‘হবিগঞ্জে কিশোর সত্যজিৎ হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড’

নিউজবিডি৭১ডটকম
আজিজুল ইসলাম সজীব,হবিগঞ্জ করেসপন্ডেন্ট : হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বহুল আলোচিত সত্যজিৎ হত্যা মামলায় অরবিন্দু দাশ (২৯) নামের এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তার সম্পত্তি বিক্রি করে তা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১০ অক্টোবর) জেলা ও দায়রা জজ আমজাদ হোসেন এ রায় দেন। উক্ত মামলার অপর ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।দন্ডপ্রাপ্ত অরবিন্দু দাশ (৩৩) নবীগঞ্জ উপজেলা চৌকি গ্রামের মনিন্দ্র দাশের পুত্র ।

আর নিহত সত্যজিৎ দাস বানিয়াচং উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের প্রবাসী নকুল দাশের পুত্র।

এ মামলায় খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- চৌকি গ্রামের মৃত অক্ষয় দাশের ছেলে অনীল দাশ (৪২) ও সুনীল দাশ (৪৮), একই গ্রামের নৃপেন্দ্র দাশের ছেলে নীরেশ দাশ (২৫), সঞ্জু দাশের ছেলে সুবেন্দ দাশ (২৫), মৃত নারায়ণ দাশের ছেলে প্রদীপ দাশ (৪০), নিবারণ দাশের ছেলে নেপাল দাশ (২৮), মনীন্দ্র দাশের স্ত্রী বিপুলা রাণী দাশ (৫৫) ও তার ছেলে মলয় দাশ (৩২)।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে বানিয়াচং উপজেলার চন্ডীপুর গ্রামের প্রবাসী নকুল দাশের ছেলে সত্যজিৎ দাশ (১৪) চৌকি গ্রামে কীর্তন দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এর চারদিন পর ১৫ ফেব্রুয়ারি চন্ডীপুর গ্রামের শ্মশানের পার্শ্ববর্তী ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরদিন সত্যজিতের বোন অলিকা রাণী দাশ বাদী হয়ে চৌকি গ্রামের অরবিন্দুসহ ওই ৯ জনকে আসামী করে নবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিবরণে করেন, দণ্ডপ্রাপ্ত অরবিন্দু দাশ আসামী ১ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে তার ভাইকে হত্যা করেছেন।
তদন্ত শেষে একই বছরের ১৩ জুন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মার্কুলী পুলিশ ফাঁড়ির সেই সময়ের উপ পরিদর্শক (এসআই) একরামুল হক নয়জনকেই অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বুধবার এ রায় দেন আদালত।

বাদীপক্ষের আইনজীবী হবিগঞ্জ জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তির উপযুক্ত শাস্তি হয়েছে। রায়ে বাদীপক্ষের পরিবারও আনন্দিত।

অ্যাডভোকেট মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবালসহ কয়েকজন আইনজীবী আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন।

নিউজবিডি৭১/আ/অক্টোবর ১১, ২০১৮




হবিগঞ্জে ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নিউজবিডি৭১ডটকম
আজিজুল ইসলাম সজীব,হবিগঞ্জ করেসপন্ডেন্ট : হবিগঞ্জে ৩ দিনব্যাপী ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই মেলার উদ্বোধন করেন তিনি।

উদ্বোধনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নের স্বপ্ন সারাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলব ইনশাল্লাহ।

তিনি আরো বলেন, এবারের উন্নয়ন মেলাকে তরুণদের উদ্দেশ্যে উৎস্বর্গ করা হয়েছে। এই উন্নয়ন মেলা থেকে শিক্ষা নিয়ে তরুণেরা নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার করার পাশাপাশি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই দেশের একটি মানুষ ও দরিদ্র থাকবে না। সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে তার সরকার। এ সময় তিনি বিভিন্ন জেলায় উপকারভোগীদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন।

এর আগে সকাল ৯টায় হবিগঞ্জ কালেক্টরেট ভবনের নিমতলা মেলা প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্র বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালিতে একটি হাতি সহকারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ব্যান্ডপার্টি নিয়ে অংশ নেয়।

শোভাযাত্রায় হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মোঃ আবু জাহির এমপি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ইতি রাণী পোদ্দার, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবির মুরাদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কুদ্দুছ আলী সরকার, সিভিল সার্জন ডাঃ সুচিন্ত চৌধুরীসহ সরকারি কর্মকর্তা, ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং নানা শ্রেণি-পেশার লোকজন অংশ নেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জের উন্নয়ন মেলায় ৯৫টি স্টল তৈরি করা হয়েছে। এর মাঝে সরকারি প্রতিষ্ঠান ৭৫টি এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের স্টল রয়েছে ১৮টি।

