ভদ্র মুখোশের আড়ালে এরা কারা…

নিউজবিডি৭১ডটকম
কক্সবাজার করেসপন্ডেন্টঃ ওরা ভয়ংকর ছিনতাইকারী। ওরা পুরো পর্যটন এলাকার ত্রাস। সংখ্যায় অন্তত এক’শ। কেউ চা বিক্রি করে। কেউ তাদের অভিভাবকদের কাছে সৈকতে ভ্রাম্যমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি। কেউ বা আবার শার্ট প্যান্ট পরিহিত কেতাদুরস্ত ভদ্রলোক।

চলনে বলনে আশাকে পোশাকে যাই হোক মতলব কিন্তু ওদের একটাই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের জিম্মি করে মালামাল লুট করে নেয়া।

coxs-bazarপ্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্যে লিলাভুমি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত একটি মায়াবী ও রূপময়ী সমুদ্র সৈকত। প্রতিদিন প্রতিক্ষণ এর রূপ পরিবর্তন করে। শীত-বর্ষা-বসন্ত-গ্রীস্ম এমন কোন মৌসুম নেই সমুদ্র সৈকতের চেহারা মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রত্যুষে এক রকম তো মধ্যাহ্নে এর রূপ অন্য রকম। গোধুলি বেলার সৈকতের হাওয়া-অবস্থা আর রাতের আবহাওয়ার মধ্যে বিস্তর ফারাক। তাই তো দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য ক্যাপ্টেন কক্স এর সমুদ্র সৈকত এত কদরের, এত পছন্দের।

এই সমুদ্র সৈকতে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে একাধিক ছিনতাইকারি গ্রুপ। ইয়াবা পাচার সংশ্লিষ্ট হোটেল মোটেলে মাদক ও নারী সরবরাহসহ এমন কোন অপরাধ নেই এখন তারা করছে না। এসব ছিনতাইকারির দলে সমাজ সর্দারসহ পেশাদার খুনিও রয়েছে। বিভিন্ন হোটেলে রহস্যজনক হত্যার সাথেও এদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

রাজনৈতিক আশ্রয় থাকায় তারা এতই বেপরোয়া যে বর্তমানে কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না। ভেতরে ভেতরে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে উঠেছে যে পুলিশও এখন নিরাপদে নেই। আবার এসব ছিনতাইকারি গ্রুপের সাথে সৈকতে দায়িত্বরত ট্যুরিস্ট পুলিশের কিছু অসাধু সদস্যের সাথে সখ্যতারও অভিযোগ উঠেছে।

গত ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার পুলিশের কনস্টেবল পারভেজ হোসেন ছিনতাইকারির ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান। ২৯ আগস্ট সৈকতের ডায়াবেটিস পয়েন্টে মোজাফ্ফর আহমদ(২৫) নামের এক টমটম চালককে জবাই করে হত্যা করা হয়। পর এসব বিষয় বারবার আলোচনায় উঠে আসছে।

বিষয়টি নিয়ে ভাবিয়ে তুলে পুলিশের উর্ধ্বতন মহলসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে।

গত ১৪ অক্টোবর সৈকতের লাবণী পয়েন্ট হতে আটক ৬ ছিনতাইকারীকে আটকের পর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আবদুস সোবহানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত এসব ছিনতাইকারীকে ৩ মাসের কারাদন্ড দেন। একই দিন আরেক ছিনতাইকারীকে আটকের পর ২ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেয়া হয়।

১১ জানুয়ারি বিকেলে একজন ছিনতাইকারীকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোজাম্মেল হক রাসেল ও একই দিন অপর তিনজনকে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তুষার আহমেদ। এরপরেও উৎপাত চলছে ছিনতাইকারী চক্রের।

সৈকতে ভিক্ষুক ও ভ্রাম্যমাণ চিপস-পানি বিক্রেতারা পর্যটকদের বিরক্ত করে। আইনগতভাবে নিষেধ থাকলেও ভিক্ষুক ও ভ্রাম্যমান বিক্রেতারা তা মানছে না। আইন অমান্যের কারণে দুই নারী ভিক্ষুক, সাত ভ্রাম্যমাণ চিপস ও পানি বিক্রেতা শিশু এবং দুই বাদাম বিক্রেতাকে দণ্ডবিধির ৮৮/২৯১ ধারায় ১৫ দিনের বিনাশ্রম জেল দেয় নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত।

সংশ্লিষ্ট সকলের প্রশ্ন, পুলিশ যেখানে ছিনতাইকারির হাতে নিহত হয়, সেখানে পর্যটকদের নিরাপত্তা কোথায়? হোটেল-মোটেল ও গেষ্ট হাউস মালিক সমিতির এক নেতা বলেন, এসব চিহ্নিত অপরাধী সম্পর্কে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনী পদক্ষেপ নেয়া হয়না।

ফলে ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে টু শব্দ করে না। কয়েকবছর আগেও ছিনতাইকারীরা এতো বেপরোয়া ছিলনা। কতিপয় অসাধু কটেজ মালিক ও গেষ্ট হাউস তাদের আস্তানা।

তবে কক্সবাজার শহরের ঘোনারপাড়া, মোহাজেরপাড়া, বাদশাঘোনা, লাইটহাউস পাড়া, সৈকতপাড়া, সাহিত্যিকা পল্লী, দরিয়া নগর, সমিতিপাড়া, কলাতলি বাইপাস সড়কস্থ পালস স্কুলের পেছনে ও দক্ষিণ আর্দশগ্রামসহ কয়েকটি এলাকা হচ্ছে তাদের মূল আস্তানা।

এসব এলাকায় তারা রাজনৈতিক নেতা কর্মী হিসেবে পরিচিত। এমনকি তাদের অভিভাবকদের কাছে সৈকতে ভ্রাম্যমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি হিসেবে পরিচিত ছিনতাইকারীরা। এসব কিছুর আড়ালে তারা কক্সবাজার সৈকতের পর্যটনকেন্দ্রীক এলাকাগুলোতে করে ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম।

বর্তমানে কলাতলি হতে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত বাইপাস সড়কে ছিনতাইয়ের ঘটনা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত কোরবানের দিন হতে সন্ধ্যার পর পুরো সপ্তাহ জুড়ে এই বাইপাস সড়কেই ছিনতাইকারীর হাতে ৫ ব্যক্তি গুরুতর আহত ও এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশী অভিযানে বিভিন্ন সময় ছিনতাইকারী আটক হয়। সাজাও দেন ভ্রাম্যমান আদালত। কিন্তু ছিনতাইকারীর সংখ্যা কমেনি বরং বেড়েই চলেছে।

সুত্র মতে, কক্সবাজার সৈকতে আগে পর্যটক স্পট ছিল শুধু লাবণি পয়েন্ট কেন্দ্রীক। বর্তমানে সুগন্ধা, ওশান প্যারাডাইস পয়েন্ট, কলাতলি, দরিয়ানগর, হিমছড়ি ও ইনানী পাথুরে সৈকত পর্যন্ত অনেক স্পটে পর্যটকরা আনাগোনা করে। এছাড়া সাফারী পার্ক, সেন্টমার্টিন, মহেশখালী সোনাদিয়া, কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন প্যাগুডা, ক্যাং, বৌদ্ধ মন্দির, রামু বৌদ্ধ মন্দিরসহ অসংখ্য স্পটে ঘুরে যাচ্ছেন পর্যটকরা।

শীত মৌসুম শুধু নয়, বর্ষায়ও ব্যাপক হারে দেশিয় পর্যটকরা ছুটে আসছেন। এমতাবস্থায় টুরিস্ট পুলিশের দেড়শ’সদস্য তাদের নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

নাম না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আধুনিক সব যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ করে ট্যুরিস্ট পুলিশকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে। সৈকতে পুলিশের কোন কোন সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ সর্ম্পকে তিনি বলেন, বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। সৈকতে ছিনতাইকারিদের সাথে সংশ্লিষ্টার অভিযোগ পুলিশ ভালভাবে খতিয়ে দেখছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার কাজটি আগে সাধারণ পুলিশ বিভাগে ছিল। পরে অধিকতর নিরাপত্তার জন্য গঠিত হয় ট্যুরিস্ট পুলিশ। তাই ট্যুরিস্ট পুলিশকে এখন পর্যটকদের কাছে নিরাপত্তার আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

সৈকতে একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ছিনতাইকারিরা রাজনৈতিক আশ্রিত এবং পুলিশ তাদের অনেককে চিনেন। সদিচ্ছা থাকলে এসব ছিনতাইকারি নির্মুল করা পুলিশের পক্ষে কয়েক ঘন্টার কাজ বলে মনে করেন তারা।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেষ্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল কাশেম সিকদার জানান, পরিস্থিতি ভেতরে ভেতরে কতখানি ভয়াবহ হয়েছে তা ছিনতাইকারীর হাতে পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার মাধ্যমে কিছুটা অনুমান করা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এই ঘটনা বিদেশি পর্যটকদের কাছে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কেন পুলিশ ছিনতাইকারির হাতে প্রাণ দিল কেনইবা পরিস্থিতি এরকম হলো তা পর্যটন শিল্পের বিকাশের স্বার্থে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

