমালা গলতে থাকায় পর্বত পরিবেষ্টিত সমতল বাংলাদেশ এ নির্মম পরিণতির শিকার হতে যাচ্ছে। এ পরিণতির জন্য মানুষকে দায়ী করে প্রতিবেদনের ইতি টানা হয় এভাবে যে “আমরা যা করছি, তা যদি করতে থাকি, বাংলাদেশের মৃত্যু অত্যাসন্ন। যারা পরিবেশকে ধ্বংস করছে দেশটির সাথে তাদের সলিল সমাধি হবে অথবা অন্য কোন উপকূল ভেসে গিয়ে উদ্বাস্তু হবে তারা। নিহত কিংবা উদ্বাস্তুর সংখ্যা দাঁড়াবে কোটি কোটি। বাংলাদেশের কবরের ওপর খোদাই করা থাকবে যে বাংলা দেশ ১৯৭১-২০৭১ : রক্তে জন্ম জলে মৃত্যু।’ যুক্তরাষ্ট্রেরও একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানায়, ‘বাংলাদেশ কয়েক দশকের মধ্যে সাগরের বুকে বিলীন হয়ে যেতে পারে।’ পরিবেশ বিজ্ঞানীরা শুধু বাংলাদেশ নয়, এ তালিকায় মালদ্বীপ ও হল্যান্ডের নামও রেখেছেন। এই তিনটি দেশ সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে নিচে অবস্থিত। এর কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা গ্রিন হাউজ ইফেক্টের প্রভাব বলে উল্লেখ করেন। গ্রিন হাউজ ইফেক্টের কারণে মরু অঞ্চলের তাপমাত্রা বেড়ে বরফ গলতে শুরু করেছে। এ কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে সমুদ্র উপকূলীয় দেশগুলো প্লাবিত হবার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞগণ বাংলাদেশের পরিবেশ ব্যবস্থাপনার সার্বিক চিত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পরিবেশ আইন ও নীতি থাকলেও এর যথাযথ ব্যবহার ও প্রয়োগ নেই। তবে আশার কথা এই যে, ইদানীং বেশ কিছু সংস্থা পরিবেশ সংরক্ষণের সচেতনতা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), সিডিপি, উপকুল বাচাও আন্দোলনসহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থা ও দেশ প্রেমিক সচেতন নাগরিগদের কার্যক্রম মাঝে মাঝে চোখে পড়ে। কম-বেশে সবাই জানেন, বিশ্বে পরিবেশ দূষণের জন্য উন্নত বিশ্বই সবচেয়ে বেশি দায়ী। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তাদের ভূমিকাও আরো বেশি হওয়া উচিত। বাংলাদেশের ব্যাপারে জনগণকেই অধিক সচেতন হতে হবে এবং সরকারকে এ জন্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। জনগণকে কল-কারখানার বর্জ্য, বৃক্ষ নিধন, পাহাড় কাটা, অপরিকল্পিত নগরায়ন, রাসায়নিক সারের ব্যবহার সীমিতকরণ ও পলিথিন ব্যবহারে আরো যত্নশীল হতে হবে। তবেই আমরা এ ধরিত্রীকে বাসযোগ্য করে রাখতে পারবো অন্যথায় মহা বিপর্য়য় আমাদের সামনে অপেক্ষমান।

বিশ্ব ধরিত্রী সংরক্ষণে ইসলামঃ
ইসলামকে বলা হয় ফিতরাত বা প্রকৃতির ধর্ম। সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ মূলত সামাজিক জীব। মানুষকে ঘিরেই পরিবেশ-প্রকৃতি ও সমাজের সৃষ্টি। আর পরিবার, পরিবেশ ও সমাজ নিয়েই ইসলামে রয়েছে বিস্তর আলোচনা । কুরআনে আল্লাহপাক নিজেকে আল্ মুহিত বলে ঘোষণা করেছেন। আল্ মুহিত হিসাবে আল্লাহকে স্মরণ করার অর্থ হচ্ছে প্রকৃতির পবিত্রতা সম্পর্কে সচেতন হওয়া। লন্ডনের ইসলামিক কালচারাল সেন্টার থেকে প্রকাশিত, ‘দি ইসলামিক কোয়ার্টারলি’ পত্রিকার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর সাইয়্যেদ নাসের হোসাইন, ‘ইসলাম এন্ড এনভায়রনমেন্ট ক্রাইসিস’ নামক এক প্রবন্ধে বলেন, ‘পরিবেশ সঙ্কট’ আধুনিক মানুষের প্রকৃতিকে আধ্যাত্মিক নিরপেক্ষ হিসেবে বিবেচনা করারই ফল।প্রকৃতির বাস্তবতাকে আল্লাহর নিদর্শন হিসাবে দেখা এবং সচেতন থাকা। তার মতে, ‘প্রাকৃতিক পরিবেশ-সংক্রান্ত ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি ঐশী পরিবেশ ও প্রাকৃতিক পরিবেশের এক অনস্বীকার্য স্থায়ী সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

