এমপির স্ত্রীর গাড়িচাপায় পথচারী নিহত, তারপর যা হচ্ছে

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : রাজধানীর মহাখালী ফাইওভারে নোয়াখালীর এমপি একরামুল করীম চৌধুরীর স্ত্রীর গাড়িচাপায় সেলিম ব্যাপারী (৫৫) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় বেপরোয়া গতির গাড়িটি সেলিম ব্যাপারীকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গাড়িটি এমপি-পুত্র শাবাব নিজেই চালাচ্ছিলেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।

নিহত সেলিম ব্যাপারী মহাখালীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক ছিলেন। কাজ শেষে বাসায় যাওয়ার পথে তিনি দুর্ঘটনায় নিহত হন। তাকে ধাক্কা দেয়া গাড়িটি নোয়াখালী সদরের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য একরামুল করীম চৌধুরীর স্ত্রী কামরুন্নাহার শিউলীর বলে পুলিশ জানায়। শিউলী নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। গাড়িটি তার বলে তিনি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। তবে গাড়িটি তার ছেলে চালাচ্ছিল না বলে তিনি দাবি করেছেন।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় মহাখালী ফাইওভারের ওপরে দ্রুতগামী একটি প্রাইভেট কার সেলিমকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এ সময় পেছনে থাকা একটি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেট কার গাড়িটিকে অনুসরণ করে। গাড়িটি গিয়ে সংসদ ভবনের উল্টো দিকে ন্যাম ফ্যাটে যায়। সেখানে দায়িত্বরত আনসার ও নিরাপত্তা প্রহরীরা বলেছেন, গাড়িটি থেকে তারা শাবাবকে নামতে দেখেছেন। শাবাব একরাম চৌধুরীর একমাত্র ছেলে।

বাংলা ট্রিবিউনের এক রিপোর্টে ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শামীম আশরাফীর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে দুর্ঘটনাটি যখন ঘটে তখন ওই প্রাইভেট কারটির পেছনে ছিলেন একজন মোটরসাইকেল আরোহী। দ্রুত পালাতে সচেষ্ট গাড়িটিকে ওই মোটরসাইকেল আরোহী অনুসরণ করা শুরু করেন এবং চিৎকার করে আশপাশের সবার সহযোগিতা চান। এ সময় কয়েকজন বন্ধুসহ শামীম আশরাফীও প্রাইভেট কারে ওই সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনিও গাড়িটিকে অনুসরণ করে দেখতে পান গাড়িটি সংসদ ভবনের উল্টো দিকে ন্যাম ভবনের দিকে ঢোকে। ওই প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ন্যাম ভবনের ভেতরে ঘাতক গাড়িটি থেকে এক তরুণ নেমে বলে, ‘এটা আমার এলাকা, কে কে আসবি আস।’ এ সময় ওই তরুণের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। তখন আশপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং তরুণটিকে শাবাব নাম ধরে ডাকতে থাকে। এ সময় এসব লোকজন ও দায়িত্বরত আনসার ও কেয়ারটেকাররা জানান, শাবাব এমপি একরাম চৌধুরীর ছেলে। এরপর তাদের ন্যাম ভবন থেকে বের করে দেয়া হয়। শামীম জানান, মোটরসাইকেল আরোহী ঘটনার সাথে সাথে ঘাতক গাড়ি ও চালকের ছবি তোলেন এবং ভিডিও করেন। কিন্তু তাকে হুমকি দিয়ে সেসব ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য করা হয়। তিনি বলেন, এর প্রমাণ ন্যাম ভবনের সিসি ক্যামেরায় নিশ্চয় ধারণ করা হয়েছে। ওই সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখলেই এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, ওই গাড়িতে সংসদ সদস্যের স্টিকার ছিল। কাফরুল থানার ওসি শিকদার মোহাম্মদ শামীম হোসেন জানান, রাতে ঢাকা মেট্রো ১৩-৭৩৫৫ নম্বরের প্রাইভেট কারটি সেলিমকে ফাইওভারের ওপর ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গাড়িটি নোয়াখালীর একজন সংসদ সদস্যের ছেলে চালাচ্ছিলেন। ঘটনার পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে কাফরুল থানায় নিয়ে যায়। তবে গাড়িচালক ও গাড়ি আটক রাখা হয়নি। এই ঘটনায় পুলিশ একটি সড়ক দুর্ঘটনার মামলা করেছে।

নিউজবিডি৭১/আ/২১ জুন ,২০১৮




ব্যতিক্রমী সাংসদ জগলুল হায়দার

নিউজবিডি৭১ডটকম
মানিক খান : বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের শেষ উপজেলা শ্যামনগর। সুন্দরবনের কোল ঘেষে এ উপজেলা অবস্থিত। আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় উপজেলা। এ উপজেলার মোট ১২ টি ইউনিয়নসহ পাশের উপজেলা কালিগঞ্জের আটটি ইউনিয়ন নিয়ে সাতক্ষীরা-৪ আসন। এক সময় অবহেলিত জনপদ হিসেবে মানুষ ছিল উন্নয়ন বঞ্চিত। কিন্তু বর্তমান সরকারের গত সাড়ে ৪ বছরে পাল্টে গেছে সে চিত্র। এ আসনের অলি গলিতে সর্বত্র এখন উন্নয়নের ছোঁয়া। রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, ব্রীজ, কালভাট, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসহ এমন কোন সেক্টর নাই যেখানে উন্নয়ন ঘটেনি। অভূতপূর্ব এই উন্নয়নের মূলে রয়েছে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দার।

তরুণ সংসদ হিসেবে জগলুল হায়দারের নাম এখন সবার মুখে মুখে। ২০১৪ সালে প্রথম বারের মতো অবহেলিত এ জনপদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের পাশে ছুটে চলেছেন। এলাকার উন্নয়ন নিয়ে সংসদেও যেমন থাকেন সরব, তেমনি বিরামহীনভাবে রাত-দিন সারাক্ষণ ছুটে চলেন সাধারণ মানুষের দুয়ারে। খবর পেলেই ছুটে যান অসহায় মানুষের কাছে। তাদের পাশে থেকে যথাসাধ্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। শ্রমিকদের উৎসাহ যোগাতে লুঙ্গি-গামছা পরে কাজে লেগে পড়েন।

মাথায় ঝুড়ি নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা কাজ করে চলেন। গরিব-অসহায় মানুষের সাথে ব্যয় করেন তার দিনের অনেকটা সময়। প্রথম প্রথম অনেকে লোক দেখানো বলে হাসি ঠাট্টা করতেন। কিন্তু তিনি তাদের কথায় কান না দিয়ে সাধারন মানুষের জন্য কাজ করে চলেছেন। সাংসদ হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি তিনি মাঠে-ঘাটে সাধারন মানুষের সাথে। জানা যায়, সাংসদ হওয়ার আগেও চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে তিনি এ ধরণের কাজ করতেন। তবে এখন মানুষের ভূল ভেঙেছে। কেউ আর হাসি ঠাট্টা করে না। সবার মুখে মুখে এখন সাংসদ জগলুলের গুনগান।

সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথম বারের মতো সংসদ সদস্য নিবাচিত হয়ে দুই উপজেলায় চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর তহবিল হতে কয়েক হাজার অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসা সাহায্য প্রদান করেছেন। নির্বাচনী এলাকার ইমাম, পুরোহিত, শিক্ষক, সাধারন মানুষসহ কয়েক হাজার মানুষকে একত্রিত করে জঙ্গীবাদ বিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন।

সুন্দরবন থেকে ডাকাত, দস্যুদের নির্মূল করতে উপকূলবর্তী ইউনিয়নগুলিতে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, আইনজীবী, এনজিও প্রতিনিধিসহ সকল শ্রেণি পেশার প্রতিনিনিধিদের নিয়ে নিয়মিত মতবিনিময় সভা করেছেন। স্কুলে স্কুলে গিয়ে কোমলমতি শিশুদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দুই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করেছেন। নিবাচনী এলাকার ২০ টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটিতে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কার্যালয় নির্মাণ করেছেন। হতদরিদ্র পরিবারকে ১০ টাকা কেজি দরের চালের কার্ডে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয়দের নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে উঠান বৈঠক করে সরকারের উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড প্রচার করছেন। তাদের মুখ থেকে শুনেছেন সুঃখ-দুঃখের কথা। সমস্যা সমাধানে হাত বাড়িয়েছেন। তরুণ সমাজকে জঙ্গীবাদ থেকে সচেতন করতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গীবাদ বিরোধী স্লোগান সম্বলিত ব্যানার টাঙানো হয়েছে। এর ফলে ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে জঙ্গীবাদ বিরোধী সচেতনতা তৈরী হয়েছে। দুই উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, বীরমুক্তিযোদ্ধাসহ গরীব দুস্থদের মাঝে টিন ও নগদ অর্থের চেক বিতরণ করা হয়েছে। হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহাদ্যপূর্ণ পরিবেশ আরো জোরদারকরণে দুই সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে হাজার-হাজার মোটরসাইকেলের শোভাযাত্রা সহকারে দূর্গাপূজায় বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন জগলুল।