২৮টি স্টলে সরাসরি সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এর মাঝে রয়েছে অন লাইনে নামজারী, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ই-সেবার আবেদন গ্রহণ, পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ, আয়কর রিটার্ন দাখিল এবং ইটিআইএন খোলা, স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা সেবা প্রদান, বিদ্যুতে সংযোগ প্রদানসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা।

নিরাপত্তার জন্য মেলায় রয়েছে সিসিটিভি। এখানে সবাই ফ্রি ওয়াই ফাইর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন।মেলায় আইসিটি সমাবেশ ছাড়াও প্রতিদিন আলোচনা সভা থাকবে।

আলোচনা সভায় জেলার বিশিষ্ট আলোচকরা অংশ নিবেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পর্যায়ক্রমে মেলা পরিদর্শন করবেন এবং তাদের জন্য থাকবে কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের ব্যবস্থা।

প্রতিদিন সন্ধ্যায় মেলায় জাতীয় পর্যায়ের ও স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হবে। তবে হবিগঞ্জের লোকজ সংস্কৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে এই সকল অনুষ্ঠানে। মেলার সমাপনী দিনে আশিক সঙ্গীত পরিবেশন করবেন।

মেলায় মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধ নামে একটি কর্ণার রয়েছে। সেখান থেকে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে ধারনা প্রদান করা হচ্ছে। মেলায় ব্যাংকের বুথ থাকবে।

যার ফলে সহজেই আয়করের রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব হবে।জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ জানান, মেলায় প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার লোকের সমাগম হবে বলে প্রত্যাশা করছি।

প্রতিকুল আবহাওয়া এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়টি মাথায় রেখে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্টলগুলোতে টিনের ব্যবহার এর ফলে বৃষ্টিতে বড় ধরনের কোন সমস্যা হবে না।

তিনি আরও জানান, উন্নয়ন মেলায় বিগত ১০ বছরে জেলায় কোন বিভাগ কি কাজ করেছে তার একটি স্পষ্ট ধারনা প্রদান করা হবে।

নিউজবিডি৭১/আ/অক্টোবর ০৪, ২০১৮




হবিগঞ্জে কিশোরীকে গণধর্ষণ

নিউজবিডি৭১ডটকম
আজিজুল ইসলাম সজীব,হবিগঞ্জ করেসপন্ডেন্ট : হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ১১নং মক্রমপুর ইউনিয়নে জনৈক্য কিশোরী (১২) কে গণধর্ষণ করেছে দুই লম্পট। গত রাতে উপজেলার রতনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের জনৈক্য কিশোরীর সঙ্গে একই গ্রামের সাইদুর মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সাইদুর তাকে প্রলোভন দেখিয়ে ঘটনার গভীর রাতে ঘর থেকে ওই গ্রামের খোয়াই নদীর চরে নিয়ে যায়। সেখানে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে প্রেমিক সাইদুর মিয়া ও তার বন্ধু জাহাঙ্গীর মিয়া।

বিষয়টি আচ করতে পারে স্থানীয় একটি বিলে পাহারারত ইজারাদার। তিনি ওই কিশোরী শোর চিৎকারে শোনে এগিয়ে যান। এগিয়ে ওই কিশোরীকে মাঠিতে পড়ে থাকতে দেখেন।

পরে স্থানীয় কয়েকজনকে খবর দিয়ে তারা মেয়েটিকে উদ্ধার করে বাড়ীতে নিয়ে যায়। পরে সকাল ৮টার দিকে স্থানীরা তাকে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করেন।

বিষয়টি বানিয়াচং থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে সুজাতপুর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ আল আমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ ঘটনায় ধর্ষিতার স্বীকার কিশোরীর পক্ষ থেকে গতকাল রাতে বানিয়াচং থানায় ওই দুই লম্পটকে আসামী করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

নিউজবিডি৭১/আ/অক্টোবর ০১, ২০১৮




হবিগঞ্জে এমপি আবু জাহিরকে সংবর্ধনা

নিউজবিডি৭১ডটকম
আজিজুল ইসলাম সজীব,হবিগঞ্জ করেসপন্ডেন্ট : হবিগঞ্জে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্পাদন করায় হবিগঞ্জ সদর, লাখাই, শায়েস্তাগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মোঃ আবু জাহিরকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

আজ রবিবার দুপুরে শহরতলীর ধুলিয়াখালস্থ আইডিয়াল হাইস্কুল ভাদৈ এর পক্ষ থেকে এই সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন সংবর্ধিত ব্যক্তিত্ব এডভোকেট মোঃ আবু জাহির এমপি। এর আগে ওই প্রতিষ্ঠানটিতে একাডেমিক ভবন নির্মাণসহ ব্যাপক উন্নয়ন করায় তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোসহ একটি সোনার নৌকা উপহার দেয়া হয়। এছাড়াও কয়েকজন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে সোনার ম্যাডেল তুলে প্রধান অতিথি।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রোটারিয়ান এমএ রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি’র বক্তৃতা করেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ হবিগঞ্জের সভাপতি এডভোকেট মোঃ আবুল খায়ের, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অনীল কৃষ্ণ মজুমদার, গোপায়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আক্তার হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইডয়াল হাইস্কুল ভাদৈ এর প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ আনজুমান আরা বেগম। অনুষ্ঠান যৌথভাবে পরিচালনা করেন বিদ্যালযের শিক্ষক পরিন্দ্র চন্দ্র দাশ ও পারভীন আক্তার।

