নির্বাচনী প্রচারণায় সহিংসতা এর পুনরাবৃত্তি কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে : সিইসি

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা :
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সহিংসতার কথা ভুলে গেলে চলবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় সহিংসতা এর পুনরাবৃত্তি কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে করণীয় নির্ধারণে সশস্ত্র বাহিনীসহ সব বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বৈঠকে এ নির্দেশ দেন সিইসি।

সিইসি বলেন, নির্বাচনী প্রচারের সময় সহিংসতার ঘটনা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির পুনরাবৃত্তির পাঁয়তারা কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। ৫ জানুয়ারির কথা ভুলে গেলে চলবে না। এসব সহিংসতার ঘটনা তৃতীয় কোনো শক্তির উত্থানের আলামত কিনা তাও খতিয়ে দেখার জন্য সব গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দেন তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এবং ইসি সচিব সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, গ্রামপুলিশ, কোস্টগার্ড, আনসার বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কোন বাহিনীর কতসংখ্যক ফোর্স, কতদিনের জন্য নিয়োজিত করা হবে, সেটি নির্ধারণ হবে এ বৈঠকে।

নিউজবিডি৭১/আ/ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮




আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় না ফিরলে পদ্মা সেতু হবে না : প্রধানমন্ত্রী

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা :
আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় না ফিরলে পদ্মা সেতু হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট দিন।

আজ বৃহস্পতিবার ফরিদপুরের কোমরপুর আব্দুল আজিজ ইনস্টিটিউশন মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তোলা হবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আর একবার আমাদের সেবা করার সুযোগ দেন তাহলে আমরা তা করতে পারবো।’

তিনি বলেন, ‘দেশকে আমরা উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এই গতি যেন সচল থাকে। এটাই আপনাদের কাছে চাওয়া।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যখন সরকারে এসেছি তখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। ২০২১ সালের মধ্যে প্রতিটি ঘরে ঘরে আলো জ্বালাব। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করব। ২০২০ সালে জাতির পিতা জন্ম শতবার্ষিকী পালন করব।’

সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। অব্যাহত থাকবে। এই ক্ষেত্রে আপনাদের সহযোগিতা চাই। মাদক একটা পরিবার নষ্ট করে দেয়। যুবকদের জীবনকে ধ্বংস করে দেয়। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক রুখতে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। মানুষ যেন জঙ্গিবাদ ও মাদক থেকে দূরে থাকে এ জন্য আপনারা কাজ করবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের তরুণ সমাজকে দেশ গড়ায় কাজে লাগাতে চাই। তরুণ সমাজের ভাগ্য পরিবর্তনে আমরা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আজ বাংলাদেশে খাদ্যের অভাব নেই। শুধু খাদ্য নয় আমরা পুষ্টির ব্যবস্থাও করেছি। কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছি। বিনা পয়সায় ৩৩ প্রকারের ওষুধ দিচ্ছি। এক কোটি চল্লিশ লাখ মা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার সন্তানের উপবৃত্তির টাকা পাচ্ছেন।’

নিউজবিডি৭১/আ/ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮




সব ক্ষেত্রে মেয়েদের সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,  মেয়েদের সব ক্ষেত্রে সুযোগ দিতে হবে । তারা যেন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। তাহলে পরিবারেও তাদের গুরুত্ব বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, মেয়েদের অধিকার আদায় করে নিতে হবে। পাশাপাশি তাদের মধ্যে পরিমিবোধও বাড়াতে হবে। অধিকার আদায় করতে গিয়ে পারিবারিক ঝামেলা যেন না সৃষ্টি হয়।

আজ রোববার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রোকেয়া দিবস উপলক্ষে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একথা বলেন।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিবছর বেগম রেকেয়া দিবসে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে।

এ বছরে বেগম রোকেয়া পুরস্কার পেলেন- সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জিন্নাতুনন্নেসা তালুকদার, প্রফেসর জোগরা আনিস, শীলা রায়, রমা চৌধুরী (মরনোত্তর) ও রোকেয়া বেগম।

পদকপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২৫ গ্রাম স্বর্ণের পদক, একটি সার্টিফিকেট ও দুই লাখ করে টাকা দেয়া হয়।

বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর এ দিন সারাদেশে সরকারিভাবে রোকেয়া দিবস পালন করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথেই নারী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান সরকার। রোকেয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে নিজেদের উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে এদেশের নারীসমাজ জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, সন্তানের পরিচয়ে মায়ের নাম আমরাই প্রথম অন্তর্ভুক্ত করেছি। মা জন্ম দেন। মা-ই বোঝেন সন্তান জন্ম দেওয়ার কষ্ট। নারীরা অনেক কষ্টসহিষ্ণু। পুরুষদের গড় আয়ু বর্তমানে ৭১, নারীর ৭৩, গড় ৭২। এ থেকেও স্পষ্ট হয় নারী বেশি কষ্টসহিষ্ণু।

প্রধানন্ত্রী বলেন, নারী নেতৃত্বকে এগিয়ে নিয়েছে আমাদের উপমহাদেশের নারীরাই। আমরাই প্রথম প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়েও নারীদের অধিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বেগম রোকেয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নিজেদের সম্পৃক্ত করার জন্য দেশের নারীসমাজের প্রতি আহ্বান জানান।

নিউজবিডি৭১/আ/ডিসেম্বর ৯ , ২০১৮




আওয়ামী লীগ সবসময় খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তাকে নিয়ে আতঙ্কে ভুগছে: রিজভী

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেন, সরকারের হুকুমেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

আজ রোববার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সরকারের হুকুমেই খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। একজন কমিশনারের সঠিক রায়কে উপেক্ষা করে স্বার্থসন্ধানী প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে বাকি কমিশনাররা বিভক্ত ও প্রশ্নবিদ্ধ আদেশ দিয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন।

রিজভী বলেন, গতকাল আপিল শুনানিকালে আইনগতভাবে ন্যায়ের পক্ষে রায় না দিয়ে বিনাকারণে সময়ক্ষেপণ করেছে নির্বাচন কমিশন। সংবাদ পেয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নোয়াখালী থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বলেন, আইনগতভাবে খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন না।

বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, ইসিকে সতর্ক করতেই তারা কমিশনে এসেছেন এবং আরও বলেন, সাংবিধানিকভাবে খালেদা জিয়ার নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই নির্বাচন কমিশন খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল করে।

‘মূলত তারা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিলের নির্দেশনা দিতেই আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদল সেখানে গিয়েছিলেন,’ যোগ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময় খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তাকে নিয়ে আতঙ্কে ভুগছে। আইনগতভাবে তার নির্বাচন করতে কোনো বাধা না থাকলেও গভীর চক্রান্ত ও মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবেই গতকাল নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেছে।

তিনি বলেন, সিইসির নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন অনেক দণ্ডপ্রাপ্ত লোকের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন। ১৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পংকজ দেবনাথ, হাজী সেলিম, মহীউদ্দীন খান আলমগীর এবং নাজমুল হুদাসহ অনেকেরই মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করেছে ইসি।

‘তা হলে খালেদা জিয়ারটা নয় কেন? নয় এ জন্য যে, খালেদা জিয়ার মনোনয়ন অবৈধ করতে সিইসির প্রতি শেখ হাসিনার নির্দেশ ছিল। আইন সম্মতভাবেই দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য।’

নিউজবিডি৭১/আ/ডিসেম্বর ৯ , ২০১৮




‘অনশন ভেঙে ক্লাসে শিক্ষার্থীরা’

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনার মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত পূর্ব ঘোষিত অনশন ভেঙে ক্লাসে ফিরে গেছে শিক্ষার্থীরা।

আজ রোববার দুপুর সোয়া ১টার দিকে শিক্ষকদের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে অনশন ভেঙে ক্লাসে ফিরে যায় শিক্ষার্থীরা।

এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষকরা বলেন, আমরা আশা রাখি শিক্ষক হাসনা হেনা দুই-তিনদিনের মধ্যেই মুক্তি পাবেন। এরপর শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অডোটিরায়ামে নিয়ে যান এবং সেখানে তাদের আইনি বিষয় বোঝান।

তবে শিক্ষক হাসনা হেনা মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

প্রসঙ্গত, সোমবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে শান্তিনগরের নিজ বাসা থেকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর (১৫) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, অরিত্রীর বিরুদ্ধে ফাইনাল পরীক্ষায় নকলের অভিযোগ তুলে তার বাবাকে ডেকে পাঠায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরে অরিত্রীর বাবাকে জানানো হয় তার মেয়েকে টিসি দেওয়া হবে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপাল অরিত্রীর সামনে তার বাবাকে অপমান করেন। এ ঘটনার পর সে আত্মহত্যা করেছে।

মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানী পল্টন থানায় অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌসসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার তিন নম্বর আসামি হাসনা হেনা। বুধবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে গ্রেফতার করা হয়।

নিউজবিডি৭১/আ/ডিসেম্বর ৯ , ২০১৮




খালেদার দণ্ড রাষ্ট্রপতি ছাড়া অন্য কেউ ক্ষমা করতে পারবেন না : কাদের

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়ার দণ্ড একমাত্র রাষ্ট্রপতি ছাড়া অন্য কেউ ক্ষমা করতে পারবেন না। তিনি আবেদন করলে রষ্ট্রপতির কাছে করতে হবে।

আজ রোববার দুপুরে ফেনী পৌর প্রাঙ্গণে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দুই বছরের অধিক দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচন করতে পারবেন না।

এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের আপিলের রায়েও খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্বাচন করার বিষয়টি আদালতের ব্যাপার। তার এ দণ্ড একমাত্র রাষ্ট্রপতি ছাড়া অন্য কেউ ক্ষমা করতে পারবেন না। তিনি আবেদন করলে রাষ্ট্রপতির কাছে করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে একটি সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করছে। এ পরিবেশ নষ্ট হলে বিএনপির জন্যই হবে। বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিতরা তাদের সেক্রেটারি জেনারেলের অফিসে গিয়ে দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছেন। যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে; কিন্তু মনোনয়ন পাননি তারাই হামলা করছেন।

নির্বাচনের পরিবেশ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ ঠিকই আছে। ‘৭৫-পরবর্তী যে কোনো সময়ের পর থেকে তুলনামূলক অনেক সুন্দর পরিবেশ রয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেনী-২ আসনের এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী, মহিলা সংসদ সদস্য জাহানারা বেগম সুরমা, ফেনী-১ আসনের এমপি শিরীন আখতার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বিকম প্রমুখ।

নিউজবিডি৭১/আ/ডিসেম্বর ৯ , ২০১৮




মির্জা ফখরুলের গাড়িতে হামলা: চালক আহত

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িতে হামলা করেছে মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের সমর্থকরা। এসময় গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায় এবং চালক হেলাল আহত হন।

শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে মির্জা ফখরুলের গাড়িতে হামলা চালানো হয়। এর আগে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন ফখরুল।

ঘটনাস্থলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে কাজী মনিরুজ্জামান মনিরকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দেয়ার পর বিক্ষোভে ফেটে পড়েন অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের সমর্থকরা।

নারায়ণগঞ্জে তৈমুর আলম খন্দকার মনোনয়ন না পাওয়ায় তার সমর্থকরা চেয়ারপারসন কার্যালয় লক্ষ্য করে ইট ছোঁড়ে। এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িতেও তারা হামলা করে। তবে এতে ফখরুলের গাড়ি চালক হেলাল ছাড়া আর কেউ আহত হয়েছে কিনা জানা যায়নি।

সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, শনিবার রাত আড়াইটায় মির্জা ফখরুল গুলশানের চেয়ারপার্সনের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় তার গাড়ি অবরুদ্ধ করা হয়। দীর্ঘ ৩০ মিনিট চেষ্টা করেও তিনি কার্যালয় থেকে বের হতে পারেননি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় রাত ৩টার দিকে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাকর্মী চেয়ারপার্সনস সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ) একটি মানববেষ্টনী তৈরি করে তাকে ঘিরে গুলশান-২ নম্বর চত্বরের দিকে নিয়ে যান।

সে সময় মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিগত গাড়িটি কার্যালয় থেকে খালি বেরিয়ে মূল সড়ক থেকে ফখরুলকে তুলে নিয়ে যায়।

এর আগে সন্ধ্যা থেকে দেশের বিভিন্ন আসনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকরা আন্দোলন করে।

মধ্যরাতে চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে গেইট ভেঙে তারা কার্যালয়ের ভেতর প্রবেশের চেষ্টা করে। গেটের অপর পাশ থেকে সিএসএফের কর্মকর্তারা প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

নিউজবিডি৭১/আ/ডিসেম্বর ৯ , ২০১৮




‘আজ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন’

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : আজ রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন। এদিন বিকাল ৫টার মধ্যে বৈধ প্রার্থীরা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে সশরীবে উপস্থিত হয়ে অথবা উপযুক্ত বার্তাবাহকের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন। সোমবার (১০ ডিসেম্বর) চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এরপরই শুরু হবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, রোববার বৈধ প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন হলেও গত কয়েকদিনে অনেকেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী আজ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেন বলে ইসির কর্মকর্তাদের ধারণা।

ইসির নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে আজ বিকালের মধ্যে বৈধ দলীয় ও জোটভুক্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের চিঠি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পৌঁছাতে হবে। কেননা বর্তমানে একটি আসনে রাজনৈতিক দল বা জোটের একাধিক বৈধ প্রার্থী রয়েছেন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ সালের ১৬(২) ধারা অনুযায়ী, বৈধ একাধিক প্রার্থীর মধ্য থেকে দলের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক বা সমমর্যাদাসম্পন্ন কোনো ব্যক্তির স্বাক্ষরে একজনকে প্রতীক বরাদ্দের জন্য চিঠি পাঠাতে হবে। দলের পক্ষ থেকে একজনকে প্রতীক বরাদ্দের চিঠি পাঠানো হলে বাকিদের মনোনয়নপত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

নির্বাচন আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী ভোট গ্রহণের ২১ দিন আগে প্রার্থীরা প্রচার শুরু করতে পারেন। ৩০ ডিসেম্বর ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সেই হিসাবে ১০ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু হচ্ছে। যদিও আগামীকাল ১০ ডিসেম্বর রিটার্নিং অফিসাররা ৩০০ আসনের বৈধ প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করবেন।

প্রতীক বরাদ্দের পরপরই মূলত প্রচার শুরু হবে প্রার্থীদের। ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী ২৩ ডিসেম্বর ভোট হওয়ার কথা ছিল। পরে ১২ নভেম্বর পুনঃতফসিল করে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

পোস্টালে ভোট দিতে পারবেন বিদেশিরা : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট পেপারের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিদেশ থেকে ভোট দিতে পারবেন। ব্যালট পেপারের জন্য বিদেশ থেকে ডাকযোগে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে দরখাস্ত করতে হবে।

দরখাস্ত ডাকযোগে বাংলাদেশে পৌঁছার পর প্রবাসীর দেয়া বিদেশের ঠিকানায় ডাকযোগে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। তারপর পছন্দের প্রতীকে ভোট দিয়ে পুনরায় ডাকযোগে রিটার্নিং অফিসারের কাছে ৩০ ডিসেম্বরের আগে ফেরত পাঠাতে হবে।

প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে উৎসাহিত করতে দূতাবাসগুলোকে অবহিত করার জন্য সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসলামাবাদ, রিয়াদ, দিল্লি, কুয়ালালামপুর, দুবাই, নিউইয়র্ক, লন্ডন, ওয়াশিংটন, অটোয়া, রোম, প্যারিসসহ বিভিন্ন দূতাবাস থেকে প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রবাসী যাদের বাংলাদেশের ন্যাশনাল আইডি কার্ড আছে, যারা নির্বাচনের সময়ে ভোট দিতে বাংলাদেশে আসবেন না এবং পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে বিদেশ থেকে ভোট দিতে আগ্রহী, তাদের শিগগিরই নিজ নিজ জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে (জেলা প্রশাসক) পোস্টাল ব্যালটের জন্য দরখাস্ত পাঠাতে হবে।