কাশিমাড়ী ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়িয়া এজি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ “জন্মযুদ্ধ একাত্তর” নির্মান করেছেন। তার উদ্যোগে শ্যামনগর সদরে মুক্তিযোদ্ধা সড়কের প্রবেশ পথে দৃষ্টিনন্দন বঙ্গবন্ধু গেট নির্মাণ এবং সরকারি মহসিন কলেজের প্রবেশ পথে বঙ্গবন্ধু ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি সংবলিত গেট নির্মাণ করা হয়েছে। তার উদ্যোগে বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানাতে মুক্তিযুদ্ধকালীন শ্যামনগর থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতিয়ার রহমানের নামে সড়ক নির্মাণ এবং শ্যামনগর উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে নেমপ্লেট স্থাপন করা হয়েছে। গোপালপুরে মুক্তিযোদ্ধা
স্মৃতি সৌধ নিজ হাতে পরিস্কার করে একাত্তরের বীর শহীদদের প্রতি সম্মান জানতে ভূল করেনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান জগলুল হায়দার। স্বামী পরিত্যাক্ত মহিলাদের ঘর তৈরিতে দেওয়া হয়েছে ঢেউটিন। উন্নয়নের সব ফলকে কৃতজ্ঞতা স্বীকারে শেখ হাসিনার নাম লেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে তিন হাজার বেকার যুবক-যুবতীর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান করা হয়েছে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রায় দুই হাজার পাঁচশত জনকে সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করেছে এই সাংসদ। অভিবাসনে পিছিয়ে পড়া জেলা হলেও তার নির্বাচনী এলাকা থেকে বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে তিন হাজার মানুষের। লবনাক্ত এলাকা হওয়ায় সুপেয় পানি সরবরাহ নিশিচতকরণে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে এক হাজার গভীর-অগভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এভাবে সারা দেশের মধ্যে ব্যতিক্রমী কাজ জনসেবায় নতুন ধারা সৃষ্টি করেছেন জগলুল হায়দচার।২০০২ সাল থেকে শ্যামনগর উপজেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করা জগলুল আন্তর্জাতিক গনমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন। তাকে নিয়ে একাধিকবার প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। মানবিক এ কাজের জন্য ভারত হতে পেয়েছেন পুরস্কার।

জনপ্রতিনিধি হয়ে যে মানুষের কাছে থাকা যায় তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জগলুল হায়দার। দিন-রাত, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সাধারন মানুষের বাড়ীতে পৌঁছে তাদের খোঁজ খবর নেন। ঝড়ের রাতেও লুঙ্গি কাছা মেরে টর্চ লাইট হাতে নিয়ে যান প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারন মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে তাদের খোঁজ খবর নেন। ঈদের সময় অসহায় ও দরিদ্র মানুষের ঘরে ঘরে সেমাই, চিনি, লুঙ্গি, পানজাবি, শাড়ি নিয়ে হাজির হন। রোজার সময় ইফতারি নিয়ে ভিক্ষুকের বাড়ীতেও হাজির হতে ভুলেন না এ সাংসদ। কারো বিপদ বা অহায়ত্বের কথা যখন জানতে পারেন তখনই ছুটে যান তাদের কাছে। সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। সাইকেল চালিয়ে গ্রামে গ্রামে খোঁজ নেন সাধারন মানুষের। কখন কোন সময়ে কার বাড়ীতে হাজির হন তা কেউ জানেন না। পথ চলতে যেখানেই দেখেন মানুষের কষ্ট সেখানেই থামেন তিনি। খোশ গল্পে মেতে ওঠেন তাদের সাথে। যেখানেই সহযোগিতা প্রয়োজন সেখানেই হাত বাড়িয়ে দেন। সবসময় সাধারন মানুষের কাছে দোয়া
চান বঙ্গবন্ধু, তার পরিবার ও শেখ হাসিনার জন্য। এজন্য নির্বাচনী এলাকার সবার কাছে তিনি এখন স্যার নয়, জগলুল ভাই হিসেবে পরিচিত।

নিউজবিডি৭১/আর/ ১৪ জুন , ২০১৮




কয়েক বছরে পাল্টে গেছে সাতক্ষীরা-৪ আসনের দৃশ্যপট

নিউজবিডি৭১ডটকম
মানিক খান : কয়েক বছরে পাল্টে গেছে সাতক্ষীরার দৃশ্যপট। পরিবর্তন হয়েছে রাস্তাঘাট। দৃশ্যমান হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে অঞ্চলজুড়ে।

আর এসব উন্নয়নের ছোয়া লাগিয়েছে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার।

তিনি আর দশজন সংসদ সদস্যের চেয়ে আলাদা। মন থেকেই তিনি সাধারণ মানুষের পাশে ছুটে বেড়াচ্ছেন প্রতিনিয়ত। সংসদেও সরব থাকেন। সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর খবর সবচে বেশি সৃষ্টি করেছেন তিনি।

সংসদের ২য় মেয়াদে ৫০ মাসে চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে কালীগঞ্জ কলেজ, কালীগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শ্যামনগর মহসিন কলেজ, নকিপুর হরিচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হয়েছে।

হাজার হাজার অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসার সাহায্য করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক তহবিল হতে লক্ষ লক্ষ টাকার অনুদানের চেক প্রদান করা হয়েছে। তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকার ইমাম, পুরোহিত, শিক্ষক সহ হাজার জনগণকে সমাবেশে একত্রিত করে জঙ্গীবাদ
বিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন।

জগলুল হায়দার এমপির ঐচ্ছিক তহবিল হতে ২ টি উপজেলার ২০ টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটি হতে ৫ জন করে সর্বমোট ১০০ জনের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৫ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

সুন্দরবন থেকে ডাকাত, দস্যুদের নির্মূল করতে উপজেলার উপকূলবর্তী সকল ইউনিয়নে জীবিকা নির্বাহের জন্য সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর সাথে নিয়মিত মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছেন।

৩০ লাখ ১৩ হাজার ৭৩৩ টাকা ব্যয়ে কালীগঞ্জ উপজেলার কুশলিয়া ইউনিয়নের পিরোজপুর হাটের উন্নয়ন করা হয়েছে। ২ কোটি ৫৫ লাখ ৩ হাজার ৮৪৪ টাকা ব্যয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। শ্যামনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে, যেটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে।

সাতক্ষীরা – ৪ আসনের নির্বাচনী এলাকার ২টি উপজেলার ২০ টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের কার্যালয় নির্মাণ করে দিয়েছেন। ১১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে অতি গুরুত্বপূর্ণ শ্যামনগর-কাশিমাড়ি-কয়রা এবং কয়রা – নওয়াবেকী- শ্যামনগর জেলা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণ কার্ডে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা ৪ আসনে প্রায় ৭০ হাজার হত দরিদ্রদের ১০ টাকা কেজি চাউলের কার্ড দেওয়া হয়েছে। ১ লাখ ৩০ হাজারের অধিক ভিজিএফ কার্ড ও ৮ হাজার ভিজিডি কার্ড ধারীরা উপকার ভোগ করছে।

ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে দুই উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গীবাদ বিরোধী স্লোগান সম্বলিত ব্যানার বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, বীরমুক্তিযোদ্ধা সহ গরীব দুস্থদের মাঝে টিন ও নগদ অর্থের চেক বিতরণ করা হয়েছে। ১৫ কোটি ৪৪ লাখ ৪৯ হাজার ২২৫ টাকা ব্যয়ে জিরণগাছা-চারা বটতলা-মৌতলা-উভাকুড় রাস্তার উন্নয়ন করা হয়েছে।

৮৩ লাখ ৬৪ হাজা ৬৯৮ টাকা টাকা ব্যয়ে ১.৫ কি.মি. গড়ের হাটখোলা প্রবাজপুর রাস্তার উন্নয়ন করা হয়েছে। সাতক্ষীরা-৪ সংসদীয় এলাকার প্রায় ১৩৫ কিমি কার্পেটিং রাস্তা করা হয়েছে। শ্যামনগরের ইতিহাসে সর্বপ্রথম হাজার হাজার মোটরসাইকেল নিয়ে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে দূর্গাপূজায় বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন জগলুল হায়দার এমপি। কাশিমাড়ী ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়িয়া এজি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ “জন্মযুদ্ধ একাত্তর” নির্মান করে দিয়েছেন।

শ্যামনগর সদরে মুক্তিযোদ্ধা সড়কের শুরুতেই সুবিশাল বঙ্গবন্ধু গেট নির্মাণ করে দিয়েছেন। মহসিন কলেজের প্রবেশ পথে বঙ্গবন্ধু ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি সংবলিত গেট নির্মাণ করে দিয়েছেন। নকিপুর বাজারে যমুনা খালের উপর ৩৩ ফুট দৈর্ঘের ব্রীজ নির্মাণ করে দিয়েছেন। বীরমুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান সড়ক নির্মাণ করে দিয়েছেন। শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নে সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১ কোটি ৮১ লাখ ২৭ হাজার ৮৮০ টাকা টাকা ব্যয়ে সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করে দিয়েছেন।

১ কোটি ৫৪ লাখ ৪৯ হাজার ২৫৫ টাকা ব্যয়ে কালীগঞ্জ উপজেলার জিরোনগাছা-চারবটতলা-মৌতলা-উভাকুড় সড়ক পুনঃনির্মাণ করে দিয়েছেন। শ্যামনগর উপজেলার সকল বীরমুক্তিযোদ্ধার বাড়ির সামনে ডিজিটাল নেমপ্লেট স্থাপন করে দিয়েছেন। শ্যামনগর ও কালীগঞ্জ উপজেলার ২০ টি ইউনিয়নে ৭০ কোটি টাকা ব্যায়ে বিভিন্ন রাস্তার উন্নয়ন করেছেন। দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের অধিনে ৫০ মাসে প্রায় ১৫০কোটি টাকার গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষানা-বেক্ষন, রাস্তা সংষ্কার সজিদ মন্দির সংষ্কার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন ও ব্রীজ-কালভার্টসহ হেয়ারিং বন্ডের রাস্তা ও সাইক্লোন সেল্টার নির্মান করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৫০০ বান্ডিল ঢেউটিন হত-দরিদ্র স্বামী পরিতক্তাদের গ্রহ নির্মাণে প্রদান করা হয়েছে। ১০ হাজার বয়ষ্ক, বিধাব ও প্রতিবন্ধী নতুন ভাতা কার্ড প্রদান করা হয়েছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৩ হাজার বেকারদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়া সরকারের বিভিন্ন অধিদপ্তরে প্রায় ২৫০০ জনকে সরকারী চাকরীর সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন ২ হাজার ৮শ ৪২ জন। জন স্বাস্থ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ১হাজার গভীর- অগভীর নলকূপ ও রেইন ওয়াটার প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করে দিয়েছেন। মুড়োগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করে দিয়েছেন। ডিআরএম আডিয়াল কলেজে নতুন ভবন নির্মাণ করে দিয়েছেন।