প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় এমপি আবু জাহির বলেন, অবহেলিত এক অঞ্চলের নাম ছিল হবিগঞ্জ। বিগত প্রায় ১০ বছরে আমরা এই জেলাকে আলোকিত এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছি। সকল ক্ষেত্রেই অভাবনীয় উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্ভব হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার কারণে। এই সকল উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনেও নৌকায় ভোট দেয়ার আহবান জানান তিনি।

নিউজবিডি৭১/আ/সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮




হবিগঞ্জে আনসার নিয়োগে বিভিন্ন পন্থায় চলছে মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্য

নিউজবিডি৭১ডটকম
আজিজুল ইসলাম সজীব,হবিগঞ্জ করেসপন্ডেন্ট : হবিগঞ্জে আনসার নিয়োগে বিভিন্ন পন্থায় চলছে মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্য। টাকা দিলে হয় আনসারের চাকুরী। শুক্রবার হবিগঞ্জে জেলা আনসার ভিডিপি অফিসে ছিল আনসার নিয়োগের চুড়ান্ত যাচাই-বাচাইয়ের দিন।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত সার্কেল এ্যাডজুটেন্ড মোঃ শাহ আলম জানান, হবিগঞ্জ জেলার ৭শ’ ৩৫ জন পুরুষ অনলাইনের মাধমে তাদের আবেদনপত্র জমা দেন। শুক্রবার হেড অফিস থেকে টিম এসে আবেদনপত্র বাছাই করেন। আবেদনকারী সকলকেই পরীক্ষায় অংশ নিতে সযোগ করে দয়ে উক্ত বাছাই কমিটি। আগামী ২ অক্টোবর সিলেট আকালিয়া আনসার অফিসে তাদের পরীক্ষা নেয়া হবে। পরীক্ষায় কতজন আনসারকে উত্তীর্ণ দেখানো হবে তিনি তা জানা নাই বলে জানান।

তবে অনসার বিভাগের অপর এক কর্মকর্তা জানান, এবার হবিগঞ্জ থেকে ৫৯ জন আনসার নিয়োগ দেয়া হবে।

বাছাই করে আবেদনকারীদের আগামী ২ অক্টোবর সিলেট আকালিয়া আনসার অফিসে তাদের লিখিত ও মুখিক পরীকক্ষা নেয়া হবে। উক্ত পরীক্ষায় উত্তির্ণদের প্রশিক্ষণের পর চাকুরীতে নিয়োগ দেয়া হবে।

এ দিকে একটি সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জে আনসার নিয়োগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্ন পন্থায় আনসারেদের কাছ থেকে মোটা অংকে ঘুষ নিচ্ছে এ বিষয়টি জানতে চাইলে শাহ আলম বলেন, ঘুষ দেয়া নেয়া হয় তা আমার জানা নাই। তবে আমি নিয়োগ কমিটিতে নাই। হেড অফিস থেকে সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়াটি পরিচলনা করা হচ্ছে।

নিয়োগ কমিটির নিকট অনুরোধ করা হয় চাকুরীর জন্য আর এ সুযোগে আনসারের কাছ থেকে নেয়া হয় মোট অংকের টাকা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কমিটি যদি কারো অনুরোধ গ্রহণ করে তাহলে এমনটি হতে পারে।

তিনি বলেন, পূর্বে আনসার নিয়োগে ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্য হতো। এটি বন্ধের জন্য হেড অফিসের হাতে নিয়োগ পদ্ধতি ন্যাস্ত করা হয়েছে এবং নিয়োগের সকল প্রক্রিয়াই অনলাইনে করা হচ্ছে।

একটি সূত্রে জানা যায়, কিছু ইউনিয়ন আনসার ভিডিপি দলনেতা তারা আনসারের চাকুরী দেয়ার নামে চুক্তি করেন ৮০ থেকে ১ লাখ টাকা। চুক্তি ভিত্তিক আনসার ভিডিপির দল নেতারা স্থানীয় আনসার অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগ সাজেসে আনসারের প্রশিক্ষণে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