কুরআনের দৃষ্টিতে বিশ্ব ধরিত্রীঃ
আমাদের চারপার্শ্বস্ত সবকিছুকেই পরিবেশ বা ধরিত্রী বলে। বিশ্ব ধরিত্রী তথা আমাদের বিশ্ব পরিবেশ রক্ষা করতে কুরআন যতেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে। এর বিপর্য়য়ের জন্য কুরআন সরাসরি মানুষকে দায়ি করেছে । কুরআনে ইরশাদ হয়েছে ‘তোমরা নিজেদের ধ্বংস নিজেরা ডেকে এনো না।’ (সূরা বাকারা : ১৯৫) অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘মানুষের কৃতকর্মের দরুণ সমুদ্র ও স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে।’ (সূরা রম : ৪১) আল্ কুরআনের ভাষায় ধরিত্রীর সংজ্ঞা হচ্ছে : তোমরা যে দিকেই মুখ ফিরাও না কেন, সেদিকই আল্লাহর দিক। (সূরা বাকারা : ১১৫)
বিশ্ব ধরিত্রীর গুরুত্বপূর্ণ উপাদানঃ
বিশ্ব ধরিত্রীর গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে হচ্ছে পানি ও মাটিঃ মূলত মাটি থেকেই অনেক কিছু উৎপন্ন হয় এবং উৎপাদিত শস্য পানি দ্বারা জীবিত থাকে। কুরআনে এরশাদ হচ্ছে, ‘তাদের জন্য নিদর্শন একটি মৃতভূমি। আমি একে সঞ্জীবিত করি এবং তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য, তারা তা ভক্ষণ করে। আমি তাতে উৎপন্ন করি খেজুর এবং প্রবাহিত করি ঝর্নাধারা, যাতে তারা ফল খায়।’ (সূরা ইয়াসিন : ৩৩) অন্য আয় তে বলা হয়েছে, ‘যে পবিত্র সত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা ও আকাশকে ছাদরূপে স্থাপন করেছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপন্ন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসাবে। অতএব আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করো না। বস্তুত তোমরা এসব জানো।” (সূরা বাকারা : ২২)

পানি রক্ষা করতে মহানবী (সঃ) অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। যেমন
হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল (সা) পানিতে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। হযরত মু’য়াজ বিন জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন, “তোমরা লানত পাওয়ার তিনটি কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখো অর্থাৎ পানির ঘাট, রাস্তার মাঝে এবং বৃক্ষের ছায়া তলে মলত্যাগ থেকে বিরত থাক।” হাদিসে রাসূল (সা) থেকে আরো জানা যায়, মৃত শরীরের কোনো অংশ তিনি যত্রতত্র ফেলতেন না, কারণ তা একসময় শুকিয়ে বাতাসের সাথে মিশে যেতে পারে। যা পুঁতে না ফেললে তা কোনো প্রাণী বা পাখির দ্বারা ছড়িয়ে পরিবেশ দূষিত করতে পারে। এজন্য রাসূল (সা) রক্ত বা গোশত মাটিতে পুঁতে ফেলতেন বা পুঁতে ফেলার নির্দেশ দিতেন।
ধরিত্রের আরো একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হচ্ছে আলোঃ আল্ কুরআনে আলো-আঁধার, দিন-রাত সম্পর্কে অনেক আয়াত কারিমা আছে। এরশাদ হয়েছে : ‘তারা কি অনুধাবন করে না যে, আমি রাত সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিনকে করেছি আলোকিত। এতে মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।’ (সূরা নমল : ৮৬)

