বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন যুবরাজের নির্দেশে নয়; খাসোগিকে খুন করেছে সেনা দুর্বৃত্তরা!

ডেস্ক রিপোর্ট 
নিউজবিডি৭১ডটকম

ইস্তাম্বুলে সৌদি কনসুলেটের মধ্যে ঘুষোঘুষির এক পর্যায়ে সাংবাদিক জামাল খাশোগি মারা যান- এই ব্যাখ্যার দুদিন না যেতেই নতুন আরেক তত্ত্ব হাজির করেছে সৌদি আরব সরকার। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবের বলছেন মার্কিন টিভি ফক্স নিউজকে বলেছেন, সাংবাদিক খাশোগিকে খুন করা হয়েছে। তবে তিনি বলেন যুবরাজ মোহামেদ বিন সালমান সেই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দেননি; নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু ‘দুর্বৃত্ত’ নিজেদের সিদ্ধান্তে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

কিন্তু সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সর্বশেষ এই ব্যাখ্যার পরপরই তুরস্কের একটি সরকার সমর্থিত পত্রিকায় চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশিত হয়েছে যাতে ওই হত্যাকাণ্ডে পেছনে যুবরাজ সালমানের প্রত্যক্ষ ভূমিকা নিয়ে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইয়েনি সাফাক নামে যে পত্রিকাটি গত দুই সপ্তাহ ধরে এ নিয়ে খবর ফাঁস করছে, তারা লিখছে, হত্যাকাণ্ডের পরপরই প্রভাবশালী সৌদি গোয়েন্দা কর্মকর্তা মাহের আব্দুল-আজিজ মুতরেব ইস্তাম্বুল থেকে যুবরাজ সালমানের অফিসে চার বার টেলিফোনে কথা বলেছিলেন।

পত্রিকাটি আরো বলছে, মুতরেব ওয়াশিংটনেও একটি ফোন কল করেছিলেন, এবং সম্ভবত ওই ফোনটি তিনি করেছিলেন সৌদি রাষ্ট্রদূত খালেদ বিন সালমানকে। রাষ্ট্রদূত খালেদ বিন সালমান যুবরাজ সালমানের ছোট ভাই। এই ঘটনা নিয়ে যে ১৮ জনকে সৌদি আরবে আটক করা হয়েছে, তাদের মধ্যে মাহের আব্দুল আজিজ মুতরেবও রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, ইয়েনি সাফাক যে তথ্য ফাঁস করেছে, তা কি ফোন কলে আড়ি পেতে পাওয়া, নাকি হত্যাকান্ডের কথিত অডিও রেকর্ডিং থেকে পাওয়া তা এখন নিশ্চিত নয়। পত্রিকাটি সূত্র গোপন রেখেছে। অবশ্য এ পর্যন্ত এ নিয়ে তুরস্ক এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে যেসব তথ্য ফাঁস হচ্ছে, তা সূত্র গোপন রেখেই করা হচ্ছে।

গতকাল রবিবার ইয়েনি সাফাক জানিয়েছিল, ইস্তাম্বুলে সৌদি কনসুলেটের মধ্যে তাকে হত্যা করার আগে মি খাশোগিকে টেলিফোনে যুবরাজ সালমানের সাথে কথা বলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সে সময়, যুবরাজ তাকে সৌদি আরকে ফেরার কথা বলেন। মি খাশোগি যখন তাতে রাজী হননি, তখনই তাকে হত্যা করা হয়।

কিন্তু বিবিসি বলছে, এটা পরিষ্কার যে তুরস্কের সরকার চাইছে এসব ঘটনা ফাঁস হোক, এবং ইয়োনি সাফাক পত্রিকা সেই কাজই করছে।

ইয়েনি সাফাক পত্রিকার ফাঁস করা সর্বশেষ এসব তথ্য নিয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এখনও কোনো বক্তব্য শোনা যায়নি। তবে ঘুষোঘুষির সময় মি খাশোগি দুর্ঘটনাবশত মারা যান বলে রবিবার সৌদি আরবের পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তুরস্ক।

এদিকে সৌদি আরবের স্বীকারোক্তির পর প্রেসিডেট এরদোয়ানের একজন উপদেষ্টা ইয়াসিন আকতে বলছেন, ‘সৌদিরা তুরস্কের বুদ্ধিমত্তাকে উপহাস করছে।’ তিনি বলেন, সৌদি এই ব্যাখ্যায় কোনো সত্যই উদঘাটিত হয়নি, বরঞ্চ নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেছেন, আগামীকাল মঙ্গলবার তিনি নিজে সংসদে এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে ‘নগ্ন সত্য’ প্রকাশ করবেন।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবের ফক্স নিউজের সাথে সাক্ষাৎকারে বলার চেষ্টা করেছেন, কিছু মানুষ নিজের সিদ্ধান্তে এই অপরাধ ঘটিয়েছে এবং এর সাথে সৌদি নেতৃত্বের কোনো সম্পর্কই নেই। তার ভাষায়, ‘এই মানুষগুলো তাদের ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করেছে..অবশ্যই সাংঘাতিক ভুল হয়েছে এবং কেউ ভুল ঢাকতে গিয়ে আরো ভুল করেছে তারা। আমরা সত্য উদঘাটনে এবং অপরাধীদের সাজা দিতে বদ্ধপরিকর।’

মি খাশোগির হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে সৌদিদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দেওয়া পরস্পরবিরোধী নানা ব্যাখ্যা তাদের পশ্চিমা মিত্ররাও গ্রহণ করেনি। শনিবার ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যিনি সৌদি রাজপরিবারের বিশেষ ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত, বলেছেন, সৌদিদের বিভিন্ন বক্তব্যে ‘মিথ্যা’ এবং ‘প্রতারণা’ রয়েছে।

ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, মি খাশোগির হত্যাকাণ্ড নিয়ে তারা সৌদি আরবের কাছ থেকে বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা চায়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ সৌদি রাজপরিবারের সমর্থনে কথা বলেছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে – মিশর, কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।

নিউজবিডি৭১/বিসি/অক্টোবর ২৩২০১৮




চীনের যে মহাপরিকল্পনায় আতঙ্কে যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক রিপোর্ট 
নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকা : আর মাত্র কয়েকটা বছর। তারপরই বিশ্ব জুড়ে জাল বিস্তার করবে চীন। বছর তিনেক আগেই সেই পরিকল্পনা নিয়েছে চীন। আর তাতেই রীতিমত ভয় পেয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র। চীনের সেই পরিকল্পনার নাম ‘মেড ইন চায়না: ২০২৫’। সেই মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে রীতিমত চিন্তিত আমেরিকা।

বর্তমানে চীনে তৈরি জিনিস সস্তায় মিললেও তার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। আর সেটা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে চায় চীন। ‘মেড ইন চায়না: ২০২৫’ নামে এই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালে। চীনের সবচেয়ে বড় শক্তি হল এই ম্যানুফাকচারিং। আর তাকেই এবার কাজে লাগাবে চীন। পরিকল্পনাটি তিন ধাপের। ২০২৫ সাল সেই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ মাত্র।

চীন এতদিন যেভাবে পণ্য তৈরি করে এসেছে, সেখানে একটা আমূল বিপ্লব ঘটাতে চাইছে। পরিকল্পনাটি তিন ধাপের। ২০২৫ সাল সেই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ মাত্র। ২০২৫ সাল নাগাদ চীন যত পণ্য তৈরি করবে, তার সবকিছুর মান তারা বাড়াতে চায়।

এমন কিছু চীনা ব্র্যান্ড তারা তৈরি করতে চায়, যেগুলো কিনতে ঝাঁপিয়ে পড়বে গোটা বিশ্ব। পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে ২০৩৫ সাল নাগাদ চীনা সংস্থাগুলো বিশ্বের বাকি সব কম্পানিকে প্রযুক্তিতে, পণ্য মানে এবং সুনামে ছাড়িয়ে যেতে চায়।

আর ২০৪৯ সালে, আধুনিক চীন যখন তার প্রতিষ্ঠার একশো বছর উদযাপন করবে, তখন তারা ম্যানুফ্যাকচারিং এ বিশ্বের এক নম্বর শক্তি হয়ে উঠতে চায়। এজন্যে চীন দশটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও চিহ্ণিত করেছে। এর মধ্যে থাকছে সেমিকন্ডাকটার চিপ, বিমান, রোবোটিক্স, ইলেকট্রিক কার, হাইস্পিড রেল এবং ওশান ইঞ্জিনিয়ারিং। এই পরিকল্পনা সফল করতে বেসরকারি সংস্থাগুলিকেও সাহায্য করছে চীনের সরকার। আর তাতেই চিন্তায় পড়েছে আমেরিকা।

নিউজবিডি৭১/বিসি/অক্টোবর ২৩২০১৮




খাশোগির ছেলেকে সমবেদনা জানালেন সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজ!

ডেস্ক রিপোর্ট 
নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকা : সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের শিকার সাংবাদিক জামাল খাশোগির ছেলে সালাহকে ফোন করে ‘সমবেদনা’ জানিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ ও তার ছেলে ক্রাউন প্রিন্স (যুবরাজ) মোহাম্মদ বিন সালমান।

অথচ তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে খাশোগি খুন হওয়ার পর সৌদি রাজপরিবারের বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল উঠেছে। সোমবার বাদশাহ-যুবরাজের এ ‘সমবেদনা জ্ঞাপনের’ খবর দিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।

যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসিত খাশোগি ছিলেন বাদশাহ-যুবরাজসহ সৌদি রাজপরিবারের কট্টর সমালোচক। গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে গিয়ে ‘নিখোঁজ’ হয়ে যান তিনি। তখন তুরস্কের তরফ থেকে বলা হয়, খাশোগিকে কনস্যুলেটে হত্যা করা হয়েছে।

প্রথমে সৌদি আরব এ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করে, খাশোগি কনস্যুলেট  থেকে বেরিয়েই গেছেন। পরে অবশ্য স্বীকারোক্তি দিয়ে দাবি করে, কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মারামারিতে প্রাণ হারিয়েছেন খাশোগি। সবশেষ সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের স্বীকার করেন, খাশোগি আসলে খুনই হয়েছেন।

এ নিয়ে প্রথম থেকেই সৌদির প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হচ্ছিলো। এমনকি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া কয়েকজন মোহাম্মদের খুব ঘনিষ্ঠ বলেও খবর মেলে বিভিন্ন সূত্রে।

বাদশাহ-যুবরাজ অভিযোগের বলয়ে থাকলেও সোমবার সৌদি প্রেস এজেন্সি জানায়, তারা দুজনেই খাশোগিপুত্র সালাহকে ফোন করে সমবেদনা জানিয়েছেন। তবে এর বাইরে বাদশাহ-যুবরাজ আর কিছু বলেছেন কি-না, তা জানা যায়নি।

নিউজবিডি৭১/বিসি/অক্টোবর ২৩২০১৮




ভারতে শবরীমালা মন্দিরে ঢুকতে চাওয়া রেহানা ফাতিমাকে মুরতাদ ঘোষণা কেরালা মুসলিম জামাত কাউন্সিলের