এর পর ভিডিপি নেতারা ঘুষেরে বিষয়টি গোপন রেখে উর্ধ্বতন অফিসারদের অনুরোধ করে চাকুরীর ব্যবস্থ করেন। তাছাড়া দু’এক শ্রেণি পড়েছে এমন লোককে ভূয়া স্কুল সার্টিফিকেট দিয়ে হাতিয়ে নেন আরো বিপুল অর্থ। একটি চাকুরীর জন্য গ্রামের অসহায় দরিদ্র মানুষ এভাবেই প্রতারিত হচ্ছেন তাদের হাতে। তাদের ঘুষের টাকা যোগার করতে আনসার সদস্যরা মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদ দিয়ে টাকা আনতে হচ্ছে।

মোঃ শাহ আলম জানান, ঢাকা হেড অফিস থেকে পরীক্ষার্থীদের মোবাইল ফেনে এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষার ফলাফল জানানো হবে। পরীক্ষায় উত্তির্ণ হওয়া আনসারদের ৬ অক্টোবর শফিপুর আনসার একাডেমীতে ৭০ দিনের একটি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে তাদের মোবাইলে এসএমএস দিয়ে জানানো হবে। প্রশিক্ষণের শেষে তাদেরকে বিভিন্ন জেলায় চাকুরীতে নিয়োগ দেয়া হবে।

নিউজবিডি৭১/আ/সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮




হবিগঞ্জে বিস্ফোরক উদ্ধার: বিএনপির নেতাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিউজবিডি৭১ডটকম
আজিজুল ইসলাম সজীব,হবিগঞ্জ করেসপন্ডেন্ট : হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা থেকে বিভিন্ন ধরণের অসংখ্য বিস্ফোরক জব্দ করেছে লাখাই থানা পুলিশ। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদসহ ১২ জনকে আসামী নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় এই তথ্য নিশ্চিত করেন লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ এমরান হোসেন।

সূত্রে জানা যায়, এর আগে দিবাগত রাতে লাখাই উপজেলার বুল্লা বাজার এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক হচ্ছে: ২টি পেট্রোল বোমা , ১টি বারুদ ভর্তি টিনের বক্স এবং ২০টি চকলেট বোমা।

এ ব্যাপারে লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)এমরান হোসেন আরো জানান, গোপন সূত্রে সংবাদ জানতে পাড়েন বুল্লা বাজার এলাকায় ৬০ থেকে ৭০ জন লোক নাশকতা পরিকল্পনার জন্য গোপন বৈঠক করছে।

এ সংবাদ পেয়ে সাথে সাথে একদল পুলিশ উল্লিখিত স্থানে অভিযান চালালে তারা পালিয়ে যায়। পরে ওই এলাকায় ব্যাপক তল্লাসী চালিয়ে উল্লেখিত পরিমাণ বিস্ফোরক জব্দ করা হয়।

এ ব্যাপারে লাখাই থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার বাদী হয়ে উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাকসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এবং আসামীদের গ্রেফতারে জন্য বিভিন্ন স্থানে পুলিশের বিশেষ টিম অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

নিউজবিডি৭১/আ/সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮




হবিগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকা : হবিগঞ্জে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকালে সদর উপজেলার পইল নাজিরপুর গ্রাম থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ওই মহিলা নাজিরপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী সঞ্জব আলীর স্ত্রী সাজেরা খাতুন (৫০)। তার মুখে কাপড় গোঁজা রয়েছে বলেও জানা গেছে। স্থানীয়রা জানান, সঞ্জব আলী ও তার ছেলে সৈয়দ মিয়া সৌদি আরবে থাকেন। দুই মেয়েও বিয়ে দিয়েছেন। ছেলের বউ পপি আক্তারকে নিয়ে সাজেরা খাতুন বাড়িতে থাকেন।

রোববার পপি পার্শ্ববর্তী শরিফপুর গ্রামে বাবার বাড়ি যান। তখন থেকে তিনি একাই বাড়িতে থাকছেন। শনিবার তার মেয়ে পাশের বাড়ির শফিক মিয়ার স্ত্রী রেজিয়া আক্তারকে ফোন করে জানায় তার মা ফোন ধরছেন না। পরে রেজিয়া এগিয়ে গিয়ে ঘরের জানালা দিয়ে দেখতে পান সাজেরা খাতুনের দেহ খাটে এবং পা মাটিতে।

খবর পেয়ে পইল ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মঈনুল হক আরিফ ঘটনাস্থলে যান। তিনি থানায় খবর দিয়ে সদর থানার ওসি (অপারেশন) প্রজিৎ কুমার দাশের নেতৃত্বে এসআই সাহিদ ও পলাশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন।