নিউজবিডি৭১/আর/ ১৩ জুন , ২০১৮




এস আলমের সয়াবিনসহ ৩৬টি পণ্য অকৃতকার্য ঘোষণা করেছে বিএসটিআই

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : ভেজালে সয়লাব-এসআলমসহ ৩৬ পণ্য। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বাজারে অবাধে ভোগ্য পণ্য বিক্রি হয়। বিক্রয় উপযোগী ভোগ্যপণ্য বাজারে তুলেছে বিভিন্ন কোম্পানি। এসব কোম্পানির বেশ কিছু পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সংগ্রহকৃত ২৮৬ টি পণ্যের নমুনার মধ্যে ৩৬ টি পর্ণ অকৃতকার্য ঘোষণা করেছে বিএসটিআই।

এর অর্থ এগুলো ভেজাল পণ্য।এসব পণ্যের মধ্যে পণ্যের যথাযথ মান সংরক্ষণ করে তৈরি করা হয়নি বলে জানান বিএসটিআইয়ের পরিচালক প্রকৌশলী এস এম ইসহাক আলী। মঙ্গলবার (১৫ মে) সচিবালয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রমজানে ভোগ্য পণ্য মাননিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। এসময় শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রকৌশলী এস এম ইসহাক আলী বলেন, দেশের অন্যতম তেল বিশেষ করে সয়াবিন তেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের পামঅয়েল সয়াবিনসহ তেল উৎপাদনকারী চারটি প্রতিষ্ঠান আমাদের পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে। আমরা তাদেরকে নোটিশ দিয়েছি। এ পর্যন্ত নোটিশের জবাব পাইনি।

অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে, নারায়ণগঞ্জের শবনম ভেজিটেবল ওয়েল লিমিটেড, চট্রগ্রামের এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড, ভিওটিটি অয়েল রিফাইনারিজ লিমিটেড, ভিওটিটি অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড, বেফিশিং কর্পোরেশন লিমিটেড,

মারবিন ভেজিটেবলস অয়েল লিমিটেড, নারায়ণগঞ্জের তানভীর অয়েলস লিমিটেড, দীপা ফুড প্রডাক্টস লিমিটেড, বাংলাদেশ এডিবল অয়েলস লিমিটেড, সুফার অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড, চট্রগ্রামের এম এম ভেজিটেবল অয়েল প্রোডাক্টস লিমিটেড, বাগেরহাটের শুন্সিং এডিবল অয়েল লিমিটেড।

খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ড্যানিশ ফুড লিমিটেডের লাচ্ছা সেমাই, ঢাকায় অবস্থিত বগুড়া স্পেশাল কোং এর ঘি, গাজীপুরের ভাই ভাই ফুড প্রোডাক্ট এন্ড কোং এর অরিজিনাল বাঘাবাড়ি ঘি, আফতাব মিল্ক এন্ড মিল্ক প্রোডাক্ট লিঃ এর আফতাব মিল্ক, ঢাকায় অবস্থিত আর.এফ.এস এর এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ ঢাকা প্রাইম পাস্তরিত দুধ এবং আকিজ ফুড এন্ড বেভারেজ লিঃ এর ফার্ম ফ্রেশ মিল্ক।

বাকি ১১১টি নমুনা পরীক্ষাধীন রয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের নমুনা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।এছাড়া ২১টি কারখানায় আকস্মিক অভিযান চালিয়ে সেসব কারখানায় উৎপাদিত পণ্যে মান ঠিক নাই বলে জানান ইসাহাক আলি।

কারখানাগুলো হচ্ছে- পুরানা পল্টনের রাজিব এন্টারপ্রাইজ, মতিঝিলের আলহেরা এন্টারপ্রাইজ, মিরপুরের ঢাকা ওয়াসা, মিরপুরের এন এম এন্টারপ্রাইজ, বাড্ডার এ ওয়ান ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, তেজগাঁওয়ের সমকাল ক্যান্টি, তেজগাঁয়ের ভূমি রেজিস্ট্রি অফিস ক্যান্টিন,

গুলশান-১ এর লাইটিং প্যালেস, গুলশান-২ এর আল নূর রেস্তোরাঁ, বারিধারার মিতু-মুক্তা হোটেল, বাড্ডার নীল ফাস্ট ফুড অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, গুলশানের মেজবান রেস্টুরেন্ট, শেরেবাংলা নগরের শিউলি হোটেল, তেজগাঁওয়ের বধুয়া হোটেল অ্যান্ড সুইটস, মালিবাগের ইউনিক ফাস্ট ফুড,তেজগাঁওয়ের অন্তর ড্রিংকিং ওয়াটার, তেজগাঁওয়ের ফেইথ ড্রিকিং ওয়াটার, দক্ষিণখানের এক্সিম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, মিরপুর-২ এর মাশাল্লা হেলথ ডেভেলপমেন্ট কোং, মর্নডিউ পিওর ড্রিংকিং ওয়াটার এবং রাজারবাগের নীল গিরি মার্কেটিং কোং।

নিউজবিডি৭১/আ/৩০ মে ,২০১৮




‘প্রযুক্তির নতুন ফাঁদ’ মেয়েদের জন্য মহা-বিপদ

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : খুব সহজেই আপনি অথবা আপনার স্বজন কিংবা আপনার সবচেয়ে প্রিয়জনটাও যেকোন সময় হতে পারে ভয়ানক নোংরামীর শিকার! সমুহ বিপদ থেকে রক্ষা পেতে একদিকে আপনি যতই বাড়াচ্ছেন সতর্কতা প্রযুক্তির নিত্য নতুন আবিস্কারের সুবাদে পেছনের পরিচিত কৌশল ফেলে অপরাধীরা নতুন কৌশলে আপনাকে ফাঁদে ফেলতে আবারো কোমর বেধে নিচ্ছে প্রস্তুতি!

একমাত্র সাবধানতা আর প্রয়োজনীয় সতর্কতাই একমাত্র পারে আমাদের অনাকাংখিত বিপদ এবং বিব্রতকর কোন পরিস্থিতি থেকে নিরাপদে রাখতে। প্রযুক্তির নতুন ফাঁদ! মেয়েদের জন্য মহা-বিপদ! জনস্বার্থে শেয়ার করে সবাইকে সচেতন করুন।

প্রযুক্তির হাত ধরে এগিয়ে বদলেছে পুরোনো অভ্যাস। কেনাকাটায় যোগ হয়েছে দারুণ সব সুযোগ। অধিকাংশ শপিং সেন্টারে থাকছে ট্রায়াল রুম।
পছন্দের পোশাকটি ঠিকঠিক গায়ের মাপে কি না তা দোকান থেকেই দেখে নেয়া যাচ্ছে। কিছু কুরুচিপূর্ণ মানুষ সেই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে সমাজে ঘটাচ্ছে নানা রকম নোংরামি।

প্রয়োজনীয় ট্রায়াল রুম বা পাবলিক টয়লেটে সেট করছে গোপন ক্যামেরা। আর গোপনে ভিডিও করা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ দৃশ্য। এমন পরিস্থিতিতে আপনি বা আমি কতটুকু নিরাপদ? তাই দরকার আগেই গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করা।

কিন্তু কীভাবে?
শপিংমলের ট্রায়াল রুমে যে আয়না থাকে সেটা আসল নাও হতে পারে, এটিও গোপন ক্যামেরার মতই মারাত্মক! প্রযুক্তির অপব্যবহারে আসল আয়নার মাঝে এখন যুক্ত হয়েছে নকল আয়না, যাকে বলা হয় দ্বিমুখী আয়না। এই আয়নায় আপনি আপনার চেহারা দেখতে পারবেন, কিন্তু ভুলেও বুঝতে পারবেন না যে অন্য পাশ হতে কেউ আপনাকে দেখছে !

শপিংমলের ট্রায়াল রুমে পোশাক পাল্টানোর সময় হিডেন বা পিন হোল ক্যামেরায় ছবি উঠে যাওয়ার ঘটনাতো সবাই জানেন। কিন্তু এবার নতুন বিপদ! ট্রায়াল রুমে আপনি যে আয়নার সামনে পোশাক পাল্টাচ্ছেন সেই আয়নার মধ্য দিয়েই হয়তো আপনার গোপন মুহূর্ত দেখে নিচ্ছে অন্য কেউ।

এক ধরণের আয়না রয়েছে যাকে বলে ‘টু-ওয়ে মিরর’। আজকাল টয়লেট বা ট্রায়ালরুমে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে এই ‘টু-ওয়ে মিরর’।

দেখতে পুরো সাধারণ আয়নার মতোই। এতে সাধারণ আয়নার মতোই নিজেকে দেখতে পাওয়া যাবে কিন্তু আয়নার পেছনে যে আছে তাকে দেখা যায় না।অথচ সে আপনাকে স্পষ্ট দেখতে পাবে। আর সেখান থেকেই তৈরি হবে গোপন মুহূর্তের ভিডিও।

কিভাবে বুঝবেন টু ওয়ে মিরর ব্যবহার করা হয়েছে কি না ?
শপিংমল অথবাদোকানের যে ট্রায়ালরুমে আপনি চেঞ্জের জন্য ঢুকছেন সেখানে কোন আয়না থাকলে নিচের দেখানো ছবির মত আপনার আঙ্গুল তির্যকভাবে রাখুন সেখানে আপনার আঙ্গুলের ছবিতে এভাবে যদি গ্যাপ দেখতে পান তাহলে ঠিক আছে। প্রযুক্তির নতুন ফাঁদ! মেয়েদের জন্য নতুন বিপদ! শেয়ার করে সবাইকে সচেতন করে দিন! আর যদি এই ছবির মত দেখেন কোন গ্যাপ নেই তাহলে বুঝবেন সমস্যা আছে ওপার থেকে কেও ঠিক দেখছে আপনার কাপড় বদলানোর মুহুর্ত!

