বড়পুকুরিয়া কয়ল খনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্থরা নায্য আদায় পাচ্ছে না

নিউজবিডি৭১ডটকম
দিনাজপুর প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ও তার নিজ তহবিল হইতে খনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ ভূমিহীনদের জন্য মাইনিং সিটি বা পূর্ণবাসনের পরিবর্তে আশ্রয়ন প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। বড়পুকুরিয়া কয়ল খনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ ভূমিহীনদের পূর্ণবাসনের নামে তাদেরকে একপ্রকার উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন খনি মন্ত্রনালয়।

৩১৮ জন ভূমিহীনের মধ্যে ২৯৬ জন ভূমিহীন করা হয়। বাঁকী ২৩ জন ভূমিহীন হবে কিনা তা নিয়ে সন্ধিহান ভূমিহীনেরা। সমঝোতা মোতাবেক ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার প্রতিটি পরিবার হতে এক (০১) জন করে চাকুরী প্রদান করার কথা ছিল। বর্তমানে তা না করে বহিরাগতদের অর্থের বিনিময়ে চাকুরী প্রধান করা হচ্ছে।

আর্ন্তজাতিক মানের অবকাঠামোর মূল্য এবং জমির মূল্য একর প্রতি ৩৫/৪৫ লক্ষ টাকা হিসেবে ৩২৪ কোটি টাকা প্রদানের কথা থাকলেও বাস্তবে একনেকে পাস করে জমির মূল্য ২০/২৫ লক্ষ টাকা একর হিসেবে ১৯০ কোটি টাকা প্রদানের কথা। সেখানে ১৫০ কোটি টাকা প্রদান করে এখন পর্যন্ত ৪০ কোটি টাকা প্রদান না করে নানা অজুহাতে ক্ষতিগ্রস্থ ভূমিহীনদের হয়রানী করা হচ্ছে এবং তাদের কে হুমকি প্রদান করা হচ্ছে।

তাছাড়া হামিদপুর ইউপির মুল রাস্তা ফুলবাড়ী থেকে খয়েরপুকুর পর্যন্ত এর অনেকাশ খনি এলাকায় যা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। খনি কর্তৃপক্ষের বাইপাস রাস্তা করে দেওয়ার কথা থাকলেও গত তিন বছরে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নাই। ক্ষতিগ্রস্থ ভূমিহীনদের সংগঠন বড়পুকুরিয়া ক্ষতিগ্রস্থ ভূমিহীন মৎসজীবি সমবায় সমিতীর একজন কার্যকারী সদস্য মোঃ অহিদুর হক বলেন যে সম্পৃর্ণ পাওনা ও বাকী ভুমিহীনদের পাওনা টাকা না দেওয়া পর্যন্ত এলাকাবাসীর একজনকেও উচ্ছদ করা যাবে না।

বর্তমান আশ্রয়ন প্রকল্প অসম্পূর্ণ যেমন-পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা নেই, রাস্তা নেই, সুপেয় পানির অভাব, বিদ্যুৎ অভাব, মসজিদ, কবর স্থান হাট-বাজার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা নেই। এই এলাকার মন্ত্রী এ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এলাকার মানুষকে যে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা অদোও বাস্তবায়ন হয়নি।

ক্ষতিগ্রস্থরা এখন এলাকায় কেঁদে বুক ভিজাচ্ছেন। কে দেবে এদেরকে সান্তনা? যারা আন্দোলনে এলাকার মানুষকে নিয়ে খেলছিলেন এখন তারা কোথায়? এখন তারা গা ঢাকা দিয়ে কয়লা খনি এলাকায় কোটি কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ নিয়ে বড় বড় স্থাপনা ও ব্যবসা নিয়ে মেতে উঠেছেন। যাদের কৃষি জমি, বসত ভিটা, কবর স্থান, মসজিদ ও অন্যান্য স্থাপনা ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন তাদের অনেকের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না।

দেশের উন্নয়ের স্বার্থে অত্র এলাকার মানুষ স্থাবর, অস্থাবর সহায় সম্পতি সবকিছু সরকারের নিকট দিয়ে তার বিনিময়ে তারা আজ অসহায় জীবন যাপন করছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগযোগা করা হলে তিনি জানান বাকী কাজগুলো করে দেওয়া হবে পর্যাক্রমে। তবে কবে এসব কাজকর্ম শুরু হবে তার সঠিক কোন উত্তর দিতে পারেনি।

নিউজবিডি৭১/ আর কে/মেহেদী/ ০৪ জন ২০১৫




কক্সবাজারে প্রতিটি গ্রামেই মানবপাচার চক্রের থাবা

নিউজবিডি৭১ডটকম
কক্সবাজার করেসপন্ডেন্ট  : কক্সবাজার জেলার আট উপজেলার উপকূলীয় এলাকার বেশ শতাধিক পয়েন্ট নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে মানবপাচারকারী চক্র। তবে চকরিয়া,রামু,কক্সবাজার সদর,টেকনাফওউখিয়ার বিভিন্ন রুট দিয়ে সবচেয়ে বেশি মানবপাচারের ঘটনা ঘটছে। এ উপজেলাগুলোর প্রতিটি গ্রামেই মানবপাচার চক্রের থাবায় সহস্রাধিক পরিবার এখনও দিশেহারা।

মানবপাচারের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতা, জনপ্রতিনিধি, আইনজীবি ও পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য জড়িত বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে ৩২৫ জন মানবপাচারকারীর নামের তালিকা নিয়ে চিরুনী অভিযানে নেমেছে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি। কক্সবাজার সদরের তালিকাভুক্ত মানবপাচারকারী ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য একরামুল হককে (৩৫) বুধবার ৩ জুন সকাল ৯টায় চৌফলদন্ডি ইউনিয়ন থেকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা।

পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ডের পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, কক্সবাজারের সমুদ্র উপকূলে যে ৪৫টি চিহ্নিত পাচার রুট রয়েছে তার অধিকাংশই চকরিয়া, রামু, কক্সবাজারসদর, টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার মধ্যে। অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার মূল ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয় টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ।

এছাড়া টেকনাফের বাহারছড়া, হাবিরছড়া, বড়ডেইল, মহেশখালীয়াপাড়া, সাবরাং নয়াপাড়া, কাটাবুনিয়া, খুরের মুখ, শাহপরীর দ্বীপ, ঘোলারপাড়া, মাঝেরপাড়া, পশ্চিমপাড়া, জালিয়াপাড়া, হাদুরছড়া, জাহাজপুরা, কচ্ছপিয়া, শামলাপুর, উখিয়ার সোনারপাড়ার বাদামতলী ঘাট,রুস্তমআলীঘাট,রেজুনদী,ইনানী, ছেপটখালী, মনখালী, শফিরবিল,চকরিয়া বদরখালী,পালাকাটা,উজাটিয়া, কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডি, মাঝেরঘাট, খুরুস্কুল, নাজিরারটেক, সমিতিপাড়া, নুনিয়ারছটা, রামুর খুনিয়াপালং, পেচারদ্বীপ,হিমছড়িসহ আরো বেশ কিছু পয়েন্টকে মানবপাচারের নিরাপদ রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল।

প্রায় এক যুগ ধরে মানবপাচার চক্রের সদস্য সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি গ্রামেই রয়েছে কমপক্ষে একজন মানবপাচারকারী বা তাদের অনুসারী। প্রথমদিকে রোহিঙ্গা বা সমাজের ছিঁচকে অপরাধীরা এ কাজে জড়িত হলেও বর্তমানে প্রভাবশালী মহল এতে জড়িয়ে পড়ে। মানবপাচার বাণিজ্যিক পর্যায়ে আসার পর এটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতা (বিশেষ করে ক্ষমতাসীন), ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার, চেয়ারম্যান, আইনজীবি, একাধিক পৌর কাউন্সিলর এবং প্রশাসনের লোকজন। প্রভাবশালী এসব ব্যক্তির অধীনে কাজ করছেন শতশত দালাল ও উপ-দালাল। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কমপক্ষে ৩০ জন সদস্য মানবপাচারকারীদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের এসব সদস্য মানবপাচার চক্রের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে কমিশন পেত।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ,বিজিবি ও র‌্যাব জেলায় ৩৫০ জন মানবপাচারকারীর তালিকা তৈরি করেছে। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও ১৭৬ জনের একটি তালিকা রয়েছে। উভয় তালিকায় কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি, টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ ও বদির ভাই মৌলভী মুজিবুর রহমান, শফিক, ফয়সাল ও তার অনেক আত্মীয়স্বজন ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিক নেতার নাম রয়েছে।

এদিকে, পুলিশ হেডকোয়ার্টাসের তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রকে অর্থায়নে রয়েছে ২৬ জন, যার ২২ জনই কক্সবাজারের টেকনাফের বাসিন্দা। মানবপাচার এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রায় প্রতিটি গ্রামেই ছড়িয়ে পড়েছে মানবপাচারকারীর সদস্য বা দালাল। প্রতিটি গ্রাম থেকেই দু-একজন মানুষ মানবপাচারের শিকার হয়েছেন। অনেক গ্রাম রয়েছে যেখানে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ পাচার হয়েছেন। মাসের পর মাস অতিবাহিত হলেও পুরো জেলায় শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। সে সব পরিবারে চলছে শোকের মাতম। বড় অংকের মুক্তিপণ দিয়েও এসব মানুষের সন্ধান মিলছে না। আবার অনেকেই মাসের পর মাস থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার বন্দীশালায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। প্রথমে যারা প্রলোভন দেখিয়ে বা অপহরণ করে তাদের কাজ হল একটি ছোট নৌকায় করে তাদের গভীর সমুদ্রে রাখা জাহাজে তুলে দেওয়া। প্রতিজনের বিপরীতে দালালরা পায় ২০ হাজার টাকা। স্থানীয় পর্যায়ে এটি ‘বস্তা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ‘বস্তা’ জাহাজে তুলে দিলেই দালাল পাচ্ছেন ২০ হাজার টাকা। আর স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও পুলিশের অসাধু সদস্য পান মাথাপিছু এক হাজার টাকা।