নিউজবিডি৭১/বিসি/সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৮




লাখাই কৃষ্ণপুর গণহত্যা দিবস আজ

নিউজবিডি৭১ডটকম
আজিজুল ইসলাম সজীব,হবিগঞ্জ করেসপন্ডেন্ট : হবিগঞ্জের লাখাই কৃষ্ণপুর গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালে এই দিনে একসঙ্গে লাইনে দাঁড় করিয়ে রাজাকারের সহযোগিতায় ১২৭ জনকে হত্যা করেছিল পাকহানাদর বাহিনী। আহত হয়েছিলেন শতাধিক ব্যক্তি। এত লাশ একসঙ্গে সৎকারের কোনও ব্যবস্থা না থাকায় পাশের নদী দিয়ে লাশ ভাসিয়ে দিয়েছিলেন স্থানীয় নারীরা। সেই বিভীষিকাময় দিনের কথা মনে করে আজও কেঁপে ওঠেন অনেকে। একাত্তরের ভয়াবহ স্মৃতির এ দিনটি প্রতি বছর নিরবেই কেটে যায়। প্রশাসন কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের কোনও সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশেষ কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয় না। নির্মাণ করা হয়নি কোন স্মৃতিস্তম্ভ। অবশেষে ১৭ সালে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে দুই লাখ টাকা অনুদান নিয়ে ও গ্রামবাসীর কাছ থেকে চাঁদা তুলে নির্মাণ হচ্ছে স্মৃতিস্তম্ভভব। এতে খুশি শহদি পরিবারের লোকজন। সেই সাথে যুদ্ধাপরাধি লাখাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও লাখাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলীর রায় যে কোন দিন ঘোষণা করার কথা। স্থানীয় লোকজন লিয়াকত আলীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড চান।

জানা যায়, লাখাই উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামটি জেলার শেষ প্রান্তে অবস্থিত ও দুর্গম হাওর অঞ্চলের একটি গ্রাম। যোগাযোগের তেমন ভালো মাধ্যম নেই। বর্ষায় নৌকার আর শীতকালে পায়ে হেটে চলাচল করতে হয়। গ্রামে শতকরা ৯৫ ভাগ লোকই শিক্ষিত ও হিন্দুধর্মাবলী।
১৯৭১ সালের এই দিনে স্থানীয় রাজাকারের সহযোগিতায় পাকহানাদার বাহিনী ভোর বেলায় হঠাৎ আক্রমণ চালায় ওই গ্রামে। এ সময় গ্রামের শত-শত নারী-পুরুষ স্থানীয় একটি পুকুরের পানিতে ডুব দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি ১২৭ জন নিরিহ নারী-পুরুষের। লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয় তাদের। প্রতি বছর ১৮ সেপ্টেম্বর আসলেই যুদ্ধাহত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরা স্থানীয় কমলাময়ি বিদ্যালয় প্রাঙ্গনের অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে ফুলদিয়ে দিনটি পালন করে থাকেন।

স্থানীয় একটি হাইস্কুলের পাশে নিজেদের অর্থায়নেই ১২৭ জনের মধ্যে পরিচয় পাওয়া ৪৫ জনের নামে একটি স্মৃতিস্বম্ভ নির্মাণ করেছেন। দিবসটিতে স্কুল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে করে নিহতদের স্বজনরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সেখানে। দীর্ঘ ৪৪ বছর অপেক্ষার পর অবশেষে গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেলা পরিষদের দুই লক্ষ টাকা ও গ্রামবাসীর চাঁদায় শুরু হয় স্থানীয় একটি স্মৃতিস্তম্ভব নির্মাণের। যদি আর্থিক অবস্থার কারণে এখনও সমাপ্ত হয়নি স্মৃতিস্তম্ভের কাজ। তবে স্মৃতিস্তম্ভব নির্মাণে খুশি শহীদ পরিবারের স্বজনরা।

স্মৃতিস্তম্ভে বঙ্গবন্ধু ও তিনজন মুক্তিযোদ্ধার মূর্তি শোভা পাচ্ছে। আর্থিক দুরবস্থার কারণে কাজে সময় লাগলেও এ বছরই এটির কাজ সমাপ্ত হবে বলে আশা গ্রামবাসীর। সেই সাথে রাজাকারদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের চলমান মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চান তারা।

এ ব্যাপারে শহীদ পরিবারের সদস্য ওই স্থানীয় কমলাময়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিটন দাস বলেন- আমার কাকাকে পাক হানাধারবাহীনি নির্মমভাবে হত্যা করে। দীর্ঘ দিন ধরে আমরা গণহত্যার বিচার ও একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানালেও কোন কাজ হয়নি। অবশেষে সরকারি সহযোগিতা ও গ্রাবাসীর উদ্যোগে একটি স্থানীয় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ হওয়ায় আমরা খুশি। সেই সাথে এখন রাজাকারদের ফাসি দিলেই হলো।

অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা অমরেন্দ্র রায় বলেন, আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে স্মৃতিস্তম্ভের বিকল্প নেই। তাছাড়া এই গ্রামে যে নির্মম হত্যাকান্ড ঘটেছিলো তার খুবই হৃদয় বিদারক। সেই দিনের কথা মনে হলে এখনও শরীরে কাটা দেয়।