বিভিন্ন শপিং মলে,দোকানের ট্রায়াল রুমে একশ্রেনীর বিকৃত মনের অসাধু মানুষেরা এসব গোপন ক্যামেরা রেখে প্রতিদিন আপনার আমার অজান্তেই ধারন করছে মেয়েদের নগ্ন ছবি-ভিডিও! যার ভয়ানক প্রভাব আমাদের কারোই অজানা নয়।

বর্তমানে এধরনের হিডেন ক্যামেরা বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। মেয়েদের কাপড়ের দোকানের খারাপ সেলসম্যানরা অনেক দোকানের ট্রায়াল রুমে , পাবলিক টয়লেটে এবং আবাসিক হোটেলগুলোর বাথরুমেও এমন ক্যামেরা বসিয়ে থাকতে পারে।

খুব সহজেই তারা মেয়েদের কাপড় বদলানোর নগ্ন ভিডিও ধারন করে তা বিভিন্ন ওয়েব পেজে ছড়িয়ে দিয়ে থেকে আয় করছে টাকা।আবার কেওবা স্রেফ বিকৃতির কারনেই ছড়িয়ে দিচ্ছে এসব নগ্ন ছবি।

যার ফলসশ্রুতিতে এখন ইউটিউব এবং বিভিন্ন পর্ণ সাইটে লাখ লাখ হিডেন ক্যামেরার ফুটেজ !
রুমে গোপন ক্যামেরার অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায় খুব সহজে। কাজটি আপনিও করতে পারেন মাত্র এক মিনিটে। এজন্য ট্রায়াল রুমে (যেখানে কাপড় বদল করবেন) ঢুকে আপনার মোবাইল থেকে কাউকে কল দেয়ার চেষ্টা করুন। যদি কল করা যায় ও নেটওয়ার্ক ঠিক থাকে, তাহলে বুঝবেন গোপন ক্যামেরা নেই। আর যদি কল করা না যায় ও নেটওয়ার্ক হঠাৎ করে একদম ডাউন হয়ে যায়, তাহলে বুঝবেন সেখানে অবশ্যই গোপন ক্যামেরা রয়েছে।

গোপন ক্যামেরার সঙ্গে ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল থাকে। সিগন্যাল ট্রান্সফার করার সময় এর ইন্টারফিয়ারেন্স হতে থাকে। যার জন্য মোবাইল নেটওয়ার্ক সেখানে ঠিকমতো কাজ করেনা।

এ ছাড়াও ট্রায়াল রুমের আয়নার পেছনেও লুকানো থাকতে পারে ক্যামেরা। কোনো অবস্থাতেই নিজের চেহারা দেখার সময় তা টের পাওয়া যায় না।
তাই কাপড় বদলানোর আগে আঙুল রাখুন আয়নার ওপর। যদি আপনার আঙুলের মাথা প্রতিবিম্ব আঙুলের মাথার সঙ্গে না লাগে অর্থাৎ মাঝে ফাঁকা থাকে তাহলে আয়না আসল।

আর যদি আঙুলের মাথা প্রতিবিম্বের মাথার সঙ্গে লেগে যায়, বুঝতে হবে এটা দ্বিমুখী আয়না। যার পেছন পাশ থেকে খুব সহজেই আপনার ছবি বা ভিডিও করা সম্ভব। তাই সাবধান হওয়া জরুরি এখনই। তাহলে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব অজানা বিপদ থেকে।

বিঃ দ্রঃ –
বাঁচতে হলে জানতে হবে নিত্য প্রয়োজনীয় এমন অনেক ইলেকট্রনিক্স বস্তুর সাথেই থাকতে পারে হিডেন ক্যামেরা মোটামুটি একটা ধারনা পেতে গুগলে new hidden camera immage লিখে সার্চ করে দেখুন।দয়া করে আপনি নিজে সচেতন হোন, আপনার পরিবারের নারীদেরও সচেতন করুন।
সতর্কতা ছড়িয়ে দিন সবার মাঝে।

নিউজবিডি৭১/আর/ ২৩ মে , ২০১৮




জামায়াত নেতা থেকে আওয়ামী এমপি, নদভীর খুটির জোর কোথায়?

নিউজবিডি৭১ডটকম
নিজস্ব প্রতিবেদক : জামায়াত নেতা থেকে আওয়ামীলীগ সংসদ। আওয়ামীলীগের লেভাস গায়ে জড়িয়ে জামায়াতের হাতকে শক্তিশালী করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভীর বিরুদ্ধে। তিনি সাংসদ ছাড়াও চট্টগ্রাম ভিত্তিক দাতব্যমূলক এনজিও সংস্থা আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনেরও চেয়ারম্যান। যে ফাউন্ডেশনের কাজ হচ্ছে ছাত্র শিবির ও জামায়াতকে শক্তিশালী। এ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নদভী মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফান্ড পেয়ে থাকে। মূলত জামায়াতে ইসলামীর পরিচয়ে তিনি এ দাতব্যমূলক এনজিও সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নদভীকে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছিলেন জামায়াত ইসলামীর সাবেক আমীর গোলাম আযম। নদভীর শশুর মমিনুল হক চৌধুরী জামায়াতের এমপি প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য। নদভীর স্ত্রী রিজিয়া রেজা চৌধুরী বর্তমানে মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য। ছাত্র জীবনে রিজিয়া ইসলামী ছাত্রী সংস্থায় যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নদভীর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি তার সংসদীয় অঞ্চলে জামায়াতকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে। গায়ে আওয়ামীলীগের ব্যানার ব্যবহার করলেও কাজ করছে জামায়াতকে শক্তিশালী করার জন্য। তার সংসদ অঞ্চলে আওয়ামীলগীগ নেতাকর্মীও সরকারি কর্তাদের সাথে রয়েছে তার বিরোধ। শুধু তা নয় জামায়াত ও বিএনপির নাশকতা মামলা জড়ানো হচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। তেমনটাই ঘটনা ঘটেছে চলতিস বছরের ফেব্রুয়ারিতে। লোহাগাড়ায় জামায়েত ও বিএনপির বিরুদ্ধে নাশকতা মামলায় স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও যুবলীগক নেতা কর্মীসহ মোট ১৬ জনকে পুলিশ দিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে যাদের জেল খাটায় নদভী। যার অধিকাংশ আওয়ামীলীগের সক্রিয় নেতাকর্মী। তার সমস্ত কর্মকান্ড আওয়ামী লীগ বিদ্বেষী।

অনুসন্ধান করে ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের একটি সুভ্যেনিয়র (ক্রোড়পত্র) পাওয়া গেছে, যাতে দেখা গেছে নদভীর সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের আমীর কাজী হোসাইন আহমদ, পাকিস্তানের জামায়াত নেতা আবদুল গাফফার, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের সাবেক আমীর আমীর গোলাম আজম ও মতিউর রহমানসহ জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে নদভীর একান্ত সাক্ষাতের ছবি রয়েছে।

সেখানে জামায়াতে ইসলামের সাবেক আমীর গোলাম আজম নদভীকে একটি প্রত্যয়নপত্র দিয়েছিলেন জামায়াত ইসলামীর সাবেক আমীর গোলাম আযম। গোলাম আজম নদভীকে একজন বিজ্ঞ, জ্ঞানী ও উদিয়মান যুবক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন,‘শেখ আবু রেজা নদভী। তিনি আমার পরিচিত। আমি জানি, তিনি একজন জ্ঞানী, বিজ্ঞ ও উদিয়মান যুবক। বিশ্বে বিশুদ্ধ আক্বিদায় বিশ্বাসী আলেম সমাজের মধ্যে তাঁর যথেষ্ট পরিচয় রয়েছে। আমি তার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করছি যে, মহান আল্লাহ যেন তাকে আরো বেশি ইসলামের খেদমত করার সামর্থ দেন এবং তার ইহ-পরকালীন কল্যাণ কামনা করছি। প্রফেসর গোলাম আজম, আমীর জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ।’

গেল ২০ এপ্রিল সাংসদ নদভীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে করে লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ, সে সময় স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেন উপজেলা আওয়ামীলীগকে পাশ কাটিয়ে নদভী নিজ আত্মীয়-জনদের দলীয় বিভিন্ন কর্মকান্ডে ব্যবহার করছেন। তাছাড়া নদভী ও তার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণকে নানা ধরণের মামলা-হুমকি দিয়ে ভয়-ভীতি এবং জায়গা-জমি দখলের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ ধরণের কর্মকান্ডে আগামী জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ থেকে নদভীকে মনোনয়ন না দিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণ।

এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী নিউজবিডি৭১কে জানান, জামায়াতের বিদেশি ফান্ডগুলো নদভী সাহেব উঠাতেন। জামায়াত থেকে তিনি মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু মনোনয়ন না পাওয়ার পর তার সাথে কিছুটা বিরোধ সৃষ্টি হয় জামায়াত নেতাদের সঙ্গে। পরে তিনি আওয়ামীলীগের ব্যানারে মনোনয়ন নেন। যেহেতু কেন্দ্রীয়ভাবে উনাকে মনোনয়ন দেয়া হয়। আর এ অঞ্চলে আওয়ামীলীগের সুনাম থাকায় আমাদের চেষ্টায় উনি জয় লাভ করে। কিন্তু জয় লাভ করার পরপরেই তিনি আবার জামায়াতের সাথে পদ পদবী ছাড়া সম্পৃক্ত হন। তার সাথে আমাদের স্থানীয় নেতাকর্মীদের কোন যোগাযোগ নেই। তার সাথে যোগাযোগ করার জন্য আওয়ামীলীগের জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও অনেকবার চেষ্টা করলেও তিনি নানান অজুহাতে বৈঠক করেন না। শুধু তা নয় সরকারি কোন উন্নয়ন কাজে আওয়ামী নেতাকর্মীদের দিয়ে না করিয়ে উনার শশুর জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য মমিনুল হক চৌধুরীর ক্যাডারদের দিয়ে করাচ্ছেন। এছাড়া জামায়াতকে শক্তিশালী করছেন দলের ব্যানার নিয়ে। জামায়াতের সাথে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। তিনি কিভাবে আওয়ামী লীগ থেকে নমিনেশন পান, তার স্ত্রী কিভাবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা হন-এগুলো আমার বুঝে আসে না। নদভী উন্নয়নের যত ফান্ড পাচ্ছেন তার অধিকাংশ অর্থ আত্নসাৎ করছেন।

সম্প্রতি লোহাগাড়ার পদুয়া ইউনিয়নে খাসজমি দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে নদভী ও লোহাগাড়ার ইউএনওর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ফলে নদভী ওই ইউএনও’র বাবা বিএনপির রাজনীতিদে জড়িত রয়েছে বলে সরকারের কাছে নালিশ করলে ১২ এপ্রিল ইউএনওকে প্রেষণে বদলির আদেশ দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পরে খোঁজ নিয়ে বিষয়টি সঠিক নয় প্রমাণ পেলে ১৮ এপ্রিল আরেকটি প্রজ্ঞাপনে ইউএনওর বদলির আদেশ বাতিল করে জনপ্রসাশন মন্ত্রণালয়।

এবিষয়ে লোহাগাড়ার উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহবুব আলম নিউজবিডি ৭১ ডটকমকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে অপপ্রাচার চালানো হয়েছিল। কিন্তু সততা ও নিষ্টার কারণে আমার কেউ ক্ষতি করতে পারেনি। আর সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী সম্পর্কে উনার এলাকার নেতাকর্মীরাই জানেন। তারাই উনার কাজ ও পরিচয় সম্পর্কে ভাল জানেন।

লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন হিরু নিউজবিডি ৭১ ডটকমকে বলেন, একজন জামায়াত ঘরনার লোক কিভাবে আওয়ামী লীগ থেকে নমিনেশান পেয়েছেন তা আমার বোধগম্য নয়। তিনি একজন জামায়াতের লোক তাতে কোনো সন্দেহ নেই। উনি সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকে আমাদের স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। জেলা পর্যায়ে একাধিকবার বসার চেষ্টা করলেও তিনি বসেন নি। এখন পর্যন্ত তার উদ্যোগে কোনো সভা সমাবেশ হয়নি। আমরা যখন কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের বিষয়ে ওনাকে বলি তিনি কোনো কথা বলেন না।

হিরু বলেন, নদভী নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি আওয়ামী লীগকে এড়িয়ে চলেন। যে কেউ আসলে দেখতে পাবে তৃণমূল পর্যায়ে কারো সমর্থন তার প্রতি নেই। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে কটাক্ক করেন। তার নিজস্ব কিছু লোক আছে। তিনি তাদের দিয়ে বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেন। আমাদের ইউএনওকে অপসারণের দাবিতেও তার নিজস্ব ব্যক্তিবর্গ দিয়ে মিছিল করিয়েছেন। অনেক বয়স্ক যুবকদের দিযে ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিল করিয়েছেন। তিনি যে একজন জামায়াতের লোক সেটি স্থানীয় পর্যায়ে এসে জিজ্ঞেস করলে যে কেউ বলবে। তিনি এখন আওয়ামী লীগ বিদ্বেষী রয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে নেড়ি কুত্তার সাথে তুলনা করেন। তিনি আমাদের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তার স্ত্রীও একজন জামায়াত পরিবারের সদস্য। তার শশুর জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এমপি আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী নিউজবিডি৭১ ডটকমকে বলেন, আমি জামায়াত সাথে সংযুক্ত থাকলেও এগুলো পুরাতন কথা। আমি এসব বিষয়ে কথা বলতে চাইনা। আমি ব্যাস্ত আছি। বিদেশিদের সাথে কথা বলছি। পরে কথা হবে। আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী (পর্ব ১)

নিউজবিডি৭১/এম কে/মে ৩, ২০১৮ 




জামায়াত নেতা যখন আওয়ামী এমপি

নিউজবিডি৭১ডটকম
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম অঞ্চলে জামায়াত রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নেতা এখন আওয়ামীলীগ মনোনীত সংসদ সদস্য।

আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন নিলেও এ নেতা তার নির্বাচনী এলাকার স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীর নানান হয়রানি করে আসছেন।

জামায়েত ও বিএনপির বিরুদ্ধে নাশকতা মামলায় স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও যুবলীগ নেতা কর্মীসহ মোট ১৬ জনকে পুলিশ দিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটায় এ নেতা।

তিনি গায়ে আওয়ামীলীগের লেভাস পড়লেও জামায়াতে ইসলামীকে নিরবে সংগঠিত করে বলে স্থানীয় আওয়ামী নেতাদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নেতারা জানান, তিনি আত্নগোপণে ছিলেন সাংসদ নির্বাচনের আগে। পরে রাতারাতি লেভাস জড়িয়ে আওয়ামী নেতা বনে যায়। বিভিন্নভাবে তদবির করে সাংসদ নির্বাচন করেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। জেলা পর্যায়ে একাধিকবার বসার চেষ্টা করলেও তিনি বসেননি। উল্টো শিবির ও স্থানীয় জামায়াত নেতাদের নিয়ে নানান নামে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে জামায়াতে ইসলামীকে সম্পৃক্ত করছেন। এখন পর্যন্ত তার উদ্যোগে কোনো সভা সমাবেশ হয়নি।

এদিকে, প্রতিবেদকের নিকট ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের একটি সুভ্যেনিয়র (ক্রোড়পত্র) হাতে এসেছে, যেখানে বিভিন্ন সময়ে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের আমীর কাজী হোসাইন আহমদ, পাকিস্তানের জামায়াত নেতা আবদুল গাফফার, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের সাবেক আমীর আমীর গোলাম আজম ও মতিউর রহমানসহ জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে এ সাংসদের একান্ত সাক্ষাতের ছবি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য হতে ফান্ড পেয়ে থাকেন এ নেতা।

এ সাংসদ সম্পর্কে নানাবিধ তথ্য নিতে নিউজবিডি৭১টিম কাজ করে আসছে। যার ফলস্বরপ একটি ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে নিউজবিডি৭১রে। আপনার এলাকায় বা আশপাশে এমন কোন লেভাস জড়ানো নেতা থাকলে আমাদের ফ্যান পেজে অভিযোগ অথবা এই নাম্বারে ০১৭৭১২৫১৫১৭,০১৬১৯৭১২১৩০ ফোন করুন।

নিউজবিডি৭১/আর/ ৩০ এপ্রিল, ২০১৮




স্বামী-সংসার বাঁচাতে মা-বাবার বিরুদ্ধে মেয়ের মামলা

নিউজবিডি৭১ডটকম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট : বরিশালের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস। মালয়েশিয়া প্রবাসী খালাতো ভাই রুবেল বাড়ীতে বেড়াতে এলে বাবা-মা ষড়যন্ত্র করে তার সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে দেন। দেনমোহর বাঁধা হয় ২০ লাখ টাকা। আবার বিয়ের মাস না গড়াতেই স্বামীকে ডিভোর্স দেয়ার জন্য চাপ দেন সেই বাবা-মা। মেয়ের বাসায় উপস্থিত হয়ে মেয়েকে শারীরিক অকথ্য নির্যাতন করেন মা রিনা বেগম। বাবা জালাল মেয়ে ফেরত দেয়ার জন্য আইনী নোটিশ পাঠান। তাদের কথা না শুনলে জামাই রুবেলের নামে মামলা দিয়ে জেলে পাঠাবেন, আর মেয়েকে জীবনে মেরে ফেলার হুমকি। নিরুপায় হয়ে স্বামী-সংসার ও জীবন বাঁচাতে গর্ভধারিনী মা ও বাবার বিরুদ্ধে আদালতের দারস্থ হলেন জান্নাতুল। গত ২ এপ্রিল ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এমন একটি মামলা দায়ের করা হয়। জান্নাতুলের পক্ষে ব্যতিক্রমী এই মামলায় আদালতে আইনী সহায়তা দিচ্ছেন তরুণ আইনজীবী তামান্না আফরিন।

ঘটনার সূত্রপাত ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮। এইচএসসি পরীক্ষার্থী জান্নাতুলের বাড়ী বরিশাল সদর উপজেলার কণকাঠী গ্রামে। প্রায় দেড় মাস পূর্বে আপন খালাতো ভাই বাসায় বেড়াতে এলে মেয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তাকে বাসায় চার ঘন্টা আটকিয়ে রাখেন আপন খালা ও খালু। ডেকে আনেন পাড়া-প্রতিবেশিদের। ফাঁদে ফেলে পরিকল্পনা অনুযায়ী জোরপূর্বক বিয়ে দেয়া হয়। তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী দেনমোহর ধরা হয় ২০ লাখ টাকা। প্রথমে নোটারী পাবলিক ও পরে কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ের রেজিষ্ট্রি কাবিন করা হয়। ঘটনা জানতে পেরে রুবেলের বাবা আরব আলী মেয়ের মা-বাবার বিরুদ্ধে স্থানীয় মডেল থানায় সাধারন ডায়েরী করেন।

