তসলিমা নাসরিনের স্ট্যাটাসের জবাবে যা বললেন মাসুদা ভাট্টি

ডেস্ক রিপোর্ট 
নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকা : একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টক শোতে লেখিকা মাসুদা ভাট্টিকে অশালীনভাবে আক্রমণ করায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অনেকে মাসুদা ভাট্টির পাশে দাঁড়িয়ে মইনুল হোসেনকে ক্ষমা চাইতে বলছেন।

এ নিয়ে দেশের ৫৫ জন বিশিষ্ট সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির পক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন। কিন্তু বেশ আশ্চর্যজনকভাবেই প্রখ্যাত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে মাসুদা ভাট্টির কঠোর সমালোচনা করেন। ওই স্ট্যাটাসে তিনি মাসুদা ভাট্টিকে ‘ভীষণ রকম চরিত্রহীন’ আখ্যা দিয়েছেন!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তসলিমা নাসরিনের দেওয়া স্ট্যাটাসের জবাবে পাল্টা একটি স্ট্যাটাস দেন মাসুদা ভাট্টি। পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো :

মাসুদা ভাট্টি লিখেছেন, ‘তসলিমা নাসরিনকে আমি ধন্যবাদ জানাই, কারণ তিনি এরকম একটি মোক্ষম সময়কে বেছে নিয়েছেন আমার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ক্ষোভকে প্রকাশ করে ২০ বছর আগে দেওয়া আমার একটি বক্তব্যের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য।

যে সকল ঘটনার উল্লেখ তিনি করেছেন তা ২০০০ সালের এবং তিনি সত্যিই আমাকে চিঠি দিয়েছিলেন কারণ তখন আমাকে ব্রিটেন থেকে বের করে দেওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। একটি আলোচিত সাক্ষাতকার গ্রহণের পর থেকে আমার সেদেশে টিকে থাকা মুশকিল হয়ে পড়েছিল এবং তখনো অনেক সাংবাদিক আমার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, এখন যেমন দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু তসলিমা নাসরিন কখনোই আমাকে তার পাবলিশার হিসেবে চিঠি দেননি, দিয়েছিলেন তার একজন ‘ফ্যান’ বা সমর্থক হিসেবে বর্ণনা করে। খুঁজলে সে চিঠি আমি নিশ্চয়ই পাব।

যখন তার প্রথম আত্মজৈবনিক গ্রন্থ ‘ক’ বের হলো তখন এই বই নিয়ে প্রচারণার অংশ হিসেবেই আমি একটি পুস্তক সমালোচনা লিখি। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে, আমার তখন নারীবাদ, নারীর প্রতি সহিংসতা, উদারনৈতিক ও সমতাভিত্তিক সমাজব্যাবস্থা সম্পর্কে খুব বেশি অ্যাকাডেমিক লেখাপড়া ছিল না। আমি সমালোচনায় বইটি সম্পর্কে এই কথাই বলতে চেয়েছিলাম যে, একজন ব্যক্তির সঙ্গে আরেকজন ব্যক্তির স্বেচ্ছা-সম্পর্কের দায় দুপক্ষের সমান এবং তা প্রকাশের আগে অন্যপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন পড়ে – ‘ক’ বইটি পাঠে আমার তা মনে হয়নি। প্রায় কুড়ি বছর আগের লেখা এবং সেখানে আমি তসলিমা নাসরিনকে কোনো ভাবেই ব্যক্তিগত কোনো আক্রমণ করিনি। করতে পারি না কারণ আমি সবসময় একথাই বলে এসেছি যে, আজকে যে আমরা মেয়েরা অনায়াস-লেখা লিখতে পারছি তার মূলপথ আমাদের জন্য উন্মুক্ত করেছেন তসলিমা নাসরিন। অথচ গত কুড়ি বছর যাবত তসলিমা নাসরিন অন্ততঃ কুড়িবারেও বেশি এই প্রসঙ্গে আমাকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন তার প্রকাশিত বইতে, লেখায় এবং তার ও আমার জানাশোনা ব্যক্তিবর্গের কাছে।