দরখাস্তে ন্যাশনাল আইডি কার্ডের নম্বর, ন্যাশনাল আইডি কার্ডের অপর পৃষ্ঠায় থাকা ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে। বিদেশে যে ঠিকানায় ব্যালট পেপার পাঠাতে হবে, ওই ঠিকানা অবশ্যই দরখাস্তে উল্লেখ করতে হবে। বাংলাদেশ থেকে যে খামে করে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে, তার ডাক টিকিট খরচ নির্বাচন কমিশন বহন করবে। প্রবাসীরা ব্যালট পেপারের জন্য যে দরখাস্ত পাঠাবেন, তার ডাকটিকিট খরচ প্রবাসীদের বহন করতে হবে।

নিউজবিডি৭১/আ/ডিসেম্বর ৯ , ২০১৮




‘দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গড়তে হবে’

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, আগামী প্রজন্ম যাতে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে এ জন্য আমাদের দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হবে। আর এজন্য সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে দুর্নীতি রোধে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

আজ রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস-২০১৮ উপলক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশন আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতেই এই ‘আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস’ দিবস আমরা পালন করছি।

মানববন্ধনে সরকারি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

নিউজবিডি৭১/আ/ডিসেম্বর ৯ , ২০১৮




‘শিক্ষিকার মুক্তিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ’

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : অরিত্রী অধিকারীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেফতার শিক্ষক হাসনা হেনার মুক্তির দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা।

আজ রবিবার সকাল ৮ থেকে বেইলি রোডে ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের ১ নম্বর গেটের সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় বেশ কয়েকজন অভিভাবককেও তাদের সঙ্গে দেখা যায়।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা জানায়, আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি এই ঘটনার সঙ্গে তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু কোনও নিরাপরাধ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক যেন হেনস্থা না হয়। আমরা বিশ্বাস করি হাসনা হেনা আপার এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই। আমরা হাসনা হেনা আপার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যাবো। তাকে দ্রুত মুক্তি দিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ প্রসঙ্গত, সোমবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে শান্তিনগরের নিজ বাসা থেকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর (১৫) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, অরিত্রীর বিরুদ্ধে ফাইনাল পরীক্ষায় নকলের অভিযোগ তুলে তার বাবাকে ডেকে পাঠায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরে অরিত্রীর বাবাকে জানানো হয় তার মেয়েকে টিসি দেওয়া হবে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপাল অরিত্রীর সামনে তার বাবাকে অপমান করেন। এ ঘটনার পর সে আত্মহত্যা করেছে।

মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানী পল্টন থানায় অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌসসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার তিন নম্বর আসামি হাসনা হেনা। বুধবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে গ্রেফতার করা হয়।

নিউজবিডি৭১/আ/ডিসেম্বর ৯ , ২০১৮




জামায়াত নেতাদের ওপরই ভরসা বিএনপির

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : নির্বাচন ঘিরে দাবি-দাওয়া তুলে ধরার ক্ষেত্রে গণফোরামের কামাল হোসেন সামনে থাকলেও ভোটের লড়াইয়ে পার পেতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের ওপরই সবচেয়ে বেশি ভরসা রাখল প্রধান বিরোধী দলটি।

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের অধিকাংশের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলেও এই দলের ১৭ জন নেতার এবার ধানের শীষ প্রতীকে জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এর বাইরে আরও কয়েকটি আসন তাদের ভাগে জুটছে বলে জামায়াত নেতাদের কথায় উঠে এসেছে।

অপরদিকে কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলো নির্বাচনে ১৯টি আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছে। আরও দুয়েকটি আসন নিয়ে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তাদের দর কষাকষি চলছে।