সৈকতে উদ্ধার কর্মী দল রবি লাইফ গার্ডের ইনচার্জ মোঃ ছৈয়দ নুর বলেন, সৈকতে ভ্রমন নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে হলে আগে ইয়াবাসহ সব মাদক ঠেকাতে হবে। কারণ ছিনতাইকারিরা এ সবের সাথে জড়িত।

কয়েকজন পর্যটন ব্যবসায়ী জানান, ছিনতাইকারির হাতে একজন পুলিশ সদস্য ও টমটম চালক এবং পথচারী নিহত হওয়ার এই দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর দেখতে চাই না। কোন কোন গেষ্ট হাউস ও কটেজে অপকর্ম চলে এবং কারা ছিনতাইকারী সেই তথ্য পুলিশের রয়েছে বলেও তারা দাবী করেন।

এ ব্যাপারে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশি নজরদারি বৃ্দ্ধি করা হয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।

নিউজবিডি৭১/এ আর/২২ অক্টোবর, ২০১৫




যেভাবে চলছে মেয়েদের ইয়াবা সেবন আর দেহ ব্যবসা

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : ইয়াবা সেবন একটি নেশার মধ্যেই পড়ে, এটা আমরা সবাই জানি। জরিপে দেখা গেছে যে ইংরেজী মাধ্যমের ছেলেমেয়েরা এর প্রতি আসক্ত। ভার্সিটির ছেলেমেয়েরা তো আছেই। ইয়াবা হলো এখনকার যুগের ছেলেমেয়েদের হালফ্যাশনের স্টাইল। স্বনামধন্য স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি আর কর্মক্ষেত্রের অনেক ছেলেমেয়ে এর প্রতি সংযুক্ত।

এরা কিন্তু আমাদের তরুণ প্রজন্ম। স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি লেভেলের মেয়েদের দেখা যায় তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস বলতে তাদের মেকআপ, মোবাইল, লিপস্টিক নানা রকম বিলাসী প্রয়োজন পূরণের জন্য এরা দেহব্যবসায় নেমে যায়। দৈহিক সুখের বিনিময়ে অর্থ প্রাপ্তি কিংবা শপিং এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শখের জিনিস প্রাপ্তি চলে তাদের।

যখন তারা এসব পথে নেমে যায় তখন অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহক তাদের বলে যদি ইয়াবা খাও তো এটা আরো উপভোগ্য হবে।টাকাও বাড়তি পাবে। এভাবে দশ জায়গায় ডোষ্টা সৌখিনতা বশত সুখটান দিতে যেয়ে সে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। একটা পর্যায়ে তার বিলাসী চাহিদার পাশা পাশি ইয়াবার জন্য ও যৌন ব্যবসায়ী হতে হয়। এদের বলা হয় হাই সোসাইটি কল-গার্ল। ছেলেদের করতে হয় চুরি, ছিনতাই।

কর্মজীবনের ক্ষেত্রে দেখা যায় অফিসে অনেকে নিজেকে এক্টিভ, যৌন শক্তিতে সামর্থ্য এবং পার্টিতে শ্যাম্পেইনের মত পার্টি ভাব নিয়ে সেবন করে থাকেন। দেখা গেছে আগে কর্মক্ষেত্রে শুধু ঘুষের প্রচলন ছিল, আর এখন ঘুষের সাথে ইয়াবা পার্টি আর রাই-বিনোদিনী নিয়ে বিনোদন ও দিতে হয়। রাই-বিনোদিনী পছন্দসই না হলে কাজেও ঝামেলা হয়!

বাংলাদেশে বড় ছোট অনেক রকমের হোটেল রয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যেক এলাকায় ব্যাং-এর ছাতার মত অনেক ক্লিনিক এর মত হোটেল ও আছে। সেইসব হোটেলে বুঝি ট্যুরিস্ট আসে? না! সেই সব হোটেলে আসে পরম প্রেমে আবদ্ধ জুটিরা, গ্রাহক, রাই-বিনোদিনীরা। গ্রাহকেরা হলো আমাদের তরুণেরা, বাবার বয়সী পুরুষেরা। নেতা পর্যায়ের পুরুষেরাও আসেন।

হোটেলের অধীনে থাকে নানা রকমের রাই-বিনোদিনী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকার এরকম এক স্বনাম ধন্য হোটেলের কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা গেছে যে, এসব হোটেলে ইয়াবা, গাজা আর দেশী-বিদেশী নেশা জাতীয় দ্রব্য ও পাওয়া যায়।আর পুলিশেরা কি করে? পুলিশেরা প্রত্যেক মাসে তাদের জন্য নির্ধারিত চাদা নিয়ে যায়।

যদি ঝামেলা হয় কিংবা নতুন কোন কর্মচারী থানায় আসে তখন একটু ধরাধরি চলে। চাঁদার এমাউন্ট ঠিক হলেই সব আপোষ। মাঝে মাঝে লোক দেখানো রেইট চলে। পুলিশের লোকেরা আগেই তাদের তথ্য জানিয়ে সতর্ক করে দেন। আর শো আপের জন্য আটক হয় দু-চারটা রাই-বিনোদিনী আর নেশা জাতীয় দ্রব্য। আর রাই-বিনোদিনী নিয়ে থানায় ও হয় ব্যবসা। নির্দিষ্ট এমাউন্টের বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।দালালেরা ও হেল্প করেন। পরবর্তীতে দালালেরা এর এডভান্টেজ নানাভাবে নেন।

বিভিন্ন অফিসের মহিলা আর গৃহিণীরাও এর সাথে সম্পৃক্ত আছেন। স্বামীর বন্ধু, অফিসের সহকর্মী, ব্যবসায়ী বন্ধুরা নানা ভাবে তাদের বান্ধবী তথা রাই-বিনোদিনী নিয়ে আসছেন তাদের বাসায় রুমের জন্য। ঘন্টা খানেকের জন্য ভাড়া নিয়ে ৫০০-১৫০০টাকা দিচ্ছেন। কখনো ব্যবসায়ী সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য রুমের সাথে রাই-বিনোদিনীর সেবার সার্ভিস দেয়া হচ্ছে।

পুরুষেরা তো অনেক সময় বলেন মিটিং এ আছি, অফিসে কাজের চাপে আছি, বিজনেস ট্যুরে আছি। খোজ নিলে দেখা যাবে কোন রাই-বিনোদিনী নিয়ে কোথাও আদিম খেলায় মেতে আছেন। বিজনেস ট্যুরের নামে কখনো রিলাক্স ট্যুরও চলে। কখনো বিজনেস ট্যুরের ফাঁকে ইয়াবা সেবন আর রাই-বিনোদিনীর সেবা গ্রহণ ও চলে।

নিউজবিডি৭১/আর কে/মিনকা সোহানি উপমা/২০ অক্টোবর, ২০১৫




অপরাধ চক্রে কেন শিশুরা?

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা:  শিশুরা হলো কোমল  ফুলের মত। তাদের অবস্থা এমন কাদা মাটিকে যেভাবে আকৃতি দেয়া হবে সেভাবে থাকবে।শিশুরা তো ভূল করবেই।কিন্তু শিশুদের ভুল শোধরানোর জন্য শাসনের নামে আমরা অপশাসন করে ফেলি। যা নিন্দনীয়। যার নেতিবাচক প্রভাব পরছে শিশুদের। শিশুরা  রাগ ক্রোধ হতাশা গ্রস্ত হয়ে কিংবা নানা রকম সঙ্গ- দোষে নেশা সহ  নানা রকমের অপরাধে জড়িয়ে পরছে।অনেক সময় তারা বিনোদন ধর্মী বিদেশী সিরিয়াল চলচ্চিত্র দেখে তা উদ্ধুধ্য হচ্ছে। যেসব শিশু কিশোরদের পড়াশোনা আর জীবনের আনন্দ নেয়ার কথা সেখানে তারা নানা রকম পারিপার্শ্বিকতার জন্য অপরাধী হয়ে যাচ্ছে। শিশু অপরাধের  হার যে ভাবে দিন দিন বাড়ছে তা নিঃসন্দেহে আশংকাজনক। নেশায় জড়িয়ে অনেকে চুরি,ছিনতাই,অপহরণ,হত্যা ধর্ষণ এর মত ঘৃণ্য অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে।

এর উদাহরণ ঐশীর হাতে তার বাবা মায়ের নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা। সাম্প্রতিক কালের মাদ্রাসা ছাত্র তানভীর হত্যা। তার হত্যাকারীরা কিশোর। তারা এই অপরাধ করেছে অর্থশালী হয়ে আরো স্বচ্ছল জীবন যাপন করার জন্য সিরিয়াল দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে অপরাধ করেছে।

আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে শিশু শ্রমিকদের উপর সামান্য কারণে কিংবা অকারণে চালানো জোর জুলুম করা হচ্ছে। তখন সে অসহ্য হয়ে প্রতিবাদ কিংবা প্রতিশোধ নিতে যেয়ে হত্যা, চুরি ডাকাতির আসামী হয়ে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে অবিভাবকদের অবশ্য করণীয় হলো তার সন্তান কোথায় কার সাথে মেলা মেশা করে ,তার প্রয়োজনীয় খরচের দিকে খেয়াল রাখা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের সাথে এমন কোন আচরণ করা ঠিক নয় যাতে সে হীন মন্যতায় ভোগে। তার আচার আচরণের প্রতি অবশ্যই সতর্ক থাকা উচিত। সন্তানের শুধু মাত্র অভিভাবক হয়ে নয় ভাল বন্ধু ও হওয়া উচিত অবিভাবকদের। য়ার শিশু শ্রমিকদের  প্রতি  অবশ্যই নমনীয়  হওয়া উচিত।

এমন না হলে ঐশীর হাতে বাবা  মায়ের হত্যা,গাজীপুরের এক নেশা গ্রস্ত কিশোরের হাতে তার নানার খুন,পর্যাপ্ত হাত খরচ ও পারিবারিক সাহচর্য না পাওয়া উত্তরার ভাই বোন  চিরশ্রী জামান (১৮) ও আলীম জামাণ (১৫ ) আত্মহত্যা আর মাদ্রাসা ছাত্র তানভীর এর হত্যাকাণ্ডের মত অপরাধ ঘটতে থাকবে। যার জন্য এক দিক থেকে অভিভাবকের অসতর্কতাই দায়ী। অবিভাবকদের একটু সাবধানতায় পারে আমাদের শিশুদের অপরাধ থেকে বাঁচাতে।

নিউজবিডি৭১/ আর কে/উপমা/২০ অক্টোবর ২০১৫




হিজড়াদের নিরব বেদনা নিছক প্রকৃতির ‘পরিহাস’!

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকাঃ হিজড়া সম্প্রদায়ের মানবগুলো আগেও ছিল, বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও জন্মাবে। জীববিজ্ঞানীগণ এই তৃতীয় লিঙ্গের বা হিজড়া মানব সন্তান জন্মের রহস্যকে এখন পর্যন্ত উন্মোচন করতে পারেননি। উল্লেখ্য যে, হিজড়া সন্তানের জন্মের পর আধুনিক চিকিৎসায় বা অস্ত্রোপাচারের মাধ্যমে কোন লিঙ্গের অধিকারী হবে, তা নির্ধারণ করে দেয়ার ব্যাপারটা জটিল হলেও সম্ভব। কিন্তু নানা কারণে অনেক ক্ষেত্রে চেষ্টার পরও প্রতিবন্ধকতার কারণে সম্ভবপর হয়ে ওঠে না।

প্রধানত এদের দুটি বৈশিষ্ট্যগত ধরনঃ যেমন- ক) প্রকৃতিদত্ত এবং খ) মানুষের হাতে সৃষ্ট। সারা পৃথিবী জুড়ে প্রকৃতিদত্ত বৈশিষ্ট্যের হিজড়াদের ধরন প্রায় একই। তবে জীববিজ্ঞানী এবং চিকিৎসাবিদরা লৈঙ্গিক, মনস্তাত্ত্বিক ও আচরণগত বৈশিষ্ট্য অনুসারে প্রকৃতিদত্ত বৈশিষ্ট্যের হিজড়াদের ছয়টি ধরন চিহ্নিত করেছেন। কিন্তু মানুষের হাতে সৃষ্ট লৈঙ্গিক বিকৃতিগ্রস্ত হিজড়াদের ধরন ও জীবন পরিণতি স্থানীয় সংস্কার ও নিয়ম, সামাজিক প্রথা এবং আর্থ-সামাজিক মর্যাদা ও অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল।

অল্প বয়সে রোগ ধরা পড়লে এর চিকিৎসা সম্ভব। কিন্তু আমাদের দেশের হিজড়া শিশুদের ব্যাপারে সচেতনতার অভাব রয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় মানুষ জানেই না যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে হিজড়াদের চিকিৎসা এদেশেই সম্ভব। ছোট বেলাতেই হিজড়া শিশুকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার প্রবণতা আমাদের দেশে রয়েছে। এটা না করে তাদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে এরাও অন্য দশজনের মতো যতদূর সম্ভব স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে বাস করতে পারে। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের হিজড়া সমাজ একই ধারায় গড়ে উঠেছে। এই উপমহাদেশের মতো হিজড়া সমাজ ব্যবস্থা পৃথিবীর আর কোথাও নেই।

ইউরোপসহ পাশ্চাত্য বিশ্বে হিজড়া বা জন্মগত যৌন প্রতিবন্ধীরা তাদের পরিবারের সাথেই থাকে। অনেক ক্ষেত্রে নিজেরাও সঙ্গী খুঁজে নিয়ে সংসার করে। প্রায় উন্নত দেশে হিজড়াদের উপর সামাজিক ও পারিবারিক সহানুভূতি রয়েছে। কিন্তু আমাদের সমাজে হিজড়াদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বিদ্যমান। যেহেতু তারা নিজেদের মধ্যে আলাদা চাল-চলন, আইন-কানুন, এমনকি নিজস্ব জীবনযাত্রার ভাষা তৈরি করে মূলস্রোত থেকে সরে গিয়ে গড়ে তুলেছে এক স্বতন্ত্র উপ-সমাজ।

সমাজের সাধারণ মানুষের বিরূপ আচরণ হিজড়াদের রাজনৈতিক নাগরিক ও সামাজিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। হিজড়াদের প্রতি সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তারা ভোট দেয়ার মতো নাগরিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ বোধ করে না। অন্যদিকে কটুক্তিসহ নিরাপত্তাহীনতা হিজড়াদের আর একটি সমস্যা। আর এ কারণেই পুলিশ থেকে শুরু করে মাস্তানদের হাতে বিভিন্নভাবে নাজেহাল নির্যাতিত হতে হয়।

নিউজবিডি৭১/জে এইচ/ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫    




দেশভেদে পালটে যায় দেহব্যবসা

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
যৌন ব্যবসা অথবা দেহের বিনিময়ে উপার্জন। এই দুনিয়ায় একেক দেশ এই পেশার ওপর এক একরকম আইন করেছে। হল্যান্ডের পতিতাপল্লী পর্যটকদের মূল আকর্ষণ : নেদারল্যান্ডসে পতিতাবৃত্তি শুধু বৈধ নয়, ইউরোপের এই দ্বীপটির পতিতাপল্লী সত্যিকার অর্থেই বিশ্ববিখ্যাত।

রেডলাইট জোন দেখতে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক আসে আমস্টারডামে। নেদারল্যান্ডসের মতো ইউরোপের আরেক দেশ বেলজিয়ামেও দেহব্যবসা সম্পূর্ণ বৈধ।

জার্মানি এবং ফ্রান্সে কঠোর আইন : জার্মানি এবং ফ্রান্সেও দেহব্যবসা বৈধ। তবে এ দুই দেশেই যৌনকর্মীদের এই ব্যবসা করতে হয় কঠোর আইন মেনে। ফ্রান্সেও ২০১৪ সালে এমন একটা আইন হয়েছে, যা মেনে যথেচ্ছ দেহব্যবসা করা খুব কঠিন।

সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক : সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়াতেও দেহব্যবসা বৈধ। তবে এ দুটি দেশে ১৯ বছর বয়স না হলে কেউ দেহব্যবসায় নামতে পারেন না। যৌনকর্মীদের যাতে কোনো যৌনরোগ না হয়, কিংবা তাঁদের মাধ্যমে খদ্দেরদের মাধ্যে যাতে এইডস বা অন্য কোনো রোগ ছড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে যৌনকর্মীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হয়। অবশ্য শুধু সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়াতে নয়, জার্মানিতেও ওই একই নিয়ম।

সুইডেন আর নরওয়েতেও নিয়ন্ত্রিত পতিতাবৃত্তি : ফ্রান্স ২০১৪ সালে যে আইন প্রবর্তন করে, সেটা প্রথম চালু হয়েছিল সুইডেনে, ১৯৯৯ সালে। এ কারণে আইনটি সুইডিশ মডেল হিসেবে পরিচিত। এ আইনে যৌনকর্মীদের অধিকার রক্ষা করে দালালদের নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এশিয়ায় লুকোনো পতিতাবৃত্তি : ভারতেও পতিতাবৃত্তি বৈধ। তারপরও পতিতাবৃত্তি চলে আড়ালে-আবডালে। রাস্তায় নেমে পতিতারা খদ্দের সংগ্রহ করতে পারেন না। খদ্দেররা অর্থের বিনিময়ে যৌন তৃপ্তি মেটাতে যায় রাতের আঁধারে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে পতিতালয় কমলেও ম্যাসাজ পার্লার এবং আবাসিক হোটেলে প্রায়ই চলে পুলিশি অভিযান। খদ্দেরসহ পতিতা আটকের খবর আসে তখন। থাইল্যান্ড ও ফিলিপিন্সে পতিতাবৃত্তি চলে অবাধে। তবে দেশ দুটিতে এই ব্যবসা আইনের চোখে অবৈধ।

