রাতের আঁধারে শাড়ি-লুঙ্গি-মিষ্টি নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে জগলুল

নিউজবিডি৭১ডটকম 
স্টাফ করসপনডেন্ট : সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাষ্টমী উপলক্ষ্যে নিম্ন আয়ের মানুষদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানাতে রাতের আঁধারে শাড়ি, লুঙ্গি, মিষ্টি ও মুরগী নিয়ে তাঁদের বাড়ীতে হাজির হন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার। মঙ্গলবার গভীর রাতে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন গ্রামের অর্ধশতাধিক দরিদ্র মানুষের বাড়ীতে যান তিনি। অসহায় মানুষগুলি তাদের বাড়ীতে সংসদ সদস্যের দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ও তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি পরিবারগুলির খোঁজ খবর নেন এবং তাদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান। যে কোন বিপদে আপদে তাকে যে কোন সময় সরাসরি ফোন করার অনুরোধ জানান। এ সময় সংসদ সদস্য বলেন, গত পাঁচ বছর তাঁদের এবং সকল ধমীয় অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি নিজেই এটা তদারকি করেছেন। তাদের সকল মন্দির সংস্কার অথবা আধুনিকায়নে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বাংলায় হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই আমরা ভাই-ভাই। আমাদের মধ্যে কোন ভেদভেদ নেই। আমরা সকলে মিলে অসাম্প্রদায়িক, উন্নত ও সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ব। উল্লেখ্য এই সংসদ সদস্য প্রতিবছর সনাতন ধর্মালম্বীদের পাশে থেকে সাহায্য সহযোগিতা করে আসছেন।

নিউজবিডি৭১/বিসিপি/১৭ অক্টোবর, ২০১৮




সৌদি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থে সৌদি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এই ব্যাপারে তাঁর সরকার সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।

বুধবার সকালে বাদশাহ সৌদ রাজপ্রাসাদে সৌদি আরবের ব্যবসায়ীদের সংগঠন সৌদি চেম্বার এবং রিয়াদ চেম্বার অব কমার্স নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি পারস্পরিক স্বার্থেই আপনাদেরকে বাংলাদেশে ব্যবসা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী চিন্তা নিয়ে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমরা যাতে আমাদের উন্নয়ন অভিযাত্রায় একে অপরের হাতে হাত রেখে চলতে পারি।’

শেখ হাসিনা সৌদি বাদশাহ এবং পবিত্র দু’টি মসজিদের খাদেম সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে চারদিনের সরকারি সফরে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এখানে আসেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সৌদি উদ্যোক্তাদের দেশের বিভিন্ন উদীয়মান খাত যেমন পুঁজি বাজার, বিদ্যুৎ, জা¡লানি, টেলিকমিউনিকেশন এবং তথ্য প্রযুক্তি, পেট্রোকেমিক্যাল, ওষুধ শিল্প, জাহাজ নির্মাণ এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদেরকে হাল্কা প্রকৌশল শিল্প, ব্লু ইকোনমি, গবেষণা এবং উন্নয়ন ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন, পানি এবং সমুদ্র সম্পদ এবং অন্যান্য ভৌত অবকাঠামোগত প্রকল্পে এবং সেবামূলত খাত যেমন ব্যাংকিং এবং অর্থনীতি, লজিষ্টিক এবং মানব সম্পদ খাতেও বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সব চেয়ে ভাল বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ বজায় থাকা এবং অত্যন্ত আকর্ষণীয় প্রণোদণার সুযোগ গ্রহণের মাধ্যমে অধিকহারে মুনাফা নিয়ে দেশে ফেরার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। যার মধ্যে রয়েছে- আইন দ্বারা সুরক্ষিত সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), ট্যাক্স হলিডে, যন্ত্রাংশ আমদানীতে স্বল্প শুল্ক প্রদান, বিনা শুল্কে শিল্পের কাঁচামাল আমদানীর সুযোগ, টেমিট্যান্স অন রয়্যালিটি, শতভাগ ফরেন ইক্যুয়িটির নিশ্চয়তা এবং লাভ এবং পুঁজিসহ বিনা বাধায় চলে যাবার সুবিধা।

অন্যান্য সুবিধার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের রয়েছে প্রতিযোগিতামূলক বেতন-ভাতায় সহজে প্রশিক্ষণযোগ্য নিবেদিত প্রাণ জনশক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে স্বল্প ব্যয় এবং আমাদের বৃহৎ শুল্কমুক্ত কোটামুক্ত বাজারে প্রবেশ সুবিধা। যার মধ্যে রয়েছে- ইউরোপিয় ইউনিয়ন (ইউ), অষ্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারত, জাপান এবং নিউজিল্যান্ডের বাজারে প্রবেশ সুবিধা।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ এবং পানি প্রাপ্তির সুবিধাও রয়েছে। রয়েছে ভাল ক্রেডিট রেটিং, স্বল্প ঝুঁকি এবং দ্রুত প্রযুক্তির গ্রহনযোগ্যতার সুবিধা। এই সবগুলো একত্রে বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের সর্বোচ্চ মুনাফা প্রাপ্তির সুবিধাই নিশ্চিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগলিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই দেশের ভৌগলিক অবস্থান দেশটিকে আঞ্চলিক যোগাযোগ, বিদেশি বিনিয়োগ এবং গ্লোবাল আউট সোর্সিয়ের একটি কেন্দ্রে পরিণত করেছে।