এদিকে গভীর সমুদ্র থেকে জাহাজে করে দালালরা থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার উপকূল ও জঙ্গলে নিয়ে পরিবারের কাছ দেড় থেকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে থাকে। এ সব দালাল চক্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবপাচার চক্রের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সমুদ্রপথে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশীদের নিয়ে অবৈধ মানবপাচারের ঘটনা ও সাগরে ভেসে বেড়ানো অবৈধ অভিবাসীদের জীবন-মরণ সঙ্কট সারা বিশ্বকে কাঁপিয়ে তুলেছে। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত অসংখ্য রোহিঙ্গা আর লোভে পড়া ও অপহরণের শিকার বাংলাদেশী যুবকরা এই সর্বনাশা মানবপাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পর্যায়ক্রমে গণকবর আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে এই এলাকার নিখোঁজ পরিবারগুলোর মধ্যে বিরাজ করছে উৎকণ্ঠা ও শোকের ছায়া।

সম্প্রতি জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় দেড় লাখ মানুষ অবৈধভাবে যাত্রা করেছে। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে দুই থেকে দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ আদায় করেছে দালালরা। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ২৫ হাজার বাংলাদেশী সাগরপথে যাত্রা করেছেন।

মানবপাচার প্রতিরোধে কাজ করা পালস্ কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের সঙ্গে মানবপাচারের গডফাদারদের যোগসাজশ রয়েছে। ফলে রহস্যজনক কারণে তাদের আন্তরিকতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। থাইল্যান্ডে মানবপাচারের দায়ে পুলিশ গ্রেফতার হয়েছে। অথচ এ দেশে তারা ছাড়া পেয়ে যায়। তাই মানবপাচারের রাঘববোয়ালরাও বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান খন্দকার বলেন, ‘টেকনাফের অধিকাংশ মানুষ এখন ইয়াবা ও মানবপাচারে জড়িত। গ্রেফতার হচ্ছে, আটক হচ্ছে। গডফাদাররাও ধরা পড়ছে। তবে সম্প্রতি মানবপাচারের বিরুদ্ধে অভিযান দেখে তারা আত্মগোপনে চলে গেছে। তাই গডফাদারদের ধরা যাচ্ছে না।’

উখিয়া থানার অফিসার ইনচাজ (ওসি) জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘মানবপাচারে ৮০ শতাংশ মানুষ জড়িত কিংবা ভুক্তভোগী তা আসলে সরাসরি বলা যাবে না। এখানকার মানুষ অনেক সহজ-সরল, ধর্মপ্রাণ। মানবপাচারকারীর সংখ্যা উখিয়া উপকূলীয় এলাকাগুলোতে একটু বেশি। তবে এখন পুরোপুরি শান্ত। তার পরও মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে।’ তবে এই ওসির বিরুদ্ধেও রয়েছে মানবপাচারের অভিযোগ।

কক্সবাজার গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান আবুল হোসেন জানান, বুধবার (৩ জুন) সকাল ৯টায় সদর উপজেলার চৌফলদন্ডি ইউনিয়নের অভিয়ান চালিয়ে তালিকাভুক্ত মানবপাচারকারী ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য একরামুল হককে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত মানবপাচারকারী চৌফলদন্ডির নুরুল হকের ছেলে ও চৌফলদন্ডির ইউপি সদস্য। তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় মানবপাচার আইনে তিনটি মামলা রয়েছে বলে জানান তিনি।

নিউজবিডি৭১/এ আর/ শাহীন/০৩জুন ২০১৫




সমাজকে ঘিরে আছে মাদকের কালোথাবা

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা: আমাদের একটি ধারনা মাদক গ্রহনের মাধ্যমে মানুষ দুঃখকে ভুলে থাকতে চায়। আর উচ্চবৃত্তের জন্য এটি ফিলিংস।মাদক দ্রব্য হলো একটি ভেষজ দ্রব্য যা ব্যবহারে বা প্রয়োগে মানবদেহে মস্তিস্কজাত সংজ্ঞাবহ সংবেদন হ্রাসপায় এবং বেদনাবোধ কমায় বা বন্ধ করে। মাদক দ্রব্যের বেদনানাশক ক্রিয়ার সাথে যুক্ত থাকে তন্দ্রাচ্ছন্নতা, আনন্দোচ্ছাস, মেজাজ পরিবর্তন, মানসিক আচ্ছন্নতা, শ্বাস প্রশ্বাস অবনমন, রক্তচাপ হ্রাস, বমনেচ্ছা ও বমি, কোষ্টবদ্ধতা ও মূত্ররাস দেখা দেয়।মাদক দ্রব্যকে সহজভাবে বলা যায় যা গ্রহণে মানুষের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উপর প্রভাব পড়ে এবং যে দ্রব্য আসক্তি সৃষ্টি করে, তাই মাদকদ্রব্য।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের এক হিসাব মতে দেশে মাদকাশক্তির সংখ্যা বর্তমানে ৪৭ লাখ এবং এদের ৯০ভাগই কিশোর ,তরুন,তরুনী। তবে জাতিসংঘ বলবে মাদকাশক্ত প্রায় ৬৮ লাখ এর মধ্যে ৮৪ভাগ পুরুষ ১৬ ভাগ নারী। ইয়বা ,ফেনসিড্রিল, বিয়ার,দেশী , বিদেশী মদ,গাজা,আফিম,ভায়াগ্রা, আইসপিল,টিডিসিক ইনজেকশক ও মধ্যপ্রাচ্যে বহুল ব্যবহৃত সীসা, ঘুমের ঔষধ এবং জুতা সেন্ডেল তৈরীর আইকাও নেশাদ্রব্যের অর্ন্তভূক্ত।

মাদক এক ভয়ানক “কালসাপ” প্রাথমিকভাবে অনেকেই দারুনভবে আকৃষ্ট হয়ে নিজের অজান্তেই কখন যে,আসক্ত হয়ে পড়ছে তা ঠাহর করতে পারে না । মৌলিক চাহিদ ও নূন্যতম নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত সমাজের অভিভাবকহীন অপ্রাপ্ত, প্রাপ্ত বয়ষ্ক পুরুষ ও নারী দেরকে মাদক সেবন থেকে বিরত রাখা দুরহ , আর পারিবারিক ঐতিহ্য বা প্রথাগত কারনে যাহারা মাদক গ্রহন করে তাদেরকে এই রাস্তা থেকে ফিরিয়ে আনা যাবে না ।

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনঃ
মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে যুগপোযগী আইন প্রয়োগ এবং বাস্তবায়নে পারে সমাজকে মাদকাসক্তি মুক্ত রাখতে। প্রয়োজনে আইন সংশোধন এবং বাস্তবায়নে আলাদা ট্রাইব্যুনাল, ভ্রাম্যমান আদালদ সহ নানাবিধি কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে মাদক মুক্ত সমাজ গঠনে আইন ভূমিকা রাখতে পারে।

আপনার প্রিয় সন্তান যখন আপনার অসচেতনতা বা কম নজরদারীর কারনে নেশার জগতে ঢুকে পড়ে তখন তাকে রক্ষা করার জন্য কতনা চেষ্টাই করা হয়। যারা সন্তানের পিতা বা অভিভাবক তাদের ও প্রতি বিনীত আহবান “আপনার সন্তানের হাতে অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত টাকা দিবেন না।” বৃত্তবান অভিভাবকরা সাধারণত এই বিষয়ে কমই খেয়াল রাখেন। প্রিয় সন্তনের আবদার পুরনে সবসময়ই বেশী আন্তরিক , অতি আদরে ভালবেসে সন্তানের হাতে প্রচুর নগদ টাকা উঠিয়ে দিয়ে স্বেচ্ছায় তার সন্তানকে মাদক গ্রহনের সুযোগ করে দিচ্ছেন ।অর্থে উৎসে ভাটা পড়লে মাদক সেবন করতে হবে এই আশায় প্রতিদিন নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে অভিভবকদের পটানোতে ব্যার্থ হয়ে অনেক ভাল পরিবারের সদস্যরাও অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

চিকিৎসা এবং পূনর্বাসনঃ
মাদক দ্রব্যে আসক্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ জীবনে নিয়ে আসা সম্ভব। এজন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ে তুলে চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া সুস্থ্য জীবনে ফিরে আসার পর যেন আবারও একই ভাবে আক্রান্ত না হয় এজন্য তাদের পূনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন স্বাভাবিক ব্যবসার মাধ্যমে পূনর্বাসন করতে হবে।

তরুন ও তরুনীগন আজকে ইয়াবা মনে কওে যা সেবন করছে তার অধিকাংশই জন্ম নিয়ন্ত্রন ট্যাবলেট,আর ফেনসিন্ড্রিল হিসাবে যাহা সেবন করছে তাহা উচ্চমাত্রার দেশী ও বিদেশী কাশির ঔষধ। এদেও মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে কিডনি ,ব্রেইন ও নানাবিধ শারিরীক সমস্যা সৃষ্টি ছাড়া ভাল কিছু করতে পারেনা। মেয়েদের ক্ষেত্রে সন্তান ধারন ক্ষমতা নষ্ট এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে যৌনশক্তির বিলুপ্তি ঘটায়।
পারিবারিক শাসন ,ধর্মীয় শিক্ষা, বই পড়া, খেলাধুলা কর ,শিক্ষা সফর,স্কাউটিং ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক কাউনসিলিং এর মাধ্যমে মাধককে নিরুৎসাহিত করতে হবে।