পরিবেশ সুস্থ, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে ইসলাম বারবার তাকিদ করেছে। যেমন অন্য এক আয়াতে আছে, ‘তোমরা কি দেখ না কিভাবে পৃথিবীর সবকিছুকে আল্লাহ তোমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন করে দিয়েছেন।’ (সূরা হজ : ৬৫) পরিবেশ দূষণ থেকে বিশ্ব ধরিত্রীকে বাঁচতে হলে পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতা অপরিহার্য। আল্ কুরআনে তাহারাত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে অনেকবার বলা হয়েছে। এরশাদ হচ্ছে : “আল্লাহ তওবাকারীদের ভালেবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরও।” (সূরা বাকারা : ২২২)
মহানবী (সঃ) আগুন থেকেও সতর্ক থাকতে বলেন কেননা অগ্নিকাণ্ডের ফলে পুড়ে যায় দালান-কোঠা, ঘরবাড়ি, দোকানপাট অনেক কিছু। সেখান থেকে নির্গত ধোঁয়া পরিবেশ দূষিত করে। অগ্নিকাণ্ডে এমন সব পদার্থ পুড়ে বাতাসে মিশে যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। হযরত আবু মুসা আশয়ারী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন, “আগুন তোমাদের শত্রু। তোমর্য যখন ঘুমাতে যাবে, তখন আগুন নিভিয়ে ফেলবে।”

ধরিত্রের আর একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হচ্ছে বৃক্ষঃ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ধরিত্রীকে বাসযোগ্য করতে এবং জীবজগতের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন বৃক্ষ ।এ জন্য বৃক্ষকে রক্ষা করা মানুষের অপরিহার্যি কর্তব্য। এরশাদ হচ্ছে : “আমি বিস্তৃত করেছি ভূমিকে ও তাতে স্থাপন করেছি পর্বতমালা এবং উৎপন্ন করেছি নয়নাভিরাম বিবিধ উদ্ভিদরাজি। এটি আল্লাহর অনুরাগী বান্দাদের জন্য জ্ঞান ও উপদেশস্বরূপ।” (সূরা কাফ : ৭-৮) অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, “তিনিই ভূতলকে বিস্তৃত করেছেন এবং তাতে পর্বত ও নদী সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেক প্রকার ফল সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায়।’ (সূরা রাদ : ৩) অন্যত্র এরশাদ হয়েছে, ‘উহারা কি লক্ষ্য করে না? আমি উহাতে প্রত্যেক প্রকারের কতো উৎকৃষ্ট উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি?’ (সূরা শুয়ারা)
অনুরূপভাবে মহানবী (সা) গাছের প্রাণ আছে এ সত্যটি আমাদের জানিয়ে দিয়েছিলেন। হাদিসে রাসূল (সা) থেকে জানা যায়, একজন লোক যখন অকারণে একটি গাছের ডাল ভাঙে তখন নবী করিম (সা) সে লোকটির চুল মৃদুভাবে টান দিয়ে বলেন, “তুমি যেমন শরীরে আঘাত বা কেটে গেলে ব্যথা পাও, গাছের পাতা বা ডাল ছিঁড়লে গাছও তেমন ব্যথা পায়। পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য গাছ লাগাবার শিক্ষা আমরা মহানবী (সা) থেকে পাই। তিনি বলেছেন, “যদি তুমি মনে করো আগামীকাল কিয়ামত হবে, তবু আজ একটি গাছ লাগাও।”