দক্ষিণ অ্যামেরিকায় ভিন্নরূপ : দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ দেশেই যৌন ব্যবসা বৈধ। তবে কিছু দেশে মাফিয়া এবং মানবপাচার বড় সমস্যা হয়ে ওঠায়, এই ব্যবসার ওপর কড়াকড়ি এবং তদারকি বেড়েছে। দেহব্যবসাকে মাফিয়া চক্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রাখতে ব্রাজিল এবং মেক্সিকোতে রয়েছে কঠোর আইন। তারপরও দেশ দুটিতে মাফিয়া চক্রের আধিপত্য রয়ে গেছে।

গ্রিস এবং তুরস্কে পতিতাবৃত্তি নিয়ন্ত্রিত : গ্রিস এবং তুরস্কেও পতিতাবৃত্তি পুরোপুরি বৈধ, তবে দেহব্যবসার আইন খুব কঠিন। জার্মানির মতো এই দুটি দেশেও যৌনকর্মীদের স্বাস্থ্যবীমা করা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া যৌনকর্মীরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান কিনা, তা সব সময় তদারক করা হয়। স্বাস্থ্য কার্ডেই লেখা থাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সব তথ্য।

যে দুই দেশের পতিতাপল্লীতে ধীরে চলা মানা : ব্রিটেন আর আয়ারল্যান্ডের পতিতাপল্লী বা ‘রেড লাইট জোন’-এর প্রায় সব আইনই জার্মানির মতো ছিল। তবে সম্প্রতি ব্রিটেনে কিছু বেসরকারি সংস্থার দাবিতে এতে নতুন কিছু বিষয় যোগ করা হয়েছে। ব্রিটেনের রেড লাইট জোন-এ এখন যেমন ধীরে গাড়ি চালানো নিষেধ।

প্রতিবেশী হয়েও নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া আলাদা : নিউজিল্যান্ডে যৌন ব্যবসা একেবারেই বৈধ। তবে প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রেলিয়ার অনেক রাজ্যে এই ব্যবসা এখনো অবৈধ। ২০০৩ সালে আইন করে সব প্রাপ্তবয়স্কের জন্য যৌন ব্যবসাকে বৈধ করে দেয় নিউজিল্যান্ড।

নিউজবিডি৭১/জে এইচ/২৩আগস্ট ২০১৫  




ঘুরে আসুন চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে

নিউজবিডি৭১ডটকম
স্টাফ করেসপন্ডেন্টঃ শ্রীমঙ্গল শহরটা ছোট্ট, তবে বেশ গোছানো। এই শহরের বাড়ি, গির্জা, মন্দির নিয়ে সব স্থাপনার মাঝেই নান্দনিকতার ছাপ। শহরের বেশির ভাগটা জুড়েই রয়েছে চা-বাগান। দেশে দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে কক্সবাজার, সেন্টর্মাটিন, কিন্তু ভ্রমন করেননি দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক লিলাভূমি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল।

এখানে আপনি যে দিকে-ই তাকাবেন দুচোখ জুড়ে দেখবেন চায়ের বাগান। যা দেখলে চোখ জুড়ে খেলে যাবে এক অপরূপ সুন্দর ও সবুজের সমারোহ। তাই হয়তোবা ভাবছেন কিভাবে যাবেন শ্রীমঙ্গলে!

tea 2

বাংলাদেশে চা-বাগান মানেই শ্রীমঙ্গলে। সাধারণত মে মাস থেকে চাপাতা সংগ্রহের মৌসুম শুরু হয়। চলে অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময়ে বাগানও থাকে সবুজ-সতেজ আর কর্মচঞ্চল। আর এ সময়টাকেই আপনি বেছে নিতে পারেন ভ্রমণের  ‘চা-কন্যা’ ভাস্কর্য দেখে শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান ভ্রমন শুরু করতে পারেন। বাগানে চা পাতা তুলছে এক তরুণী শ্রমিক।

এই আদলে তৈরি সাদা ভাস্কর্যটি শ্রীমঙ্গলের প্রবেশপথেই দৃষ্টি কেড়ে নেবে। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন দৃষ্টিনন্দন এ ভাস্কর্যটি তৈরি করেছে সাতগাঁও চা-বাগানের সহায়তায়। ‘চা-কন্যা’র সামনেই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সাতগাঁও চা-বাগান।

tea 3

‘চা-কন্যা’ থেকে শ্রীমঙ্গল শহরের দূরত্ব বেশি নয়। ছোট্ট শহরকে পিছু ফেলে ভানুগাছ সড়কে উঠলেই চোখে পড়বে চা গবেষণা ইন্সটিটিউটের (বিটিআরআই) ভেতর থেকে দক্ষিণমুখী সড়কটি ধরে এগিয়ে গেলে ফিনলের চা-বাগান, এ ছাড়া আছে বিটিআরআইর নিজস্ব বাগান। ভানুগাছ সড়কের টি-রিসোর্ট ফেলে সামনে দুটি বাঁক ঘুরে হাতের ডানের সড়ক ধরে কয়েক কিলোমিটার গেলেই জেরিন টি-এস্টেট।

লাউয়াছড়ার আগে হাতের ডানে জঙ্গলঘেরা পথটি চলে গেছে নূরজাহান টি-এস্টেটের দিকে। এ পথে দেখা মিলবে আরো বেশ কিছু বাগান। শ্রীমঙ্গল থেকে কমলগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। পথের মধ্যেই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান।

কমলগঞ্জ থেকে আরো পাঁচ কিলোমিটার গেলে পাহাড়ঘেরা চা-বাগানের মধ্যে বিশাল মাধবপুর লেক।

তবে চা-বাগান দেখতে দেখতেও মাধবপুর যাওয়া যায়। এর জন্য ধরতে হবে নূরজাহান টি-এস্টেটের পথ। বাহন হিসেবে অবশ্যই নিতে হবে জিপ। এখান থেকেও চা-বাগান দেখতে দেখতে ভিন্নপথে ফিরতে পারেন। ধলাই সীমান্ত থেকে ফিরতি পথে সামান্য এগিয়ে হাতের বামে বেশ পুরনো চা-বাগানের বাংলোর পাশ ঘেঁষা রাস্তা ধরে চললে, চা-বাগানের বাঁকে বাঁকে ফেরা যাবে শ্রীমঙ্গল শহরে।

নিউজবিডি৭১/এ আর/তোফায়েল/০৯ অক্টোবর, ২০১৫




মাদক আতঙ্কে ভয়ংকর ফুলবাড়ী

নিউজবিডি৭১ডটকম
দিনাজপুর: দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলাটি একটি জনবহুল উপজেলা।দিনবদলের সাথে সাথে ফুলবাড়ীও বদলে যাচ্ছে। কালের আবর্তে এই উপজেলাটি এখন চোরাচালন অভায়ারণ্য হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ফুলবাড়ী উপজেলাটি মাদক চোরাচালনের রুট হিসাবে ব্যবহার করছে চোরাকারবারীরা। মাদকের ভয়াবহতায় এখানকার অভিভাবক মহল আতঙ্কিত। মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে সন্তান কে পুলিশের হাতে তুলে দিতেও দ্বিধা করছে না এলাকার অভিভাবকরা। আবার অনেকেই মানসম্মানের ভয়ে মাদকাসক্ত সন্তানকে নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে দিন পার করছেন।

তবে ফুলবাড়ী উপজেলায় মাদকের বিস্তার রোধের উদ্বেগ নিয়ে স্থানীয় প্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসন একে অপরকে দায়ী করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফুলবাড়ী উপজেলার সদরের স্টেশন পাড়া, স্তাব নগর, কাঁটাবাড়ী, টিটিরমোড়, বড়বন্দর, ঘাটপাড়া, ফকিরপাড়া, কাঁটাবাড়ী নয়াপাড়া, মধ্যগৌরিপাড়া, কাজিখানা রোড, ৪নং বেতদিঘী ইউনিয়নের মাদিলাহাট, কাঁসাপুকুর, আট পুকুর ট্যাম্পো স্ট্যান্ড, শিবনগর ইউনিয়নের গাদাপাড়া, উলিপুর, দেবীপুর এসব এলাকায় ফেন্সিডিল, গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইন, দেশীয় বাংলা মদ অবাধে বিক্রি হচ্ছে। এসব মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত এই এলাকা ব্যবহার করছে তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দিব্যি মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। ফুলবাড়ী পার্বতীপুর ৫ আসনের মন্ত্রী ফুলবাড়ী এবং পার্বতীপুরকে মাদকের ব্যাপারে জিরো ট্রলারেন্স দেখাতে বলেন।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ এহেতেশাম রেজার সঙ্গে গতকাল মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান আমার যোগদানের পর নিয়মিত ট্রান্সপোর্ট অভিযান চালিয়েছি। এতে অংশ নিয়েছিলেন র‌্যাব, পুলিশ, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিজিবি এবং প্রত্যেক সপ্তাহে ভ্রাম্যমান অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রয় কারী ও মাদক সেবন কারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত অব্যাহত রেখে আটক করা হয় বেশ কয়েকজন মাদকসেবীকে। তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