ডেস্ক রিপোর্ট 
নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকা : ভারতের কেরালায় শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশ করতে চেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন, এমন এক মুসলিম নারী অ্যাক্টিভিস্টকে ইসলাম থেকে বহিষ্কার করার কথা ঘোষণা করেছে সেখানকার প্রভাবশালী এক মুসলিম ধর্মীয় সংগঠন।

রাজ্যের প্রভাবশালী ধর্মীয় সংগঠন ‘দ্য কেরালা মুসলিম জামাত কাউন্সিল’ ঘোষণা করেছে- রেহানা ফাতিমা নামে ওই নারীর মুসলিম নাম ব্যবহার করার আর কোনও অধিকার থাকবে না।

‘লক্ষ লক্ষ হিন্দু ভক্তর ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার জন্যই’ কাউন্সিল রেহানা ফাতিমার বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে হাতিয়ার করে গত সপ্তাহে যে হাতেগোনা কয়েকজন নারী কেরালার শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশ করার চেষ্টা করেছিলেন, রেহানা ছিলেন তাদেরই একজন।

গত শুক্রবার, মন্দির খোলার পর তৃতীয় দিনে রেহানা ফাতিমা ও তার সঙ্গী কবিতা জাক্কালা নামে এক নারী সাংবাদিক শতাধিক পুলিশকর্মীর পাহারায় শবরীমালা মন্দিরের পাঁচশো মিটারের মধ্যে পৌঁছেও গিয়েছিলেন।

কিন্তু পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত ওই মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করার আগেই তুমুল বিক্ষোভের মুখে তাদের ফিরে আসতে হয়।

কেরালার একটি মসজিদ। রাজ্যের জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশই মুসলিমকেরালার একটি মসজিদ। রাজ্যের জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশই মুসলিম

এদিকে রেহানা ফাতিমা যখন শবরীমালার অভিমুখে ট্রেক করছেন, সে দিনই দুজন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী মোটরবাইকে চেপে এসে তার কোচি-র বাসভবনে হামলা চালায়।

সে সময় রেহানা সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, “আমার জীবনের ওপরও হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। এমন কী আমার বাচ্চারা নিরাপদে আছে কি না সেটাও জানি না!”

কিন্তু রেহানা ফাতিমা যেভাবে শবরীমালায় ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন, তার তীব্র নিন্দা জানাতে থাকে বিজেপি-সহ বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী দল।

তামিলনাডুতে বিজেপির সভাপতি টি সৌন্দরারাজন টুইট করেন, “শবরীমালা হল বিশ্বাসীদের উপাসনার জায়গা। কিন্তু বহু বছর ধরেই অবিশ্বাসী ও অ্যাক্টিভিস্টরা সেখানে গিয়ে অন্যের ধর্মবিশ্বাসকে নষ্ট করতে চাইছে।”

“অ্যাক্টিভিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতার ছদ্মবেশে অন্য ধর্মের মৌলবাদীরাও যেভাবে এখন সেখানে ঢুকতে চাইছে, আমি তাতে স্তম্ভিত। হিন্দুদের এভাবে আঘাত করার চেষ্টা অতি নিন্দনীয়।”

কেরালার খ্রিষ্টান বিধায়ক পি সি জর্জও দাবি তোলেন, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি নষ্ট করার অপরাধে ভারতীয় দন্ডবিধির ১৫৩(এ) ধারা অনুযায়ী রেহানা ফাতিমাকে গ্রেফতার করা উচিত।

শবরীমালা মন্দিরে নারীদের ঢুকতে দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ। অক্টোবর, ২০১৮শবরীমালা মন্দিরে নারীদের ঢুকতে দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ। অক্টোবর, ২০১৮

এর পরই ‘দ্য কেরালা মুসলিম জামাত কাউন্সিল’ সিদ্ধান্ত নেয় যে রেহানা ফাতিমাকে ইসলাম থেকেই বহিষ্কার করা হবে।

কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এ পুকুঞ্জু এক বিবৃতিতে বলেন, “তিনি যা করেছেন সেটা হিন্দুদের ধর্মবিশ্বাসের পরিপন্থী।”

“এর আগেও তিনি ‘কিস অব লাভ’ (প্রকাশ্যে চুম্বন) প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন। নগ্ন হয়ে সিনেমাতেও নেমেছেন। এরপর কোনও মুসলিম নাম নিয়ে চলার অধিকার তার নেই বলেই আমরা মনে করি।”

কাউন্সিল শুধু এতেই থেমে থাকেনি, এর্নাকুলাম সেন্ট্রাল মুসলিম জামাত-কেও নির্দেশ দিয়েছে রেহানা ফাতিমার পরিবারের (স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে) ‘মহল্লু সদস্যপদ’ও যেন খারিজ করে দেওয়া হয়।

ইতিমধ্যে রেহানা ফাতিমা নিজে দ্য হিন্দু পত্রিকাকে জানিয়েছেন, “আমি শবরীমালা মন্দিরের প্রধান পুরোহিতের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি, কারণ আমার মুসলিম নামকে ব্যবহার করে তিনি ধর্মীয় আবেগকে উসকানি দিচ্ছেন ও দাঙ্গা বাঁধাতে চাইছেন।”

শবরীমালায় ঢোকার চেষ্টায় রেহানা ফাতিমা (বাঁয়ে) ও কবিতা জাক্কালাশবরীমালায় ঢোকার চেষ্টায় রেহানা ফাতিমা (বাঁয়ে) ও কবিতা জাক্কালা