আগের দিন বিএনপির ২০৬ জন প্রার্থীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার পর শনিবার দলের আরও ১৪ জন নেতাকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা দিনভর গুলশান কার্যালয়ে ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে আসন ভাগাভাগি করেন।

ঐক্যফ্রন্টকে ১৯টি আসন দেওয়ার পাশাপাশি জামায়াত বাদে ২০ দলীয় জোটের অন্য শরিক দলগুলোকে ১৭টি আসন ছাড়ছে বিএনপি। এদের মধ্যে বিজেপি একটি, খেলাফত মজলিশ দুটি, এলডিপি পাঁচটি, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) দুটি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম চারটি, এনপিপি একটি, লেবার পার্টি একটি ও পিপিবিকে একটি আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোর মধ্যে কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন গণফোরামকে পাঁচটি, আ স ম আব্দুর রব নেতৃত্বাধীন জেএসডিকে পাঁচটি, মাহমুদুর রহমান মান্না নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্যকে পাঁচটি এবং কাদের সিদ্দিকী নেতৃত্বাধীন কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগকে তিনটি আসন দেওয়া হয়েছে।

এর বাইরে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনুসর আহমেদকে ধানের শীষের টিকেট দেওয়া হয়েছে। সাবেক এই আওয়ামী লীগ নেতা মৌলভীবাজারের একটি আসন থেকে বিএনপির সমর্থন নিয়ে সংসদে যাওয়ার লড়াইয়ে থাকছেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা সবাই ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এই নির্বাচনে লড়বেন।এলডিপির অলি আহমেদ ছাড়া ২০ দলীয় জোটের অন্যান্য প্রার্থীরাও বিএনপির প্রতীকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন হারানো জামায়াত নেতারাও ধানের শীষের প্রত্যয়ন নিয়েই মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

২০০৯ সালে বিএনপির সম্মেলনে জামায়াতের তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী। দল দুটির শীর্ষ স্থানে এই নেতারা এখন না থাকলেও নির্বাচনে জোটসঙ্গীদের মধ্যে জামায়াত নেতাদেরই সবচেয়ে বেশি আসনে মনোনয়ন দিচ্ছে বিএনপি। কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টুকে ঢাকা-৭ আসনে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। এছাড়া দলটির নেতাদের মধ্যে এ এইচ এম খালেকুজ্জামানকে ময়মনসিংহ-৮ আসনে, আমসা আমিনকে কুড়িগ্রাম-২ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া কয়েক দিন আগে এই দলে ভিড়ে হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন।একইভাবে সম্প্রতি আওয়ামী লীগ ছেড়ে আসা অধ্যাপক আবু সাঈয়িদকেও পাবনা-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী করা হচ্ছে।
এদের বাইরে ঢাকা-৬ আসনে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় আছেন দলটির নেতারা। তবে ওই আসনে ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেনও প্রার্থী থাকায় বিষয়টি নিয়ে এখনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি বিএনপি নেতারা।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সামনের কাতারের আরেক নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হচ্ছেন। তার দল নাগরিক ঐক্যেরও নিবন্ধন নেই নির্বাচন কমিশনে। এই দলের নেতা এস এম আকরাম নারায়ণগঞ্জ-৫, শাহ রহমত উল্লাহ রংপুর-১, মোফাখারুল ইসলাম রংপুর-৫ এবং নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর বরিশাল-৪ আসনে ধানের শীষ নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে যাচ্ছেন।

ঐক্যফ্রন্টের শরিক জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব ধানের প্রার্থী হচ্ছেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে। তার দলের নেতা আবদুল মালেক রতন কুমিল্লা-৪, শহিদউদ্দিন মাহমুদ স্বপন ঢাকা-১৮, সাইফুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ-৩ এবং নুরুল ইসলাম শরীয়পুর-১ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন।

কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী ঋণ খেলাপের দায়ে নির্বাচনের অযোগ্য হলেও তার মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকীকে টাঙ্গাইল-৮ আসনে প্রার্থী করছে বিএনপি। এছাড়া দলটির নেতা রফিকুল ইসলাম টাঙ্গাইল-৪ আসনে এবং ইকবাল সিদ্দিকী গাজীপুর-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হচ্ছেন।

এই জোটের শরিক জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনুসর আহমেদ ধানের শীষ নিয়ে লড়বেন মৌলভীবাজার-২ আসনে।

২০ দলীয় জোটের শরিকরা কে কোথায়

রাজধানীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হচ্ছেন বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ। এখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন চিত্রনায়ক আকবার হোসেন পাঠান ফারুক। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদও এই আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এলডিপির অলি আহমেদ চট্টগ্রাম- ১৪ আসনে নিজের দলীয় প্রতীক ‘ছাতা’ নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তার দলের নেতাদের মধ্যে মো. নুরুল আলমকে চট্টগ্রাম-৭ আসনে, রেদোয়ান আহমেদকে কুমিল্লা-৭ আসনে, সাহাদাত হোসেন সেলিমকে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে এবং সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদকে ময়মনসিংহ-১০ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী করছে বিএনপি।

কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম ধানের শীষ নিয়ে লড়বেন চট্টগ্রাম- ৫ আসনে।এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নড়াইল-২ আসনে, পিপিবির রিটা রহমান রংপুর-৩ আসনে, খেলাফত মজলিশের আহমেদ আবদুল কাদের হবিগঞ্জ-৪ আসনে এবং মুফতি মুনির হোসেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হচ্ছেন।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীর শাহিনুর. পাশা সুনামগঞ্জ-৩ আসনে, আবদুল বাসিদ আজাদ হবিগঞ্জ-২ আসনে, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক সিলেট-৫ আসনে এবং মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস যশোর-৫ আসনে ধানের শীষ নিয়ে লড়বেন।

জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) টিআই ফজলে রাব্বী গাইবান্ধা-৩ আসনে এবং আহসান হাবিব লিংকনকে কুষ্টিয়া-২ আসনে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। লেবার পার্টির মুস্তাফিজুর রহমান ইরান পিরোজপুর-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হচ্ছেন।

জামায়াত ইসলামীর নেতাদের কতটি আসন দেওয়া হচ্ছে সে বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো কিছু বলা হয়নি। তবে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ২৪টি আসন চাইছেন তারা, যার মধ্যে ১৭টির বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জামায়াত নেতাদের মধ্যে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হচ্ছেন।দলটির অন্য নেতাদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম খানকে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে, আবুল কালাম আজাদকে খুলনা-৬ আসনে, মিয়া গোলাম পারোয়ারকে খুলনা-৫ আসনে, সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে কুমিল্লা-১১ আসনে, শামসুল ইসলামকে চট্টগ্রাম-৭ আসনে, হামিদুর রহমান আযাদকে কক্সাবাজার-২ আসনে, ইকবাল হোসাইনকে পাবনা-৫ আসনে, আবু সাঈদ মো. শাহাদাত হোসাইনকে যশোর-২ আসনে, আবদুল হাকিমকে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে, আবু হানিফকে দিনাজপুর-১ আসনে, আনোয়ারুল ইসলামকে দিনাজপুর-৬ আসনে, আজিজুল ইসলামকে নীলফামারী-৩ আসনে, মাজেদুর রহমানকে গাইবান্ধা-১ আসনে, মুহাদ্দিস আবদুল খালেককে সাতক্ষীরা-২ আসনে, গাজী নজরুল ইসলামকে সাতক্ষীরা-৪ আসনে এবং শামীম সাঈদীকে পিরোজপুর-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী করছে বিএনপি।

এর বাইরে বাগেরহাটের দুটি আসনেও জামায়াত নেতারা বিএনপির মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে শোনা গেলেও কোনো পক্ষ থেকে তা নিশ্চিত করা হয়নি।