২০০০ সালের পরে অসংখ্য লেখায় আমি তসলিমা নাসরিনের প্রশংসা করেছি এবং সে কারণে আমাকে সমালোচকরা ‘নতুন তসলিমা নাসরিন’ আখ্যা দিয়ে আমার বিচার, অপমান এবং ফাঁসিও চেয়েছে। তসলিমা নাসরিন এসব কথা কখনো উল্লেখ করেননি, তিনি সব সময় গত কুড়ি বছর ধরে বহুবার, বহু জায়গায় আমার এই পুস্তক-সমালোচনার কথা উল্লেখ করে আমাকে চরম আঘাত করেছেন। আমি বিরত থেকেছি জনসমক্ষে কিছু বলা থেকে কিন্তু তসলিমা নাসরিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছে আমি বহুবার একথা বলেছি যে, তার বইয়ের সমালোচনায় আমি যা বলেছি সেটা একেবারেই তার বইয়ে সন্নিবেশিত তথ্যের সমালোচনা, তার ব্যক্তি-সমালোচনা নয়। আমি একথা ২০০৩ সালেই প্রকাশ্যেও লিখেছি, এমনকি যখন তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তখন আমি প্রতিবাদ করেছি, লেখকের বিরুদ্ধে মামলা বা বই নিষিদ্ধের দাবীর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছি। আমার সেসব প্রতিবাদ, প্রতিরোধ সব ভেসে গেছে, থেকে গেছে কেবল সমালোচনাটুকু। এমনকি এই সেদিনও বাংলা একাডেমীতে আয়োজিত লিট ফেস্ট ২০১৭ তে আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছি যে, তিনি আমাদের পুরোধা লেখক যিনি পথ দেখিয়েছেন, অনেক শব্দকে ছাপার অক্ষরে নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছিল, তিনি মুক্ত করে দিয়েছেন।

তসলিমা নাসরিনের প্রতি আমার কোনো ধরনের বিদ্বেষ, রাগ কখনোই ছিল না। বরং আমার দুঃসময়ে তিনি পাশে ছিলেন সেটা আমি ভুলিনি। তাই বলে তার প্রকাশিত বইয়ের সমালোচনা আমি করতে পারবো না সেটাতো হতে পারে না। হতে পারে তিনি মনে করেছেন যে, আমার সমালোচনাটি কুৎসিৎ ব্যক্তি আক্রমণ, কিন্তু আমি নিজে জানি যে, তখনো আমি সেটা করিনি আর এখনতো আরও করবো না। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি একটি লেখার জন্য আমাকে ক’বার শাস্তি দেবেন? এরতো কোথাও না কোথাও একটা শেষ হতে হবে, নয়? হয়তো এবারই সেই চরম শাস্তিটুকু তিনি আমায় দিলেন। আমি মাথা পেতে নিলাম।

তসলিমা নাসরিন তার মতামত দিয়েছেন আমার সম্পর্কে। আমি সে সম্পর্কে আমার ব্যাখ্যা দিতে পারি মাত্র, এর বেশি আর কীই বা করতে পারি? তবে এমন একটি সময়কে ২০ বছর আগে লেখা সমালোচনার (যার জন্য বহুবার তিনি প্রকাশ্যে আমায় গাল দিয়েছেন) জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন যখন আমি কেবল আক্রান্তই নই, আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্নটিও তিনি আমলে আনেননি, আমার চেয়ে তার এই নিরাপত্তা-সংকটের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি বোঝার কথা ছিল। আজকে তার দেওয়া চারিত্রিক সার্টিফিকেট নিয়ে যারা আমাকে তুলোধনুা করছেন তারাই প্রতিদিন তার মাথা চায়, নোংরা আক্রমনে জর্জরিত করে, কখনও বা তাকে দেশ ছাড়া করতে চায়। কিন্তু আজ আমার বিরুদ্ধে তারই দেওয়া ‘ভীষণ চরিত্রহীন’ তকমার করাত দিয়ে আমাকে টুকরো টুকেরো করছে। জানি না, এতে কার লাভ কী হলো? কিন্তু কিছু একটা হলো নিশ্চয়ই।

এরকম একটি চরম সংকটকালে যখন পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার কবলে থেকে একদল মানুষ ন্যয়ের জন্য লড়ছে, তখন মইনুল হোসেনের দেওয়া তকমা “চরিত্রহীন”-কে একটি “ভীষণ” শব্দ জুড়ে দিয়ে আমার চরিত্রের সার্টিফিকেট-কে আরও শক্ত করেছেন তসলিমা নাসরিন – আমি এ জন্যও তার কাছে কৃতজ্ঞ। অগ্রজ লেখক হিসেবে হয়তো এটুকুই আমার প্রাপ্য তার কাছে।’

নিউজবিডি৭১/বিসি/অক্টোবর ২৩২০১৮




‘তারেকের নেতৃত্ব ধ্বংস করতেই ড. কামাল হোসেন’- ফোনালাপে ব্যারিস্টার মঈনুল

ডেস্ক রিপোর্ট 
নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকা :  তারেক রহমানের নেতৃত্ব ধ্বংস করার জন্যই ড. কামালকে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতৃত্বে আনা হয়েছে, ফাঁস হওয়া ফোনালাপে একথা বলেছেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন।

ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের মালিকানাধীন পত্রিকার সাবেক এক বিশেষ প্রতিনিধির সঙ্গে ফাঁস হওয়া ফোনালাপে এ দাবি করেন তিনি ।

ফাঁস হওয়া ফোনালাপটির কথোপকথোন:

মজুমদারঃ আরেকটা নিউজ স্যার, এটা একটা রিউমার উঠেছে যে, আপনি আর ড. কামাল হোসেন লন্ডনে যাচ্ছেন তারেক রহমানের সঙ্গে মিটিং করার জন্য?