সমাজের সর্বস্থরের মানুষ এই মরণ মাদকে আক্রান্ত হচ্ছে কি কিশোর কি তরুণ কি পুরুষ কিংবা মহিলা সব স্থরের মানুষই এই মাদকে আক্রান্ত তাই আমাদের সমাজকে রক্ষায় আমাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। যে খানে থাকিনা কেন মাদককে না সবসময়, মুক্ত ভাবে আলোচনাই মাদক পারে মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে।

নিউজবিডি৭১/ আর কে/রুহুল কুদ্দুস/ ০২ জুন ২০১৫




ফুলবাড়ীতে মাদক মেলা, প্রসাশনে নীরব ভুমিকা

নিউজবিডি৭১ডটকম
ফুলবাড়ী, দিনাজপুর করেসপন্ডেন্ট : দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মাদকের জমজমাট ব্যবসা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নীরব। মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে পুলিশের মাসওয়ারা চুক্তি। ফুলবাড়ীতে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যহত থাকলেও পুলিশ প্রশাসন চিহ্নিত প্রভাব শালী মাদক ব্যবসায়ীদেরকে আটক না করে তারা চুনপুটি ব্যবসায়ীদের আটক করে মাদকের মামলা দিচ্ছেন। আর যারা পুলিশ প্রশাসনকে পয়সা দিচ্ছেন তাদেরকে আটক করলেও ৩৪ ধারায় মামলা দিচ্ছেন। আইনের ফাঁকে পরের দিনেই জামিন পেয়ে বের হয়ে আসছেন।

অনুরূপ ঘটনা ঘটেছেন, ফুলবাড়ী পৌরশহরের উত্তর সুজাপুর গ্রামে। পুলিশ গত ২১শে মে রাত্রী তিনটায় উত্তর সুজাপুর (হাসপাতাল এর পিছনের) গ্রামের মৃত্যু: মোতাহার আলীর পুত্র মোঃ আলাল (২৫) কে ফুলবাড়ী থানার কয়েকজন এ.এস.আই তাকে আটক করে থানায় এনে উৎকোচ বিনিময়ে ৩৪ ধারায় জেলহাজতে পাঠিয়ে দেন। ফুলবাড়ীতে প্রায় ৪০টি মাদকের স্প্যট রয়েছে। সেখানে দিন ও রাত্রীতে বিভিন্ন ধরনে মাদক ব্যবসা দেধারছে চালিয়ে যাচ্ছে। ফুলবাড়ী উপজেলার কাঁটবাড়ী নয়াপাড়া গ্রামের সোহেল(২৮), হাফিজা(৩৫), মোমিনুল (৩৬), কাটাঁবাড়ী গ্রামের মোছাঃ রিনি বেগম(২৭), রাহাদ সরকার(৩০), টিটির মোড় এলাকার শ্রী শিশির(৩৫), পুরাতুন বন্দরের মোছাঃ মেহেরুন(৩৫), মোছাঃ শাহার বানু(৩৮), ইসতাব নগররের মোছাঃ লাকী(২৫), মোহাম্মাদ আলীর বাড়ী, ফুলবাড়ী রেলষ্টেশনর এর উত্তর পূর্ব দিকে চন্দনা(৩৫), শিবনগর ইউপি গাদাপাড়া গ্রামের মোঃ আবু(৩৫), একাই ইউনিয়নের সাফিউল(২৮) এই সব এলাকায় ইয়াবাবা, ফেনসিডিল, দেশীও তৈরী চোয়ানী, গাজা, প্যাথেডিন সহ নানা প্রকার মাদকের ব্যবসা চলছে।

ফুলবাড়ীর আইন প্রয়োগ কারী সংস্থার কতিপয় ব্যক্তির সাথে মাসওয়ারা চুক্তি রয়েছে। মাস গেলে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ইতি পূর্বে ফুলবাড়ী থানার পুলিশ কর্মকর্তার সাথে বেশ কয়কজন প্রভাব শালী মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে চুক্তি রয়েছিল অঘোষিত ভাবে। মাসওয়ারা টাকা না দিলে তাদেরকে আটক করে মাদকের মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেন। এদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে তারা বিভিন্ন এলাকায় ফেনসিডিল আটক করলেও থানা নিয়ে যাওয়া আগে অধেক মাদক বাহিরে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রয় করে দিচ্ছেন। বাকী মাদক থানা নিয়ে গিয়ে সিজার লিষ্ট করে মামলায় নতি জাত করছেন। ফুলবাড়ী থানায় দায়িত্বরত কয়েকজন এ.এস.আই পুলিশ কর্মকর্তাকে না জানিয়ে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সক্ষতা গড়ে তুলে নিজেরা ফায়দা লুটছেন। মাদকের কড়াল গ্রাসে যুব সমাজ ধ্বংশ হচ্ছে। এদেরকে রক্ষা না করতে পারলে আগামীতে যুবসমাজ অধপতনে চলে যাবে।

বর্তমান ফুলবাড়ী থানায় উল্লেখ্য স্থানগুলোতে এবং গোপন স্থানগুলিতে যে ভাবে মাদক বিক্রয় হচ্ছে তা পুলিশ প্রশাসন সেখানে কোন ভাবে অভিযান চালাচ্ছে না। উল্ট অভিযান চালার আগে মোবাইল ফোনে তাদেরকে শর্তক করে দিচ্ছেন। ফুলবাড়ী থানায় যত গুলো মাদকের মামলা রয়েছে সে সব মামলা প্রায় ৩৪ ধারায় দেওয়া হয়েছে। ফুলবাড়ী থানার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে চুরি ছিনতায় বেড়েছে।

এছাড়া পুলিশ প্রশাসন ফুলবাড়ী থানায় মাসিক চুক্তিতে চোরাচালান ও মাদক ব্যবসার ইজারা দিয়েছেন অঘোষিত ভাবে। যারা এই চোরাকারবারীর লাইন ও মাদক ব্যবসার লাইন চুক্তিতে নিয়েছেন। তারা বিভিন্ন রাস্তায় দিন রাত্রীতে মাদক ব্যবসায়ীদের বড় বড় চালান টাকার বিনিময়ে পার করে দিচ্ছেন। তারা একটি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় প্রভাব খাটিয়ে প্রতি মাসে থানার ঐ লাইনটি ডেকে নিচ্ছেন। ফলে ফুলবাড়ী থানায় চোরাচালান, মাদক ব্যবসা ও চুরি বন্ধ হচ্ছে না। এব্যাপারে স্থানীয় বিভিন্ন মহল পুলিশ প্রশাসনের উর্ধতন কতৃপক্ষের আশুহস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিউজবিডি৭১/আর কে/মেহেদি/২৩মে ২০১৫




সাভারে ডিজিটাল জরিপের নামে চলছে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি

নিউজবিডি৭১ডটকম
সাভার করেসপন্ডেন্টঃ ঢাকাস্থ সাভার উপজেলার তেতুঁলঝোড়া ইউনিয়নের বিলমালিয়া মৌজায় জমিসংক্রান্ত ডিজিটাল জরিপের নামে চলছে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি। ঘুষ দিয়ে কাজ করালে জমির সব কাগজপত্রই সঠিক থাকে। কিন্তু, কেউ ঘুষ দিতে রাজি না হলে তার হালাল জমিকে ভূয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে বেদখল করা হয়। ফলে দিন দিন বাড়ছে জমির মালিকদের ভোগান্তি।

ডিজিটাল জড়িপ নামক এ ধরণের কর্মকান্ডে সার্ভেয়ারদের প্রথম কাজ ভূমি-মালিকদের বাড়িতে গিয়ে ভিজিটিং কার্ডের নামে টোকেন ধরিয়ে দেয়া এবং নানান অজুহাতের মাধ্যমে কাগজপত্রসহ জমি দখল বা টাকা হাতিয়ে নেয়া। কি কি করতে হবে সেটা ফোনে বলে দেয়া হয়। আর যদি কোন কাগজপত্র না থাকে সে ক্ষেত্রে টাকার বিনিময়ে কাজ করা হয়।

এতে যদি রাজি থাকে তাহলে ওই জমির মালিককে জরিপের জন্য সঠিক জায়গার ঠিকানা দেন সার্ভেয়াররা।

বিলমালিয়া মৌজায় এভাবেই ডিজিটাল জরিপের কার্যক্রমের নামে চলছে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি।

এছাড়া ভুমি জরিপকে ঘিরে মাথা গজাচ্ছে একটি দালালচক্র। যাদের মাধ্যমে জরিপ কর্মকর্তারা ভূমি মালিকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা।

জরিপ কার্যক্রমে নিয়োজিত সার্ভেয়ারদের হুমকির মুখে জমির মালিকেরা জিম্মি দশায় পড়ে আছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জমির কাগজপত্র সঠিক নেই, কিংবা কাগজপত্র সঠিক থাকলেও দলিলে উল্লেখিত জমির পরিমাণের চেয়ে বাস্তবে অনেক কম জমি রয়েছে, ভোগদখলকারী জমির মালিকের জায়গা দখলীয় দাগে না অন্য দাগে আছে- ইত্যাদি ইত্যাদি অবাস্তব কথা বলে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিদিনই মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

কর্মকর্তাদের এ ধরণের নানান ভয়ভীতির কারণে ভীত সন্ত্রস্ত এবং অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে ভূমি মালিকরা। এ রকম চলতে থাকলে জরিপ কর্মকর্তাদের সাথে স্থানীয় মানুষের যে কোন সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সাভার উপজেলা হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড, মুশুরীখোলা, মধুমতি মড়েল টাউন, বলিয়ারপুর, সুগন্ধ হাউজিং, ইস্টার্ণ হাউজিংসহ প্রায় ১৪ শ’ একর সম্পত্তিতে বিলামালিয়া মৌজায় ৭২ টি সীট তৈরি করে ডিজিটাল জরিপের কাজ শুরু করে সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস।