তাঁর সরকারের দেশে একশ’টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকাগুলো (ইপিজেড) শতভাগ রপ্তানী নির্ভর। সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগকে টেকসই করার জন্যই সরকার এই শিল্পাঞ্চলগুলো গড়ে তুলেছে।

শেখ হাসিনা এই শিল্পাঞ্চলগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর করে গড়ে তোলার জন্য দেশে প্রায় দুই ডজনেরও বেশি হাইটেক পার্ক গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার দেশে ১০টি প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃজনের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এবং দুই অংকের টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য বিভিন্ন বৈচিত্রপূর্ণ এলাকায় যোগাযোগ, হাইটেক, পর্যটন, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা খাতে এ ধরনের আরো প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সৌদি আরবের বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে দু’হাজার একর জমি বরাদ্দ করেছি, যেগুলো বিনিয়োগকারীদের নিজস্ব চাহিদা মোতাবেক তারা ব্যবহার করতে পারবেন।’

বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের মধ্যে চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিদ্যমান, যেটি উভয়ের বিশ্বাস, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ এবং আকাঙ্খার একই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, উল্লেখ কওে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের ব্যবসায়িক সম্পর্কের শুরু সেই সপ্তম শতকে যখন আরবের ব্যবসায়ীরা প্রথমবারের মত আমাদের বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আসেন।’

দু’টি দেশের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিমাণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে গিয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু আমরা এখনো ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগগুলোর পুরোপুরি সদ্যব্যবহার করতে পারছি না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখন সৌদি বিনিয়োগের পরিমাণ ২৫টি প্রকল্পে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার। যার প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে-কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য এবং প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবার, বস্ত্র এবং তৈরি পোষাক, চামড়া, প্রেট্রো কেমিক্যাল, প্রকৌশল এবং সেবা খাত।

গত মার্চে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গ্রাজুয়েশন প্রাপ্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে তাঁর সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০০৮ সাল থেকে দেশে রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্য স্থির করেছে।

‘উন্নয়নশীল দেশ হওয়া তাঁর রূপকল্প-২০২১ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধশালী হিসেবে গড়ে তোলার পথে প্রথম ভিত্তি,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

ক্রয় সক্ষমতার বিচারে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ৩২তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের দারিদ্রসীমা ৪১ দশমিক ৫ ভাগ থেকে ২১ দশমিক ৮ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি এবং আমাদের অর্থনীতিও বিশ্বের ১০টি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির একটি।’

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রসংগ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশ গত ১০ বছরে ৭ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জনে সমর্থ হয়েছে এবং এ বছর ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী বছর ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রত্যাশা করছি।’

বাংলাদেশের সরকার প্রধান বলেন, তাঁর সরকার উচ্চপ্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশপাশি বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং ২০০৮-২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ৯ গুণ বেড়ে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এই দ্রুত রূপান্তর ঘটাতে সক্ষম হয়েছে।

‘বাংলাদেশ বর্তমান বিশ্ব বাজারে তৈরি পোশাক খাতে দ্বিতীয় বৃহৎ তৈরী পোশাক রপ্তানীকারক দেশ। যার রপ্তানীর পরিমাণ গত অর্থবছরে ছিল ৩০ দশমিক ৬৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ’যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশ এখন বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম সবজি উৎপানকারী, ৪র্থ বৃহৎ চাল উৎপাদনকারী এবং তৃতীয় বৃহৎ মৎস্য উৎপাদনকারী দেশ।’

বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প দেশের আরেকটি উল্লেখযোগ্য খাত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ওষুধের ৯৮ ভাগ চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের প্রায় ১২৫টি দেশের বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানী হচ্ছে।

জাহাজ নির্মাণ শিল্পেরও দেশে ক্রমবিকাশ ঘটছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা মধ্যম আকারের সমুদ্রগামী বেশ কিছু জাহাজ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানী করছি।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রসংগ উল্লেখ করে বলেন, তার এই কর্মসূচির লক্ষ্যই হচ্ছে মানুষের সক্ষমতার বিকাশ সাধন।

তিনি বলেন, দেশব্যাপী ইন্টারনেট ভিত্তিক ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তোলার মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ সময় তাঁর সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার মাত্র ৩ হাজার ২শ মেগাওয়াট থেকে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এখন ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করেছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তাঁর সরকার কয়লা ভিত্তিক সুপার ক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রও নির্মাণ করছে।

দেশের ৯০ শতাংশ জনগণ এখন বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগের মধ্যদিয়ে তার সরকার পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এক কদম অগ্রসর হয়েছে ।

নিউজবিডি৭১/আ/অক্টোবর ১৭, ২০১৮




নির্বাচন কমিশনার মাহবুবের পদত্যাগ দাবি ১৪ দলের

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের পদত্যাগ দাবি করেছেন ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। বুধবার ১৪ দলের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবির কথা জানান। আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