জবাবে মঈনুল হোসেন: বাদ দেন। আমাদের মিটিং তারেকের সঙ্গে, আমরা মিটিংয়ে যাবো? এরা কোথাকার ছাগল? আমরা তারেকের নেতৃত্ব ধ্বংস করার জন্যই ড. কামাল হোসেনকে আনছি।

মজুমদারঃ জ্বি ভালো থাকবেন।

নিউজবিডি৭১/বিসি/অক্টোবর ২৩২০১৮




সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের আশা বার্নিকাটের

ডেস্ক রিপোর্ট 
নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকাআগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। তিনি মনে করেন, দেশের গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে সব রাজনৈতিক দল আন্তরিক হবে।

সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে বিদায় সাক্ষাৎ শেষে এসব কথা বলেন বার্নিকাট। বাণিজ্যমন্ত্রীও বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্যই কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়েছে। সরকারও চায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক।

সাক্ষাৎ শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত একসঙ্গে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তোফায়েল আহমেদ জানান, বার্নিকাট নির্বাচনসহ অন্যান্য বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, একটা দেশ অস্থিতিশীল হলে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রদূতকে জানানো হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান। বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের সময় সরকার রুটিন দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের কাজ করবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জোট গঠন করেছে। এটা কোনো জাতীয় জোট নয়। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য একটা জোট। এই জোটের কোনো দাবি সংবিধানসম্মত ও গ্রহণযোগ্য নয়। ঐক্যজোট সিলেটে ২৪ তারিখ জনসভা করবে। এরপর চট্টগ্রাম যাবে, রাজশাহী যাবে। মানে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। সুতরাং নির্বাচনে কেউ আসবে না তা ভাবার কারণ নেই।

মামলা-মোকদ্দমার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জানতে চেয়েছেন বলে জানান তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূতকে বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কোনো মামলা বা কাউকে গ্রেফতার করা হয় না। বিএনপি না এলেও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল বলেন, সব দলের অংশগ্রহণে সরকার নির্বাচন চায়। তবে কোনো দল অংশগ্রহণ করবে কি না সেটা তাদের সিদ্ধান্ত।

অবাধ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনকে গণতন্ত্রের মূল চাবিকাঠি বলে উল্লেখ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, যদি সব দল ভোটে অংশ নেয়, শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করতে পারে ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো সহিংসতা না হয়, সেটাই হবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। বিএনপি অংশ না নিলে সেই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বলবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বার্নিকাট বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সব দল নির্বাচনে অংশ নেবে আমরা সেটাই চাই।

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনার সময় তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে বলেছেন কি না- সেই প্রশ্নে বার্নিকাট বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনে অংশ নিন, সবার প্রতিই আমাদের এই আহ্বান। গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমগুলোকে সঠিক তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন তৈরিরও আহ্বন জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে নিয়ে মইনুল হোসেন যে মন্তব্য করেছেন তার প্রতিক্রিয়া জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। এ ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, মইনুল হোসেন বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী মোশতাক ও ফ্রিডম পার্টির সঙ্গে দল করেছিলেন। ২০০৫ সালের ৩০ ডিসেম্বের শিবিরের প্রতিনিধি সম্মেলনে তিনি জামায়াত-শিবিরের তারিফ করে বক্তৃতা করেছিলেন। ফলে তার কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না।

বিনিয়োগ বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র: বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা না থাকলেও আমেরিকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ছে, যা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক। পোশাকের দাম প্রসঙ্গে তোফায়েল আহমেদ বলেন, এরই মধ্যে ক্রেতারা দাম কিছুটা বাড়িয়েছেন। আরও বাড়াবে।

আমেরিকা থেকে তুলা আমদানি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা আমেরিকা থেকে তুলা আমদানি করে। তুলায় এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়। আমদানির সময় আমেরিকার সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যাকটেরিয়া বিষয়ে সনদ দেয়। কিন্তু আমেরিকা থেকে তুলা দেশে পৌঁছাতে ৩২-৩৩ দিন সময় লাগে। এ সময় নতুন করে ব্যাকটেরিয়া তৈরির আশঙ্কা থাকে। যে কারণে দেশে পৌঁছানোর পর ফের পরীক্ষা করার শর্ত থাকে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পরীক্ষা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন মার্শা বার্নিকাট।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ জন্য দরকার অবকাঠামো উন্নয়ন- বিশেষ করে বিদ্যুৎ, সড়ক অবকাঠামো, সমুদ্র ও বিমানবন্দরের উন্নয়ন দরকার। এসব খাতেও আমেরিকার কোম্পানি বিনিয়োগে আগ্রহী বলে তিনি জানান।