রেহানা আরও দাবি করেন, শবরীমালা একটি ধর্মনিরপেক্ষ তীর্থস্থান এবং সেখানে সব ধর্মের মানুষেরই প্রবেশাধিকার আছে।

শবরীমালা মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করার আগে হিন্দু তীর্থযাত্রীরা যেভাবে ৪১ দিন ধরে উপবাস করে থাকেন, সেভাবে তিনিও নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন বলে জানিয়েছেন রেহানা ফাতিমা।

রেহানা ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম সংস্থা বিএসএনএলের একজন কর্মী। এ বছরের মার্চ মাসে সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজের একটি ছবি পোস্ট করেও তিনি তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন।

ওই ছবিতে তাকে দেখা গিয়েছিল নিজের স্তনদুটি তিনি শুধুমাত্র দুটুকরো তরমুজ দিয়ে ঢেকে ক্যামেরার সামনে এসেছেন।

তার কিছুদিন আগেই কেরালার কোঝিকোড়ে একজন মুসলিম অধ্যাপক বলেছিলেন, “যে মুসলিম নারীরা হিজাব পরেন না, তারা নিজেদের স্তনদুটো কাটা তরমুজের মতো তুলে ধরতে চান।”

সেই মন্তব্যের প্রতিবাদেই রেহানা ফাতিমা ওই ছবি পোস্ট করেছিলেন বলে সে সময় জানান।

নিউজবিডি৭১/বিসি/অক্টোবর ২৩২০১৮




যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : দেশব্যাপী যৌন নিপীড়ন বিরোধী ‘হ্যাশট্যাগ মি টু’ আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগে বাধ্য হলেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর। একাধিক সাবেক নারী সহকর্মীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার (১৭ অক্টোবর) তিনি পদত্যাগ করেন। খবর এনডিটিভি।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমি আদালতে ন্যায় বিচার জন্য ব্যক্তিগত সমর্থে লড়াই করবো। আমার বিরুদ্ধে তোলা মিথ্যা অভিযোগগুলোকে চ্যালেঞ্জ করবো। এজন্য আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র দিয়েছি। আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজের প্রতি কৃতজ্ঞ দেশসেবার সুযোগ দেয়ার জন্য।’

টাইমস অব ইন্ডিয়া দিয়ে সাংবাদিকতা ক্যারিয়ার শুরু করা এম জে আকবর পরে কলকাতা থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক ‘দ্যা টেলিগ্রাফ’র সম্পাদক হন। তার বিরুদ্ধে প্রিয়া রামানি নামের এক নারী সাংবাদিক যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেন। প্রায় এক বছর আগে ভোগ ম্যাগাজিনের ভারত সংস্করণে প্রকাশিত প্রবন্ধে তিনি এই যৌন নির্যাতনের কথা বলেছিলেন।

টুইট বার্তায় প্রিয়া রামানি বলেন, ‘সেই ঘটনার জন্য দায়ী এম জে আকবর।’ এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকজন নারী যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন, যাদের বেশিরভাগই সাংবাদিক। তাদের অভিযোগ, মন্ত্রী আকবর সম্পাদক থাকাকালীন তারা যৌন হেনস্তার শিকার হন। গত ৮ অক্টোবর ভারতের দুই নারী সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন। এরপর তার দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নারী ও শিশু উন্নয়ন বিষয়কমন্ত্রী মণিকা গান্ধী এ ঘটনায় তদন্ত দাবি করেন।

তবে আকবর তার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। সাংবাদিক প্রিয়া রামনির বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও দায়ের করেন। গত রোববার এক বিবৃতিতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে পদত্যাগ করবেন না বলে জানান। কিন্তু নানাবিধ চাপে শেষ পর্যন্ত পদ ছাড়তে বাধ্য হলেন তিনি।

নিউজবিডি৭১/আ/অক্টোবর ১৭, ২০১৮




ভারতে হিন্দু মন্দিরে নারীর প্রবেশ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল সংঘাত এবং উত্তেজনা

ডেস্ক রিপোর্ট 
নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকাভারতের কেরালায় শবরীমালা মন্দিরে মেয়েদের ঢুকতে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তুমুল সংঘাত ও উত্তেজনা শুরু হয়েছে।

নারীদের প্রবেশ আটকাতে ওই মন্দিরকে ঘিরে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে ও জোর করে গাড়ি থেকে মেয়েদের নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি দেশের সুপ্রিম কোর্ট শবরীমালায় দশ থেকে পঞ্চাশ বছর বয়সী মেয়েদেরও ঢুকবার অনুমতি দিয়েছে – কিন্তু সেই রায়ের বাস্তবায়ন ঠেকানোর জন্য কেরালা জুড়ে বিজেপি-সহ বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী দলের নেতৃত্বে এখন প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর কাল বুধবারই প্রথম মন্দির খুলছে – আর যাবতীয় বাধাকে উপেক্ষা করে মন্দিরে ঢোকার প্রস্তুতিও নিয়েছেন অনেক নারী ও অ্যাক্টিভিস্ট।

কেরালার প্রাচীন শবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী বয়সের মেয়েদের ঢোকার ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তা খারিজ হয়ে যায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর।

কিন্তু মন্দির কর্তৃপক্ষ বা কেরালার হিন্দুত্ববাদী নানা সংগঠন সেই রায় মানতে আদৌ প্রস্তুত নন। তারা রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন করেই থেমে থাকেননি, শবরীমালা মন্দির যে পাহাড়ের ওপর সেটিকে ঘিরে তুমুল প্রতিবাদ আন্দোলন চালাচ্ছেন।