মাদকের বিস্তার কিছুটা কমলেও বন্ধ হয়নি মাদক ব্যবসা। এ বিষয়ে এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন মাদকের রাজ্যে যারা আজ রাজা হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে তাদেরকে দ্রুত আটক করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। এবং ফুলবাড়ী উপজেলাকে মাদক মুক্ত করতে হলে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। সেই সাথে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির তৎপরতা বাড়াতে হবে এবং উপজেলার অলিতে গলিতে র‌্যাব, পুলিশ, ডিবির মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে ফুলবাড়ী উপজেলাটিকে মাদক মুক্ত করা হোক।

নিউজবিডি৭১/ আর কে/মেহেদী/ ৮ অক্টোবর ২০১৫




ব্যাংঙের ছাতার মত অবৈধ ক্লিনিক, যত টেষ্ট তত কমিশন

নিউজবিডি৭১ডটকম
দিনাজপুর করেসপন্ডেন্টঃ দিনাজপুর জেলার কতিপয় ক্লিনিকে চিকিৎসার সেবার মান ও পরিবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসার নামে প্রতারণা বাণিজ্য বর্তমানে বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। এমন অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কোন আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করছেন না কেন তাই জনমনে জন্ম নিয়েছে নানা প্রশ্ন।

খোজ নিয়ে জানা গেছে দিনাজপুর শহরে হাতে গোনা কয়েকটি ক্লিনিক ছাড়া অধিকাংশই ক্লিনিকেরই বৈধ কাগজপত্র নেই। অনেক ক্লিনিকে রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যে সব শর্তাবলী রয়েছে তার কোন নাম গন্ধ নেই, না আছে কোন নিয়মনীতি, নেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার, নার্স, অপারেশন থিয়েটার ও ঔষধপত্র।

এমন অনেক ক্লিনিক আছে যেখানে রয়েছে মাত্র দুটি কক্ষ। ফলে চিকিৎসা নিতে এসে প্রতিদিন শত শত মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রাইভেট প্রাকটিস এন্ড মেডিকেল এ্যাক্ট ১৯৯২ অনুযায়ী ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ও নির্ধারিত স্থান সম্মিলিত এবং নির্দিষ্ট জীবানু মুক্ত কক্ষ বিশিষ্ট ভবন অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার ও চিকিৎসার সরঞ্জামাদি প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র ছাড়াও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে ডাক্তার, আবাসিক ডাক্তার, সার্জন, স্টাফ নার্স (ডিপ্লোমা) থাকতে হবে।

যেমনঃ প্রতি দশ (১০)বেডের জন্য তিনজন ডাক্তার একজন করে তিন শিফটে সার্বক্ষনিক উপস্থিত থাকবে আবার একই প্রতি দশ (১০) বেডের জন্য ছয় (৬) জন স্টাফ নার্স (ডিপ্লোমা) তিন শিপ্টের জন্য দুই (২) জন করে সার্বক্ষনিক ডিউটি পালন করবেন।

কেবল এসব শর্তাবলী পূরণ সাপেক্ষে বেসরকারীভাবে কোন ক্লিনিক রেজিস্ট্রেশন দেয়ার কথা, অথচ এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিতিমালা অনুযায়ী কোন নজরদারী নেই। আবার রেজিস্ট্রেশন আছে এমন কতকগুলো ক্লিনিকেও এসব নিতিমালা শর্ত মতাবেক নিয়ম না মেনেই  চালিয়ে যাচ্ছে ক্লিনিক ব্যাবসা।

কথিত এসব ক্লিনিকের রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে রয়েছে নানাপ্রশ্ন ও বিতর্ক।

আরও জানা যায়, সরকারি চাকুরীর পাশাপাশি ডাক্তার এসব ক্লিনিকের সঙ্গে সম্পৃক্ত। একজন ডাক্তার ২ জায়গায় একই সময় কিভাবে চাকুরী করেন এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তোর পাওয়া যায়নি। কতিপয় ডাক্তার আবার চুক্তিতে কাজ করেন। অর্থ প্রাপ্তির বিনিময় বিভিন্ন ক্লিনিকে গিয়ে তারা রোগী দেখেন ও অপারেশন করে থাকেন।

ক্লিনিক মালিকরা রোগী পেলে এসব ডাক্তারের সঙ্গে দর কষাকষি শুরু করেন। শেষে উভয় পক্ষের সমঝোতায় অপারেশন হয়। এ প্রক্রিয়ায় রোগীর অবস্থার সংকাটাপন্ন হলেও রোগীর অভিভাবগণদের করার কিছুই নেই।

বেশিরভাগ ক্লিনিকে চিকিৎসার সেবার মান এতই নিম্ন যে, রোগীদের জীবনের ঝুকি নিয়ে অপারেশন করতে হয়। অপারেশনকৃত রোগীদের থাকার জন্য পৃথক কোন কক্ষ নেই। ওয়ার্ডতো দূরের কথা।

একাধিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে প্রয়োজন নেই এমন রোগীকেও অপারেশন করা হয়। এছাড়া ভুল অপারেশনের নজিরও রয়েছে অনেক যা বিভিন্ন জাতীয়, দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ হয়েছে। এমনকি ভুল অপারেশনে রোগীর মৃত্যু হলে পুলিশ অবৈধ ক্লিনিকের মালিককে গ্রেফতার করারও নজির রয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে শহরে গড়ে তোলা হয়েছে সিন্ডিকেট, ডাক্তারের কাছে রোগী গেলেই প্রয়োজনে, অপ্রয়োজনে নানা মেডিকেল টেস্ট করতে হবে। এটিই প্রথম শর্ত।

এর পর প্রেসপ্রিকশন কতিপয় প্যাথলজি বা ডায়াগোনষ্টিক সেন্টারে মালিক এবং ক্লিনিক  ডাক্তাররা যৌথভাবে এ অসাধু প্রক্রিয়া জড়িত। যত টেষ্ট তত পার্সেনটেজ এই অলিখিত চুক্তি থাকায় ডাক্তারদের পছন্দসই প্যাথোলজি ছাড়া মেডিকেল টেস্ট রিপোর্ট গ্রহণ করা হয় না।

রোগী কোন ক্লিনিকে গেলে প্রয়োজন থাকুক আর নাই থাকুক বিভিন্ন ধরনের টেস্ট করতে প্যাথলজির নাম উল্লেখ করে দেয়া হয় অন্য কোথাও থেকে পরিক্ষা করালে সে রিপোর্ট গ্রহন যোগ্য নয় বলে যানিযে দেয়। যা রোগীর অর্থিকভাবে লোকসান বাড়লেও নিজেদের টু-পাইস সুবিধা পায় অনেকেই।

নিয়মনীতির তয়াক্কা না করে অবৈধ ক্লিনিক শহর ছেড়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাংঙের ছাতার মত ক্লিনিক। এই ক্লিনিকগুলোতে সেবা নিতে যাওয়া রোগীদের কোন দূর্ঘটনা ঘটে গেলে রোগীর অভিভাবক ও ক্লিনিকের মালিকপক্ষ ওয়ারিশদের নিয়ে সমঝোতার বৈঠক করেন ও ক্লিনিক মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ারও অনেক নজির রয়েছে।

ক্লিনিকের অনুমোদন আছে কি না এ তথ্য আমাদের প্রতিনিধি জানতে চাইলে ক্লিনিকের পক্ষ থেকে কেউ কথা বলতে চায় না।

এ ব্যাপারে দিনাজপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ এমদাদুল হকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি তার দায়িত্ব এরিয়ে গিয়ে বলেন, টিএইচএ এর সাথে কথা বলেন বলে মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

অন্য দিকে ক্লিনিক সম্পর্কে জানতে ক্লিনিক মালিক এবং ডায়াগনিষ্টিক এসোসিয়েশন এর সভাপতি ডাঃ গোলাম মোস্তফা সাথে মোবাইলে যোগাযোক করা হলে তিনি জানান শতভাগ না হলে আমরা পর্যায় ক্রমে চিকিৎসাসেবা উন্নিত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

বাংলাদেশ প্রাইভেট প্রাকটিস এন্ড মেডিকেল এ্যাক্ট ১৯৯২ অনুযায়ী ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি আছে কিনা জানতে আমাদের প্রতিনিধি সরজমিনে গেলে উপশহরে অবস্থিত আল-আমিন ক্লিনিকে ডাঃ ,নার্স, ষ্টাফ, কাউকে পাওয়া যায়নি।

পরে সায়েম ক্লিনিকে গেলে ক্লিনিক কতৃপক্ষ জানান অনুমোদন আছে কিন্তু বেড বারো (১২) টি অনুযায়ী সেখানে দুইজন  স্টাফ নার্স (ডিপ্লোমা) দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন পরিচালনা।