নিউজবিডি৭১/বিসি/অক্টোবর ২২, ২০১৮




নির্বাচন করা বা পদ পাওয়ার ইচ্ছা নেই: ড.কামাল

ডেস্ক রিপোর্ট 
নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকানিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে ঐক্যমতের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘ঐক্যফ্রণ্টের গঠনকে জামায়াতে ইসলামী বা তারেক রহমানসহ অন্য কোনো বিশেষ নেতার প্রতি সমর্থন হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

যারা ক্রমাগত বিদ্বেষপূর্ণ, ভিত্তিহীন ব্যক্তিগত আক্রমণ করে চলেছেন, তাদের স্পষ্ট বলতে চাই, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বা কোনো রাষ্ট্রীয় পদ পাওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই।’

একটি গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুমাত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্যই কাজ করে যাবেন বলেও জানান ড. কামাল। সোমবার বিকেল চারটায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণফোরামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, ‘দলীয়ভাবে বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আছে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে এই জোট গড়ে উঠেছে। এর বাইরে বিএনপির সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক নেই। এটা দলের সঙ্গে দলের সম্পর্ক। কোনো ব্যক্তির সঙ্গে নয়।’

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য তিনি সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবির কথাও জানান।

এ দাবিগুলো হলো- বর্তমান জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া, মন্ত্রিসভার পদত্যাগ, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকার গঠন, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া, বাক-স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা, জনগণের আস্থা আছে এমন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করা।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সম্পর্কে ড. কামাল হোসেন জানান, তিনি উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছেন যে, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তিনি জানান, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের লক্ষ্যে দাবিগুলো আদায়ের জন্য তারা এমন ব্যক্তি ও দলের সঙ্গে কাজ করবেন, যারা একটি গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সংকল্পবদ্ধ। যারা এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চান, যেখানে ধর্ম, জাতিগত পরিচয় ও লিঙ্গের ভিত্তিতে কারো বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত রায় চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, গণমাধ্যম বিষয়ক রফিকুল ইসলাম পথিক প্রমুখ।

নিউজবিডি৭১/বিসি/অক্টোবর ২২, ২০১৮




‘বিরোধী দলগুলো চাইলে নির্বাচনকালীন সরকার হবে, না চাইলে হবে না’

ডেস্ক রিপোর্ট 
নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকাপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতীয় সংসদে থাকা বিরোধী দলগুলো চাইলে নির্বাচনকালীন সরকার হবে, না চাইলে হবে না।

সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত নির্বাচনের আগে আমরা সব দলকে সাথে নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তখন আমাদের আহ্বান সত্ত্বেও তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি সাড়া দেয়নি। এবার নির্বাচনকালীন সরকার দরকার আছে কি-না, সেটা দেখা যাবে।’

নির্বাচনকালীন সরকারের আকার ছোট হবে কি-না বা হলে কেমন হবে— এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কাকে বাদ দিয়ে যে মন্ত্রিসভা ছোট করবো সেটা খুঁজে পাচ্ছি না। বড় থাকলে কি সমস্যা আছে?’

তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় ছোট মন্ত্রিসভা ও তখনকার বিরোধী দলকে নিয়ে সব দলের সরকার গঠনের কথা বলেছিলাম। এখন এটা দরকার আছে কি-না দেখা যাবে।’

এখন মন্ত্রিসভার আকার ছোট করতে সমস্যা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এরই মধ্যে আমরা এত প্রজেক্ট পাস করেছি, সেসব কাজ শেষ করা দরকার। এখন কয়েকটি মন্ত্রণালয় একজনের হাতে দিলে তিনি পারবেন কি-না, দুই-তিন মাসের মধ্যে আমাদের অনেকগুলো কাজ করতে হবে। এখন কাজগুলো করতে গেলে কাউকে সরিয়ে দিলে কাজগুলো ব্যাহত হবে কিনা, এ সমস্যাটা রয়ে গেছে। আমি কাজগুলো দ্রুত শেষ করতে চাই এবং সবাই যার যার মন্ত্রণালয়ের কাজগুলো করছে।’

বিশ্বের অন্যান্য দেশে নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভা ছোট করা হয় না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন ইত্যাদি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র আছে। আমি ওইসব দেশের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা তো কোনো পরিবর্তন করে না। তারা তো বলেছে, তেমনটা করার তো কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। এখন দেখা যাক… অপজিশন যদি চায় তখন করবো। আর না চাইলে কিছু করার নেই।’

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সৌদি আরব সফর সম্পর্কে জানাতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে গত মঙ্গলবার চারদিনের সফরে সৌদি আরব যান প্রধানমন্ত্রী। সফরে তিনি সৌদি আরবের বাদশাহর পাশাপাশি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় নিজস্ব জমিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ভবনের উদ্বোধন এবং জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের চ্যান্সেরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মদিনায় গিয়ে মসজিদে নববীতে এশার নামাজ আদায় এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা জিয়ারত করেন। সফর শেষ করে দেশে ফেরার আগে পবিত্র ওমরাহ পালন করেন প্রধানমন্ত্রী।