এ সময় তিনি দ্রুত স্মৃতিস্তম্ভের কাজ সমাপ্ত করতে আর্থিক সহযোগিতা ও রাজাকারদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি করেন।

নিউজবিডি৭১/আ/সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮




‘কাঁচা রাবার আমদানি করায় দেশীয় রাবার বাগান লোকসানে’

নিউজবিডি৭১ডটকম
আজিজুল ইসলাম সজীব,হবিগঞ্জ করেসপন্ডেন্ট : সরকার সম্প্রতি মজুরী কমিশন করে ইস্পাত, চিনি, বস্ত্র, রাসায়নিক এবং রাবার শ্রমিকদের বেসিক বেতন ৮ হাজার ৭শ’ টাকা করার ঘোষণা দিলেও বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফআইডিসি) এর বাস্তবায়ন করছে না।

ক্রমাগত লোকসান গুনতে হচ্ছে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজীবাজার রাবার বাগানে। বিদেশ থেকে মাত্র ৫ শতাংশ শুল্কে কাঁচা রাবার আমদানি করায় দেশীয় উৎপাদনকারী রাবার বাগান এখন দিন দিন লোকসানে পড়েছে। এক কেজি রাবার উৎপাদনে খরচ হয় ২৮০ টাকা। বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি মাত্র ১২৫ থেকে ১৫০ টাকায়। ফলে কেজিতে লোকসান হচ্ছে ১৫০ টাকা। শুধু তাই নয় বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফআইডিসি) সহযোগী প্রতিষ্ঠান শাহজীবাজার ৩ শতাধিক রাবার শ্রমিকের দুঃসময় চলছে। যেন নুন আনতে পানতা পুড়ায় আর পানতা আনতে নুন। যে শ্রমিক রাবার গাছ থেকে কষ সংগ্রহ করে এক সময় রাবার শিল্পকে সমৃদ্ধি করেছিল আজ এই শ্রমিক অতি কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। যে বেতন পাচ্ছে তা দিয়ে পরিবার পরিজন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, ২০১৩ সাল থেকে রাবার বাগানে এমন দুর্দিন শুরু হয়েছে। দেশে কাঁচা রাবারের চাহিদা রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। কিন্তু দেশে উৎপাদন হচ্ছে ১৫ হাজার টন। বাকি রাবার বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। যারা দেশি রাবার ক্রয় করেন তাদের ১৫ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। উচ্চ মূল্যে কর দেওয়ার কারণে অনেকেই বিদেশ থেকে রাবার আমদনি করতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। যে কারণে দেশে উৎপাদিত রাবার বিক্রি হচ্ছে না। বাধ্য হয়েই দেশি রাবার কম মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে রাবার বাগানগুলো প্রতি বছর লোকসানের মুখে পড়ছে। ১৯৮০ সালের দিকে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের উদ্যোগে শাহজীবাজারে ২১শ’ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৫৮ হাজার রাবার গাছ লাগানো হয়। একটি রাবার গাছের আয়ুষ্কাল হচ্ছে ২৫ বছর। এরই মধ্যে শাহজীবাজার রাবার বাগানের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার গাছ জীবনচক্র হারিয়েছে।

শাহজীবাজার রাবার শ্রমিক লুৎফুর রহমান বলেন, গাইবান্ধা থেকে ১৯৯০ সালে ৬শ’ টাকা বেতনে যুবক বয়সে রাবার বাগানে শ্রমিকের চাকরী নিয়েছিলাম। আশাছিল একদিন ভাল বেতন পেয়ে সংসার চালাবো কিন্তু ২৮ বছর হয়ে গেল এখনো আশানুরুপ কোন বাড়েনি। যে স্বল্প বেতন পাই তা দিয়ে থাকা খাওয়ার খরচ বাদে বাড়িতে স্ত্রী সন্তান মা বাবার জন্য যে টাকা পাঠাই তা অতি নগন্য। একই অবস্থা প্রায় সাড়ে ৩শ’ শ্রমিকের।

এ কারণে রাবার শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষও শ্রমিকদের মজুরী বিষয়ে কোন কথা বলছে না। কোন শ্রমিক এ নিয়ে কথা বলতে গেলে বদলি ও বরখাস্ত করার হুমকি দেওয়া হয়।

শ্রমিকদের অভিযোগ সারা দেশে রাবার বাগানের কাঁচা রাবার বিক্রি করে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকে সঞ্চয় করে রাখা হয়েছিল। এ টাকার লভ্যাংশ হিসেবে ২০১১-২০১২ অর্থ বছরে প্রত্যেক শ্রমিক ৩৬ হাজার টাকা করে লভ্যাংশ পায়। কিন্তু এর পর থেকে আর কোন লভ্যাংশ দেওয়া হচ্ছে না। এর কোন জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নেই।