কেরালায় বিজেপির সভাপতি পি এস শ্রীধরন পিল্লাই বলছেন, “রাজ্যে এত বড় আন্দোলন আগে কখনও হয়নি। বিজেপি এখানে মানুষের দাবিকে সমর্থন করছে, কারণ তারা নিজেদের ধর্মবিশ্বাস রক্ষার জন্য লড়ছেন।”

ভক্তদের দাবি মেনে মেয়েদের প্রবেশ আটকানো না-হলে বিজেপি আরও বড় আন্দোলনের পথে যাবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এই বিক্ষোভে হাজার হাজার নারীও সামিল হয়েছেন সেটাও যেমন ঠিক – তেমনি আবার বুধবার মন্দির খুললে শবরীমালায় প্রথমবারের মতো প্রবেশ করতে উন্মুখও হয়ে রয়েছেন অনেক নারী।

তিরিশজন নারীর একটি দল শবরীমালা পাহাড়ের পাদদেশে গত কয়েকদিন ধরেই অবস্থান নিয়ে আছেন, তারা যেমন বলছিলেন প্রথম দিনেই তারা মন্দিরে ঢুকতে চান।

ভারতে অনেক হিন্দু মন্দিরেই মেয়েদের প্রবেশ করতে দেয়া হয় নাভারতে অনেক হিন্দু মন্দিরেই মেয়েদের প্রবেশ করতে দেয়া হয় না

কিন্তু মন্দিরে যেতে-চাওয়া মহিলাদের জোর করে আটকানোর জন্য রাজ্য জুড়ে এখন নানা তৎপরতা শুরু হয়েছে।

শবরীমালায় হিন্দুদের যে দেবতার আরাধনা করা হয়, সেই আয়াপ্পার নামে স্লোগান দিয়েই মেয়েদের ঠেকানোর দাবি তোলা হচ্ছে।

মন্দির-অভিমুখী সব রাস্তায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাসি চালানো হচ্ছে, গাড়িতে কোনও মেয়ে থাকলে তাদের নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

কেরালার এক শিক্ষিকা ফেসবুক পোস্টে মন্দিরে ঢোকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তার বাড়ি ঘিরে ধরে হুমকি দিয়ে গেছে গুন্ডারা।

শবরীমালা ট্রাস্টের এক সাবেক প্রধান হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মেয়েরা ওই মন্দিরে যেতে গেলে তাদের ‘বাঘে বা এমন কী মানুষেও খেয়ে নিতে পারে’।

কেরালার নারী অ্যাক্টিভিস্ট যোগিতার মতে, “রাজ্যে এখন যেটা চলছে তা পুরনো রীতি-রেওয়াজ ও কুসংস্কার বনাম বিপ্লবের লড়াই।”

প্রার্থনারত এক ভারতীয় হিন্দু নারী।প্রার্থনারত এক ভারতীয় হিন্দু নারী।

সংবিধান ও আদালতকে কীভাবে অগ্রাহ্য করার সাহস দেখানো হচ্ছে, সেটাই তার মাথায় ঢুকছে না – কিন্তু কেরালারই আর এক পরিচিত মুখ রাহুল ঈশ্বর মনে করেন এখানে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার তাদের অবশ্যই আছে।

মি ঈশ্বর জানাচ্ছেন, “হাজার হাজার ভক্ত দরকারে কাল রাস্তায় শুয়ে পরে, মাথায় ফেট্টি লাগিয়ে শবরীমালায় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রুখবেন যে কোনও মূল্যে।”

তবে কেরালার বামপন্থী সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পিন্নারাই বিজয়ন আশ্বাস দিয়েছে, আইন কাউকে নিজের হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না।

রাজ্যে এখন যে দলের সরকার, সেই সিপিএমের নেত্রী বৃন্দা কারাট বিবিসিকে বলছিলেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মূল কথাটাই হল একজন ভক্তের সঙ্গে তার লিঙ্গের কারণে কোনও বৈষম্য করা যাবে না।”

“একজন নারী মন্দিরে যেতে চান কি না সেটা অন্য প্রশ্ন, কিন্তু তার সেই অধিকারটা তো থাকতে হবে। বিজেপির মতো যারা শবরীমালায় মেয়েদের ঢোকার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে তাদের এই জিনিসটাই বোঝা দরকার।”

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও তাই কাল শবরীমালাতে মেয়েরা আদৌ প্রবেশ করতে পারেন কি না, টানটান উত্তেজনার মধ্যে কেরালা এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে।

নিউজবিডি৭১/বিসি/অক্টোবর ১৭, ২০১৮




খাশোগজি হত্যাকান্ড: যে পাঁচ কারণে সৌদি আরবকে ঘাঁটাতে চাইবে না পশ্চিমা দেশগুলো

ডেস্ক রিপোর্ট 
নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকা : যে অপরাধে অন্য কোন দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা দেশগুলো কঠোর ব্যবস্থা নেয়, সৌদি আরবের ক্ষেত্রে কেন সেটি দেখা যায় না?

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগজি নিখোঁজ হওয়ার পর এই প্রশ্ন হয়তো অনেকের মনেই আবার জাগছে।

যেভাবে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর জামাল খাসোগজিকে হত্যা করা হয়েছে বলে বলা হচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা দেশগুলোকে বেশ বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে।

অনেক দেশেই নতুন করে দাবি উঠছে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে বিবেচনার, কেউ কেউ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কথাও বলছেন।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা দেশগুলো কি আসলেই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কোন অবস্থাতেই নিষেধাজ্ঞা জারি করবে? যদি না করে, তার কারণ কী?