ধরিত্রের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে পাহাড়-পর্বতঃ অনুরূপভাবে বিশ্ব ধরিত্রীর কল্যাণের জন্য আল্লাহপাক সৃষ্টি করেছেন পাহাড়-পর্বত। ভূমিকম্প কিংবা অন্য কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে যাতে মানুষকে নিয়ে এ পৃথিবী নড়াচড়া করতে না পারে। সে জন্য আল্লাহপাক্ পাহাড়সমূহকে পেরেকের মতো গেড়ে দিয়েছেন বলে এরশাদ করেছেন, “এবং তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন যাতে পৃথিবী তোমাদের নিয়ে আন্দোলিত না হয়।” (সূরা আন্ নহল : ১৫) অন্যত্র বলা হয়েছে, “তিনিই স্থাপন করেছেন ভূপৃষ্ঠে অটল পর্বতমালা এবং তাতে রেখেছেন কল্যাণ।” (সূরা হা-মীম-আস্ সজদা : ১০) অথচ আমরা নিজেরাই পাহাড় কেটে, গাছ কেটে, পুকুর ভরাট করে পরিবেশ ধ্বংস করছি। পৃথিবীকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলছি। আল্লাহপাক এরশাদ করেছেন, “তোমরা শান্তি স্থাপনের পর বিপর্যয় ঘটাবে না।” (সূরা আরাফ : ৮৫) “এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেরিয়ো না।” (সূরা হুদ : ৮৫)
ধূমপানের মাধ্যমেও বায়ু তথা পরিবেশ দূষিত হয়। পাড়া তামাকের গন্ধ পরিবেশের জন্য কতখানি ক্ষতিকর তা নিয়ে বিজ্ঞানীরাও শঙ্কিত। সিগারেটের নিকোটিন এত মারাত্মক ক্ষতিকর যে, দু’টো সিগারেটে যা পরিমাণ নিকোটিন আছে, তা দ্বারা কোনো সুস্থ মানুষের দেহে প্রবেশ করলে মৃত্যু নির্ঘাত। মহানবী (সা) বলেছেন, “যে ব্যক্তি দুগর্ন্ধযুক্ত দ্রব্য খায়, সে যেন (ঐ অবস্থায়) মসজিদের নিকটবর্তীও না হয়। বিশেষজ্ঞদের মত, একটা জ্বলন্ত সিগারেটে কম করে হলেও চার হাজার বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়। প্রখ্যাত চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও দার্শনিক ইবন সিনা বলেছেন, “পৃথিবীর এত ধুলা-বালি, ধোঁয়া ও গ্যাস যদি মানুষের ফুসফুসে না ঢুকতো তাহলে মানুষ হাজার হাজার বছর ধরে সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারত।”
উপসংহারঃ
পরিশেষে বলতে পারি আমাদের অত্যাচারে এ ধরিত্রী দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ফলে দিন দিন জীব-বৈচিত্রের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। ক্রমান্নয়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার পরিবেশ হারাচ্ছে। গ্রিন হাউজ ইফেক্টের ফলে বিশ্বের কিছু কিছু নিম্নভূমি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসলামের সুমহান পরিবেশ নীতির আলাকে বিশ্বের পরিবেশক আবার সুন্দর করে যদি গড়ে তুলত পারি। এবং নিম্নের কাজগুলো সম্পন্য করতে পারি তাহলে পৃথিবী আবার সুন্দর বাসযোগ্য হয়ে উঠবে যথা-
১. বন-বনানী থেকে বৃক্ষ উজাড় বন্ধ করতে হবে।
৩. বিশ্বের মারণাস্তের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়া বন্ধ করতে হবে।
৩, প্রাকৃতিক গ্যাস আহরণ সুষ্ঠু নিয়ম মেনে তুলতে হবে।
৪ গগনচুম্বী অট্টালিকা তৈরির জন্য পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে।
৫. পশু-পাখি নির্বিচারে শিকার করা বন্ধ করতে হবে।
৬. কল-কারখানার বর্জ্য নিষ্কাষণের যথাযথ ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং যত্রতত্র প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যাবহার বন্ধ করতে হবে
৭, যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়ার বিরুদ্ধ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৮. জনসাধারণকে পরিবেশ সম্পর্কে আরো অধিক সচেতন করে তুলতে হবে। প্রয়োজনে সরকারকে এ জন্য প্রয়োজনীয় আইন রচনা করে প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিবেশ দূষণের জন্য কে বা কারা দায়ী? তার জন্য পারস্পরিক দোষারোপ বন্ধ করে একজোগে সকলে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে এবং প্রতিনিয়ত আমাদের উপলব্ধি করতে হবে যে, ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য আমরা কি পৃথিবী রেখে যাচ্ছি?

লেখকঃ ডাঃ হাফেজ মাওলানা মোঃ সাইফুল্লাহ মানসুর
সাধারণ সম্পাদক
উপকুল বাচাঁও আন্দোলন
খুলনা বিভাগ

আ/২২ এপ্রিল, ২০১৮




খালেদা ‘আনফিট’পরবর্তী শুনানি ১০ মে

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে‘আনফিট’জানিয়ে আদালতে হাজির করেনি কারা কর্তৃপক্ষ। তার অনুপস্থিতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার পরবর্তী যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য আগামী ১০ মে দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রোববার (২২ এপিল) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান এই দিন ধার্য করেন। এই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় এদিন তাকে আদালতে হাজির না করে আদালতে লিখিত পাঠান কারা কর্তৃপক্ষ। আদালত আবেদন গ্রহণ করে যুক্তিতর্কের শুনানির জন্য নতুন এ দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করার জন্য পিডব্লিউ ইস্যুর একটি আবেদন করেন।