শাহজীবাজার রাবার বাগান শ্রমিক কর্মচারী সভাপতি আলামিন জানান, বর্তমান সরকার সম্প্রতি মজুরী কমিশন করে ইস্পাত, চিনি, বস্ত্র, রাসায়নিক এবং রাবার শ্রমিকদের বেসিক বেতন ৮ হাজার ৭শ’ টাকা করার ঘোষণা দিলেও বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফআইডিসি) এর বাস্তবায়ন করছে না। এতে করে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই স্বল্প বেতনে চাকুরী করে শ্রমিকরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে দুঃসময় কাটাচ্ছেন।

তিনি বলেন, মজুরী কমিশন বাস্তবায়িত হলে শাহজীবাজার রাবার বাগানে শ্রমিকদের কষ্টের দিন কেটে যেত। ঘোষিত মজুরী কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য শ্রমিকরা মানববন্ধন ও অনশন কর্মসূচি পালন করেছে।

শাহজীবাজার রাবার বাগানের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মতুর্জ আলী জানান, রাবার গাছের বয়সের পাশাপাশি শ্রমিকদেরও বয়স বেড়েছে। এখন রাবার শিল্পের দুঃসময় চলছে। প্রতি বৎসর রাবার বাগানে অর্ধেক টাকা লোকসান দিতে হয়। তবে শ্রমিকদের মজুরী কমিশন বাস্তবায়ন করা হলে তাদের দুঃখ কষ্ট দুর হবে।

নিউজবিডি৭১/আ/সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮




দুর্ধর্ষ ডাকাতি: নগদ টাকাসহ প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল লুট

নিউজবিডি৭১ডটকম
আজিজুল ইসলাম সজীব,হবিগঞ্জ করেসপন্ডেন্ট : হবিগঞ্জ পৌর এলাকার গোসাইপুর এলাকার এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। ডাকাতরা ওই পরিবারের লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি নগদ টাকাসহ প্রায় ১৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেয়। এ ঘটনায় ওই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোসাইপুর (আসকরনগর) এলাকার আব্দুল খালেকের পুত্র ব্যবসায়ী ফেরদৌস আহমেদ গত কাল রাতে খাওয়া দাওয়া শেষে রাত ১১টার সময় পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন।

পরে রাত প্রায় আড়াইটার দিকে ১০/১৫ জনের একদল মুখোশদারী ডাকাত ভেতরে প্রবেশ করে ফেরদৌস আহমেদ তার পিতা আব্দুল খালেক ও তার অসুস্থ্য মা সহ পরিবারের সকলকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরে থাকা নগদ ৫ লাখ টাকা স্বর্ণালংকার সহ প্রায় ৭ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পরে বিষয়টি এলাকার লোকজনকে জানানো হয়।

মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়ে সদর থানার এসআই নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। এলাকাবাসীর ধারণা, মাদকসেবী যুবকরা ডাকাতদের সাথে মিলে এ ঘটনা ঘটাতে পারে। এ ঘটনায় ফেরদৌস আহমেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১০/১৫ জন ডাকাতের বিরুদ্ধে সদর থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।

এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সহিদুর রহমান জানান, দুর্বৃত্তদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

নিউজবিডি৭১/আ/সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮




হবিগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের পরিচালকের বিরুদ্ধে আনসার সদস্যকে মারধোরের অভিযোগ

নিউজবিডি৭১ডটকম
আজিজুল ইসলাম সজীব,হবিগঞ্জ করেসপন্ডেন্ট : হবিগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নবাগত সহকারী পরিচালক মধুসুদন সরকার কর্তৃক কর্মরত এক আনসার সদস্যকে চর মারার ঘটনায় সংশ্লিস্ট অফিসে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা। সোমবার দুপুরে সৃষ্ট এ ঘটনার পর দায়িত্বরত সকল আনসার সদস্য তাদের পোশাক খুলে কর্মবিরতি পালন করছে। ফলে এখন নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে সংশ্লিস্ট অফিস। যদিও বিষয়টি তড়িঘড়ি সমাধানের জন্য গুটি কয়েক আনসার সদস্যকে নিজের অনুকূলে নিয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন উক্ত পরিচালক। দুপুর প্রায় পৌনে ১ টার দিকে আনসার সদস্য রুবেল ডিউটি ছিলেন সংশ্লিস্ট অফিসের পাসপোট সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা-বিতরণ শাখা ও দর্শনাথী বিশ্রাম কক্ষের মূল গেইটে।

সহকারী পরিচালক মুধুসুদন সরকারের বক্তব্য, এ সময় রুবেল নাকি নিরাপত্তা জনিত যথাযথ দায়িত্ব পালন না করে নিজস্ব ফায়দা নিতে অন্যত্র ঘোরাফেরা করছিল। তিনি নিজেই তা দেখতে পেয়ে রুবেলের নিকট তার দায়িত্ব পালনে এমন উদাসীনতার কারন জানতে চান তিনি। এ সময় রুবেল নাকি উনার সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়লে তিনি তাকে শাসন করেন।