নিউজবিডি৭১/বিসি/অক্টোবর ২২, ২০১৮




বাংলাদেশকে ভারতের সবুজ সংকেত

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ভারতকে ব্যবহারে দেয়ার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে ঢাকা। কিছু দিন আগে মন্ত্রিসভা এমন প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে।

চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধিদল পূর্বনির্ধারিত সফরে দিল্লি যাবেন। সেখানে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা হতে পারে। এর মাধ্যমে ভারত তার রুগ্ণ বন্দর ব্যবহারে উপকৃত হবে আর বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতের আঞ্চলিক বাণিজ্য ও কানেকটিভিটির বিশেষজ্ঞ প্রবীর দে বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প মালিকরা এই প্রস্তাব লুফে নেবেন। কারণ চট্টগ্রামের তুলনায় হলদিয়া থেকে তাদের রফতানি সহজ ও দ্রুত হবে। তৈরি পোশাক শিল্পের রফতানির জন্য বন্দরে স্পেশালাইজড কিছু সার্ভিস লাগে। তাদের রফতানির ডেডলাইন মিট করার জন্য বন্দরের টার্ন-অ্যারাউন্ড টাইম খুব কম হতে হয়।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে সত্যি বলতে গেলে সেই পরিস্থিতি নেই। কর্ণফুলী নদীতে ড্রেজিং না করলে বড় জাহাজ সেখানে ভিড়তে পারে না। তখন ছোট জাহাজে মালপত্র তুলে কলম্বো বা সিঙ্গাপুর থেকে সেটা ট্রান্সশিপমেন্ট করতে হয়।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।




ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন গ্রেফতার

ডেস্ক রিপোর্ট 
নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকাব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে ঢাকার উত্তরা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার রাত ৯টা ৪৬ মিনিটে উত্তরায় আ স ম আবদুর রবের বাসা থেকে বের হলে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে টকশোতে কটূক্তির অভিযোগে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন দৈনিক আমাদের অর্থনীতির নির্বাহী সম্পাদক মাসুদা ভাট্টি।

গত রোববার দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. আসাদুজ্জামান নূরের আদালতে তিনি এ মামলা করেন।

তবে আদালত এখনও আদেশ দেননি বলে জানা গেছে।

এর আগে জামালপুরে যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক ফারজানা ইয়াসমিন লিটার মানহানির মামলায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোলায়মান কবির।

গত ১৬ অক্টোবর মধ্যরাতে একাত্তর টেলিভিশনের টকশোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে উদ্দেশ করে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের এক মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এ ঘটনায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে গত শনিবার বিবৃতি দেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৫৫ সম্পাদক ও বেশ কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক।

এর আগে ১৮ অক্টোবর ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেয়ার হুশিয়ারি দিয়ে নারী সাংবাদিকরা সংবাদ সম্মেলন করেন। এছাড়া সোমবার ভোলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও রংপুরে ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করে নারী সাংবাদিক ও নারী নেত্রিরা। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

নিউজবিডি৭১/বিসি/অক্টোবর ২২, ২০১৮




কাল প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক রিপোর্ট 
নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকাপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরবে তাঁর সদ্যসমাপ্ত সফর সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানাতে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা করবেন।

প্রেস সেক্রেটারি ইহসানুল করিম আজ গণমাধ্যমকে জানান, আগামীকাল সোমবার বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সৌদি বাদশা ও দুটি পবিত্র মসজিদের খাদেম সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী গত ১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর সৌদি আরবে চারদিনের সরকারি সফর করেন।

এ সফরে, প্রধানমন্ত্রী রিয়াদের রাজপ্রাসাদে সৌদী বাদশার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর সম্মানে আয়োজিত এক মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী সৌদি যুবরাজ, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মাদ বিন সালমান বিন আব্দুল আজিজের সঙ্গে এক বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

তিনি কাউন্সিল অব সৌদি চেম্বার ও রিয়াদ চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও বৈঠক করেন। উক্ত বৈঠকে ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী রিয়াদে ডিপ্লোমেটিক কোয়ার্টার্সে বাংলাদেশ চ্যান্সেরি বিল্ডিং-এর উদ্বোধন করেন এবং তিনি জেদ্দায় বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেল-এ চ্যান্সেরি বিল্ডিং এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

শেখ হাসিনা মক্কা শরীফে পবিত্র ওমরাহ পালন এবং মদীনায় মসজিদে নববীতে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর পবিত্র রওজা শরীফ জিয়ারত করেন।

নিউজবিডি৭১/বিসি/অক্টোবর ২১, ২০১৮




তরুণদের কাছে ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট 
নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকাপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তরুণ প্রজন্মকে দেশের সব থেকে বড় শক্তি আখ্যায়িত করে এবং তাঁদের কর্মসংস্থানে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামীর নির্বাচনে তাঁদের ভোট চেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনে গত দশ বছরে দেশের জনগণ অভূতপূর্ব উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করেছে। কাজেই আমাদের সব থেকে বড় শক্তি তরুণ প্রজন্মের কাছে আগামীর নির্বাচনের জন্য ভোট চাইব যাতে করে দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতাটা বজায় থাকে।