তিনি আদালতকে জানান, খালেদা জিয়া এ মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামি। মামলার শুনানিতে তার উপস্থিতি প্রয়োজন।

২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দায়ের করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।

মামলাটিতে বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী এবং তার তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান আসামি।

এদিকে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেন একই আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এরপর থেকে তিনি নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

নিউজবিডি৭১/আ/২২ এপ্রিল, ২০১৮




নরসিংদী কলেজ ছাত্রকে ৬ টুকরা করে খুন

নিউজবিডি৭১ডটকম
সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী করেসপন্ডেন্ট : নরসিংদী সদরে চাঞ্চল্যকর ৬ টুকরা করে কলেজ ছাত্র মোঃ খোর্শেদকে খুন করার অপরাধে আসামী এ্যামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড; অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ২ বৎসর বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নরসিংদীর অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফাতেমা নজীব এ রায় দেন।সাজাপ্রাপ্ত আসামী হলেন- কারিফা সুলতানা এ্যামি, পিতা- গোলাম কিবরিয়া, মাতা- কল্পনা আক্তার, সাং- গাবতলী, থানা ও জেলা – নরসিংদী।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বলেন, আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। তাই এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।পাশাপাশি এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কলেজ ছাত্র খোর্শেদের পরিবার। তারা আসামিদের মৃত্যুদন্ড আশা করেছিল।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর নরসিংদী মডেল থানাধীন সোনাতলা এলাকায় হাত, পা, মাথা বিহীন একটি মৃতদেহ সহ একজন মহিলাকে জনগণ ধৃত করে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত হলে উপস্থিত লোকজন উক্ত মহিলাকে তার নিকট হস্তান্তর করে।

এ ঘটনায় নিহত গোলাপের বড় ভাই মেহেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোস্তফা হোসেন বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় ১৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিহত কলেজ ছাত্র খোর্শেদের পরিবার থানায় একটি জিডি করে।

নরসিংদী মডেল থানার জি.ডি নং- ১৩৬৮, তারিখ- ২২/০৯/২০১৫ ইং। পরে আদালতে চার্টশিট দিলে আদালত চার্টশিটটি আমলে নিয়ে আজ বৃহিস্পতিবার দুপুরে এই মামলার রায় ঘোষনা করেন।

রায়ে আদালত বলেন যে, এ্যামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ Penal Code এর ৩০৪ (ওও) ধারার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে উক্ত ধারায় দোষী সাব্যস্তক্রমে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড; অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ২ বৎসর বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।

নিউজবিডি৭১/আ/১৯ এপ্রিল, ২০১৮




ছেলে হত্যার দায়ে বাবার যাবজ্জীবন

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা :রংপুরের বদরগঞ্জে ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে বাবা আমিনুল ইসলামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ এবিএম নিজামুল হক এ রায় দেন। এই সময় অভিযুক্ত আমিনুল আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, রায়হান কবীর (২২) বদরগঞ্জের লোহানীপাড়া ইউনিয়নের মোসলমারী গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে। আর রুপালি বেগম মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নের ছড়ান আটফুনিয়ার চর গ্রামের আব্দুস সোবহানের মেয়ে।

২০১১ সালে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে রুপালির সঙ্গে তার শ্বশুর আমিনুল অসদাচরণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে রুপালি অতিষ্ঠ হয়ে তার স্বামী রায়হানের সঙ্গে পরামর্শ করে বাবার বাড়ি চলে যায়। সেখানে একটি কন্যা সন্তান প্রসব করে।

মামলায় বলা হয়-২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর রুপালি তার স্বামীর সঙ্গে শ্বশুর বাড়ি ফিরে আসে। ওই দিন বিকালে নিজ বাড়িতে আমিনুলের সঙ্গে ছেলে রায়হানের বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে আমিনুল তার হাতে থাকা চাকু দিয়ে রায়হানকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় ওইদিনই রায়হানের স্ত্রী রুপালি বেগম বাদী হয়ে আমিনুলকে আসামি করে বদরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন বদরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক তৈয়ব আলী সরকার তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ২১ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বৃহস্পতিবার (১৯ এপ্রিল) বিচারক আমিনুল ইসলামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।

বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল মালেক এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট রেজাউল হায়দার খান খোকন। বাদী পক্ষের আইনজিবী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও আসামি পক্ষের আইনজীবী এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান।

নিউজবিডি৭১/আ/১৯ এপ্রিল, ২০১৮