এতোসব ঘটনার পরেও রুবেল জান্নাতুলকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নেন এবং ঢাকার ভাটারায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু মেয়ের বাবা-মা ফাঁদে ফেলে জামাইয়ের নিকট হতে দেনমোহরের ২০ লাখ টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিয়ের ২৭ দিনের মাথায় পিতা জালাল রুবেলের ভাগ্নেকে আইনী নোটিশ পাঠিয়ে মেয়েকে তার বাড়ীতে ফেরত পাঠাতে বলেন। মা রিনা বেগম রুবেলকে ফোন করে মেয়েকে ডিভোর্স দিতে বলেন। মোবাইলে মেয়েকে বুঝাতে থাকেন ডিভোর্স দিলে তারা বেশ কিছু টাকা পাবেন। এতে করে তাদের সংসারে আর অভাব থাকবে না। বাকী জীবনটা স্বচ্ছলতার সাথে কাটাতে পারবেন। শুধু রুবেলকে ডিভোর্স দিয়ে বাড়ীতে ফিরে আসতে হবে। টাকা আদায়ের জন্য বাকী যা যা করার তারাই করবেন। কিন্তু জান্নাতুল তার মা-বাবার কথায় কোন মতেই রাজী হলেন না। বরং জানিয়ে দেন রুবেল তাকে স্ত্রী হিসেবে অনেক ভালবাসেন। বাকী জীবনটা তার সাথেই সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে কাটাবেন। কিন্তু মা নাছোড়বান্দা। বলেন, টাকা আদায় হলে তাকে আর ভালো ঘরে বিয়ে দিবেন। কিন্তু মেয়ে সাফ জানিয়ে দেন স্বামীর ঘর ছেড়ে তিনি কোথাও যাবেন না।

জান্নাতুলকে বাগে আনতে না পেরে রিনা বেগম এবার অন্য পথে হাঁটলেন। এরপর গত ২৫ মার্চ ঢাকার ভাটারায় মেয়ের ভাড়া বাসায় রিনা বেগম উপস্থিত হয়ে মেয়েকে শারীরিকভাবে অকথ্য নির্যাতন করেন। রুবেলকে ডিভোর্স দেয়ার জন্য হুমকি দিয়ে বলেন, তাদের কথা মতো না চললে তাকে জানে মেরে ফেলা হবে। কিন্তু জান্নাতুল মা-বাবার প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় তার উপর বিভিন্ন্ ভাবে হুমকি ধমকি আসতে থাকে।

ঘটনাটি জানার পর জান্নাতুলকে আইনী সহায়তা দেয়ার জন্য এগিয়ে আসেন হাইকোর্ট বিভাগের তরুণ আইনজীবী তামান্না আফরিন। তিনি ২ এপ্রিল ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রুবেলের শশুর জালাল ও শাশুড়ি রিনা বেগমের বিরুদ্ধে ফৌজাদারী কার্যবিধির ১০৭ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদী তাদেরই মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস।

নারীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আইনগত সহায়তা প্রদান করে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা তরুণ আইনজীবী তামান্না আফরিন নিউজবিডি৭১কে বলেন, ব্যতিক্রমী এ মামলায় আমি আইনী সহায়তা প্রদান করছি। একটি নিষ্পাপ মেয়ের জীবন যেন অকালে ঝরে না যায় এ জন্য আদালতের দারস্থ হয়েছি। এ মামলায় আইনী সহায়তা প্রদান করে আমি গর্বিত।

তিনি বলেন, রুবেলের নিকট হতে দেনমোহরের ২০ লাখ টাকা আদায় করে আত্মসাতের জন্য মেয়ের বাবা-মা চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু জান্নাতুল তাদের প্রস্তাবে রাজী না হওয়াতে বিপত্তি। তামান্না বলেন, যেভাইে বিয়ে হোক না কেন স্ত্রী হিসেবে তাকে তার স্বামী মেনে নিয়েছে। ছোট্ট মেয়েটির জীবন কোন ভাবেই নষ্ট হতে দিতে পারি না। তাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১০৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করেছেন। আশা করি আমরা ন্যায় বিচার পাব।

এ বিষয়ে জান্নাতুল বলেন, স্বামী প্রবাসী হওয়ায় দেনমোহরের বিপুল অর্থ আদায়ের জন্য বাবা-মা আমাকে দিয়ে রুবেলকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু রাজী না হওয়ায় তার উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিয়ে যে ভাবেই হোক না কেন স্বামী তাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিয়েছেন। তিনি স্বামীর সাথে সারা জীবন কাটাতে চান।

নিউজবিডি৭১/এম কে/এপ্রিল ৪ , ২০১৮




লাইসেন্স ছাড়া চলছে জাপানি ভ্রাম্যমাণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ‘মাই সেবা’

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : নিউজবিডি৭১ডটকম
রেজওয়ানুর রহমান(সংলাপ): আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে বহুদিন যাবত অবৈধ ভাবে চালানো হচ্ছে ‘মাই সেবা’নামের একটি জাপানি ভ্রাম্যমাণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার। নিয়ম অনুযায়ী সকল শর্ত পূরণ ছাড়া শুধু মাত্র সিটি কর্পোরেশন এর ট্রেড লাইসেন্স পুঁজি করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সগৌরবে চলছে ‘মাই সেবা’র বেশ কিছু শাখা। রোগীর রোগ নির্ণয় করার ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’র মালিকানায় কিছু জাপানী ব্যক্তি থাকলেও অংশীদারিতে রাখা হয়নি বাংলাদেশী কোন নাগরিক।

উন্নতমানের চিকিৎসা সেবার নামে কিছু জাপানী ব্যক্তি প্রতারনামূলকভাবে নানা রকম কূটকৌশলের মাধ্যমে নিরীহ লোকদের প্রতারিত করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। তবে এ ঘটনা চিত্র এক দিনের নয়; ২ বছরের।

ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা প্যাথলজিক্যাল ব্যবসার শর্ত অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়পত্র নিতে হয়। এর আগে কয়েকটি সংস্থার অনুমোদন ও লাইসেন্স নিতে হয়। আলাদা করে নিতে হয় ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। নিতে হয় জনবল, সরকারি পরিদর্শন সার্টিফিকেট এবং ট্যাক্স ও সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স।

উল্লেখিত সকল শর্ত পূরণ ছাড়াই জমকালো সাজ-সজ্জায় খুলে বসেছেন জাপানি ভ্রাম্যমাণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ‘মাই সেবা’ রোগ নির্ণয় কেন্দ্র। নিউজবিডি৭১’কে এমনটাই অভিযোগ করেছেন (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন ভুক্তভোগী কর্মী।পরে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে নিউজবিডি৭১ এর অনুসন্ধানী টিম। টিমের অনুসন্ধানে মিলে যায় ভুক্তভোগীদের করা অভিযোগের লসাগু ও গসাগু অংকের প্রাথমিক ফলাফল।

পুরোপুরি ফলাফল হাতে আসতে আরও অনেক সময় বাকী।প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি নামে ডায়াগনস্টিক ল্যাব হলেও শর্ত অনুযায়ী ল্যাবে যা কিছু থাকা দরকার, তার কিছুই সেখানে নেই।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি নামে ডায়াগনস্টিক হলেও ল্যাবে রয়েছে শুধু মাত্র বায়োকেমিস্ট্রি অটো এনালাইজার, সেমি অটো এনলাইজার রিডার,সেন্টি-ফিউজ মেশিন, মাইক্সোস্কপ মেশিন, হট ওয়ার ওভেন, ল্যাবরেটরি রেফ্রিরেজটর। শুধু তা নয় ল্যাবের নেই কোন আইনগত অনুমোদন।

যন্ত্রপাতি বাংলাদেশে আমদানি করা হয়েছে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে। নেই সঠিক কোনও অনুমোদন পত্র।

আইন অনুসারে একটি ডায়াগনস্টিক ল্যাব করতে হলে ডিজি হেলথ এর অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু এ জাতীয় কোন প্রমাণ পত্র নাই ‘মাই সেবা’ কর্তৃপক্ষের।অনুসন্ধানী টিমের নিয়োগ কৃত সোর্স জানায়, রাজধানীর উত্তরা ৩নং সেক্টর, ঢাকা ময়মনসিংহ রোড সংলগ্ন এবি সুপার মার্কেটের সপ্তম তলায় প্রতিষ্ঠানটির একটি শাখা রয়েছে।

খবর পাওয়া মাত্র অনুসন্ধানী টিমের একটি দল পৌছায় উত্তরার এবি সুপার মার্কেট।এবি সুপার মার্কেট এর অনেক পুরনো সিকিউরিটি দাউদ ইব্রাহীম (ছদ্মনাম) এর কাছে ‘মাই সেবা’ সম্পর্কে কৌশলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই প্রথম নামটি শুনলাম তাও আপনাদের মুখে।

এবি সুপার মার্কেট এর নিচতলায় ফার্মেসীর দোকান মালিকের কাছেও জানতে চাই ‘মাই সেবা’ সম্পর্কে তিনিও একই উত্তর দিয়েছেন।

সোর্স এর দেয়া তথ্য সূত্রের সাথে কোনও মিল না পেয়ে মুঠোফোনে অফিসকে বিষয়টি খুলে বলি। পরে অফিসের নির্দেশ অনুযায়ী ৭নং ফ্লোরে পৌছাই এবং সেখানে ঘোরাঘুরি করতে থাকি। ফ্লোরটিতে বেশিরভাগই ট্রাভেল এজেন্সির অফিস তাও আবার বন্ধ। ঘুরতে থাকি।ঘুরতে একটি ইলেক্ট্রনিক্স আমদানি কারকের অফিস খোলা দেখে ঢুকে পড়ি সেখানে। মাত্র দুই জন কর্মচারীসেখানে বসে ঝিমচ্ছিলেন। তাদের কাছে ‘মাই সেবা’ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কিছুটা অবাক হয়ে উত্তর দেন এ ধরনের কোন কিছু এই ফ্লোরে নেই।