শেখ হাসিনা আজ অপরাহ্নে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়াধীন বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে একথা বলেন।

তিনি চারটি জেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত থেকে উপজেলা পর্যায়ের ৬৬টি শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম, ৬টি জেলার যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-র সিনথেটিক টার্ফ সমৃদ্ধ মাল্টি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন এবং স্থানীয় জনসাধারণ এবং উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আগামীর নির্বাচনে যদি বাংলাদেশের জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দেয় এবং আমরা যদি আবারো সরকার গঠন করে দেশের সেবা করতে পারি তাহলে আমি এটা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে পারি-২০২০ সালের মধ্যে দেশে কোন ক্ষুধা-দারিদ্র থাকবে না এবং দেশকে আমরা আরো উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাব।

প্রধানমন্ত্রী যুব সমাজের কাছে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, আমাদের যুব সমাজ দেশের উন্নয়নে তাঁদের মেধা এবং মননকে কাজে লাগাবে এবং নতুন নতুন চিন্তা-ভাবনা করবে যেন এই দেশকে আরো দ্রুত কিভাবে উন্নত করে গড়ে তোলা যায়।

তিনি বলেন, আমরা যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। সেই সাথে আমরা ক্রীড়া এবং যুব উন্নয়কে সবসময় গুরুত্ব দেই।

ভিডিও কনফারেন্সে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন সিকদার, ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এবং বিকেএসপি’র মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আনিসুর রহমান বক্তৃতা করেন। মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান রাসেল এসময় গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই জনগণের ভোট পেয়ে সরকার গঠন করেছে তখনই খেলাধূলাসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করেছে।

তিনি বলেন, তাঁর সরকার একেবারে তৃণমূলের স্কুল পর্যায় থেকে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব গোল্ডকাপ এবং বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন আন্তঃস্কুল প্রতিযোগিতার আয়োজন করে খেলোয়াড়দের বের করে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করে।

সেই সাথে স্থানীয় এবং একেবারে দেশজ খেলাগুলো যেন হারিয়ে না যায় তাঁরও উদ্যোগ গ্রহণ করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলাধূলা এবং শরীরচর্চায় আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে আমরা উৎসাহিত করছি।

তিনি বলেন, যতবেশি খেলাধূলা এবং সাংস্কৃতি চর্চায় আমাদের ছেলে-মেয়েদের আমরা সম্পৃক্ত করতে পারবো ততবেশি তাদের চরিত্র অনমনীয়, দৃঢ় হবে। তাঁরা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে এবং মাদক, জঙ্গি- এ ধরনের কোন বিপথে যাবে না।
তাঁর সরকারের সময় ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, দাবাসহ বিভিন্ন খেলায় বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সার্ক অনুর্ধ্ব ১৫ এবং ১৮ ফুটবলে বাংলাদেশের নারীরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০১১ সালে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল ওয়ান ডে স্ট্যাটাস অর্জন করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে। ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন’স ট্রফিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে, ইসলামিক সলিডারিটি গেম-২০১৭-তে শুটিং এর মিশ্র দ্বৈতে স্বর্ণ পদক এবং ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে রৌপ্য পদক লাভ করে, আর্চারিতে ২০১৭-তে ৬টি স্বর্ণ পদক এবং প্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় বাংলাদেশের প্রতিবন্ধীরাও সাফল্য লাভ করে।
তাঁর সরকারের সময়ে আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ, ওয়ার্ল্ড টি টোয়েন্টি ক্রিকেট, বঙ্গবন্ধু সার্ক ফুটবল, বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল, সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন শীপ, পুরুষ এশিয়া কাপ হকি ২০১৭সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানেও বাংলাদেশের সাফল্যের উল্লেখ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার ছেলে-মেয়ে এবং প্রতিবন্ধীদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে সবরকমের সুযোগ সৃষ্টিতে সর্বদা চেষ্টা করে যাচ্ছে। সরকার চায় তরুণ প্রজন্ম যেন এই খেলাধূলার সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারে।

জাতীয় ক্রীড়ানীতির খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর সরকার ৬ এপ্রিলকে জাতীয় ক্রীড়া দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে।

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-কে সরকার বিভাগীয় পর্যায়েও সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, বলেন তিনি।

তিনি বলেন, খেলাধূলা মানোন্নয়নে প্রাকৃতিক বৈচিত্র তুলে ধরে এবং পরিবেশকে রক্ষা করে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট ভেন্যু এবং বিভিন্ন স্টেডিয়াম তৈরি করায় তাঁর সরকার সচেষ্ট রয়েছে।