নাসিম বলেন, সাংবিধানিক পদে থেকে নির্বাচন কমিশনের গোপনীয় বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা সংবিধান পরিপন্থী। মাহবুব তালুকদার সাংবিধানিক পদে থেকে অসাংবিধানিক কথা বলায় তার দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া উচিত।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে মাহবুব তালুকদার প্রকাশ্যে যেসব কথাবার্তা বলছেন তাতে তার শপথ ভঙ্গ হয়েছে। তিনি সাংবিধানিক পদে থেকে এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন না। তার উচিত ছিল পদত্যাগ করে এসব কথা বলা।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার নির্বাচন কমিশনের সভা বর্জন করেন মাহবুব তালুকদার। বেরিয়ে যাওয়ার আগে তিনি নোট অব ডিসেন্ট দেন। পরে গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, কমিশন বৈঠকে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে তার নিজস্ব কিছু প্রস্তাব ছিল সেগুলো উত্থাপন করতে দেয়া হয়নি। এ জন্য তিনি অপমানিত বোধ করে বেরিয়ে এসেছেন।

নিউজবিডি৭১/আ/অক্টোবর ১৭, ২০১৮




সৌদি বাদশাহর আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে রিয়াদ পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সউদের আমন্ত্রণে দ্বিপক্ষীয় সফরের অংশ হিসেবে চার দিনের সফরে রিয়াদ পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ৬টা ৫১ মিনিটে রিয়াদের বাদশাহ খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান শেখ হাসিনা। চারদিনের এই সফরে সৌদি আরবের সাথে প্রতিরক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে।

সৌদি বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদের সাথে বুধবার বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া, রিয়াদে বাংলাদেশ চ্যান্সেরি ভবনের উদ্বোধনও করবেন তিনি।

নিউজবিডি৭১/আ/অক্টোবর ১৭, ২০১৮




স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে এমপি জগলুলের মতবিনিময়

নিউজবিডি৭১ডটকম 
স্টাফ করসপনডেন্টপ্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন-সফলতা এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড জানাতে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট চান জগলুল।

তিনি বলেন, সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছে। সারাদেশে প্রতিটি উপজেলায় স্কুল-কলেজ সরকারিকরণ করা হয়েছে। হাজার হাজার কিলোমিটার জাতীয় সড়ক ও পল্লী সড়ক নির্মাণ অথবা উন্নয়ন করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন স্কেল দ্বিগুণ করা হয়েছে। তাদের জন্য চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি, শিক্ষা ভাতা, বৈশাখী ভাতা চালু এবং বাড়ি নির্মাণের জন্য সরল সুদে গৃহ ঋণ সুবিধা প্রদান করছে সরকার।  মহিলাদের মাতৃকালীন ছুটি ৪ মাস থেকে ৬ মাস করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ১০ হাজার টাকা এবং ভাতা ভোগীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা বৃদ্ধি, বেকার যুবকদের ঘরে ঘরে চাকরির ব্যবস্থা, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানো, গরিব-অসহায় মানুষদের জন্য সোলার-প্যানেলের ব্যবস্থা, গর্ভকালীন ভাতা, খোলাবাজারে ১০ টাকা মূল্যের চাউল বিক্রি, অসহায় মহিলাদের বিনামূল্যে ভিজিডির চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া তিনি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের চিত্র গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে তুলে ধরেন  ।

জগলুল হায়দার শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের ব্যাপক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, গত পাঁচ বছরে শ্যামনগরে ২৬ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ২২ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক, ৭৪ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক, ১৭৯টি ব্রীজ/কালভার্ট, ২১টি সাইক্লোন সেল্টার, ৩৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে। এ উপজেলায় আটটি হাট-বাজার উন্নয়ন, উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন সম্প্রসারণ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ, ১৪ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার বাসভবন নির্মাণ, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে দুটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, দুটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ এবং বাইশটি মসজিদ/মন্দির/কবরস্থান/শ্মশানঘাট নির্মাণ অথবা সংস্কার কাজে বাজেট দেয়া হয়েছে।

এছাড়া শ্যামনগরে একটি স্কুল ও একটি কলেজ সরকারিকরণ করা হয়েছে। আগামী বছরের প্রথমেই উপজেলা সদরে একটি মিনি স্টেডিয়াম, একটি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। ইতোমধ্যে সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়নে উন্নয়নের চিত্রও সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন জগলুল হায়দার। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে এই উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ১১৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ, অসংখ্য ব্রীজ/কালভার্ট,  ৪২টি সাইক্লোন সেল্টার কাম প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ, সাতটি বাজার উন্নয়ন, উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন সম্প্রসারণ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ, ১৭ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার বাসভবন নির্মাণ, চারটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং ছয়টি মসজিদ/মন্দির/কবরস্থান/শ্মশানঘাট নির্মাণ অথবা সংস্কারকাজে বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

কালিগঞ্জেও আগামী বছরের শুরুতেই উপজেলা সদরে একটি মিনি স্টেডিয়াম এবং একটি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