এ ৭২টি সীটের মধ্যে ১০ সীটে ৯ জন সার্ভেয়ার দ্বারা কাজ শুরু করেছে উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস। কাজ শুরুর পর থেকেই সার্ভেয়ারদের বিরুদ্ধে জমি প্রতি ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার ঘুষ নিয়ে কাজ করেছেন বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মানুষ।

ভূমি মালিকরা টাকা দিতে রাজি না হলে তাদের জমিতে জরিপের কাজে হাত দেয়া হয় না।

এমনও অভিযোগ রয়েছে, সার্ভে কর্মকর্তারা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সরকারী জায়গাগুলোকে ব্যক্তি মালিকানায় দিয়ে দিচ্ছেন।

ভুক্তভোগী জমির মালিকরা জানায়, বিলমালিয়া মৌজা কাজ শুরু আগেই বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কর্মকর্তাদের ভিজিটিং কার্ড হাতে দিয়ে টোকেন ধরিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। এমনকি জমির পরিমাণ বেশি থাকলে লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী জমির মালিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে কিছুদিন পর পর অফিস গুটিয়ে গোপন স্থানে কার্যক্রম শুরু করে সার্ভেয়াররা। আবার কোন কোন সার্ভেয়ার দুই তিন দিন পরপরই অফিস বদল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই কর্মকর্তারা মানুষকে জমি কম দিচ্ছে, নাহয় বেশি দিবে বলে ভূমি-মালিকদের বোকা বানিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা।

এ ব্যাপারে সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে, তিনি কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।

পরবর্তীতে বারবার তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন বন্ধ করে রাখেন।

নিউজবিডি৭১/এ আর/আসাদুজ্জামান/১৯মে ২০১৫




মোহাম্মাদপুর প্রিপারেটরী স্কুল এখন যৌন হয়রানির মুক্তমঞ্চ

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকাঃ আজব এক দেশে বসবাস করি আমরা, আজব এদেশের জনগণ। অন্যায় দেখেও চোখ বন্ধ করে মজা নেওয়া আমাদের অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। আর এর ফলে ক্রমশ বেড়েই চলেছে অন্যায়। মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরী স্কুল যার জ্বলজ্যান্ত একটি দৃষ্টান্ত। গত তিন বৎসরে এই স্কুল দুর্নীতি, অনাচার, যৌনাচার আর অবিচারের নরকরাজ্যে পরিনত হয়েছে।

আমার মেয়ে এইবার এই স্কুল থেকে ইংরেজী ভার্সন থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। ও চতুর্থ শ্রেণিতে পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হয় এই স্কুলে। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত অসম্ভব ভাল পরিবেশ এবং দূর্নীতি মুক্ত টিচারদের তত্ববধানে পড়াশুনা করে। তখন রেক্টর ছিলেন ফাতেমা। কড়া শাসন, শৃংখলা সব কিছুই সুন্দর ভাবে চলছিল। কিন্তু ফাতেমা ম্যাডাম বিদেশে চলে যাবার পর এলেন নতুন রেক্টর জিন্নাতুন।

চোখের সামনে স্কুলের অধঃপতন শুরু হল। ভাল টিচাররা লোভী হয়ে উঠল। ক্লাশে না পড়ানো, কোচিং ব্যবসা, প্রশ্ন পত্র ফাঁসসহ সবকিছু শুরু হল খোলামেলা ভাবেই। আমরা অভিভাবকরা বার বার বলেও ব্যর্থ হলাম।

অবশেষে গত বৎসর প্রতিষ্ঠানের কেমিষ্ট্রি শিক্ষক নিয়াজী স্যার এর মুখোশ খুলে দিল এক ছাত্রী। নবম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির সাক্ষ্য প্রমান সহ হাজির করাতে চাকুরিচ্যুত করা হয় নিয়াজী স্যারকে। মেয়েটি পেরেছিল কারন মেয়েটির বাবা রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবশালী ছিল। গত বৎসরেরই শেষের দিকে গণিতের শিক্ষক ফারুক স্যারকেও বিদায় করা হয় এবং জানতে পারি এখানেও ছাত্রী হয়রানির অভিযোগ ছিল।

এখন আসি সাম্প্রতিক এক ঘটনায়। পাপ নাকি বাপকেও ছাড়ে না। অসীম অন্যায়ের ভিড়ে শুরু হল আসল উপাখ্যান। গত ৫ই মে ২০১৫, আমার ভাইয়ের মেয়ে মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরী স্কুলে ইংরেজী ভার্সনে ক্লাশ ওয়ান-এর ছাত্রী। সেদিন বিকেলে ভাইয়ের বউ মুখ কালো করে বলল,”আপু এই স্কুলে তো কোন নিরাপত্তা নেই, পড়াব কি করে?”

বলে রাখা ভালো, এই স্কুল প্লে ও কেজির শাখা মোঃপুর টাউন হল এলাকায় মিনা বাজারের পাশে এবং ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস টেন এবং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ইকবাল রোডে নিজস্ব ভবনে।

ক্লাশ ওয়ানের ছয়টা সেকশন। আমার ভাইয়ের মেয়ে এবং ক্লাশ ওয়ানে যে মেয়েটি (অনন্যা) যৌন হয়রানির স্বীকার হয়েছে ওরা একই সেকশনে পড়ে এবং সহপাঠী। ভাইয়ের বউ গত বুধবার বলল আপু জানেন, “এক মেয়েকে গতকাল ৪ নং গেটের সাথে প্লে গ্রাউন্ডে স্কুলের এক সুইপারের সহায়তায়, স্কুল এর কাজে যে শ্রমিকরা কাজ করে তাদেরই একজন শ্রমিক ওর মুখ চেপে চতুর্থ শ্রেনী কর্মচারী রুমে নিয়ে গিয়েছিল।”

আরেকটা তথ্য দিচ্ছি ক্লাস ওয়ান এর পাশেই ৪ নং গেইট, ঐখানে স্কুলে কাজ চলছিল এবং চতুর্থ শ্রেনী কর্মচারীদের থাকারও ঘর আছে সেইখানে। তাছাড়া ক্যান্টিনও এর কাছেই। আর ঐ বহিরাগত শ্রমিক স্কুলের ভিতরে কাজ করছিল এবং এই ঘটনাটা ঘটায় স্কুলের নিম্নশ্রেনীর কর্মচারীর সহায়তায়।

আমি জানতে চাইলাম, “মেয়েটির কি কোন ক্ষতি হয়েছে?” তখন ভাইয়ের বউ বলল, “ও ঠিকই লাথি, কামড় দিয়ে পালিয়ে এসেছে তাছাড়া ও যখন দৌড়ে বেড়িয়ে আসে অন্য মেয়েরা ওকে সাহায্য করে।”

অনন্যা টিফিন পিরিয়ডে ঐখানে খেলতে গিয়েছিল আর আমার ভাইয়ের মেয়ে ক্লাশে টিফিন খাচ্ছিল। অনন্যা ফিরে এসে ওদের বলেছিল, “জান আমাকে ডাকাত আর গুন্ডা ধরেছিল আমি মেরে পালিয়ে এসেছি।” বাচ্চারা টিচার আসলে বলে কিন্তু টিচার ধমক দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেয়।

এই কথা শোনার পর ভাইয়ের বউ আর অনন্যার মাকে বললাম স্কুলের রেক্টরকে জানাতে। কারন আজকে না হয় একজন বেঁচে ফিরেছে আবার হয়ত কেউ হামলার স্বীকার হতে পারে।

শনিবার প্রথম শ্রেনীর শিশুর অভিভাবকরা গেল এবং গতানুগতিক রেক্টর আশ্বাসও দিলেন। তদন্ত কমিটি গঠিত হল এবং সবার সামনে অনন্যা দেখাল কোন রুমে কিভাবে ওকে নিয়ে গিয়েছিল এবং যে কর্মচারী সহায়তা করেছিল তাকেও মেয়েটি দেখিয়ে দেয়। মেয়েটি দুই বার ঘটনাটি বলে এবং ঘটনাস্থলে যেয়ে দেখায় সব কিছু। অভিভাবকরা স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠ বিচার ও নিরাপত্তার জন্য কিছু সুপারিশ দেয়।

এরপরই শুরু হয় শুরু হল আসল নাটক। রবিবার দিন স্কুল থেকে ফিরে ছোট্ট অনন্যা জানায় ওকে বেশ কয়েকবার রেক্টর এবং টিচাররা ডেকে নিয়ে গিয়েছিল তখন ওকে ধমক দিয়ে বলেছে ও নাকি এইসব মিথ্যা কথা বানিয়ে বলছে এবং আর যেন এইসব না বলে।

বাচ্চা মেয়েটি ভয় পেয়ে যায়। এরপর অনন্যার মা’এর সাথে কথা বলে জানতে পারি রেক্টর জিন্নাতুন এবং অধ্যক্ষ বেলায়েত এ রকম বদমাইয়েশী করে। তারপর ওরা আবার যায় এবং বলে “আপনারা কিছু না করলে আমরা মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশে যাব।”

এরই মধ্যে জানা যায় বাংলা মিডিয়ামের পঞ্চম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে স্কুলের ক্যান্টিন বয় গত ৩ বা ৪ই মে ধর্ষন করে। সেই মেয়েটিকেও ধমক দিয়ে মুখ বন্ধ করা হয়। এরপর ফুঁসে উঠে পুরো স্কুলের অভিভাবকরা।

স্কুলের নিম্ন শ্রেনীর কর্মচারীদের বাঁচাতে যেয়ে শিশুদের যৌন হয়রানি নিয়ে অভিভাবকদের সাথে রেক্টর জিন্নাতুন অশ্লীলভাবে বলে,”মধু থাকলে মৌমাছি আসবেই।”