দেশের ৬টি শারিরীক শিক্ষা কলেজে ‘বিপিএড’ ডিগ্রি প্রদান করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিজেলায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে তাঁর সরকার যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনে উদ্যোগ গ্রহণ করবে। যেখান থেকে যুবকরা প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াবে এবং নিজের পরিবার ও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সমর্থ হবে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশের ৬৪ জেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি চালু করায় সরকারের পদক্ষেপের উল্লেখ করে বলেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণ-যুব সমাজ নিজেদের কর্মসংস্থান নিজেরাই করে নিতে পারবে।

দেশের যুব সমাজকে আগামীর ভবিষ্যত আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই তরুণ-যুবকদেরকে আমরা একটা দক্ষ প্রজন্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

তিনি এ সময় তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কর্মসংস্থান ব্যাংক সৃষ্টি এবং এসব ব্যাংক থেকে বিনা জামানতে জনপ্রতি দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা প্রদানের তথ্য তুলে ধরে বলেন, তাঁদের বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করার জন্যই আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি।

কাজেই আমাদের আর কারো বেকার থাকার কোন সুযোগ নাই, একটু যদি কেউ উদ্যোগ নেয় তাহলেই নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে। কেননা তারুণ্যইতো মেধা মনন বিকাশের সময় এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া তরুণদেরই কাজ, যোগ করেন তিনি।

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখাটা জরুরি উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ এবং এই গতিধারাটা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে কারণ জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন এবং আমাদের দেশকে আমাদেরই এখন এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুণর্ব্যক্ত করে বলেন, ২০২০ সালে আমরা জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন করবো আর ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশ হবে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ। আর ২০৪১ সালে হবে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ।

তিনি বলেন, আজকের যারা শিশু-কিশোর এবং করুণ তাঁদের ভবিষ্যতটা যেন আরো বেশি সুন্দর ও উজ্জ্বল হয়, সফল হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই তাঁর সরকার শতবর্ষ মেয়াদি ‘ডেল্টা প্লান-২১০০’ গ্রহণ করেছে।

নিউজবিডি৭১/বিসি/অক্টোবর ২১, ২০১৮




মন্ত্রিসভার আকার ছোট হচ্ছে: ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট 
নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকাজাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই মন্ত্রিসভার আকার ছোট হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রোববার রাজধানীর সোবহানবাগে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ‘কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা: দেশের সার্বিক উন্নয়নের অনুঘটক’ শীর্ষক এক গোল টেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘১৫-২০ দিন পরেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে। তাই খুব অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই মন্ত্রিসভার আকার ছোট হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা মানেই ক্যাম্পেইন শুরু। খুব শিগগিরই কয়েক দিনের মধ্যেই মন্ত্রিসভার কর্মের ধরন পাল্টে যাবে, তারা কেবল রুটিন ওয়ার্ক করবে। মন্ত্রিসভার আকার ছোট হলে সেখানে আমিও থাকব কি না সেটা প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কেউ জানেন না। কারা সেই মন্ত্রিসভায় থাকছেন এটা প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কেউ বলতেও পারবেন না। তবে সরকার এই সরকারই থাকবে। সেই মন্ত্রিসভায় কারা কারা থাকছেন, সেটা প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সিলেটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ইঙ্গিত পেয়েছেন। ইতিমধ্যে পুলিশ অনুমতি দিয়ে দিয়েছে। অফিশিয়াল চিঠি না পাওয়ার আগ পর্যন্ত ঐক্যফ্রন্ট নেতারা অহেতুক নাটক করবেন, এটা তাদের পুরোনো অভ্যাস।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম শনিবার এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন, নির্বাচন কমিশন বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

বিএনপির মহাসচিবের এই বক্তব্যে বিষয়ে সাংবাদিকেরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব কি ভুলে গেছেন যে, নির্বাচন কমিশন পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট? প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আরও চারজন কমিশনার আছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন কমিশনার কোনো ইস্যুতে যদি ভিন্নমত পোষণ করেন অথবা নোট অব ডিসেন্ট দেন, এটা তো গণতন্ত্রের বিউটি। সেখানেও ইন্টারনাল ডেমোক্রেসি কাজ করছে, সেটাই আমরা মনে করব। এটাকে নিয়ে বিভক্তির যে অভিযোগ তিনি ( মির্জা ফখরুল) তুলেছেন, এটা সম্পূর্ণই কাল্পনিক ও হাস্যকর ব্যাপার।’

গোলটেবিল অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কোর্ডিনেশন অথরিটির (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক অতিরিক্ত সচিব খন্দকার রাকিবুর রহমান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ পিএসসি। স্বাগত বক্তব্য দেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. ইউসুফ এম ইসলাম।

আলোচনায় অংশ নেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম মাহাবুব-উল-হক মজুমদার এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষক, পরিবহন বিশেষজ্ঞ শামসুল হক প্রমুখ।