সংসদ সদস্য বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও সফলতা প্রচারে গণমাধ‍্যম কর্মীদের ভূমিকা অপরিসীম জানিয়ে তাদেরকে তা প্রচারের জন্য অনুরোধ জানান।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সাহাবুল আলম, শ্যামনগর উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ হারুন অর রশিদ, শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি অসীম জোয়ারদার, ঈশ্বরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান এ‍্যাডঃ শুকুর আলী, বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ মন্ডল, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অসিম মৃধা, কৈখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম, কালিগঞ্জ ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সজল কুমার মুখার্জি, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মিজানুর রহমান মিজান, ছাত্রলীগের সভাপতি একরামুল হক লায়েস, শেখ রাসেল পরিষদের সভাপতি রহমত আলী, শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুমন, কালীগঞ্জ উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক নিয়াজ কাওসার তুহিন, শ্যামনগর উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি গাজী আল ইমরান, সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন মিঠুসহ স্থানীয় সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজবিডি৭১/বিসিপি/১৭ অক্টোবর, ২০১৮




সরকারের নির্দেশে খালেদা জিয়ার রায়ের তারিখ: ফখরুল

ডেস্ক রিপোর্ট 
নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকাসরকারের নির্দেশে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরায় জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসায় জাতীয় যুক্তফ্রন্টের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ মামলায় প্রথম থেকেই বিনা বিচারে, ন্যায়বিচার ছাড়াই খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন আদালতে সেটিই নিয়ে আসতে চায়। এর মাধ্যমে এটা প্রমাণিত যে বাংলাদেশে বিচারব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, সরকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার কার্য পরিচালনা করা এবং তার অনুপস্থিতিতে বিচারের রায় ঘোষণা করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এ মামলায় যুক্তিতর্ক, আত্মপক্ষ সমর্থনসহ অন্যান্য বিষয় বাকি ছিল। এর কোনোটাই তারা নেয়নি। তাই মনে করি এটা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

নিউজবিডি৭১/বিসি/অক্টোবর ১৭, ২০১৮




ওবায়দুল কাদেরের বিকৃত ছবি ফেসবুকে, নারী গ্রেফতার

ডেস্ক রিপোর্ট 
নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকাআওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছবি ফটোশপের মাধ্যমে বিকৃত করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় রওশন আরা রুমি (৪০) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার রুমি উপজেলার ভালুকা গ্রামের মৃত খবির উদ্দিন চেয়ারম্যানের মেয়ে ও বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ঝিনাইগাতী শাখার মহিলা বিষয়ক সম্পাদক।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( নালিতাবাড়ী-ঝিনাইগাতী সার্কেল)  মো জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গত ১৩ অক্টোবর বিকেলে রওশন আরা রুমি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছবি বিকৃত করে পোস্ট করেন। ছবিটি ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মজিবর রহমানের নজরে আসে। এতে ক্ষুদ্ধ ওই আওয়ামী লীগ নেতা সোমবার রাতে বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৯ ও ৩১ ধারায়  মামলা করেন (মামলা নং-০৫)।

তিনি বলেন, ওই মামলার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে রুমিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতার রুমির ভাই রেজাউল করিম বলেন, রুমি ফেসবুকের নতুন সদস্য। তিনি ফেসবুক ব্যবহারে অতটা পারদর্শী নন। একজন তার ফেসবুকে বিকৃত ছবিসহ বেশ কয়েকটি ছবি পাঠালে তিনি ভুল করে তা শেয়ার করে। এটি ইচ্ছাকৃত নয়।

নিউজবিডি৭১/বিসি/অক্টোবর ১৭, ২০১৮




ঐক্যের উদ্দেশ্য খারাপ বলেই ২০ দলে ভাঙন: ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট 
নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকাআওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্দেশ্য খারাপ, তাই বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে ভাঙনের সুর বাজছে।

মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছে বিএনপি। নতুন জোটে ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের পুরনো শরিকরা। মঙ্গলবার ২০ দল ছাড়ার ঘোষণা দেয় বিএনপির অর্ধযুগের পুরনো মিত্র ন্যাপ ও এনডিপি।

এর প্রতিক্রিয়ায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ঐক্যফ্রন্ট গঠনের শুরুতেই ২০ দলীয় জোটে ভাঙনের সুর বেজে উঠেছে। শুরুতেই ধাক্কার কারণ, উদ্দেশ্য খারাপ। জগা-খিচুড়ির ঐক্য জাতীয় ঐক্য হতে পারে না। তাদের ঐক্যের প্রতি জনগণের বিশ্বাস নেই।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি সাম্প্রদায়িক শক্তি, দেশে অশুভ চক্রান্ত শুরু করেছে। আগামী নির্বাচনে অশুভ এ শক্তিকে উৎখাত করা হবে। আওয়ামী লীগ যে কোনো পরিস্থিতিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে ছিল। ভবিষ্যতেও থাকবে।

এর সকালে রাজধানীর বনানীতে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নবনির্মিত সদর কার্যালয় ভবন পরিদর্শনের পর ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে একজন কমিশনারের বৈঠক বর্জনের ঘটনা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের প্রকাশ।