পঞ্চম শ্রেনীর ধর্ষিত মেয়েটিকে তদন্ত কমিটি এমন বিশ্রী ভাবে প্রশ্ন করে এবং বার বার জেরার মুখে মেয়েটি খুবই অসুস্থ হয়ে পড়াতে হাসপাতালে আইসিউতে ভর্তি করা হয়েছিলো। শুনলাম মেয়েটি নাকি মারা গিয়েছে। অনন্যার মা-ই জানাল মেয়েটির মৃত্যু সংবাদ। আর পঞ্চম শেন্রীর মেয়েটি যেহেতু বাংলা মিডিয়ামে পড়ে তাই আমার পরিচিত নয়। এই মেয়েটির ব্যাপারে আমি অভিভাবকদের কাছেও শুনেছি।

এই মোহাম্মাদপুর প্রিপারেটরী স্কুল গত তিন বৎসর অনেক যাচ্ছেতাই ব্যবহার করেছে। বার বার আমরা অভিভাবকরা অনুরোধ করেছি, “এত ভাল মেয়েদের একটা স্কুল তা এইভাবে নষ্ট করে দিবেন না।”

তারা ফাঁকি আর আনন্দ ও অনুষ্ঠান নিয়েই ব্যস্ত। কিন্তু আর না এইবার এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার ও নিরাপত্তা চাই। আমার মেয়ে হয়তো এই স্কুল থেকে বের হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আরও হাজারও মেয়ে আছে ওরা আমাদেরই সন্তান। ওদের পাশে আমরা না দাড়ালে আর কে আছে দাড়ানোর মতো???

সোচ্চার হওয়ার সময় এসেছে, আসুন আমরা এক হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো পবিত্র জায়গাগুলোকে যৌন নির্যাতন তথা সকল অন্যায়ের নরকরাজ্যে পরিনত হওয়া থেকে রক্ষা করি।

অনুরোধ নয়, দেশের সকল সচেতন নাগরিকের প্রতি এটা আমার আহ্বান।

নিউজবিডি৭১/এ আর/মুনিরা/১৬মে ২০১৫




কর্মক্ষেত্রে নারীঃ সম্পদ নাকি ভোগ্যবস্তু???

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকাঃ হয়তোবা একটা সময় ছিলো, যখন নারীদের কর্মক্ষেত্র মানেই ছিলো বাড়ির অন্দরমহল। আর তাদের শিক্ষার পরিধিও ছিলো ততটুকুই, যতটুকু তাদের কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজন। অর্থাৎ, অ থেকে ঁ পর্যন্ত। কোন যুক্তাক্ষরও তাদের শেখার প্রয়োজন হতো না। হ্যাঁ, সে সময়েও অনেক নারী ছিলেন যারা গৎবাঁধা শিক্ষার বাইরে গিয়ে নিজের জ্ঞানের পরিধিটা বাড়িয়ে নিয়েছেন, হয়েছেন উচ্চশিক্ষিত। তবে তা ছিলো অতি গোপনে, পরিবারের বাবা-ভাই’দের আড়ালে। কেননা নারীর উচ্চশিক্ষা তৎকালীন সমাজ শুভদৃষ্টিতে দেখেনি।

এখন দিন বদলেছে, বদলেছে অনেক আগেই। আসলে বদলানো হয়েছে। যুগের প্রয়োজনে, যুগের সাথে তাল মেলাতে নিজেদের প্রয়োজনে। নারীরা আজ ঘরের পাশাপাশি বাইরের কাজে-কর্মেও পুরুষের সাথে সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এগিয়ে নিচ্ছে সমাজকেও।

আগের সেই সমাজ এখন খুজে পাওয়াই দুষ্কর। সেই সময়টাতে হয়তো স্বামী সকাল-সন্ধ্যা পরিশ্রম করে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রোজগার করতো। আর স্ত্রী গৃহের সব কাজ শেষ করে স্বামীর পথ চেয়ে থাকতো। কিন্তু এখন? স্বামী-স্ত্রীই হোক, হোক অন্য সম্পর্কের কেউ। এখন আর নারী-পুরুষ কেউ কারো জন্য অপেক্ষা করে না। কি হতে পারে এর কারণ? কারণ স্বয়ংসম্পূর্নতা। এখন স্ত্রী আর স্বামীর রোজগারের অপেক্ষায় থাকেনা। নিজেই নিজের বেঁচে থাকার অবলম্বন হয়ে উঠেছে।

আমাদের আলোচনার মূল বিষয় কিন্তু এটাই। আজকের আধুনিক যুগে নারীর স্বয়ংসম্পূর্নতা, সেই স্বয়ংসম্পূর্নতার আড়ালে আধুনিকতা নামধারী নোংরামী।

একজন নারীর জন্ম হয় একজন মেয়ে থেকে। তাই মেয়েবেলা থেকেই শুরু করছি। আগে মেয়েদের পড়াশোনা আর বাইরে চলাফেরার ক্ষেত্রে ছিল অনেক বাধা বিপত্তি। অনেক মহান-মহিয়ষী ব্যক্তিত্ব অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে মেয়েদের শিক্ষা ও বহির্জগতে প্রবেশ করার পথ সুগম করেছেন।এরই পথ ধরে পড়াশোনার পাশাপাশি এলো কর্মজীবন। যুগ যতই আধুনিক হচ্ছে নারী শিক্ষার হার বেড়েই চলেছে। কর্মেক্ষত্রেও বেড়েছে নারীর স্বপ্রনোদিত অংশগ্রহন। তবে এই কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিয়োগব্যবস্থা আসলে কেমন? জানলাম এমন একজন নারীর কাছে থেকে যিনি নিজেই এর ভুক্তভোগী।

তার কথাগুলোই নিজের ভাষায় বর্ননা দেয়ার চেষ্টা করছি-
প্রথমেই দেখা হয় সিভি বা জীবন-বৃত্তান্ত, দেখা হয় প্রার্থীর রূপ ও শরীর, সাজসজ্জা ও পোষাক। পোষাক যত শরীর দেখানো হবে, মেকআপ যত ঘন হবে, পদোন্নতির সম্ভাবনা ততই বেড়ে যাবে। কাজের দক্ষতা প্রমান করতে হয় বসদের রিফ্রেশমেন্ট এর আইটেম হয়ে? একটু ভেঙ্গে বলি-

হয়তোবা কোন টিভি-নাটক বা সিনেমায় আপনারা দেখে থাকবেন- কর্পোরেট পর্যায়ে চাকুরীরত স্ত্রী তার বসের সাথে কোম্পানীর পক্ষে বড় কোন ডীল করতে অফিসিয়াল ট্যুরে যাচ্ছে, এক সপ্তাহের জন্য। ট্যুরে যাচ্ছে সত্য, কারণ যাওয়াটা সবাই দেখতে পায়। কিন্তু, কোথায় যাচ্ছে, সেই গন্তব্যটা কেউ দেখতে পায়না। বলা ভালো- আধুনিক যুগে এসব কেউ দেখে না।

অথবা, অফিস শেষে অমুক জায়গায় ক্লায়েন্টদের সাথে মিটিং আছে। বাড়ি ফিরতে দেরি হবে। ফিরেছে দেরি করেই। কিন্তু, কিসের মিটিং? কোথায় হলো? কেউ জানেনা। সলে জানতে চায় না। এটা হচ্ছে আমাদের বর্তমান কর্মক্ষেত্রের নির্মম বাস্তব চিত্র।

বিশ্বস্ততা সূত্রে পাওয়া একটা খবর দিচ্ছি-
প্রতিষ্ঠানটা বাংলাদেশেরই একটা পোষাকশিল্প কারখানা। বলা ভালো, ঢাকার পার্শ্ববর্তী কোন একটা এলাকাতে। বিদেশী ক্লায়েন্টরা এসেছে- ডীল করবে, প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখবে, কয়েকদিন থাকবে। তাই তাদের জন্য ভালো-মন্দ ব্যবস্থা রাখতেই হবে। নইলে যে অনেক বড় শীপমেন্ট হাতছাড়া হবে। কিন্তু, কি সেই ভালো মন্দ? বললেন ওই প্রতিষ্ঠানেরই মাঝারি পর্যায়ের একজন সুন্দরী কর্মচারী। যার উপরমহলে বেশ ভালোই যাতায়াত। সুন্দরী বলার একটাই কারণ, বিদেশী ক্লায়েন্টরা যতদিন ছিলেন ততদিন তিনি নিজেই ছিলেন ক্লায়েন্টদের “ভালো-মন্দ”।

আর এতে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করে ওই কোম্পানিরই বসের স্ত্রী। সে আরও কয়েকজন সুন্দরী কর্মচারীকে আনে তার স্বামীর তথাকথিত ক্লায়েন্টদের সাথে কয়েকটা রাত কাটানোর জন্য, তাদের বিনোদন দেয়ার জন্য। এদেরমধ্যে একজন কর্মচারী রাজি না হওয়ায়, পরবর্তীতে সে তার চাকরী হারায়।

কর্মক্ষেত্রে নারীরা তাদের বসের কথামতো কাজ না করলে চাকরি থাকছে না, কিংবা চাকরি থাকলেও তার প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না। এরকম হাজারও হয়রানির শিকার হতে হয় কর্মজীবি নারীদের। যা হচ্ছে অহরহ, হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু, থেকে যাচ্ছে গোপন। নীরবে সয়ে যাচ্ছে এসব ভুক্তভোগী নারীরা। কেন? কারন, তাদের জীবনধারন, তাদের আত্নসম্মান।

এছাড়াও আছে ‘একই খাবার প্রতিদিন ভালো লাগেনা’ টাইপের কিছু মানুষ। যারা বাড়িতে বিবাহিতা স্ত্রী রেখে বাইরে কোথাও, অন্য কারো সাথে মাঝে মাঝেই সময় কাটান। কেন? স্বাদ পরিবর্তনের নেশায়। কখনো কখনো এই ‘পরিবর্তিত খাবার” বাইরে কোথাও থেকে আনা হয়। অথবা নিজের প্রতিষ্ঠানেরই সুন্দরী কোনো রমনীকে কাজে লাগানো হয়, প্রাইভেট সেক্রেটারী বা ম্যানেজার।

এই পথটাকে আরো সহজ করতে এখন বেছে নেয়া হয়েছে এক অভিনব পন্থা। তা হলো, যত বেশি পারা যায় নিজ অফিসেই এমন স্বভাবের নারী কর্মী নিয়োগ দেয়া। যারা স্বেচ্ছায় বসের ‘পরিবর্তিত খাবারের’ মেন্যু হতে সদা প্রস্তুত। অথবা বসের প্রয়োজনে আরও কয়েকটা নতুন মেন্যু’র ব্যবস্থা করতে অভিজ্ঞ।

কথাগুলো বেশ নাটকীয় তাই না? হয়তো ভাবছেন নাটক-সিনেমা দেখে এসে বর্ণনা দিচ্ছি। ভাবতেই পারেন, সে অধিকার আপনার আছে? কিন্তু, আপনার ভাবনার সাথে আরেকটু যোগ করে নিতে পারেন। যেসব নাটক-সিনেমা দেখে মানুষ এসব জানছে, তা আসছে কোত্থেকে? বাস্তব থেকেই তো, তাই না?