কিন্তু রুবেলের বক্তব্য, তাকে সহকারী পরিচালক সজোরে চর মারেন। এমন পরিস্থিতিতে আনসার সদস্য ও পরিচালকের পক্ষাবলম্বনকারী সংশ্লিস্ট অফিসের কয়েক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে শুরু হয় হট্রগোল। এ সময় পাসপোর্ট বিতরণ ও গ্রহন কার্যক্রমেও সৃষ্টি হয় মারাত্মক অচলাবস্থা। একপর্যায়ে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসলেও উক্ত ঘটনার প্রতিবাদে আনসার সদস্যরা পোশাক খুলে কর্মবিরতি শুরু করে এবং পুরো বিষয়টি জেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তাদের নজরে আনেন।

দুপুর প্রায় আড়াইটার দিকে আনসার কর্মকর্তা মুজিবরের নের্তৃত্বে দুই সদস্যের একটি টীম ওই ঘটনা নিয়ে অভিযুক্ত পরিচালক মধুসুদনের সাথে কথা বলতে যান তার অফিসে। জানা গেছে, ওই দু’জন সদস্য সহকারী পরিচালকের নিকট জানতে চান সরকারী সার্ভিস রুল ভঙ্গ করে তিনি কেন অপর একটি সংস্থার কর্মচারীর গায়ে হাত তুললেন। কিন্তু সহকারী পরিচালক তার কোন সদোত্তর না দিয়ে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ জানান। কিন্তু আনসার কর্মকর্তাগন পরিচালকের বক্তব্যে সন্তোষ্ট না হয়ে আক্রান্ত রুবেলকে নিয়ে অফিস কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

সূত্র মতে, সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে রুবেলকে বাদী করে একটি মামলা দায়ের করতে পারে জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়। এদিকে সহকারী পরিচালক মধুসুদনও তার মত করে এই ঘটনা নিজ দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সহ জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছেন।

প্রসঙ্গত, প্রায় এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে হবিগঞ্জের উক্ত পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে মধুসুদনের বিরুদ্ধে তার কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ আনসার সদস্যরা অভিযোগ করে আসছে, তিনি কারনে-অকারনে সকলকে নানা গালাগাল ও হুমকী-ধমকি দিচ্ছেন। এছাড়া সংশ্লিস্ট অফিসে দালালদের আনাগোনাও এখন লাগামহীন পর্যায়ে।

নিউজবিডি৭১/আ/সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮




অটোরিকশা-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় সিএনজি চালিত একটি অটোরিকশার সঙ্গে মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন।

বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নে সাতাইয়াল গ্রামের এ দুর্ঘটনায় রাতে চিকিৎধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- ইরেশ সরকার (৩০) ও সোহেল মিয়া (৩২)।

নিহত ইরেশ সরকার নবীগঞ্জের স্বস্তিপুর গ্রামের বারিন্দ্র সরকারের ছেলে এবং সোহেল মিয়া করগাও গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় আউশকান্দি থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী অটোরিকশাটি মহাসড়ক দিয়ে অবৈধভাবে যাওয়ার পথে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের টহলরত একটি দল তাকে আটকাতে পিছু নেয়। এক পর্যায়ে গজনাইপুর ইউনিয়নের সাতাইহাল মসজিদের সামনে পৌঁছালে পিছন দিক থেকে হাইওয়ে পুলিশের গাড়িটি সামনে গিয়ে সিএনজিটিকে আটকানোর চেষ্টা করে।

এসময় সিএনজির সাথে সাতাইহাল ফুলতলী বাজার থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় হাইওয়ে পুলিশ তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতে সিএনজি যাত্রী ইরেশ সরকার ও মোটর সাইকেল যাত্রী সোহেল মিয়া মারা যান।

হাসপাতালে উপস্থিত গজনাইপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার সৈয়দ মাহবুব আলী নূরু দুইজন মারা যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

এদিকে, ঘটনার পর স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন হাইওয়ে পুলিশের দুই সদস্য।

খবর পেয়ে (নবীগঞ্জ-বাহুবল) সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরী, নবীগঞ্জ থানার ওসি এস.এম আতাউর রহমান, গোপলার বাজার তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ কাওছার আলম ঘটনাস্থলে পৌঁছে গজনাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুলের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ ব্যাপারে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরী বলেন, পুলিশের ধাওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটেনি। সিএনজি ও মোটরসাইকেলের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তখন হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে পুলিশের নিজ গাড়িতে করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

নিউজবিডি৭১/আ/সেপ্টেম্বর ০৬ ,২০১৮