হতাশার গ্লানি নিয়ে স্থান ত্যাগ করি। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহৃত হতাশার গ্লানি নিয়ে স্থান ত্যাগ করি। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহৃত কিছুটা অবাক হয়ে উত্তর দেন এ ধরনের কোন কিছু এই ফ্লোরে নেই।

পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহৃত ঠিকানায় কোনও সেবা দেয়া হয় না। প্রতিষ্ঠানটিতে গুটি কয়েকজন জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে যারা মূলত টেলিফোন অপারেটর হিসাবে কাজ করে থাকে এর মধ্যে সুন্দরী মিষ্টি হয়েছে যারা মূলত টেলিফোন অপারেটর হিসাবে কাজ করে থাকে এর মধ্যে সুন্দরী মিষ্টি কণ্ঠের নারীর সংখ্যাই বেশি।

রোগ নির্ণয়ের ওই প্রতিষ্ঠান ‘মাই সেবা’ মোটা অংকের কমিশন দিয়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের এজেন্ট করে। পরে তাদের মাধ্যমে রুগী সংগ্রহ করে থাকে। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, পোস্টর, লিফলেটে মুখরোচক কথাবার্তা লিখেও প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রচারিত বা প্রকাশিত মুখরোচক কথাবার্তা পড়ে একটু সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের এজেন্ট করে।

তাদের মাধ্যমে রুগী সংগ্রহ করে থাকে। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, পোস্টর, লিফলেটে মুখরোচক কথাবার্তা লিখেও প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রচারিত বা প্রকাশিত মুখরোচক কথাবার্তা পড়ে একটু ভালো সেবা পেতে সাধারণ লোকজন যখন তাদের হট নাম্বারে ফোন দিয়ে সেবা চায়, তখন তাদের ভুলভাল বুঝিয়ে উন্নত চিকিৎসা সেবা দেয়ার কথা বলে থাকে। কিন্তু ডায়াগনস্টিক ল্যাবে সেবা না দিয়েতাদের বাসায় গিয়ে চিকিৎসা সেবা দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম দ্বারা প্রতারণা করে থাকে ‘মাই সেবা’ নামের ওই জাপানি ভ্রাম্যমাণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এখানেই শেষ নয় সবে মাত্র মিলেছে বিন্দু এখনো কেন্দ্র বাকী।

এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসকের অবহেলায় কোনও রোগীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা করা যাবে। এ বিধান রেখে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা আইনের খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে দোষী সাব্যস্ত হলে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৪(ক) ধারা অনুযায়ী অভিযুক্ত চিকিৎসককে দণ্ড দিতে পারবেন আদালত। এ ধারা অনুযায়ী পাঁচ বছর কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক। অনুমোদিত সার্টিফিকেট কোর্স বা ডিপ্লোমা ডিগ্রি ছাড়া অন্য কোনও যোগ্যতার বিবরণ ভিজিটিং কার্ডে বা সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা যাবে না। সব বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিতে লাইসেন্স নিতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে।

অবৈধ ভাবে ডাক্তার নিয়োগ ও বিদেশি ডাক্তার নিয়োগ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান নীতিমালা না মেনে সরকারের কোনও অনুমোদন না নিয়ে বিদেশ থেকে ডাক্তার নিয়ে আসে। এটা চলতে পারে না। অনুমোদন ছাড়া কোনও ডাক্তার এখানে চাকরি বা চেম্বার করার জন্য অবস্থান করতে পারবেন না। যদি বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি)’র অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশে অবস্থান ও চিকিৎসা প্রদানকারী বিদেশী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, খসড়া আইন ২০১৪ এর ৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে এ আইনের অধীন লাইসেন্স ছাড়া কোন ব্যক্তি চিকিৎসা পরিচালনা করতে পারবে না। চিকিৎসা সেবা পরিচালনা করতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। লাইসেন্স পেতে চাইলে কর্তৃপক্ষের কাছে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। লাইসেন্সের মেয়াদ হবে ৩ বছর। পরে আবার নবায়ন করা যাবে। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বা এনজিও চালিত হাসপাতাল বা ক্লিনিকে বিদেশী চিকিৎসক নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) থেকে এবং নার্স নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নার্স কাউন্সিল (বিএনসি) থেকে নিবন্ধিত হতে হবে এবং সরকারের পূর্বানুমতি নিতে হবে।

অবৈধভাবে গড়ে তোলা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, কারো বিরুদ্ধে যাতে দুদকের মামলা না হয়। এই মামলা ক্যান্সারের মতো। ক্যান্সার যেমন একটা মানুষকে ও তার পরিবারকেও শেষ করে দেয়, দুদকের মামলাও মানুষকে তার পরিবারসহ শেষ করে দেয়। এজন্য আমরা চাই আপনারা সতর্ক হন। দুর্নীতি যাতে না হয়, মামলা যাতে না হয়। যদি অবৈধভাবে কেউ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে দুর্নীতি করে তাহলে জেল-জরিমানা বাজেয়াপ্রাপ্ত করে হবে। পাশাপাশি তার সম্প্রতি বাজেয়াপ্রাপ্ত করা হবে।

বিদেশি প্রতিষ্ঠান নিয়ে ঢাকা শুল্ক মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় কমিশনার ড. মইনুল খান জানায়, যেসব বিদেশী শ্রমিক-কর্মকর্তা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন বা থাকবেন সেইসব প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রদেয় আয়করের ৫০ শতাংশ বা ৫ লক্ষ টাকা ( যেটা বেশি) অতিরিক্ত কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদেশীদের নিয়োগ দিয়েছেন ওইসব প্রতিষ্ঠানের সব রকম কর সুবিধা প্রত্যাহার ও নিয়ম না মানলে তাদের জেল ও জরিমানাও বিধান রাখা হয়েছে। যারা অবৈধভাবে ব্যবসা করে আসছেন তাদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানা শাস্তি দ্বিগুণ করা হয়েছে।

মইনুল খান বলেন, নিয়মানুযায়ী বিনিয়োগ বোর্ড অথবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে যথাযথ নিবন্ধনের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে কাজ করার কথা রয়েছে। তবে যদি কোন বিদেশি অনুমোদন ছাড়া বিনিয়োগ করে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদি বিদেশি নাগরিকের জরিমানা দেয়ার অর্থ না থাকে তাহলে সে দেশের নাগরিক সে দেশের সরকারের সঙ্গে কথা বলে নিলামের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বাংলাদেশে কাজ করে এমন বিদেশী নাগরিককে তাদের যেকোনো পরিমাণ আয়ের উপর ৩০ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হয়। একটানা তিন মাস বাংলাদেশে থাকলে বা এক বছরে ১৮০ দিন এ দেশে থাকলে তারা আয়করের আওতায় পড়বে। (পর্ব ১)

নিউজবিডি৭১/এম কে/এপ্রিল ২ , ২০১৮




ঢাকায় অভিনব কায়দায় চোরাই গাড়ি বেচাকেনা

নিউজবিডি৭১ডটকম
আসাদুজ্জামান লিটন : কেউ সংগ্রহ করেন পুড়ে যাওয়া ও নষ্ট হয়ে যাওয়া গাড়ির কাগজপত্র। কেউ ওই কাগজপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে চুরি করেন নতুন গাড়ি। পরে চুরি করা ওই গাড়ি গ্যারেজে নিয়ে একজন পাল্টে দেন ইঞ্জিন-চেসিস নম্বর, তাতে লাগিয়ে দেন নষ্ট গাড়ির ইঞ্জিন-চেসিস নম্বর। এরপর সংগ্রহ করা নষ্ট গাড়ির কাগজপত্র দিয়ে বাজারজাত করেন চুরি হওয়া গাড়ি। দীর্ঘদিন ধরে এই অভিনব কায়দায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চোরাই গাড়ি সংগ্রহ করে বেচাকেনা করে আসছেন রাজধানী ঢাকার একটি চক্র।

রাজধানীর অভিজাত কিছু অসাধু গাড়ির গাড়ির শোরুম মালিক এর নির্দেশে আগুনে পোড়া, দুর্ঘটনায় নষ্ট বা চোরাই গাড়ির কিছু কাগজপত্র কৌশলে যোগাড় করতে বলা হয় তাদের নিজস্ব কিছু সক্রিয় চক্রকে। এরপর ওই চক্রটি নানা কৌশলে যোগাড় করে ফেলে এমন কিছু কাগজপত্র যা গাড়ির সঙ্গে মিলে যায় বা মিলানো হয় হুবহু।

প্রথমে ব্যবহার অযোগ্য গাড়ির কাগজপত্র সংগ্রহ করে ওই চক্রের একটি দল। যাদের সাথে যোগাযোগ রয়েছে বিআরটিএর কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর। এরপর কাগজের সাথে প্রায় মিলে যায় এমন গাড়ি চুরি করে চক্রের অন্য আর একটি দল।

তৃতীয় চক্রে আছে কিছু অভিজ্ঞ গ্যারেজ মিস্ত্রী। যাদের রাখা হয় শোরুম থেকে কিছুটা দূরে শোরুম মালিকের গোপনে গড়ে তোলা নিজেস্ব গ্যারেজে। ওই চক্রের মিস্ত্রীরা এতটাই অভিজ্ঞ যে তারা চোখের পলকেই গাড়ির রং, চেসীস নাম্বার পরিবর্তন করে ফেলে।