গত সোমবার কমিশন সভায় প্রস্তাব উত্থাপনের সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে সভা বর্জন করেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

বিএনপির তালিকা থেকে তিনি ইসিতে এসেছেন, এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, তার সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করতে চান না। ইসিতে পাঁচজন সদস্য রয়েছেন। একজন বিরোধিতা করতেই পারেন, নোট অব ডিসেন্টও যে কেউ দিতে পারেন। এটিও গণতন্ত্র, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র।

নিউজবিডি৭১/বিসি/অক্টোবর ১৭, ২০১৮




গ্যাসের দাম বাড়ছে না

ডেস্ক রিপোর্ট 
নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকানির্বাচনের আগে গ্যাসের দাম বাড়ছে না। শুল্ক ও কর প্রত্যাহার এবং ভর্তুকির কারণে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের বর্তমান মূল্যই বহাল থাকছে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। রাজধানীর কাওরানবাজারে বিইআরসির কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) আমাদনি মূল্য বেশি হলেও গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ছে না। এলএনজি সরবরাহ কম হওয়ায়, আমদানি ও উৎপাদন পর্যায়ে সরকারের শুল্ক ও কর প্রত্যাহারের ঘোষণা এবং চলতি অর্থ বছরে প্রায় তিন হাজার ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকির প্রদানের সিদ্ধান্তের কারণে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়নি।

এতে বলা হয়, গ্রাহক পর্যায়ে নিরাপত্তা জামানত কমানো, জ্বালানি সাশ্রয়ী পদ্ধতি ব্যবহারে শিল্প কারখানার বিলে ছাড়, সিস্টেমলস গণনার পদ্ধতিতে পরিবর্তনসহ বিতরণ কোম্পানিগুলোর কিছু সংস্কার কার্যক্রম ঘোষণা করা হয়েছে। খাত ভেদে মাশুল ও তহবিল ফি বন্টন হারে সংশোধন আনায় বিতরণ ও সঞ্চালন কোম্পানিগুলোর মার্জিন খানিকটা বেড়েছে।

বর্তমানে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের গড় মূল্য সাত টাকা ১৭ পয়সা। গত আগস্ট মাস থেকে পাইপলাইনে এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়। এলএনজির আমদানি মূল্য বেশি হওয়ায় গত মার্চ মাসে বিতরণ ও সঞ্চালন কোম্পানিগুলো গ্রাহক পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির আবেদন করে। গত জুন মাসের তাদের প্রস্তাবের ওপর গণশুনানির আয়োজন করে কমিশন।

সব হিসেব বিবেচনা নিয়ে বিইআরসির মতে প্রতি ঘনমিটারে ২০ দশমিক ৩৬ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু উৎপাদন ব্যয় বাড়বে বলে ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা গ্যাসের দাম না বাড়ানোর জন্য দাবি জানায়। সামনে নির্বাচনের কথা বিবেচনা করে সরকারও দাম বৃদ্ধির বিপক্ষে।

এসব বিবেচনায় কমিশন সরকারকে জানায় আমদানি ও উৎপাদন পর্যায়ে শুল্ক্ক ও কর প্রত্যাহার করা হলে এবং ভর্তুকি দেওয়া হলে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম বলেন, গ্যাসের উৎপাদন, এলএনজি আমদানি, সঞ্চালন এবং বিতরণ ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়া স্বত্ত্বেও সার্বিক দিক বিবেচনা করে কমিশন ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যমান মূল্যহার পরিবর্তন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এলএনজির আমাদনি শুল্ক, প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক এবং আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম কর ও অগ্রিম মূসক প্রত্যাহার করেছে। তাই গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়নি।

এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনের সদস্য আজিজ খান জানান, এলএনজির সরবরাহ বৃদ্ধি সাপেক্ষে বিতরণ কোম্পানিগুলো আগামীতে দাম বাড়ানোর আবেদন করলে তখন তা বিবেচনা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের অন্য সদস্য রহমান মুরশেদ, মাহমুদ উল হক ভূঁইয়া এবং মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

নিউজবিডি৭১/বিসি/অক্টোবর ১৭, ২০১৮




রিয়াদ পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট 
নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকাপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি বাদশাহ এবং দুটি পবিত্র মসজিদের খাদেম সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সউদের আমন্ত্রণে দ্বিপক্ষীয় সফরের অংশ হিসেবে চারদিনের সফরে রিয়াদ পৌঁছেছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফর সঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। খবর বাসসের

এসময় সৌদিতে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিসহ কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের অভ্যত্থনা জানান।

এর আগে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে রিয়াদের উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমানটি।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এস এম শাহজাহান কামাল, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

মন্ত্রীপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, কুটনৈতিক কোরের ডীন এবং পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বুধবার তার স্যুটে কাউন্সিল অব সৌদি চেম্বার (সিএসসি) এবং রিয়াদ চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করবেন। একই দিন বিকেলে শেখ হাসিনা সৌদি রাজপ্রাসাদে বাদশাহর সালমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং পরে মধ্যাহ্ন ভোজে যোগ দিবেন।