জামায়াতসহ ২০ দলকে কতটি আসন ছাড়া হয়েছে জানতে চাইলে জোটের সমন্বয়ক বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান শনিবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আসন ভাগাভাগির আলোচনা চলছে, শেষ না হলে বলাটা ঠিক হবে না।”

অপরদিকে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু রাতে গুলশানের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ে সাংবাদিকদের বলেন, “আসন বণ্টন নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। আমরা বলেছি, যারা জনপ্রিয় ও যোগ্য তাদেরকেই আসন দেওয়া হোক।

“আমরা ১০/১২টা আসন চেয়েছি। এখন কতটা দেবে সেটা বিএনপির ওপর ছেড়ে দিয়েছি। কালকে ভোরে এসে আমরা চিঠিগুলো নিয়ে যাব।”

সর্বশেষ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২৫৯টি আসনে দলীয় প্রার্থী দেয়।ওই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীসহ চারদলীয় জোটের শরিকদের ৪১টি আসন ছেড়েছিল তারা।

তার আগে ২০০১ সালে জামায়াতসহ চারদলীয় জোট করে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল বিএনপি। সেই সরকারের মন্ত্রিসভায় জামায়াতের দুই নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে রেখেছিলেন খালেদা জিয়া।

দুর্নীতি মামলায় সাজা নিয়ে এখন কারাগারে বন্দি আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা। অপরদিকে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলতে হয়েছে নিজামী-মুজাহিদকে।

দলীয় ২২০ জন এবং দুই জোট মিলিয়ে এখন পর্যন্ত বিএনপির মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছে ২৭৩ আসনে। রোববার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন থাকায় ওই দিনের মধ্যে বাকি আসনগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে তাদের।

নিউজবিডি৭১/আ/ডিসেম্বর ৯ , ২০১৮




‘বিদ্রোহী প্রার্থীদের শেখ হাসিনার চিঠি’

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে যারা বিভিন্ন আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তাদের উদ্দেশে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

আজ শনিবার দুপুরে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ গণমাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠান।

বিজ্ঞপ্তিতে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত একটি চিঠি রয়েছে।

একদশ সংসদ নির্বাচনে চার হাজারের মতো ব্যক্তি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইলেও ৩০০টি আসনে আড়াইশ জনকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করছে আওয়ামী লীগ; ৫০টির মতো আসন ছেড়ে দেয়া হচ্ছে জোট শরিক বিভিন্ন দলকে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সবার উদ্দেশে ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তাদের প্রায় সবারই ত্যাগ ও অবদান রয়েছে। রাজনীতিক ত্যাগ, দক্ষতা, যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার বিচারে প্রায় প্রত্যেকটি আসনেই ছিল একাধিক যোগ্য প্রার্থী।

একাধিক আবেদনকারীর মধ্যে থেকে একজনকে প্রার্থী হিসেবে নির্ধারণ করার কাজটি ছিল অত্যন্ত কঠিন ও দুরূহ।

প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক একটি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দলীয় প্রার্থী বাছাই করায় আপনাকে মনোনয়ন দিতে না পারায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

আওয়ামী লীগকে একটি শক্তিশালী ও কল্যাণমুখী রাজনৈতিক দলে পরিণত করার জন্য আপনার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। সাংগঠনিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও দেশের কল্যাণে নিরবচ্ছিন্ন ভূমিকার জন্য আপনাকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই কারণে আমরা সমমনা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।

আপনার কাছে আমার বিশেষ অনুরোধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে মহাজোটের প্রার্থীর পক্ষে আপনার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে মহাজোটকে বিজয়ী করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করবেন।

আপনার শ্রম আন্তরিকতা সব কিছুই আমার বিবেচনায় আছে।

আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে এই নির্বাচনেও জয়ী হয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন সম্ভব বলে আমি মনে করি।

আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আওয়ামী লীগ যদি ঐক্যবন্ধ থাকে, তাহলে নৌকা মার্কাকে পরাজিত করার সাংগঠনিক শক্তি আর কারও নেই।’

নিউজবিডি৭১/আ/ডিসেম্বর ৮ , ২০১৮