উচ্চশিক্ষা নিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে, সম্মান অর্জন করতে এসে যদি এভাবে মেয়েদের হাফটাইম/পার্টটাইম রাই-বিনোদিনী হতে হয়…..তাহলে কর্মক্ষেত্রে নারীর মূল্যায়ন কোথায়?…..এভাবে পর্দার অন্তরালে আর কত নারীরা নিজেদেরকে বসের ‘খাবারের মেন্যু’ বানাবে? কতদিন??

প্রশ্নটা থেকেই যায়…………………

নিউজবিডি৭১/এ আর/উপমা/১৫মে ২০১৫




মালয়েশিয়া পাচার আপাতত বন্ধ! বহাল গডফাদাররা

নিউজবিডি৭১ডটকম
কক্সবাজার করেসপন্ডেন্ট : কক্সবাজারে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মানবপাচারকারী চক্রের ৬ সদস্য নিহত হয়েছে। এতে ভয়ে আর আতংকে মানবপাচারে জড়িতদের অধিকাংশই গা ঢাকা দিলেও এলাকায় বহাল তবিয়তে অবস্থান করছে ক্ষমতাধররা। মানবপাচারকারীদের চিহ্নিত করতে পুলিশ হেড কোয়ার্টার ও জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৃথক পৃথক দু’টি তালিকা তৈরি করেছে।

পুলিশ হেডকোয়াটারের তদন্ত প্রতিবেদনে মানবপাচারের সাথে ২৯৭ জন পাচারকারী জড়িত বলে সনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন আর্ন্তজাতিক চক্রের, ২৬ জন দেশীয় হুন্ডি ব্যবসায়ী ও ইয়াবা পাচারকারি। আর ২৬০ জন দেশের আনাচে কানাচে থাকা পাচারকারী চক্রের সংঘবদ্ধ সদস্য।

থাইল্যান্ডে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের কারণে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাচারের রুটটি আপাতত বন্ধ রয়েছে। ফলে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়া মিয়ানমারে অবস্থানকারী মানবপাচারকারীদের ট্রলারগুলো বাংলাদেশে ফিরে আসতে শুরু করেছে।

সেন্টমার্টিনের নিকটবর্তী বঙ্গোপসাগর থেকে এ ধরনের একটি ট্রলারসহ ১১৬ জন যাত্রীকে উদ্ধারের পর বিজিবি সদস্যরা আরো ১১ জন মালয়েশিয়াগামীকে সাবরাং এর গোলারচর থেকে আটক করে।

আটককৃতরা জানিয়েছে, থাইল্যান্ডে জলে-জঙ্গলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের কারণে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাচারের রুটটি আপাতত বন্ধ রয়েছে। এ কারণে মালয়েশিয়া পাঠাতে না পেরে তাদেরকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব কর্তৃক তৈরিকৃত তালিকায় রয়েছে কক্সবাজার জেলার সাড়ে ৩ শতাধিক পাচারকারীর নাম। দুটি তালিকাতেই রয়েছে মানবপাচারের সাথে জড়িত জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা সহ অনেক রাঘব বোয়ালদের নাম। উভয় তালিকায় রয়েছে উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির ভাই মুজিবুর, শফিক, ফয়সাল ও সাংসদের আত্ময়স্বজন ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত অনেক রাজনৈতিক নেতার নাম । রয়েছে জেলার অনেক রতি মহারথির নাম। তবে এ পর্যন্ত এদের কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, ৭ মে থেকে এপর্যন্ত পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে তালিকাভুক্ত ৪ জন সহ ৬ মানবপাচারকারী নিহত হয়েছে এবং গ্রেপ্তার হয়েছে ৯ জন। এর মধ্যে টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে ৩ জন, উখিয়ায় ১ জন,চকরিয়া ১ জন ও কক্সবাজার সদরের ১ নিহত হয়। তবে কক্সবাজার সদর ও চকরিয়ায় নিহত দুই ব্যক্তি কোন তালিকায়ই এদের নাম নেই। এছাড়া টেকনাফে গ্রেপ্তার হয় ৮ জন এবং মহেশখালিতে ১ জন । জেলার আরও ৫ উপজেলায় এখনো মানবপাচারকারীদের কোন অভিযানের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া ক্ষমতাধর মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো পর্যন্ত কোন ধরনের অভিযান পরিচালনা করেনি।

মহেশখালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, মানবপাচারের সাথে জড়িতরা গা ঢাকা দেওয়ায় তাদেরকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে অভিযান চলছে। ব্যবসায়ীরা জানান, মহেশখালিতে মানবপাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট ঘটিভাঙ্গা, সোনাদিয়া ও আশপাশের এলাকা। এখানকার পাচারকারীরা সবাই এলাকায় রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত পুলিশ কোন অভিযান পরিচালনা করেনি।

টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান খোন্দকার জানান, মানবপাচার আইনে ধলুর বিরুদ্ধে ৯ টি, জাফর আলমের বিরুদ্ধে ৮ টি ও জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে ২ টি মামলা রয়েছে। তবে টেকনাফ পৌর আওয়ালীগের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিহতরা মানবপাচারে জড়িত ছিল। তবে এরা গডফাদার নয়। আড়ালে থেকে যারা মানবপাচারের নেতৃত্ব দেয় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখনি সময়।

এদিকে পুলিশ হেডকোয়াটারের তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, আর্ন্তজাতিক মানবপাচারকারি চক্রকে অর্থায়নে রয়েছে ২৬ জন। এরমধ্যে ২২ জনই টেকনাফের বাসিন্দা। এছাড়া উখিয়া-টেকনাফের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির নিকটজনও। এরা হল, টেকনাফের চৌধুরীপাড়ার অং শ্যাং থা’র ছেলে এমপি বদির খালাতো ভাই মং মং সেন, টেকনাফের ডেইল পাড়ার কালো মো. আলীর ৩ ছেলে নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আমিন, আবদুল আমিন, লামারবাজার এলাকার হুন্ডি আবদুল জলিল, তার ছেলে মো. ইসমাইল, বাজারপাড়ার হাজি আলী হোসেনের ছেলে বাট্টা আয়ুব ও মো, ইউনুচ, টেকনাফের জালিয়াপাড়ায় জাফর আলম ওরফে টিপি জাফর, একই এলাকার শাহজাহানের ছেলে জাফর সাদেক, শাহপরীর দ্বীপের মৃত আবু শামা প্রকাশ বাড়– হাজির ছেলে হেলাল উদ্দিন, ইমাম শরীফের ছেলে ফাইসাল, রহিম উল্লাহর ছেলে আবদুল্লাহ, মৃত নবী হোসেনের ছেলে মো. জামাল, সাবরাংয়ের আছারবনিয়ার মৃত হাকিম আলীর ছেলে মো. হারুল, সাবরাংয়ের সিকদারপাড়ার মুচা আলীর ছেলে আবদুস শুক্কুর, টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরী পাড়ার মো. ইসমাইলের ছেলে ও এমপি বদির ভাই মুজিবের সহযোগী মো, ইসলাম, টেকনাফ বাস স্টেশনের মুদির দোকানদার হামিদ হোসেন, সাবরাংয়ের আচারবনিয়া এলাকার বো আলীর ছেলে মুফিজুর রহমান, টেকনাফের আল জামিয়া মাদ্রাসার সামনের ফার্মেসীর আবু বক্কর, নাইট্যংপাড়ার ফজল আহমদের ছেলে আবু বক্কর, টেকনাফের কুলাল পাড়ার শমসুল হুদার ছেলে নুরুল আবসার।

টেকনাফের পুলিশের এক সোর্স জানান, তালিকায় থাকা টেকনাফে শীর্ষ মানবপাচারকারীরা এলাকাতেই রয়েছে। যারা মানবপাচারে অর্থলগ্নি করছে। তাদের শুধু তালিকা তৈরি করলে হবে না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

টেকনাফ পুলিশের একটি সুত্র জানান, মানবপাচারের তালিকায় টেকনাফের বহু ক্ষমতাধর ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের অনেকের নাম রয়েছে।কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা এখনো উর্ধবতন কর্তৃপক্ষ দেয়নি। তাই ক্ষমতাধররা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোয়ার বাইরে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ জানান, ক্ষমতাধর মানবপাচারকারীদের লাগাম টানতেই পুলিশের এই বিশেষ অভিযান। মানব পাচারের শেখড় তুলতে যা করা দরকার পুলিশ সব করবে বলেও তিনি দাবী করেছেন।

তিনি আরো জানান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের বিষয়টি আচ করতে পেরে শীর্ষ মানবপাচারকারীরা গা ঢাকা দেওয়ায় পুলিশের অভিযান এখনো তেমন সফলতার মুখ দেখেনি।

সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার লে. বিগসন চৌধুরী জানান, মানবপাচারকারীদের কোন ট্রলার যাতে বাংলাদেশের জলসীমা ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য সতর্ক রয়েছে কোস্টগার্ড।

নিউজবিডি৭১/এ আর/শাহীন/১৪মে ২০১৫




ইভটিজিং কি ক্ষমা করবে বৃষ্টিকে?