নিউজবিডি৭১/বিসি/অক্টোবর ২১, ২০১৮




শাসকগোষ্ঠী জনমতকে তোয়াক্কা করছে না: মির্জা ফখরুল

ডেস্ক রিপোর্ট 
নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকাআসন্ন নির্বাচনকে ভোটারশুন্য করার জন্য সরকার নানা ফন্দি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, এই জন্য বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলার হিড়িক ও নির্বিচারে গ্রেফতারের মহাতৎপরতা চলছে। ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচন করার জন্যই বর্তমান শাসকগোষ্ঠী জনমতকে তোয়াক্কা করছে না।

সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে চট্টগ্রাম জেলা আদালত কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে রোববার এক বিবৃতিতে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, দেশে এখন চলছে সরকারি প্রতিহিংসার প্রবল প্রতাপ। আর এই প্রতিহিংসার ছোবলে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দল, ভিন্নমত ও বিশ্বাসে মানুষদের ক্ষত-বিক্ষত করছে। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আটকের মধ্য দিয়ে।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণকেই সবচেয়ে বড় শত্রু মনে করে। বর্তমান রাষ্ট্রের সকল অঙ্গকে করায়াত্ত করে সরকার নিজেকে অপ্রতিদ্বন্দ্বি ভাবছে। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য জনগণ যে আবশ্যিক নিয়ামক সে কথাটি সরকার ভুলে গেছে। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের জন্য সরকর দেশে বিভেদ-বিভাজন, সহিংসতা-সংঘাত, কুৎসা ও বিদ্বেষ জিইয়ে রাখছে।

তিনি বলেন, অনাচারের ওপর নির্ভর করে এই সরকার টিকে থাকতে চাচ্ছে। কিন্তু তাতে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। সরকারের সকল অপকর্মের জবাব দিতেই জনগণ পথে-পথে ব্যারিকেড তৈরি করবে।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলসহ দেশবাসীকে ভয় দেখানোর অপকৌশল হিসেবেই আমির খসরু মাহমুদ তিনি অবিলম্বে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করে তার নিঃর্শত মুক্তির জোর দাবি জানান।

নিউজবিডি৭১/বিসি/অক্টোবর ২১, ২০১৮




নির্বাচন বানচালে বর্ণচোরা হায়েনারা মাঠে: নাসিম

ডেস্ক রিপোর্ট 
নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকাআওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, নির্বাচন বানচাল করতে বর্ণচোরা হায়েনার দল মাঠে নেমেছে। তারা নানা চক্রান্ত শুরু করেছে। ২০১৪ সালের মতো জ্বালাও-পোড়াও করে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে।

কিন্তু শান্তিপ্রিয় মানুষ দেশের উন্নয়ন ধ্বংসকারী যে কোনো অশুভ শক্তিকেই ভোটের মাঠে প্রতিহত করবে। রোববার নিজ নির্বাচনী এলাকা সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত পৃথক সমাবেশে মোহাম্মদ নাসিম এ কথা বলেন।

এদিন দুপুরে তিনি তার প্রয়াত মায়ের নামানুসারে স্থাপিত বেগম আমিনা মনসুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের একাডেমিক ভবন ও ছাত্রাবাসের উদ্বোধন এবং বিকেলে পল্লী বিদ্যুতের কাজীপুর জোনাল অফিস ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

সমাবেশে ড. কামাল ও ব্যারিস্টার মইনুলদের এক-এগারোর কুশীলব উল্লেখ করে ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম আরও বলেন, এরাই শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার নামে সে সময় মামলা করেছিলেন। সেই মামলায় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এখন জেলখানায় বন্দি। সময়ের পরিবর্তনে এক-এগারোর সেই কুশীলব আবার মাঠে নেমেছেন, খালেদা জিয়ার পক্ষাবলম্বন করে আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ নির্বাচন চায়, বাংলার জনগণও নির্বাচন চায়। দেশে কোনো মার্শাল ল’ চাই না। আওয়ামী লীগ কোনো নির্বাচনকে ভয় পায় না, শুধু ভয় পায় চক্রান্তকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের। তবে এ দেশের জনগণ চক্রান্তকারীদের কালো হাত ভেঙে দেবে।

আমিনা মনসুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে একাডেমিক ভবন ও ছাত্রাবাস উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক আবু নুর মো. শামসুজ্জামান।

পরে বিকেলে আইএইচটি চত্বরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাজীপুর জোনাল অফিসের প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির-২ এর জিএম সৈয়দ কামরুল হাসান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সহধর্মিণী বেগম লায়লা আরজুমান্দ বানু বীথি, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আশরাফ আলী, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মঈন উদ্দিন, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব খুরশীদ ইকবাল রিজভী, জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা, কৃষক লীগ নেতা আবদুল লতিফ তারিন, কাজীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা খলিলুর রহমান সিরাজী ও নিজাম উদ্দিন।

নিউজবিডি৭১/বিসি/অক্টোবর ২১, ২০১৮