১. তেলের সরবরাহ এবং দাম

বিশ্বে তেলের মওজুদের ১৮ শতাংশ হচ্ছে সৌদি আরবে। তারাই বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রফতানিকারক দেশ। এটি সৌদি আরবকে বর্তমান বিশ্বে বিপুল ক্ষমতা এবং প্রভাব খাটানোর সুযোগ করে দিয়েছে।

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রির ব্যবসা হারাতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র

যেমন ধরা যাক, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কোন নিষেধাজ্ঞা জারি করলো। তখন সৌদি আরব তাদের তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিতে পারে। এর ফলে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাবে, যদি না অন্যদেশগুলো তাদের উৎপাদন বাড়িয়ে তেলের সরবরাহ একই পর্যায়ে রাখতে পারে।

সৌদি সরকারের মালিকানাধীন আল আরাবিয়া টেলিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার তুরকি আলদাখিল গত রোববার একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছেন। এতে তিনি লিখেছেন, “সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে সেটা এমন এক অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করবে, যা গোটা দুনিয়াকে কাঁপিয়ে দেবে।”

তিনি আরও লিখেছেন, “তেলের দাম ৮০ ডলার হলেই যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষেপে যান, তাহলে এটি যে একশো বা দুশ ডলার হতে পারে, এমনকি তারও দ্বিগুণ হতে পারে, সেই সম্ভাবনা কারও উড়িয়ে দেয়া উচিৎ হবে না।”

প্রতি ব্যারেল তেলের দাম বৃদ্ধির এই ধাক্কা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে আসবে, পেট্রোল পাম্প থেকে চড়া মূল্যেই তেল কিনতে হবে সবাইকে।

২. অস্ত্র ব্যবসা

২০১৭ সালে অস্ত্র কেনায় যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করেছে, তাতে সৌদি আরব ছিল তিন নম্বরে। সুইডেনের ‘স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের’ হিসেব এটা।

গত বছর কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেই ১১ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র কেনার চুক্তি করেছে সৌদি আরব। আগামী দশ বছরে এই অস্ত্র ক্রয়ের খরচ শেষ পর্যন্ত দাঁড়াতে পারে ৩৫ হাজার কোটি ডলার। হোয়াইট হাউজের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এত বিশাল অংকের অস্ত্র কেনার চুক্তি আর কখনো হয়নি। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানিও বিরাট অংকের অস্ত্র ব্যবসা করছে সৌদি আরবের সঙ্গে।

মিস্টার আলদাখিলের সম্পাদকীয়তে এমন ইঙ্গিত আছে যে পশ্চিমা দেশগুলো কোন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সৌদি আরব তখন চীন আর রাশিয়ার কাছে যাবে অস্ত্র কেনার জন্য।

সৌদি আরব যাদের কাছ থেকে অস্ত্র কেনে
সৌদি আরব যাদের কাছ থেকে অস্ত্র কেনে

৩. নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ

পশ্চিমা দেশগুলো আরেকটি যুক্তি দেখায় যে সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ঠিক রাখা এবং সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইয়েমেনের যুদ্ধে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যখন যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠে তারপরও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে এই একই যুক্তি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “সৌদি আরব ব্রিটেনের রাস্তাঘাট নিরাপদ রাখতে সাহায্য করছে।”

সৌদি আরব হচ্ছে ইসলামের জন্মস্থান। ইসলামিক স্টেট জঙ্গী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যে আন্তর্জাতিক জোট হয়েছে, তার অন্যতম সদস্য সৌদি আরব। গত বছর ৪০টি মুসলিম দেশকে নিয়ে সৌদি আরব আরেকটি জোটও গড়ে তুলেছে সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে।

মিস্টার আলদাখিলের ধারণা যদি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পশ্চিমারা কোন নিষেধাজ্ঞা দেয় তাহলে দুই পক্ষের মধ্যে এই বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের আদান-প্রদান একটা অতীতের ব্যাপারে পরিণত হবে।

বাদশাহ সালমানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পমধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হচ্ছে সৌদি আরব

৪. আঞ্চলিক জোট

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব খর্ব করতে সৌদি আরব বহুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে। গত কয়েক দশক ধরেই সুন্নী সৌদি আরব এবং শিয়া ইরানের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলছে মধ্যপ্রাচ্যের নানা জায়গায়।

সিরিয়ার লড়াইয়ে সৌদি আরব সমর্থন দিচ্ছে সেই সব গোষ্ঠীকে, যারা প্রেসিডেন্ট আসাদকে উৎখাত করতে চায়। অন্যদিকে ইরান আবার রাশিয়ার সঙ্গে মিলে প্রেসিডেন্ট আসাদকে সাহায্য করছে এই যুদ্ধের মোড় তার পক্ষে ঘুরিয়ে দেয়ার জন্য।

মিস্টার আলদাখিল তার সম্পাদকীয়তে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন যে যুক্তরাষ্ট্র কোন নিষেধাজ্ঞা জারি করলে সৌদি আরবের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক ভালো হবে এবং নতুন অস্ত্র চুক্তি তখন ইরানের সঙ্গে সৌদি সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে পারে এমনকী তাদের মধ্যে সমঝোতা পর্যন্ত হতে পারে।

৫. বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ

সৌদি আরবসৌদি ব্যবসা-বাণিজ্য হারাতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র সহ অনেক দেশ

সৌদি আরবের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসা হারাতে পারে বলেও হুঁশিয়ার করে দিচ্ছেন মিস্টার আলদাখিল।