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : ইভটিজিং আমাদের সমাজে এক ধরনের জঘন্য অপরাধ। সরকার এ ধরনের অপরাধের জন্য বিভিন্ন রকমের সাস্তির ব্যাবস্থা করেছে তাতে ও কি নির্মূল হয়েছে ইভটিজিং নামক সেই সামাজিক ব্যাধি। তেমনি একটি ঘটানার বিবরন তুলে ধরেছি আমরা(নিউজবিডি৭১) সমাজের সেই সব মানুষের সামনে যারা সব সময় চান ইভটিজিং নামক এই ব্যাধি সমাজ থেকে দূর হোক।

রাজধানীর উত্তরা এলাকার বাউনিয়ায়, সুলতান মার্কেট এলাকায় ৭-৮ বছর যাবত মা এবং বোনের সঙ্গে বসবাস করে আসছিল বৃষ্টি। তার বড় বোন পেশায় একজন দিন মুজুর এবং মাও দিন মুজুর। কষ্টের টাকায় চলে তাদের সংসার। কিন্তু তাদের সপ্ন কষ্ট হলেও বৃষ্টি কে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার। বর্তমানে বৃষ্টি বাউনিয়া আব্দুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্রী। মানুষের সব চেয়ে সুন্দর মুহুর্ত হলো ছাত্র জীবন। কিন্তু তার এই মধুর ছাত্রজীবনে নেমে এসেছে সে ইভটিজিং নামক ব্যাধি। যা তার প্রতিটি দিনকে করে তুলছে বিরক্তিকর।

এই ব্যাপারে বৃষ্টির সাথে আমরা(নিউজবিডি৭১)কথা বললে সে জানায়, গত ৩ বছর যাবত,কালি বাড়ি এলাকার আঃ সালাম কায়ুম এর ছেলে দিপু তাকে স্কুলে আসা যাওয়ার পথে আমাকে বিরক্ত করতো যা এত দিন যাবত নিরবে সহ্য করে আসলেও বর্তমানে তা সীমা লঙ্ঘন করে যাচ্ছে।বিভিন্ন সময় সে আমাকে খুব খারাপ ভাষায় কথা বলে থাকে যা প্রকাশ করার মত নয়।সে আমাদের জানায় গত শনিবার বিকেলে প্রাইভেট পড়ে বাসায় যাওয়ার পথে দিপু তার পিছনে এসে বিভিন্ন রকম অকথ্য ভাষায় কথা বলে।তার প্রেক্ষিতে আমি বিষয় টি আমার ফ্যামিলিতে জানাই। পরবর্তিতে আমার মা এবং বোন কে নিয়ে বিষয়টি স্থানীয় মেম্বার মোঃ দেলোয়ার হোসেন এর নিকট অভি্যোগ করি তারপর মেম্বার আমাদের পরামর্শ দিল আমরা যেন আইনের আশ্রয় নেই। পরে আমরা তুরাগ থানায় গিয়ে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করি।

এ ব্যাপারে আমরা(নিউজবিডি৭১) থানায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি যে, অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এস আই কামাল কে। পরে আমরা যোগাযোগ করি দায়িত্বপ্রাপ্ত এস আই কামালের সাথে তিনি বলেন, মেয়েটির কোন হদিস আমরা পাইনি। মেয়েটি অজ্ঞাত স্থান থেকে এসে অভিযোগ করে আবার অজ্ঞাত স্থানে চলে গেছে। তার পরও আমরা পুনরায় তদন্ত্য করবো।

তার বক্তব্যেরে কোন সত্যতা আমরা(নিউজবিডি৭১)পাইনি কারন মেয়েটি এখনো সুলতান মার্কেট এলাকায় অবস্থান করছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা যোগাযোগ করি থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুব এ খোদার সাথে তিনি আমাদের বলেন বিষয়টি পুনরায় তদন্তের জন্য বলা হয়েছে।

কিন্তু এভাবে যদি পুলিশের তদন্ত্যে যদি এভাবে ভুল তথ্য উঠে আসে তাহলে আমরা কি পারবো কখনো আপরাধকে আমাদের সমাজ থেকে দূর করতে। নাকি এধরনের অপরাধ আরো বেড়ে যাবে?

নিউজবিডি৭১/এম কে/তুহিন/নাহিদুজ্জামান/ ০৩ মে ২০১৫




বগুড়ায় উত্তরের বিভিন্ন সীমান্ত পথে আগ্নেয়াস্ত্র আসছে গডফাদার ধরাছোঁয়ার বাইরে

নিউজবিডি৭১ডটকম
বগুড়া ব্যুরো : উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্ত পথে বগুড়ায় নানা জাতের আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি আসছে। এসব অস্ত্র শুধু সন্ত্রাসীদের কাছে নয়; রাজনীতিকদের হাতেও শোভা পাচ্ছে। র‌্যাব, পুলিশ ও আর্মড পুলিশ সদস্যদের তৎপরতায় কিছু আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং বহনকারীরা গ্রেফতার হলেও গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে। কেউ গ্রেফতার হলেও তারা আইনের ফাঁক গলিয়ে জামিনে ছাড়া পাচ্ছেন।

পুলিশ, র‌্যাব ও আর্মড পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সাথে প্রতিবেশী দেশের চার হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। সবস্থানে বিজিবি সদস্যরা মোতায়েন না থাকায় চোরাকারবারীদের সহযোগিতায় বাংলাদেশে শুধু আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি নয়; ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক আসছে। সীমান্তে ৩৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকায় বিভিন্ন দেশের নাম খোদাই করা পিস্তল ও রিভলবার বিক্রি হয়। ৩-৪ হাজার টাকায় এলজি (পাইপ গান) ও শার্টারগান পাওয়া যায়। এছাড়া ৫০০ থেকে হাজার টাকায় এক রাউন্ড গুলি মিলছে। চোরাকারবারীদের হাত গলিয়ে এসব আগ্নেয়াস্ত্র বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসী এবং পেশাদার সন্ত্রাসীদের কাছে চলে আসছে। শুধু তাই নয় ছিনতাইকারীদের কাছেও এখন আগ্নেয়াস্ত্র থাকে। এসব আগ্নেয়াস্ত্র কোন অপরাধে বা প্রতিপক্ষের উপর ব্যবহার করা হয়।

সূত্রটি আরও জানায়, শুধু পুলিশের অভিযানে চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে। আর গত তিন বছরে ৯০টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়। এ সময় ৬৩টি ম্যাগজিনসহ পাওয়া গেছে ৭৭৯ রাউন্ড গুলি। গ্রেফতার করা হয়েছে অন্তত ২০০ ব্যক্তিকে। উদ্ধার করা অস্ত্রশস্ত্র হলো ৫১টি বিদেশী পিস্তল, ৭টি দেশী পিস্তল, ১০টি রিভলবার, ৮টি পাইপগান, ৫টি দেশী শার্টারগান, ১টি এসএমজি, ১টি জার্মান স্পোর্ট রাইফেল, ৩টি দেশী শুটারগান, ১টি দেশী এলজি, ১টি দেশী দ্ইু নালা বন্দুক, ২টি দেশী এক নালা বন্দুক, ৬৩টি ম্যাগজিন, ৭৭৯ রাউন্ড গুলি, ৪৪টি চাপাতি, ৯টি তরবারি, ৬৩টি ছোরা, ১৮২টি বিদেশী চাকু, ৪৯টি রামদা, ২১টি ডেগার, ১৯টি হাসুয়া, ৬টি চাইনিজ কুড়াল। এছাড়াও র‌্যাব এবং আর্মড পুলিশও কিছু গুলিভর্তি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে।

র‌্যাব-১২ বগুড়া স্পেশাল কোম্পানীর সদস্যরা ২৮ এপ্রিল সকালে শহরতলির বুজরুকবাড়িয়া পূর্বপাড়ায় একটি বাড়ি থেকে আমেরিকায় তৈরি ৭.৬৫ ক্যালিবারের একটি পিস্তল উদ্ধার করেছেন। এ সময় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রাসেল প্রামানিক (২০) ও মোক্তার হোসেনকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়। ডিবি পুলিশ ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যা শহরের ফুলবাড়ি এলাকা থেকে এক রাউন্ড গুলিভর্তি বিদেশী পিস্তলসহ তৌহিদ হোসেন বুবুল (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। চতুর্থ আর্মড পুলিশের সদস্যরা গত ২০ এপ্রিল সকালে শহরের সুত্রাপুর এলাকায় একটি বাড়ি থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশী পিস্তলসহ গোলাম আহাদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছেন। ডিবি পুলিশ ১৯ এপ্রিল দুপুরে শিবগঞ্জের ভাইয়ের পুকুর বাজারে একটি ঘর থেকে ৩ রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করেছে। এ সময় সেলিম মোল্লা (৩২) ও তার সহযোগী হারুন অর রশিদ মোল্লাকে (৩৫) গ্রেফতার করে। এর আগে গত ৯ এপ্রিল সদর থানা পুলিশ শহরের জলেশ্বরীতলায় মাহিদ নামে এক অপহৃত স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করতে গেলে অপহরনকারীদের সাথে গুলিবিনিময় নয়। তখন পুলিশ দুই রাউন্ড গুলিভর্তি বিদেশী পিস্তলসহ ফেরদৌস রহমান ফিজু নামে অপহরণকারীকে গ্রেফতার করে।