বালুবারিতে অবস্থিত ডেনাইট ক্লিনিকে গেলে সেখানে কতৃপক্ষ জানান অনুমদন আছে কিন্তু বেড দশ(১০) টি অনুযায়ী সেখানে চার (৪) জন স্টাফ নার্স (ডিপ্লোমা) আছে এভাবেই গরে উঠেছে জেলা ও উপজেলায় শত শত ক্লিনিক ও ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার।

অথচ ক্লিনিকগুলো সরাসারি সিভিল সার্জন অফিস দেখাশোনা করেন।

এ ব্যাপারে ক্লিনিক মালিকদের ভাষ্য তারা ডাক্তারদের কাছে জিম্মি। ডাক্তারদের স্মরণাপন্ন হওয়া ছাড়া ক্লিনিক ব্যবসা চালানো সম্ভব নয় বলে ডাক্তারদের অনেক কথা ক্লিনিক মালিকদের শুনতে হয়।

চিকিৎসা সেবার মত মহৎ পেশাকে নিয়ে এ অবৈধ ব্যবসা অব্যাহত থাকায় রোগীরা প্রতিনিয়ত প্রতারিত ও দূর্ভোগের শিকার হলেও এক শ্রেণীর ডাক্তারেরা রাতারাতি গাড়ী বাড়ীর মালিক হয়েছেন।

এমন অবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষ সহজেই ডাক্তারদের ঘারের কাছে যেতে চায়না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ডাক্তার খোভ প্রকাশ করে বলেন, গুটিকয়েক ডাক্তারের কারণে গোটা চিকিৎসক সমাজের ভাবমূর্তি আজ প্রশ্নবৃদ্ধ হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে দ্রুত আইনি পদক্ষে গ্রহন করে দেশের চিকিৎসা সেক্টরে পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদি তারা।

নিউজবিডি৭১/এ আর/০৭ অক্টোবর, ২০১৫




সৌন্দরা গ্রামে ঝাড়-ফুঁ দিয়ে চলছে জ্বীন সম্রাঞ্ছীর সর্বরোগের চিকিৎসা

নিউজবিডি৭১ডটকম
রামগঞ্জ(লক্ষ্মীপুর) করেসপন্ডেন্টঃ রামগঞ্জ উপজেলার সৌন্দরা গ্রামে ঝাড়-ফুঁ দিয়ে চলছে সায়দের নেসার সর্বরোগের চিকিৎসা।
পুটি মাছ পড়া খেয়ে সন্তান জম্ম, ঝাড়-ফুঁ দিয়ে ভুত তাড়ানো, গাছের পাতা দিয়ে জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা দিয়ে সায়দের নেসা একদিকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে দরিদ্র-অসহায় মানুষগুলো প্রতারনা শিকার হয়ে অঙ্গহানী হয়ে পড়ছে।

উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিরা প্রতিমাসে মাসোহারা গ্রহন করায় বীরদর্পে চলছে সায়দের নেসার অপচিকিৎসা।

এলাকাবাসী জানান, সৌন্দরা গ্রামের কালার বাগো বাড়ির মৃত রশিদ পাটোয়ারীর স্ত্রী সায়েদের নেসা তার পুত্র সিরাজুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মেয়ে সহিদা বেগমসহ এলাকার কয়েকজন প্রতারক ব্যক্তির সহযোগীতা কয়েক বছর যাবত সর্বরোগের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে।

সায়দের নেসা নিজেকে জ্বীন সম্রাঞ্ছী পরিচয় দিয়ে গ্রামের হতদরিদ্র, অসহায় ও পথভ্রষ্ট মানুষের সাথে প্রতারনা করছে। গ্রামের মানসিক সমস্যা রোগীদের বসতঘরে রেখে নানা ভাবে নির্যাতন করে।

সন্তান না হওয়া নারীদের কাছ থেকে চুক্তিভিত্তিক ২০/২৫ হাজার টাকা করে নিয়ে পুটি মাছ পড়া দেয়। সুফল না হলে কালের দৃষ্টি, স্বামীর অযোগ্যসহ নানা কুসংস্কার মুলক মনভুলানো কথা বলে তাড়িয়ে দেয়।

সর্দি-জ্বর, আমাশয়, আর্শ্ব গেজ, নারীদের মাসিক সমস্যা, পৃত্তনালীতে পাথর, টিউমার, লিভারে সমস্যাসহ পানি বাহিত রোগে ঝাড়-ফুঁ ও পানি পড়া, গাছের পাতার হালুয়া সেবনেই তার গ্রামের একচেটিয়া বাড়ির ফিরোজা বেগম বলেন, জন্ডিসের চিকিৎসা নিতে আসলে কবিরাজ পানি পড়া ও হালুয়া দেয়।

চন্ডিপুর ইউপির লামনগর গ্রামের ইসমাইল চেয়ারম্যানের বাড়ির আজ্ঞুমার বেগম বলেন, লিভার রোগে আক্তান্ত হয়ে পড়া আমি দীর্ঘ কয়েক মাস যাবত কবিরাজের চিকিৎসা নিচ্ছি। কবিরাজের দেওয়া হালুয়া খাবার পর ব্যথা কমে। কিন্তু রোগ ভালো হয় না। তাই ব্যথা শুরু হলেই চিকিৎসা নিতে আসি।

চিকিৎসক সায়দের নেসার সাথে বার বার কথা চলতে চালিয়ে মুখবন্ধ করে অন্যদিকে চলে যায়। পুত্র আনোয়ার হোসেন স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, আমার শ্বাশুড়ি দীর্ঘ ৫০ বছর যাবত কবিরাজী করছে। দরিদ্র মানুষগুলো চিকিৎসা নেয়, যা দেয় তা ছদকা হিসেবে গ্রহন করে।

কবিরাজের মেয়ে সহিদা বেগম বলেন, মানুষ আসার কারনে উনি চিকিৎসা দেন। না আসলে তো চিকিসা দিতো না। গ্রামের নাঠা মানুষগুলো কবিরাজ থেকে সুবিধা নিতে না পারায় অপপ্রচার চালাচ্ছে।

সৌন্দরা ওয়ার্ড মেম্বার আবদুল মন্নান বলেন, গ্রামের মানুষদের কাছ থেকে শুনি উনি চিকিৎসা করেন। তবে কী চিকিৎসা করেন তা জানি না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোজাম্মেল হক বলেন, গ্রামাঞ্জলে এমন অপচিকিৎসার বিষয়টি আমি শুনিনি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

নিউজবিডি৭১/এ আর/০৭ অক্টোবর, ২০১৫




শুকনো গাছের টেন্ডারে কাটা হচ্ছে তাজা গাছ

নিউজবিডি৭১ডটকম
গোদাগাড়ী (রাজশাহী) : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের দু’পাশের ঝড়ে পড়া, মরা আর শুকনো গাছ টেন্ডার দিয়েছে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ। অথচ কাটা হচ্ছে তাজা তাজা সব গাছ।

তাজা গাছ গুলো টেন্ডারের তালিকায় নেই। যথারীতি গাছের গায়ে কোনো নম্বরও নেই। তারপরেও সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামনেই তাজা গাছ গুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছেন ঠিকাদারের শ্রমিকেরা। অভিযোগ উঠেছে, সওজের দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজোস করে ঠিকাদারের লোকেরা তালিকার বাইরে থেকে এসব গাছ কাটছেন। টেন্ডার তালিকায় মাত্র ৩৬টি গাছ থাকলেও এরই মধ্যে প্রায় শতাধিক গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তালিকার বাইরের গাছ প্রতি নির্দিষ্ট অংকের টাকা সওজের ওই শাখা কর্মকর্তা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মচারী হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

রাজশাহী সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী বৃক্ষপালনবিদের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত মহাসড়কের দু’পাশে তিনটি লটে তিন জন ঠিকাদারকে বাবলা ও শিশুসহ কয়েক প্রজাতির ১১৯টি ঝড়ে পড়া, মরা এবং শুকনো গাছ টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিন নম্বর লটে গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা বাইপাস থেকে বিজয়নগর পর্যন্ত এলাকার গাছ কাটা চলছে। সরকারী তালিকায় এই লটে গাছের সংখ্যা ৩৬টি। সর্বোচ্চ ৫১ হাজার ২৬০ টাকা দর দিয়ে গাছ গুলো কাটার কার্যাদেশ পেয়েছে রাজশাহীর মেসার্স পারভীন এন্টার প্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