প্রধানমন্ত্রী সৌদি যুবরাজ ও উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পরে তিনি সৌদি রাজধানী রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় বাংলাদেশ চ্যান্সেরি ভবনের উদ্বোধন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বুধবার সন্ধ্যায় বিমানযোগে পবিত্র নগরী মদিনার উদ্দেশে রিয়াদ ত্যাগ করবেন এবং মসজিদে নববীতে মহানবী হযরত মোহম্মদ (স.) এর রওজা জিয়ারত করবেন।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী জেদ্দা পৌঁছাবেন এবং সেখানে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের চ্যান্সেরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। শেখ হাসিনা এশার নামাজের পর মক্কায় পবিত্র ওমরাহ পালন করবেন। প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার সকালে দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরকালে ২টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। এগুলো হলো- প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং আইসিটি খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও সৌদি বাদশাহর মধ্যে বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আলোচনা করা হবে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বিষয়গুলো ছাড়াও শ্রমিক কল্যাণ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য ও সমৃদ্ধি প্রভৃতি বিষয়েও আলোচনা হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আগামী দিনগুলোতে সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে ।

নিউজবিডি৭১/বিসি/অক্টোবর ১৭, ২০১৮




২০ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা ন্যাপ ও এনডিপির

ডেস্ক রিপোর্ট 
নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকাবিএনপি নেতৃত্বাধীন  দিয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ) ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)। ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলবদের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক গড়ার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেয় দল দুটি।

ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘১/১১-এর কুশিলব, মাইনাস টু ফরমুলা বাস্তবায়নকারী যখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নামে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে, তখন আমরা মনে করি বিএনপি তার সকল নৈতিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল ন্যাপ ও এনডিপি সাংবিধানিক, নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির স্বার্থে আজকে এই মুহূর্ত থেকে জোটের সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈশা।

নিউজবিডি৭১/বিসি/অক্টোবর ১৭, ২০১৮




যেসব কারণে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে সরে যেতে হয়েছিল

ডেস্ক রিপোর্ট 
নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকাড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বিএনপির সাথে যোগ না দেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও তাঁর দল বিকল্প ধারা বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে আবারো আলোচনায় এসেছেন তিনি। ২০০২ সালের জুন মাসে পদত্যাগ করেছিলেন অধ্যাপক চৌধুরী। কী ঘটেছিল সে সময়?

২০০২ সালের ২০শে জুন।

সেদিন খবরের কাগজ দেখে পাঠকদের অনেকেই চমকে উঠেছিলেন। আচমকা আসা ওই খবরটির জন্য অনেকেই হয়তো একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না।

বিভিন্ন খবরের কাগজে বড় বড় হরফে – কোথাও লাল কালি দিয়ে – শিরোনাম হয়েছে যে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর উপর আস্থা নেই খোদ তাঁর দল বিএনপির সংসদ সদস্যদের।

ঘটনা শুধু তাই নয়, বিএনপির সংসদীয় দলের যে বৈঠক আগের দিন থেকে শুরু হয়েছিল, সেই বৈঠকে অনেক সংসদ সদস্য দাবী তোলেন যে রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী পদত্যাগ করুন।

অন্যথায় তাকে ইমপিচ করার হুমকি দেন তাঁরা।

বিএনপি সংসদীয় দলের সভা শুরু হয়েছিল ১৯শে জুন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

তাঁর উপস্থিতিতে বিএনপি’র নবীন সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতির ওপর প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকে তাতে সমর্থন দেন, আবার নীরবও থেকেছেন অনেকে।

ওই সভায় তাদের ক্ষোভের বিষয় ছিল মূলত দু’টি।

প্রথমতঃ রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী কর্তৃক বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে না যাওয়া, আর দ্বিতীয়তঃ জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ না করা।

বি চৌধুরীএ খবরের পরেই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেবার জন্য মনস্থির করেন বি চৌধুরী।

তখনকার খবরের কাগজ সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু সভায় এ সংক্রান্ত আলোচনার সূত্রপাত করেন।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ওই সভায় বিএনপির ১৫ জন সংসদ সদস্য বক্তব্য দিলেও সবাই একই সুরে কথা বলেছেন।

আলোচনার সময় রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিরুদ্ধে আরও যেসব অভিযোগ আনা হয়, সেগুলোর একটি হচ্ছে – তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার মুন্সিগঞ্জ সফরের সময় তাকে স্বাগত জানিয়ে তোরণ নির্মাণ করেন রাষ্ট্রপতির ছেলে মাহী বি. চৌধুরী, যিনি সেখানকার একটি আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

প্রথম আলোর এক খবরে বলা হয়, সংসদীয় দলের সভায় বিএনপির একজন সংসদ সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রেসিডেন্টের পুত্র বিরোধীদলীয় নেত্রীর জন্য তোরণ নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু আমরা যদি এ ধরণের তোরণ নির্মাণ শুরু করি তাহলে কেমন হবে?”