এর পর নির্দেশ অনুযায়ী কৌশলে যোগাড় করা ওই কাগজপত্রের আদলেই শুরু হয় গাড়ির রং, চেসীস নাম্বার, ইঞ্জিন নাম্বার সহ আনুষঙ্গিক সকল পরিবর্তনের কাজ। গাড়িটিকে প্রস্তুত করা হয় অন-টেষ্ট গাড়ি হিসেবে।জানা যায়, এ ধরনের চোরাই অন-টেষ্ট গাড়ি গুলোর রেজিস্ট্রেশন দিচ্ছে বিআরটিএ। তাও আবার গাড়ি ছাড়াই।

বিস্বস্ত সূত্র অনুযায়ী জানা যায়, ঢাকার অভিজাত গাড়ির শোরুম এর মালিকগণ একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মদদ দিয়ে থকে। সদস্যদের সারা বছর লালন পালন করে। প্রয়োজন মতো তাদের দ্বারা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চাহিদা অনুযায়ী গাড়ি বা গাড়ির কাগজপত্র চুরি করানো হয়। এরপর পুরাতন ও চোরাই-কৃত গাড়িটি নতুন সাজে সাজিয়ে আন রেজিস্টার্ড গাড়ি হিসেবে চড়া দামে বিক্রি করা হয় সমাজের সহজ সরল সাধারন ক্রেতাসাধারণের কাছে।

এ ভাবেই শহরের নামী দামী গাড়ির শোরুম গুলো বছরের পর বছর জেনে শুনে অধিক লাভের আশায় প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে চোরাই গাড়ি বিক্রি করছে নতুন গাড়ির দামে।

চোখ ধাঁধানো শোরুম এর মালিক ও বিআরটি এর পারস্পরিক যোগ সাযোগে আগুনে পোড়া গড়ি, দুর্ঘটনায় নষ্ট কিংবা চোরাই গাড়ি উৎকোচ এর বিনিময়ে পাচ্ছে নতুন রেজিস্ট্রেশন সহ যাবতীয় কাগজপত্র। যার পৃষ্ঠপোষকতায় বিআরটিএ।

জমকালো আলোক সজ্জায় সাজানো ওই ধরনের অভিজাত শোরুম এর কিছু অসাধু মালিক-পক্ষের নির্মম প্রতারণা থেকে রেহাই পেতে সখের গাড়ি কেনার সময় আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে করা প্রয়োজন। (পর্ব ১)

নিউজবিডি৭১/আর/৩ মার্চ, ২০১৮




পচাগম আটকের পরও ব্যাবস্থা নেয়নি কাষ্টমস ; জীবাণূ ছড়িয়ে পড়ার আশংকা

নিউজবিডি৭১ডটকম
কামরুজ্জামান টুটুল, পঞ্চগড় : বাংলাবান্ধা স্থল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানী করার সময় ১৯০ মেট্রিকটন পচা গম আটকের দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি কাষ্টমস কতৃপক্ষ । এ ব্যাপারে বাংলাবান্ধা স্থল বন্দরের কাষ্টমস কতৃপক্ষ বলছেন উপরের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

বাংলাবান্ধা স্থল বন্দরের উদ্ভিত সংগনিরোধ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে,এবছরের ১৭ জানুয়ারি তারিখে নীলফামারী জেলার মেসার্স ইমতিয়াজ ট্রেডার্স ভারত থেকে ১৯০.১০ মেট্রিক টন গম আমদানী করে। এসময় উদ্ভিত সংগ নিরোধ কেন্দ্র গমগুলোতে নানা রকম ক্ষতি কারক জীবানু রয়েছে বলে আশংকা করে। কয়েকদিনের মধ্যে তা পরীক্ষা করার জন্য গমের সেম্পল ঢাকায় কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের পরীক্ষাগারে প্রেরণ করে।

কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিত সংঘনিরোধ উইং গমগুলোকে পচা এবং ৫ টি ক্ষতিকারক জীবাণু আক্রান্ত বলে জানানোর পর বাংলাবান্ধা স্থল বন্দরের উদ্ভিত সংগনিরোধ কেন্দ্র গমগুলো ফেরত দেয়ার জন্য আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্টকে চিঠি দেয়।এরপর কাষ্টমস কতৃপক্ষ গমগুলোকে আটক দেখালেও আমদানীকারক বা সংশ্লিষ্ট সিএন্ড এফ এজেন্টের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। গমগুলো ফেরত দেয়ারও উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আটককৃত গমগুলো এখনো ওয়্যার হাউজে থাকার কারণে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করছেন অনেকে। এতে ঐ স্থল বন্দরের সাথে সংশ্লিষ্ট আমদানি ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ।

নাম গোপন রাখার শর্তে এক আমদানী কারক বলেন, উপরে লবিং চলছে । গমগুলো ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে । হয়তো ছেড়ে দেবে। অন্যদিকে আমদানী কারক মেসার্স ইমতিয়াজ ট্রেডার্স এর পক্ষে সিএন্ড এফ এজেন্ট ও সিএন্ড এফ এসোসিয়েশনের সভাপতি নাহিরুল ইসলাম গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন কোন নিউজ করতে পারবেন না । কোন নিউজ হবেনা। অনুসন্ধানে জানা যায় নাহিরুল ইসলাম এর আগে ২০১৬ সালে হাবিব ইন্টারন্যাশনাল এর প্রোপাইটার হিসেবে কাজ করতেন। এসময় ভূয়া এলসির মাধ্যমে ১১ কোটি টাকার ভারতীয় কটন তুলা আমদানী করার সময় ধরা পরে। পরে তার লাইসেন্স বাতিল করা হয় । মামলাও চলমান রয়েছে। বর্তমানে তিনি সেতু ইন্টারন্যাশনাল নামে আরেকটি সিএন্ডএফ লাইসেন্স ব্যবহার করে এই বন্দরে কাজ করছেন।

এ ব্যাপারে বাংলাবান্ধা স্থল বন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা জাকির হোসেন তাহের (কাজল) নিউজবিডি৭১কে জানান, বিষয়টি উপড়ে জানানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজবিডি৭১/আর/২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮




‘অ্যাপোলো হাসপাতালে র‍্যাবের অভিযান’ নকল ওষুধের সন্ধান: মানুষ যাবে কোথায়?

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : চোরাকারবারীদের কাছ থেকে নকল ওষুধ কিনছে রাজধানীর বসুন্ধরায় অবস্থিত বেসরকারি অ্যাপোলো হাসপাতাল। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতর, ওষুধ প্রশাসন ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে এই তথ্যের প্রমাণ মিলেছে।

ল্যাবে রোগ নির্ণয়ের জন্য মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট (রোগ নির্ণয়ের জন্য রাসায়নিক উপাদান) ব্যবহার এবং ফার্মেসিতে ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদনহীন ওষুধ রাখায় সোমবার এই হাসপাতালকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ অভিযানের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বাংলাদেশের অন্যতম ব্যয়বহুল এই হাসপাতালের এমন প্রতারণা আশা করেনি কেউ। ফেসবুকে অনেকে লিখেছেন, এটি ভয়ঙ্কর। মানুষ যাবে কোথায়? অ্যাপোলো হাসপাতালের যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে খুবই দুঃখজনক।

সোমবারের ওই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা। অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।

তিনি গনমাধ্যমকে বলেছেন, ‘গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকা থেকে নকল ওষুধ এবং প্যাকেজিং ম্যাটিরিয়ালসহ এক চোরাকারবারী ও নকল ওষুধ বিক্রেতাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। সে নিম্নমানের ভেজাল ওষুধ সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে স্থল ও আকাশ পথে আমদানি করতো। সেদিন তার বাড়ি থেকে মোট এক কোটি টাকার ওষুধ জব্দ করা হয়। সেই সূত্র ধরে সোমবার অ্যাপোলো হাসপাতালে দিনভর অভিযানটি চালানো হয়।’

অ্যাপোলো হাসপাতালের অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি এবারই প্রথম নয়। ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর একই অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৬ লাখ টাকা জরিমানা এবং প্রায় ১০ লাখ ওষুধ জব্দ করে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ প্রসংগে জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ডাক্তার ফায়েজুল হাকিম রেডিও তেহরানকে বলেন, শুধু অ্যাপোলো হাসপাতালই নয়, ঠিকমতো তদন্ত করলে এরকম আরো অনিয়ম-দুর্নীতির খবর পাওয়া যাবে। এদের ব্যাপারে শুধু জরিমানা নয়, এদের লাইসেন্স বাতিলসহ গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। কারণ জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে গাফেলতির কোন সুযোগ নেই।

এর আগে ২০১৫ সালের ৩ জুলাই এক নবজাতক শিশুর মৃত্যুর দায় চাপে অ্যাপোলোর চিকিৎসকের ওপর। এ ঘটনায় সেসময় রাজধানীর ভাটারা থানায় ৩০৪ (ক) ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা করে ওই শিশুর পরিবার।

এ ছাড়া, ২০১৭ সালের মার্চে বাংলাদেশের সাবেক পেস বোলার সৈয়দ রাসেলের ভুল এমআরআই রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগ ওঠে এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে। সেসময় সৈয়দ রাসেল অভিযোগ করেন, ‘বাংলাদেশ অ্যাপোলো হাসপাতালের এমআরআই রিপোর্ট বলে আমার শোল্ডারের চারটা টেন্ডন (শিরা) ছেড়া। আর ভারতের (মুম্বাই) হাসপাতালের এমআরআই রিপোর্ট বলে আমার শোল্ডার ১০০ ভাগ ঠিক। শুধু একটা টেন্ডন একটু শুকিয়ে গেছে। যেটা থেরাপিস্ট দ্বারা ঠিক করা সম্ভব ।

নিউজবিডি৭১/আর/২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