জানা গেছে, গত তিন দিন ধরে ঠিকাদারের লোকেরা মহাসড়কের পাশের এসব গাছ কাটছেন। তবে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন, টেন্ডার দেওয়া গাছ গুলোর পাশাপাশি অন্যান্য দামি গাছ গুলোও কেটে সাবাড় করছেন ঠিকাদারের শ্রমিকেরা। টেন্ডার দেওয়া গাছ গুলোর গায়ে লাল রং দিয়ে নম্বর লেখা আছে। তারপরেও সওজের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামনেই নম্বরবিহীন অনেক গাছই কেটে নিচ্ছেন ঠিকাদারের লোকেরা। সড়কের পাশের যে গাছ তাদের নজর কাড়ছে, সে গাছটিই পড়ছে শ্রমিকের করাতের তলে। কাটা শেষ হলে তালিকার বাইরের গাছ গুলোর গোড়া মাটি চাঁপা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টির সত্যতাও মিলেছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় গাছ কাটা চলছিল লালাদীঘি এলাকায়। ঠিকাদারের প্রতিনিধি ফারুক হোসেনের যে গাছ পছন্দ হচ্ছিল, সে গাছেই পড়ছিল কুড়ালের কোপ। আর সেখানে নিরব দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন সওজের কর্মচারী তৈয়বুর রহমান।

তার পাশেই পড়েছিল সদ্য কাটা তিনটি শিশু গাছ। অনেক খুঁজেও গাছ তিনটিতে কোনো নম্বর তো দুরের কথা; রংয়ের চিহ্নমাত্র খুঁজে পাওয়া গেলনা। এর কারণ জানতে চাইলে তৈয়বুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হলেন না। তবে বিষয়টি তিনি সওজের শাখা কর্মকর্তা আবু সাঈদকে ফোন করে জানালেন। আবু সাঈদ তখন ফোন করে এ প্রতিবেদককে বললেন, ‘নম্বর ছাড়া একটি গাছও কাটার কথা না।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সওজ কর্মচারী তৈয়বুর রহমান বলেন, নম্বর না থাকলেও শাখা কর্মকর্তা আবু সাঈদ তাকে যেসব গাছ দেখিয়ে দিয়ে গেছেন, তিনি সেসব গাছ ঠিকাদারের লোকদের বুঝিয়ে দিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে কথা বলতে ঘটনাস্থলে ঠিকাদার খালেদ সাইফুল্লাহকে পাওয়া যায়নি। তবে তার প্রতিনিধি ফারুক হোসেন দাবি করেছেন, তালিকার বাইরে একটি গাছও কাটা হচ্ছেনা। এ সময় ঘটনাস্থলে কাটা তিনটি গাছে কোনো নম্বর না পাওয়ার ব্যাপারে তার কাছে জানতে চাইলে ফারুক বলেন, ‘হয়তো অনেক দিন আগে নম্বর বসানো হয়েছিল। তাই রং উঠে গেছে।’ যদিও ওই সময় কাটা অন্যান্য শুকনো ও মরা গাছে রং দিয়ে লেখা নম্বর স্পষ্টভাবেই দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে কথা বলতে মঙ্গলবার দুপুরে ঠিকাদার খালেদ সাইফুল্লাহর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে অনেকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি ধরেননি।

একই সময় রাজশাহী সওজের নির্বাহী বৃক্ষপালনবিদ পলাশ সরকারের অফিসের টেলিফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি। তাই এ ব্যাপারে তারও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজবিডি৭১/ আর কে/রিমন/ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫




দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ডেসকো কর্মকর্তা

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা: বাংলাদেশের অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকতে দেখা যায়। নিজেদের সামান্য লাভের জন্য দেশের বিশাল ক্ষতি করতেও চিন্তা করে না এই ধরনের মানুষ গুলো। আমরা খুজে পাই এমনি একটি দুর্নীতির খোঁজ। যা হয়েছিল রাজধানীর খিলক্ষেত এর ডেসকো অফিসে। সংযোগ দিতে গিয়ে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ হলে ঐ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয় কিন্তু আসামী এখনো পলাতক থাকলেও ধরতে পারছে না পুলিশ।

মামলার নথি থেকে জানাযায়, গত ১৮ই মে খিলক্ষেতে ডেসকো অফিসে জহিরুল ইসলাম ভূইয়া নামে এক ব্যক্তি একটি আবাসিক লাইনের এর আবেদন করেন।  জহিরুল ইসলাম এর ঠিকানা (১৬৪/এ,মনিপুর,মিরপুর ২ )।  জহিরুল ইসলাম এর ফাইল নম্বর ১৫৬১৯। আবেদনের প্রেক্ষিতে জহিরুল ইসলামকে এইচ টি কানেকশন নিতে বলা হয় কিন্তু তিনি এইচ টি কানেকশন নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এর পর ১৩-০৭-১৫ তারিখে আরেকটি আবেদনপত্র দাখিল করেন নির্বাহী পরিচালক নূর মোহাম্মদ বরাবর। যা ছিল  এল টি কানেকশনের আবেদন পত্র। হাতের লেখা আর স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে সন্দেহ হলে গ্রাহক জহিরুল ইসলাম ভূইয়াকে তার পরিচয়পত্র সহ ১৩-০৮-১৫ইং তারিখে আসতে বলেন নির্বাহী পরিচালক নূর মোহাম্মদ। এর পর গ্রাহক জহিরুল ইসলাম এবং ডেসকোর সাইট ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল সরকার,ইলেক্ট্রিশিয়ান রুবেল হোসাইন সাক্ষাতের জন্য আসেন।

পরে ডেসকোর নির্বাহী পরিচালক নূর মোহাম্মদ এর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় আবেদপত্রটিতে জহিরুল ইসলাম ভূইয়া(৬০) এর নামে স্বাক্ষর করেছেন ইলেক্ট্রিশিয়ান রুবেল হোসাইন। নির্বাহী পরিচালক(অপারেশন) নূর মোহাম্মদের স্বাক্ষর করেছেন মিরপুর ১০ এর গোল চত্ত্বরের  চায়ের দোকানদার। এ সময় জহিরুল ইসলাম জানান এ কাজের সাথে আরো সংযুক্ত রয়েছেন অফিসার সহায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

আব্দুল্লাহ আল মামুন সম্পর্কে জানা যায় তিনি এরকম অনেক কাজ করে দিয়েছেন অন্যান্য গ্রাহককে ঘুষের বিনিময়ে। এরকম ৩৫টি ডকুমেন্টস জব্দ করা হয় তার বিরুদ্ধে। জহিরুল ইসলাম ভূইয়ার কাজের জন্য ৩,২০,০০০টাকা চেয়েছিলেন মামুন। এর থেকে ২০,০০০টাকা অগ্রীম নিয়েছিলেন। এ বিষয়ে মামুনের বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় ডেসকো একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপর আসামী মামুন পালিয়ে যায়। বর্তমানে মামলাটি দুদকের অধীনে রয়েছে বলে জানা গেছে।

এমনি একটি ঘটনা বিবরন পাওয়া গেল যা ৪বছর আগে করা এক গ্রাহক দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলা দায়ের করেন ডেসকোর এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। ৪বছর পরে মামলার রায় হয়। রায়ের পেপার ডেসকোতে দাখিল করলে হাসান মোল্লা নামের কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়। এই বরখাস্ত করার জন্য প্রতিবাদ করেন সিবিএ এর কথিত নেতা সেন্টু আর রিপন এমডি।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য ডেসকোর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বার বার যোগাযোগ করেও কোন উত্তর পাওয়া যায় নাই।

নিউজবিডি৭১/ আর কে/উপমা/ ২ সেপ্টেম্বর ২০১৫




বর্ণিল জীবনের বেদে সম্প্রদায়

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা:  মোরা এক ঘাটেতে রান্দি বাড়ি আরেক ঘাটে খাই, মোদের সুখের সীমা নাই, পথে ঘাটে ঘুরে মোরা সাপ খেলা দেখাই, মোদের ঘর বাড়ি নাই।

পৃথিবীর একদল রহস্যময় মানুষ। যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়ায় এখানে-ওখানে ওরা। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দেখা যায় এদের। দেশে দেশে বা অঞ্চলভেদে তাদের একেক নাম, আর বেঁচে থাকার জন্য বিচিত্রসব পেশা। নর-নারী, শিশু—অদ্ভুত তাদের চেহারা, অদ্ভুত তাদের কথাবার্তা, উত্কণ্ঠিত প্যারিসকে তারা আশ্বস্ত করে এসেছে লিটল ইজিপ্ট থেকে। পরে ইউরোপের নানা শহরে এদের দেখা যায়। পরিচয় দেয় লিটল ইজিপ্টের মানুষ হিসেবে। এই ইজিপশিয়ান থেকে ক্রমেই এদের নাম হয়ে গেল জিপসি।

আমাদের দেশে জিপসিরা বেদে নামেই পরিচিত, বেদে মানেও ভ্রমণশীল বা ভবঘুরে। নদীনির্ভর বাংলাদেশে বেদেদের বাহন তাই হয়ে ওঠে নৌকা। নৌকায় সংসার আবার নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো দেশ-দেশান্তরে। ঢাকার সাভার, মুন্সীগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, গাজীপুরের জয়দেবপুর, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, মিরসরাই, তিনটুরী, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, চান্দিনা, এনায়েতগঞ্জ, ফেনীর সোনাগাজী, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় এসব বেদের আবাস। সুনামগঞ্জের সোনাপুরে বাস করে বেদে সমাজের বৃহত্তর একটি অংশের। যাযাবর বলেই এদের জীবন বৈচিত্র্যময়।

নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় নদীতেই এদের বসবাস। সেজন্য তাদের জীবনে বৈচিত্র্য এসেছে নানাভাবে। বেদে সম্প্রদায়ের নারীরা যথেষ্ট শ্রম দেয়। বেদে নারীরা যথেষ্ট স্বাধীনতা ভোগ করে থাকে। উপার্জন, বিয়ে ও সন্তান প্রতিপালনে তারাই মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। বেদে পুরুষরা অলস হয়।  অঞ্চলভেদে বাংলাদেশে তারা বাদিয়া, বেদিয়া, বাইদিয়া, বেদে, বেদেনী, বাইদ্যা, বাইদ্যানী, সাপুড়ে, সাপুড়িয়া ইত্যাদি নামে পরিচিত। সমাজসেবা অধিদপ্তরের হিসাবে এদের সংখ্যা প্রায় ৬৩টি লাখ; যার মধ্যে দলিত ৪০ লাখ, বেদে ৮ লাখ এবং হরিজন ১৫ লাখ।

স্বামীর প্রতি বেদে নারীদের অঢেল মায়া। তাই সব ধরনের ঝামেলা থেকে স্বামীকে সে আগলে রাখে। হাটবাজারে সাপের খেলা দেখিয়ে ও ওষুধ বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করে থাকে। তাছাড়া দাঁতের পোকা তোলা, সিঙ্গা ফুঁকা, শরীরে উল্কি এঁকেও তারা আয় করে। এ সময় বেদেনীরা বেশ সাজগোজ করে, কোমরে বিছা আর গায়ে ইমিটেশন গহনা পরে, খোঁপায় ফুল গুঁজে রাখে। মানুষকে আকর্ষণ করার জন্যই এমন সাজগোজ। উপার্জনের মৌসুম শেষ হয়ে গেলে ফেরে নিজ ডেরায়, স্বামী-সন্তানের কাছ। বেদেরাই সাধারণত সাপ ধরে। বন-জঙ্গল, ঝোপঝাড় থেকে পুরুষ বেদেরা সাপ ধরে নিয়ে আসে। বেদেনীরাও সাপ ধরতে পারে। ঢোঁরা সাপ, ঘরচিতি, লাউডগা, কালনাগিনী ইত্যাদি সাপ সাবলীলভাবে ধরতে পারে। সুরেলা গলায় গান গেয়ে তারা সাপের খেলা দেখায়। সাপ খেলা দেখানোর সময় কালনাগিনী সাপকে বেদেনী বাহুতে কিংবা গলায় পেঁচিয়ে রাখে। কালনাগিনী বেদেনীদের ভীষণ পছন্দের সাপ। বেদে জনগোষ্ঠীর মানুষেরাও কোথাও স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারে না।

বিয়ের রাতে স্বামীকে সন্তান পালনের জন্য প্রতিজ্ঞা করতে হয়। যতদিন স্ত্রী উপার্জনের জন্য বাইরে থাকে, ততদিন স্বামী-সন্তানের প্রতিপালন করে। বিয়ের পর স্বামী স্ত্রীর ঘরে যায়। স্ত্রীর ঘরই স্বামীর ঘর। বেদে নারীরা স্বামীদের আঁচলে বেঁধে রাখতে তুলনাহীন। পুরুষ বশে রাখতে তারা শরীরে সাপের চর্বি দিয়ে তৈরি তেল ব্যবহার করে। স্বামীর শরীরে তা নিয়মিত মালিশ করে। পুরুষ বেদে নারীর কাছে দেবতার মতো। নদী-নালার আশেপাশের ভূমিতে মাচা তৈরি করে অথবা নৌকায় বাস করে তারা। ১৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে আরাকানরাজ বল্লার রাজার সাথে তারা প্রথম ঢাকায় আসে। প্রথমে তারা বিক্রমপুরে বসবাস শুরু করে। তারপর সেখান থেকে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ও আসামেও ছড়িয়ে পড়ে।“এই জনগোষ্ঠীর ৯০ শতাংশই নিরক্ষর।

যাযাবর বেদেরা এক জায়গায় দীর্ঘদিন থাকে না। জলপথে নানান জায়গায় ঘুরে বেড়ায় জীবিকার সন্ধানে। জলপথে চলাচল বলেই নৌকা তাদের কাছে খুবই মূল্যবান! তবে খুব বেশি বড় হয় না নৌকাগুলো। এই নৌকাতেই হয় রান্না-বাড়া, খাওয়া-দাওয়া আর থাকা। এক একটি নৌকাতে থাকে এক একটি পরিবার। বেদেরা সাধারণত ইসলাম ধর্মের অনুসারী। তবে ধর্মের ব্যাপারে তাদের মধ্যে কোনো গোঁড়ামি দেখা যায় না। চাঁদপুরের বসবাসরত বেদেরা মূলত বেপারী সম্প্রদায়ের। বর্তমানে জীবন বাঁচাতে বেশীরভাগ বেদেই নদীতে সারাদিন মাছ ধরে তা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে বিক্রি করছে। প্রথম দিকে পরিবারের পুরুষ মাছ ধরলেও বর্তমানে মহিলারাও মাছ করে তা বাজার বা পাড়া-মহল্লায় বিক্রি করছে। কেউ কেউ আবার ক্রোকারিজ সামগ্রী শহর ও গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করছে।

চাঁদপুর শহরের ডাকাতিয়া নদীর তীরে ভাসমান নৌকায় দীর্ঘ ৬ যুগ ধরে বংশপরম্পরায় বসবাস করে আসছে বেদে সম্প্রদায়ের আসংখ্য লোকজন। ২০০৬ সালে স্থানীয় অর্ন বর্ণ দুস্থ কল্যাণ সংস্থার সহযোগিতায় ৪৬৭ জন বেদে সম্প্রদায়ের সদস্য ভোটার হওয়ার সুযোগ পায়। শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের বেদে পল্লীর শিশুরা। অবহেলিত এসব শিশুরা তাদের বাবা মায়ের সাথে আড়িয়াল খা নদীর পাড়ে তাবু গেড়ে ঘুরে ফিরে বসবাস করছে দিনের পর দিন। বেদে পল্লীর কোনো শিশুরই জন্ম নিবন্ধন করা হয়নি। তাদের অভিযোগ সমাজের কেউ তাদের এবং তাদের ছেলে মেয়েদের খোঁজ নেয় না। সরকারী কোন সহযোগিতা এসব শিশুরা পায় না। কাছাকাছি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও স্কুলের বারান্দায় ওরা যায় না। তাবুর আশে পাশে সারাক্ষণ দূরন্তপনায় দিন কাটায়। ফলে শিক্ষার আলো থেকে ওরা দূরে সরে পড়ছে। সমাজ বিচ্ছিন্ন এসব শিশুরা নোংরা পরিবেশে সমাজের বোঝা হিসেবে বেড়ে উঠছে।

বরিশাল সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার পশ্চিমে বানারীপাড়া বাজারের পেছনে প্রায় ৫০টির মতো বেদে-পরিবার ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় ভাসমান জীবন যাপন করছে। ঢাকার সাভারের পোড়াবাড়ীতে প্রতিদিন ছোট-বড় নানা জাতের সাপ বেচাকেনার হাট বসে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের অধিকাংশই বেদে সম্প্রদায়ের।হাটের বেশিরভাগ ক্রেতা-বিক্রেতাই বেদে।বেদে পল্লীর কোনো শিশুরই জন্ম নিবন্ধন করা হয় না। তাদের অভিযোগ সমাজের কেউ তাদের এবং তাদের ছেলে মেয়েদের খোঁজ নেয় না। সরকারী কোন সহযোগিতা এসব শিশুরা পায় না। কাছাকাছি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও স্কুলের বারান্দায় ওরা যায় না। তাবুর আশে পাশে সারাক্ষণ দূরন্তপনায় দিন কাটায়। ফলে শিক্ষার আলো থেকে ওরা দূরে সরে পড়ছে। সমাজ বিচ্ছিন্ন এসব শিশুরা নোংরা পরিবেশে সমাজের বোঝা হিসেবে বেড়ে উঠছে।

ক্রমে ক্রমে বিলুপ্ত হতে চলেছে বেদে সম্প্রদায়।বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১৭ লাখ বেদে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। সভ্যতার প্রতি নিরাসক্ত এই ভাসমান বেদেদের মৌলিক অধিকার পূরণের জন্য রাষ্ট্রের উন্নয়ন খাত খেকে কোনো বরাদ্দ নেই। রাষ্ট্রের না থাকুক, বিবেকবান নাগরিকের দায় কিন্তু রয়েছে। সমাজের সব মানুষের উচিত এদের সঙ্গে মানুষ সুলভ আচরণ করা। এদের কারণে আমরা পরিষ্কারের বড়াই করি। ভারতের মতো আমরাও সাপ চাষাবাদ ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এ প্রকল্প থেকে বছরে ১৫০ কোটি টাকার মতো বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করতে পারি।

নিউজবিডি৭১/জে এইচ/২১আগস্ট ২০১৫