সংবাদ মাধ্যমে ওই সভার খবর প্রকাশের পরপরই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন।

বি চৌধুরীএ খবরটি অনেকটা আকস্মিকভাবে এসেছিল

এর পরদিন বিএনপির সংসদীয় দলের সভা শেষে রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে সর্বসম্মতিক্রমে আহবান জানানো হয়।

সেদিন তৎকালীন চীফ হুইপ খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের স্বাক্ষর করা একটি চিঠি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছিলো, “১৯ এবং ২০শে জুন দলের সভায় বিস্তারিত আলোচনার পরে এই মর্মে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, বিএনপি সংসদীয় দল মাননীয় প্রেসিডেন্ট এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর উপরে আস্থা হারিয়েছে বিধায় তাকে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে অবিলম্বে পদত্যাগের আহবান জানানো হচ্ছে।”

২১শে জুন সবগুলো খবরের কাগজে প্রধান শিরোনাম হয় যে রাষ্ট্রপতি আজ পদত্যাগ করবেন।

এর আগের দিন সংসদীয় দলের সভা চলার সময় রাষ্ট্রপতির ছেলে এবং সংসদ সদস্য মাহী বি. চৌধুরী বৈঠক থেকে বেরিয়ে টেলিফোনে বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে সভার মনোভাব সম্পর্কে জানিয়ে পদত্যাগের পরামর্শ দেন।

দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় মাহী বি. চৌধুরীকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়, “আব্বা, তোমার পক্ষে কথা বলার কেউ নেই, তোমার পদত্যাগ করাই ভালো।”

একই দিন এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভুঁইয়া সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। সেখানে তিনি মন্তব্য করেন, “রাষ্ট্রপতি দলের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যে অবস্থান নিয়েছেন, তা ক্ষমাহীন ব্যাপার। ভুলেরও একটা মাত্রা আছে। তিনি সে মাত্রা ছাড়িয়ে গেছেন।”

বদরুদ্দোজা চৌধুরীর উপর বিএনপির ক্ষোভের নেপথ্যে

মাত্র সাত মাস সাত দিনের মাথায় রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে কেন বিদায় নিতে হয়েছিল, তার নানাবিধ কারণ উল্লেখ করে তখন সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল।

বি চৌধুরী
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বিদায়ের পর বিকল্পধারা বাংলাদেশ নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

যেসব কারণের কথা ওইসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, তার মধ্যে রয়েছে:

* জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর সমাধিতে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন না করা।

* রাষ্ট্রপতির বাণীতে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ না করা।

* বিরোধী নেত্রী শেখ হাসিনাকে মুন্সিগঞ্জে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতির ছেলে এবং সংসদ সদস্য মাহী বি. চৌধুরীর তোরণ নির্মাণ।

* রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন বক্তব্যে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ ব্যবহার না করা, কারণ ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বিষয়টি বিএনপি রাজনৈতিকভাবে ধারণ করে।

* ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আফতাব আহমদকে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইল রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর না করা। অধ্যাপক আফতাব আহমদের নাম প্রধানমন্ত্রীর দফতর অনুমোদন করেছিল। রাষ্ট্রপতি সেই ফাইলে স্বাক্ষর না করায় পরবর্তীতে আফতাব আহমদকে বাদ দিয়ে অধ্যাপক জিন্নাতুননেসা তাহমিদা বেগমকে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করা হয়।

* রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন ‘বাংলাদেশ টেলিভিশনে’ রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী বেশি সময় পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ তোলেন বিএনপির কিছু নেতা। এ পর্যায়ে রাষ্ট্রপতির কভারেজ কমিয়ে দেবার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিটিভিকে বলা হয়েছিল – এমন খবর সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসে।

বি চৌধুরীবাংলাদেশের ইতিহাসে এ ধরণের ঘটনা আর কখনো ঘটেনি।

* তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য এক মাস আমেরিকায় অবস্থান করে দেশে ফিরে আসার পর প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি কোন খোঁজ-খবর নেননি।

* দলের মনোনীত হয়ে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর মি. চৌধুরীর নিরপেক্ষ অবস্থান নেয়া।

* রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা ব্যয় বাড়ানো।

* সেনাবাহিনীসহ কয়েকটি বিষয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে দ্বিমত পোষণ করেন রাষ্ট্রপতি।

* রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের বাইরে অধিক সংখ্যক জাতীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া।

* বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের চ্যান্সেলর হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন নিয়ে সরকারের একটি মহল থেকে আপত্তি এলে তা পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করে তোলে।

২০০৬ সালে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, “আমি রাষ্ট্রপতি হবার পরে অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় আমার কাছে আবেদন জানালো আমি যেন চ্যান্সেলর হিসেবে সেখানে ডিগ্রীগুলো দিতে যাই। আমি সেগুলো করেছি কিছুদিন পরে, একজন মন্ত্রী আমার কাছে এলেন এবং প্রধানমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করে বললেন যে আমি যেন এত বেশি এক্সপোজড না হই অর্থাৎ এ ধরনের অনুষ্ঠান যেন আমি না করি।”

বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে নিয়ে বিএনপি নেতাদের মন্তব্য

তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এবং বিএনপির সিনিয়র নেতা সাইফুর রহমান বলেন, স্রষ্টার সাথে সৃষ্টি বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে না। কিন্তু তিনি (বদরুদ্দোজা চৌধুরী) জিয়াউর রহমানের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন বলে মি. রহমান মন্তব্য করেন।

খালেদা জিয়াবদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের এক সপ্তাহ পর খালেদা জিয়া বক্তব্য।

বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র নেতা কর্নেল (অব:) অলি আহমদ মন্তব্য করেন, বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে যেতে হবে, নইলে তাঁর বিরুদ্ধ ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিএনপির নেতা আব্দুল মতিন চৌধুরীকে উদ্ধৃত করে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা লিখেছে, “আমি আগেই বলেছিলাম তাকে প্রেসিডেন্ট বানানো ঠিক হবে না। আমার কথা ফলেছে।”

এছাড়া বিএনপি নেতা ও তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন এবং তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী নাজমুল হুদাও রাষ্ট্রপতির সমালোচনায় সরব ছিলেন।

পদত্যাগের পর বদরুদ্দোজা চৌধুরী কী বলেছিলেন?

বঙ্গভবন থেকে বিদায় নেবার পর বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, সরকারের সাথে তার একটি দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করেন যে তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছিল, সেগুলো সম্পর্কে কেউ কোন ব্যাখ্যা নেয়নি।

মি. চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “একজন সিনিয়র মন্ত্রীকে তো পাঠানো যেতো আসল ঘটনা জানার জন্য। আমি নিজেও দুবার প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোন করেছিলাম। কিন্তু কোন কথা হয়নি।”

বিএনপির সংসদীয় দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন বলে বদরুদ্দোজা চৌধুরী উল্লেখ করেন।

বি চৌধুরীপদত্যাগের পর বি চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া।

তিনি বলেন, যদি তিনি পদত্যাগ না করতেন, তাহলে তাকে সংসদে ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসনের মাধ্যমে পদত্যাগে বাধ্য করা যেতো না।

মি. চৌধুরী বলেন যে তিনি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে চেয়েছিলেন।

২০০৬ সালে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, “প্রথম কথা আমি দলের বিরুদ্ধে কোন কাজ করি নাই, আর দ্বিতীয়তঃ আমি তো দলে ছিলামই না! আমি তো নির্বাচনের আগেই পদত্যাগ করে এসেছি, সুতরাং আমি দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে যেভাবে কাজ করা উচিত ছিলো সেভাবেই কাজ করেছি।”

পদত্যাগের পর মি. চৌধুরী সাংবাদিকদের সাথে যে কথা বলেন, সেখানে তিনি নানা বিষয় তুলে ধরেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ না করা প্রসঙ্গে অধ্যাপক চৌধুরী বলেন, “মরহুম জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভূমিকা সম্পর্কে আমি আমরা বাণীতে বলেছিলাম। আমি তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা সম্পর্কে বলেছি। এ ঐতিহাসিক ভূমিকা বলার ক্ষেত্রে দুটো বিষয় আছে। একটি ঘোষক এবং অপরটি যুদ্ধক্ষেত্রে থেকে যুদ্ধ করা। আমি বরং অনেক বিস্তারিত বলেছি। আর এক কথা বারবার বলতে হবে কেন?”

বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি করতে চাননি খালেদা জিয়া

২০০১ সালে অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে, তখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সাহাবউদ্দিন আহমেদ।

খালেদা জিয়া
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া

রাষ্ট্রপতি পদের জন্য আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে বেছে নিয়েছিল।

বিএনপি ক্ষমতাসীন হওয়ার পরেও মেয়াদ শেষে সাহাবউদ্দিন আহমেদকে আরো ছয়মাস রাষ্ট্রপতি রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা যায়। কিন্তু তিনি ওই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।

২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতাসীন হবার পর বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে প্রথমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়।

কিন্তু তিনি এতে মোটেও সন্তুষ্ট ছিলেন না বলে সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছিল।

মি. চৌধুরী অনেকটা প্রকাশ্যে রাষ্ট্রপতির হওয়ার ইচ্ছে ব্যক্ত করেন। তবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং আরো কিছু সিনিয়র নেতা রাষ্ট্রপতি পদের জন্য তাঁর বিষয়ে অনাগ্রহী ছিলেন বলে জানা যায়।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত যুতসই কোন প্রার্থী না পাওয়ায় অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বেছে নিতে বাধ্য হন খালেদা জিয়া – এমনটাই মনে করেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে অধ্যাপক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীকে ছাপিয়ে যাবার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ তুলেছিলেন কোন কোন বিএনপি নেতা।

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিদায়ের পর খালেদা জিয়ার বক্তব্যে তাঁর সম্পর্কে সমালোচনা এবং ক্ষোভের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

২০০২ সালের ২৯শে জুন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, যে যত বড়ই হোক না কেন, ষড়যন্ত্র করে কেউ পার পাবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদের শেকড় কেটে দেয়া হয়েছে।

নিউজবিডি৭১/বিসি/অক্টোবর ১৭, ২০১৮