বর্তমানে সৌদি আরবে মার্কিন পণ্য এবং সেবাখাত প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করে। এই ব্যবসার বিরাট অংশ যুক্তরাষ্ট্রের অনুকুলে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দফতরের হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক লাখ ৬৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান নির্ভর করছে এই বাণিজ্যের ওপর।

এ বছরেরই আগস্ট মাসে সৌদি আরব কানাডার সঙ্গে সব নতুন ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছিল। কারণ কানাডা এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল সেদেশে নারী অধিকার এবং মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলায় তাদের আটক করা হয়েছিল, তাদের যেন মুক্তি দেয়া হয়। সৌদি আরব তখন ক্ষিপ্ত হয়ে একে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে বর্ণনা করে।

সৌদি আরব শুধু কানাডা থেকে শস্য আমদানিই বন্ধ করেনি, তারা সৌদি সরকারের বৃত্তি নিয়ে যে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পড়তে গিয়েছিল, তাদের সবাইকে ফিরে আসার নির্দেশ দেয়।

নিউজবিডি৭১/বিসি/অক্টোবর ১৭, ২০১৮




ফান্সে হঠাৎ বন্যায় প্রাণ গেল ঘুমন্ত ব্যক্তির, নিহত ১৩

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : ফ্রান্সে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৩ জন মারা গেছেন। এদের মধ্যে একজন ঘুমন্ত অবস্থায় ভেসে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। সোমবার দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় ওদে এলাকায় আকস্মিক অতি বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট এ বন্যায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। বিবিসি, রয়টার্স।

ওদের স্থানীয় সরকার প্রধান অ্যালান থিরিওন বলেন, রাতে কয়েক ঘন্টার মধ্যে কয়েক মাসের সমপরিমাণ বৃষ্টিপাতে এ ঘটনা ঘটেছে।আবহওয়া পরিষ্কার হলেই উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারগুলো উদ্ধার অভিযান শুরু করবে।

‘দুর্গত মানুষ বাড়ির ছাদে আটকা পড়ে আছে। তাদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে, কারণ পানির তীব্র স্রোতের কারণে নৌকা দিয়ে সেখানে যাওয়া যাবে না। খুব বিপজ্জনক অবস্থা,’ বলেন থিরিওন।

থিরিওন জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে অন্তত একজন ঘুমের মধ্যেই পানির প্রচণ্ড তোড়ে ভেসে গেছেন। সতর্কতা ছাড়া হঠাৎ বন্যার মুখে পড়ে কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পানি কয়েকটি বাড়ির দোতালার জানালা পর্যন্ত উঠে গেছে।

নিউজবিডি৭১/আ/অক্টোবর ১৫, ২০১৮




সৌদি আরবকে কঠোর শাস্তি দেওয়ার হুঁশিয়ারী যুক্তরাষ্ট্রের

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : নিখোঁজ সাংবাদিক জামাল খাসোগি যদি খুন হয়ে থাকেন এবং এর পেছনে রিয়াদের হাত থাকলে সৌদি আরবকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি নিখোঁজ ইস্যুতে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক সম্মেলন বর্জন করার কথা ভাবছে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন টেলিভিশন চ্যানলে সিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, আমরা তদন্ত করছি এবং সংশ্লিষ্টতা পেলে কঠোর শাস্তি পাবে সেীদি।

ট্রাম্প বলেন, আমরা জানি না খসোগিকে হত্যা করা হয়েছে কিনা। তবে পরিস্থিতি খুব শক্তভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এসময় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি স্থগিত করলে রাশিয়া ও চীন এর সুযোগ নিতে পারে। তাই দেশটিকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন পথে হাঁটতে চান তিনি।

নিউজবিডি৭১/আ/অক্টোবর ১৪, ২০১৮




যৌন হয়রানির অভিযোগে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : ভারতে চলমান মি টু আন্দোলনে অভিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর পদত্যাগ করেছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যম খবর দিয়েছে। সম্প্রতি মি টু আন্দোলনে কয়েকজন নারী সাংবাদিক সাবেক এই সম্পাদকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে রোববার দেশে ফিরে তিনি পদত্যাগ করলেন। দ্য স্টেটসম্যানসহ কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ই মেইলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন আকবর। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তা গ্রহণ করেছে কিনা তা নিশ্চিত করেনি গণমাধ্যম।

এর আগে দিশে ফিরে বিমানবন্দর থেকে এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই মূহুর্তে কোনো বিবৃতি দেবেন না বলে জানান এম জে আকবর।

অভিযোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে পরে বিবৃতি দেয়া হবে। গত কয়েকদিনে এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকজন নারী সাংবাদিক যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন।

তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ আমলে নিয়েছে বিজেপি। যদিও দলের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

নিউজবিডি৭১/আ/অক্টোবর ১৪, ২০১৮




তিতলির প্রভাবে শাহপরীর দ্বীপের শতাধিক ঘর-বাড়ি সাগরে

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে অব্যাহত বৃষ্টি ও উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের আঘাতে শাহপরীর দ্বীপে নতুন করে ভয়াবহ ভাঙন ধরেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে শতাধিক ঘর-বাড়ি বিলীন এবং চলাচলের রাস্তা বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে টেকনাফের উপজেলা প্রশাসন শাহপরীর দ্বীপের ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে। নতুন করে শাহপরীর দ্বীপ ভাঙনে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে সাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে, দ্বীপের বেড়িবাঁধটি সম্পূর্ণ না হওয়ায় চলতি বর্ষা মৌসুমে শাহপরীর দ্বীপ এলাকা পানিবন্দী হয়ে থাকে। যার কারণে মাটিগুলো নরম ছিল।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও শাহপরীর দ্বীপ আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ সোনা আলী জানান, প্রধানমন্ত্রী শাহপরীর দ্বীপ বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ১০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন গত বছর।

এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সেই বাঁধের কাজ চলছে এখন। বেড়িবাঁধের কাজ প্রায় এক কিলোমিটার শেষ হয়েছে। আরও দুই কিলোমিটার বাঁধ এখনও অরক্ষিত রয়ে গেছে। অরক্ষিত অংশ দিয়ে গেল দুইদিন ধরে ঢেউয়ের আঘাতে শাহপরীর দ্বীপ মাঝেরপাড়া, জাইল্যাগোদা ও দক্ষিণপাড়ার শতাধিক ঘরবাড়ি পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

ঘরছাড়া মানুষগুলো কোনও জায়গা না পেয়ে খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টিতে ভিজে দিন পার করছে। বিষয়টি আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় চাকমাকে অবহিত করেছি।তিনি দ্রুত সাহায্য পাঠানো হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।

তিনি আরও জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বেড়িবাঁধ নির্মাণের ঠিকাদার আন্তরিক হলে দ্বীপের দক্ষিণ অংশের ক্ষয়-ক্ষতি অনেক রোধ করা সম্ভব হতো। বর্তমানে বিপদকালীন সময়ে সেখানে ভালোভাবে জিও ব্যাগ দিলে এলাকাগুলো সাগরের জোয়ারের থাবা থেকে রক্ষা পাবে।
এদিকে উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের আঘাতে শাহপরীর দ্বীপে নতুন করে ভয়াবহ ভাঙনের খবর পেয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল হাসান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় চাকমা গতকাল বৃহষ্পতিবার বিকেলে শাহপরীর দ্বীপ পরিদর্শনে যান।

এসময় তিনি বলেন যাদের ঘর-বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে তাদের বসতভিটার জমি যদি খতিয়ানভুক্ত হয়ে থাকে তাদের সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত দিয়ে বসতি করার সুযোগ দেয়া হবে। যাদের কাগজপত্র নেই তাদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’র প্রভাবে বিলীন হওয়া শাহপরীর দ্বীপ মাঝেরপাড়া এলাকার একটি মসজিদসহ প্রায় ১০টি বসতবাড়ি বিলীন হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান জানান, আগে থেকে পানিবন্দি থাকায় মাটিগুলো ভেজা ছিল।এরই প্রেক্ষিতে সাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়েকটি বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে। সেইসঙ্গে চার পরিবার, একটি মসজিদ ও মাদরাসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এ মসজিদ-মাদরাসাটি আগে থেকেই ক্ষতিগস্ত ছিল।

নিউজবিডি৭১/আ/অক্টোবর ১২, ২০১৮




যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ঘূর্ণিঝড়ে নিহত ৬

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় মাইকেলে কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছে। এতে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এরা বেশিরভাগই ফ্লোরিডার বাসিন্দা।

ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর রিক স্কট বলেছেন, রাজ্যটিতে ‘অকল্পনীয় ধ্বংসযজ্ঞ’ চালিয়েছে হারিকেন মাইকেল। এতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ২৭ জনকে বিপজ্জনক অবস্থা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মাইকেলের তাণ্ডবে অনেকের জীবন একেবারেই বদলে গেছে, অনেক পরিবার সব হারিয়েছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বুধবার ঘণ্টায় আড়াইশ কিলোমিটার গতির বাতাস নিয়ে আছড়ে পড়া মাইকেল উপকূল সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর অসংখ্য ভবন ও গাছ গোড়া থেকে উপড়ে ফেলেছে।

মাইকেলের কারণে ফ্লোরিডা, আলাবামা, ক্যারোলাইনা ও জর্জিয়ার ৯ লাখেরও বেশি বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

হারিকেনটির আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ফ্লোরিডার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে। ঝড়টি এখন দুর্বল হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

মাইকেলে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা।

ক্ষতি এড়াতে ঝড়ের আগেই তিন লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশনা দেয়া হয়।

ফ্লোরিডার গভর্নর স্কট বুধবার রাতেই জরুরি বিভাগের কর্মীরা ১০টি অভিযান চালিয়ে অন্তত ২৭ জনকে উদ্ধার করে বলে জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানা অন্যতম শক্তিশালী এ ঝড়টি সেদিন স্থানীয় সময় দুপুরেই মেক্সিকো বিচ শহরের কাছে ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডেলে আছড়ে পড়েছিল।

আঘাত হানার সময় পাঁচ মাত্রার প্রায় কাছাকাছি শক্তি ধারণ করা মাইকেলের কারণে বিভিন্ন এলাকায় ৯ ফুট পর্যন্ত উঁচু ঢেউ দেখা গেছে।

অসংখ্য গাছ পড়ে রয়েছে মেক্সিকো বিচের উত্তর-পশ্চিমের শহর পানামা সিটিতে।

আপালাচিকোলা শহরও তছনছ হয়ে গেছে। ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তারের কারণে সেখানে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র।

নিরাপদে সরে যাওয়া বাসিন্দাদের এখনই বাড়ি না ফিরতেও অনুরোধ করেছেন গভর্নর স্কট।

যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে আছড়ে পড়ার আগে মাইকেল মধ্য আমেরিকার দেশগুলোতেও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

ঘূর্ণিঝড়টির তাণ্ডবে নিকারাগুয়া, হন্ডুরাস ও এল সালভাদরে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

নিউজবিডি৭১/এম কে/অক্টোবর ১২, ২০১৮