অভিযোগ রয়েছে, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আগ্নেয়াস্ত্র হেফাজতে রাখা ও বহনকারীকে গ্রেফতার করলেও পরবর্তীতে অস্ত্রের উৎস এবং গডফাদারদের গ্রেফতারে কোন আগ্রহ দেখায় না। ফলে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। বগুড়া পুলিশের এএসপি (মিডিয়া) গাজিউর রহমান সাগর জানান, বিভিন্ন সীমান্ত পথে অস্ত্র ও গুলি আসে। তাদের (পুলিশ) তৎপরতায় বর্তমানে অস্ত্রের চালান কমেছে। তিনি আরও জানান, কিছুদিন আগে শিবগঞ্জে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র মেরামত করতে গিয়ে এক ব্যক্তি নিহত হন। পরে শিবগঞ্জের রিজু নামে এক অস্ত্রধারীকে গ্রেফতার ও তার বাড়ি থেকে গুলিভর্তি দুটি বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করা হয়। ওমর খৈয়াম রোপন নামেও এক অস্ত্রধারী গডফাদারকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু আইনের ফাঁক দিয়ে অস্ত্রধারীরা জামিনে ছাড়া পেয়ে যান। র‌্যাব-১২ বগুড়া স্পেশাল কোম্পানীর অধিনায়ক লে. কমান্ডার আলী হায়দার চৌধুরী জানান, চোরাকারবারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন সীমান্ত পথে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি আসে। গত দু’মাসে তার অভিযানে দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ রাউন্ড গুলি ও ১২টি ককটেল উদ্ধার হয়েছে। তিনি আরও জানান, আগ্নেয়ান্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিউজবিডি৭১/আর কে/নাসিম/২৯এপ্রিল ২০১৫




মিঠা পানির কুমিরের বিলুপ্তি ঠেকাতে কৃত্রিম উপায়ে ইনকিউবেটরে ২২টি ডিম

নিউজবিডি৭১ডটকম
বাগেরহাট করেসপন্ডেন্ট : বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহঃ) মাজারের দীঘির মিঠা পানির কুমিরের বিলুপ্তি ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। কৃত্রিম উপায়ে কুমিরের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটাতে ইনকিউবেটরে বসানো হয়েছে মিঠা পানির কুমিরের ২২ টি ডিম। তবে এই ডিম দিয়ে বাচ্চা ফুটবে কিনা সেজন্য আগামী ৪৫ দিন অপেক্ষায় থাকতে হবে।

গত ২০/২৫ দিন আগে মাজারের দীঘির দক্ষিণ পাড়ে একটি কুমির প্রায় ৫৫টি ডিম পাড়ে। খবর পেয়ে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের একটি বিশেষজ্ঞ দল সেখানে গিয়ে ২২ ডিম সংগ্রহ করে। এই ডিম থেকে কৃত্রিম উপায়ে বাচ্চা ফুটাতে ডিমগুলো ইনকিউবেটরে বসানো হয়। কুমির বিশেষজ্ঞরা সার্বক্ষণিক নজর রয়েছেন ইনকিউবেটরের দিকে। বাচ্চা ফুটলে তাদের নেয়া এই উদ্যোগ সফল হবে বলে মনে করছেন ওই কর্মকর্তারা।

খানজাহান আলী ( রহঃ) শাসনামলে তার হাতে ছাড়া সর্বশেষ বংশধর কালাপাহাড় ও ধলাপাহাড় বেঁচে থাকতে মিঠা পানির কুমিরের বিলুপ্তি ঠেকাতে ২০০৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাঙ্ক থেকে ৬টি কুমির এনে এই মাজারের দীঘিতে ছাড়া হয়। মাদ্রাজ থেকে এনে ছাড়া ওই কুমিরের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় সংঘর্ষে কালাপাহাড় গুরুতর আহত হয়। এর কিছুদিন পর কালাপাহাড় মারা যায়। এরপর খানজাহানের হাতে ছাড়া অবশিষ্ট থাকে ধলাপাহাড়। সেটিও চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারী মারা যায়।

২০০৫ সালের ভারতের মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাঙ্ক থেকে এনে ছাড়া মিঠা পানির কুমির গত কয়েক বছর ধরে ডিম দিলেও তাতে নতুন করে কোন বাচ্চা ফুটছে না। ফলে এই দীঘিতে মিঠা পানির কুমির রক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা। তাই এখন মিঠা পানির কুমিরের ডিম সংগ্রহ করে তা দিয়ে কৃত্রিম উপায়ে বাচ্চা ফোটানোর উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

খুলনা বিভাগীয় প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডাঃ মোঃ নূরুল আমীন জানান, বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ:) ঐতিহাসিক দিঘির শতবর্ষী কুমির মারা যাওয়ার পর আমরা কৃত্রিম উপায়ে বাচ্চা ফুটানোর উদ্যোগ নেই। খানহাজান আলী (রহ:) দিঘির কুমিরের পাড়া ডিম থেকে প্রথমে ২২ ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে। তা ইনকিউটিবরে বসানো হয়েছে। এই ডিম থেকে বাচ্চা ফুটলে বিলুপ্ত প্রায় মিঠাপানির কুমির রক্ষা হবে। ৬০-৭০ দিনের মধ্যে কুমিরের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটে বলে তিনি দাবী করেন।

বাগেরহাটে জেলা প্রশাসক মোঃ জাহাংগীর আলম জানান, ঐতিহাসিক হযরত খানজাহানের (রহ.) স্মৃতিকে রক্ষা করতে কৃত্রিম উপায়ে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই উপায়ে যদি বাচ্চা ফুটানো সম্ভব হয় তাহলে বাংলাদেশের মিঠাপানির কুমির বংশ বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

নিউজবিডি৭১/আর কে/ সামছুর রহমান/৮ এপ্রিল ২০১৫




গোদাগাড়ীতে ঝড়ে ৪২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ, খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

নিউজবিডি৭১ডটকম
গোদাগাড়ী(রাজশাহী)করেসপন্ডেন্ট : মাত্র ২২ মিনিটের প্রলয়ঙ্করী ঝড়ে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় ৪২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ গুলোতেই পাঠদান চলছে খোলা আকাশের নিচে। ফলে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো মেরামত করে কবে নাগাদ সেখানে পাঠদানের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে তা-ও নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর তালিকা তৈরী করে ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে। এরপর সরকারী বরাদ্দ মিললে মেরামত করা হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো।

উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলের মাত্র ২২ মিনিটের ওই ঘুর্ণিঝড়ে ২৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদ্রাসা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। অন্যদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ১৭টি। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪২টি। ক্ষতিগ্রস্থ এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগেরই টিনের ছাদ উড়ে গেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সোহেল হোসেন জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্থ ২৫টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে উপজেলার প্রেমতলী জসিম উদ্দীন দাখিল মাদ্রাসা, ললিতনগর ভূষণা আলিম মাদ্রাসা, আয়েশা সাবের দাখিল মাদ্রাসা, হুজরাপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও মান্ডইল উচ্চ বিদ্যালয়। ঝড়ে এসব স্কুলের টিনের ছাদ উড়ে গেছে। কোনটির আবার দেয়াল পর্যন্ত ধ্বসে গেছে।

প্রেমতলী জসিম উদ্দীন দাখিল মাদ্রাসায় গতকাল সকালে গিয়ে দেখা যায়, ঝড়ে মাদ্রাসার সেমিপাকা ৭টি শ্রেণিকক্ষের টিনের ছাদ উড়ে গিয়ে পড়েছে সামনের খেলার মাঠে। তাই শ্রেণি কক্ষের বেঞ্চ বাইরে এনে ওই সময় শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছিল খেলার মাঠে।

মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট আবদুস সবুর জানালেন, তাঁর মাদ্রাসায় মোট শিক্ষার্থী ৩২৮ জন। ঝড়ে মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষ গুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়েই রোদের মধ্যে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, গত বছরও ঝড়ে মাদ্রাসাটির টিনের ছাদ উড়ে গিয়েছিল। কিন্তু বরাদ্দ পাননি একটি টাকাও। এবারও শ্রেণিকক্ষ মেরামতে দরকার ৯৫ হাজার টাকা। শ্রেণিকক্ষ মেরামতের টাকার চিন্তায় রাতে তাঁর ঘুম আসেনা।

এদিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, ঝড়ে গোদাগাড়ীর ১৭টি প্রাথমিক স্কুল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ এসব স্কুলের কোনটির ছাদ উড়েছে, কোনটির দেয়াল ভেঙেছে, আবার কোনটি বিদ্ধস্ত হয়েছে পুরোপুরি। এসব স্কুলের মধ্যে উপজেলার সহড়াগাছি, কানাইডাঙা, মহিষালবাড়ি, কাদিপুর ও সেখেরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, ক্ষতিগ্রস্থ স্কুল গুলোর তালিকা তৈরী করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালকের কাছে পাঠানো হবে। সেখান থেকে সরকারী বরাদ্দ আসলে স্কুল গুলো মেরামতের কাজে ব্যয় করা হবে। ওদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সোহেল হোসেন জানান, ক্ষতিগ্রস্থ স্কুল ও মাদ্রাসার একটি তালিকা করে তিনিও উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে সরবরাহ করবেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খালিদ হোসেন জানান, স্কুল মেরামতের বরাদ্দের জন্য ক্ষতিগ্রস্থ স্কুল গুলোকে লিখিতভাবে আবেদন করতে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যত দ্রুত সম্ভব মেরামতের জন্য তিনি চেষ্টা করছেন।

নিউজবিডি৭১/আর কে/রিমন/৬ এপ্রিল ২০১৫